৬ ডিসেম্বর, শুক্রবার, ৩ টায়, ফার্মগেট, ঢাকায়

বার কাউন্সিল প্রস্তুতি বিষয়ক
উন্মুক্ত সেমিনার!

আসন বুকিং দিন : 01712-908561

দণ্ডবিধি প্রসঙ্গে আলোচনার সময়ই বলেছিলাম যে, অপরাধ সংক্রান্ত আইনে দণ্ডবিধি হলো তাত্ত্বিক আইন যেখানে সমস্ত অপরাধের সংজ্ঞা, ব্যতিক্রম, শাস্তির পরিমাণ বা নীতি আলোচনা করা আছে এবং দণ্ডবিধি মোতাবেক উক্ত বিষয়গুলো আদালতে বাস্তবায়ন বা বিচার করার পদ্ধতিগত দিকগুলো আলোকপাত করেছে ফৌজদারি কার্যবিধি। অর্থাৎ ফৌজদারি কার্যবিধি হলো মূলত একটি অপরাধের বা একজন অপরাধীকে বিচারের প্রক্রিয়ায় নিয়ে আসার জন্য আদালতের কার্যপদ্ধতি। কখন কোন আদালত কোন ধরনের অপরাধীর বিচার করবে, কীভাবে করবে, কীভাবে তার বাস্তবায়ন হবে এসব নিয়েই ফৌজদারি কার্যবিধি।

তো, প্রথমেই ফৌজদারি কার্যবিধি সম্পর্কে একটি সম্যক ধারণা নেওয়া প্রয়োজন। এর জন্য প্রথমে ফৌজদারি কার্যবিধির যে ৯টি ভাগ আছে সেগুলো শিরোনাম ও ধারার বিস্তৃতিটি নিচের ছকে দিয়েছি। ছকটিতে আপনাদের পড়ার সুবিধার জন্য পুরো ফৌজদারি কার্যবিধিকে ৪ ভাগে বিভক্ত করে সর্বডানের কলামটিতে দেখানো হয়েছে। দণ্ডবিধিতে যখন এই বিভক্তিটি করা হয়েছিলো তখন একটা সুবিধা ছিলো এই যে, সেখানে বিষয়বস্তুগুলো অনুযায়ী নানা বিষয় কমবেশি একসাথেই ছিলো। কিন্তু ফৌজদারি কার্যবিধিতে সেই সুযোগ কম। কেননা, আদালতের কার্যপদ্ধতিতে শুধুই আদালত এর কার্যপদ্ধতি নয়; এর সাথে জড়িত পুলিশের কার্যপ্রক্রিয়া কেমন হবে, কোন ক্ষেত্রে আদালতের অনুমতি বা নির্দেশনা নিয়ে কাজ করতে হবে, পুলিশ কীভাবে আদালতের সাথে সম্পর্কিত থাকবে ইত্যাদি বিষয়ও এই কার্যপদ্ধতিতে আলোকপাত করতে হয়েছে। আবার ধরুন, আদালতের ক্ষমতা, গঠন ইত্যাদির বিবরণের পাশাপাশি আদালতের স্থানীয় বা আঞ্চলিক এখতিয়ার নিয়ে ধারাগুলো সন্নিবেশন করা যেতো ২য় অধ্যায়েই। কিন্তু সেটি না করে বিষয়টিকে স্থান দেওয়া হয়েছে ১৫ অধ্যায়ে ‘সরকারের পক্ষে মামলা পরিচালনার পদ্ধতি’ শীর্ষক অংশে। বিক্ষিপ্তভাবে থাকায় শিক্ষার্থীদের মনে রাখার জন্য বাড়তি কসরৎ করতে হবে।

ফৌজদারি কার্যবিধি ভালোভাবে আত্মস্থ করা একজন ভবিষ্যৎ আইনজীবীর জন্য কিন্তু খুবই জরুরি। এই পদ্ধতিগত আইনটি না বুঝলে আদালতে বাস্তবে কোনটার পরে কোনটা করতে হবে, জামিনের আবেদন কোথায় কবে করতে হবে, জামিন না পেলে কী করবেন, পুলিশ কাউকে গ্রেফতার করলে কী করতে হবে, কোনো মামলার রায় হলে করণীয় কী, কোন আদালতে কোন বিষয় সম্পর্কে আপিল করতে পারবেন অথবা কোন কোন আদেশের বিরুদ্ধে আপনাকে হাইকোর্টে যেতে হবে ইত্যাদি সাধারণ বিষয় সম্পর্কে আপনি সম্পূর্ণই অজ্ঞ থেকে যাবেন। আপনি আইনের শিক্ষার্থী, একারণে অনেকেই আপনার কাছে প্রাথমিক দু’চারটা কথা জিজ্ঞেস করতে পারে আপনার প্রতিবেশি, বন্ধু-বান্ধবরা। তখন এসবের উত্তর দিতে না পারলে আপনার জন্য মানসম্মানের বিষয় হবে! সেজন্য এটি ভালোভাবে এখন থেকেই আত্মস্থ করুন। আর আইনজীবী হবার পরে এই বিষয়গুলো অবশ্যম্ভাবীভাবে আপনার লাগবেই। তবে সেটা কেন এখন থেকেই করবেন না? যাইহোক, এবার নিচে থাকা ছকটি ভালোভাবে খেয়াল করুন।

গুরুত্বপূর্ণ ধারা ও পাঠ-নির্দেশনা

১. ধারা ১ এর ২ উপধারা এবং ধারা ৫ এর ২ উপধারা – দুইটিতেই কার্যবিধি সংক্রান্ত বিশেষ আইন যে ফৌজদারি কার্যবিধির ওপর প্রাধান্য বিস্তার করবে এই কথাটি কিন্তু বলা আছে। না বললে হয়তো চোখেই পড়তো না। দণ্ডবিধিতেও একই বিষয়বস্তু কিন্তু ৫ ধারায় বলা ছিলো; ভুলবেন না।

ধারা ৪ এ থাকা সংজ্ঞাগুলো কোনটি কোন উপধারায় আছে সেগুলো কিন্তু প্রায় কোনোটাই ভোলা যাবেনা। ধারাভিত্তিক প্রশ্ন আসতে পারে।

২. ধারা ৬ থেকে ৪১ পর্যন্ত প্রতিটি ধারাই গুরুত্বপূর্ণ। রাতের ধারণা যেমন দিনকে ছাড়া হয়না, তেমনি দিনের ধারণাও রাতের ধারণার ওপর নির্ভরশীল। তেমনিভাবে এই ধারাগুলোর পাঠও এভাবে সারতে হবে। একটি বুঝলে অন্যটিও বুঝতে হবে। ধারাগুলো একে অপরের সাথে বেশ সম্পর্কিত। এখান থেকে অনেক প্রশ্ন আসে কিন্তু। কিছু ধারা সুনির্দিষ্টভাবে গুরুত্ব দেওয়া যেতে পারে; তবে তা না করাই ভালো। সবই পড়বেন। তবে সবই পড়ার ক্ষেত্রে মূল আইনেই একটি বিভক্তি আছে। সেটি মনোযোগ দিয়ে হেফজ করলে বুঝতে সুবিধা হবে।

ধারা ৬-৪১ এ প্রধানত দুইটি অংশ, এটি দুইটি অধ্যায়ে বিভক্ত, অধ্যায় ২ ও অধ্যায় ৩। এই দুইটি অধ্যায় আবার ফৌজদারি কার্যবিধির প্রধান ৯টি ভাগের দ্বিতীয় ভাগ। দ্বিতীয় ভাগের বিস্তৃতি এই ৬ থেকে ৪১ ধারা পর্যন্তই। অধ্যায় ২ এর শিরোনাম হলো – ‘ফৌজদারি আদালত ও অফিসসমূহের গঠন’ [Of the constitution of criminal courts and offices]। এর বিস্তৃতি ৬ ধারা থেকে ২৭ ধারা পর্যন্ত। এর ভেতরে ৬টি উপশিরোনামে নিম্নলিখিতভাবে ধারাগুলো বর্ণনা করা আছে। এর ভেতর সর্বশেষ চ অংশটি বাতিল করা হয়েছে।

ক. ফৌজদারি আদালতের শ্রেণিবিভাগ [ধারা : ৬]
খ. আঞ্চলিক বিভাগ [ধারা : ৭ ও ৮]
গ. অফিস ও আদালতসমূহ [ধারা : ৯- ১৭ক]
ঘ. মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের আদালত [ধারা : ১৮-২১]
ঙ. জাস্টিস অফ দ্য পিস [ধারা : ২২- ২৫]
চ. সাময়িক বরখাস্ত ও অপসারণ [ধারা : ২৬ ও ২৭]

অর্থাৎ ধারা ২৭ পর্যন্ত অধ্যায় ২। আর এরপরে অধ্যায় ৩, যার শিরোনাম হলো – ‘আদালতসমূহের ক্ষমতা’ [Powers of courts]। এই শিরোনামের অধীনে নিম্নলিখিত উপশিরোনামে এখানেও কয়েকটি ভাগে ধারাগুলোকে বিন্যস্ত করা হয়েছে।

ক. প্রত্যেক আদালত কর্তৃক আমলযোগ্য অপরাধসমূহের বর্ণনা [ধারা : ২৮- ৩০]
খ. বিভিন্ন শ্রেণির আদালত যে সকল দ- দিতে পারেন [ধারা : ৩১- ৩৫ক]
গ. সাধারণ ও অতিরিক্ত ক্ষমতা [ধারা : ৩৬- ৩৮]
ঘ. ক্ষমতা অর্পণ, বলবৎ রাখা ও বাতিলকরণ [ধারা : ৩৯- ৪১]

এটিকে একটি রেডিমেট ছকে পরিণত করে দিলাম [বার কাউন্সিল ও জুডিসিয়ারিতে আসা প্রশ্নের সংখ্যা উল্লেখসহ]। মোবাইলে সেভ করে রাখলে ধারাগুলো মেমোরাইজ করতে সুবিধা হবে।

উপরের চার্টে যে অংশগুলো থেকে প্রশ্ন আসেনি সেগুলোতে গুরুত্ব কম দিয়ে পড়বেন – এমনটা ভাবলে খুব ভুল হবে। পড়তে হবে সবই। গড়ে ৩টি করে প্রশ্ন মিলে বার কাউন্সিলে সর্বমোট ১৩টি এবং জুডিসিয়ারিতে মোট ৪টি প্রশ্ন এসেছিলো। গুরুত্ব নির্ধারণে ভুল করবেন না।

৩. ধারা ৪২ থেকে ১০৫ পর্যন্ত অনেকগুলো বিষয় আলোচনা করা আছে। গ্রেফতারের পদ্ধতি সম্পর্কে ৪৬ ধারা থেকে ৬৭ পর্যন্ত আলোচনা। এখানে ৫২, ৫৪, ৫৫, ৫৮, ৫৯, ৬১ এই কয়টি ধারা বিশেষভাবে দেখবেন। ৬৮ থেকে ১০৫ পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে ‘আসামিকে হাজির হতে বাধ্য করবার ব্যবস্থা’ শিরোনামে সমন, গ্রেফতারি পরোয়ানা, হুলিয়া, ক্রোক ইত্যাদি বিষয়ে আলোচনা করা আছে। এটা অধ্যায় ৬। আর অধ্যায় ৭ এ একজন আসামিকে হাজির করার জন্য সমন, তল্লাশি পরোয়ানা, তল্লাশি সম্পর্কে সাধারণ বিধানসমূহ ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা আছে।

সাধারণভাবে অপরাধ লঘুতর হলে আদালত বা ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক তাকে ইস্যু প্রসেস এর মাধ্যমে সমন পাঠানো হয়, না হলে গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে উক্ত অভিযুক্তের প্রতি শুরুতেই গ্রেফতারি পরোয়ানা ইস্যু করা হয়। আর গ্রেফতারি পরোয়ানা থাকাকালীন অভিযুক্ত পালিয়ে বেড়ালে বা আত্মগোপন করলে তখন হুলিয়া জারি করা হয় ও তার সম্পত্তি ক্রোক করার আদেশও হতে পারে। অর্থাৎ সমন পাওয়ার পরেও যদি অভিযুক্ত ব্যক্তি হাজির না হয় তাহলে তার প্রতি তখন গ্রেফতারি পরোয়ানা ইস্যু করা হয়। গ্রেফতারি পরোয়ানায় ব্যর্থ হলে তখন হুলিয়া জারি করা হয় এবং সম্পত্তি ক্রোক করা হয়। তো, এই বিষয়গুলোর বিস্তারিত জানতে হবে। সাধারণভাবে গুরুত্বপূর্ণ ধারাগুলোর একটি চার্ট করে দিলে সম্ভবত ভালো হবে। দেখুন নিচে।