আইনের ধারাপাত – লিখিত বইটির পরিচিতি
অনেক অপেক্ষার পালা শেষে অবশেষে অ্যাডভোকেট মুরাদ মোর্শেদ প্রণীত বার কাউন্সিল লিখিত পরীক্ষার বইটি [আইনের ধারাপাত – লিখিত পরীক্ষার বই] পাওয়া যাচ্ছে বিগত ৯ জুলাই থেকে। করোনা পরিস্থিতির মধ্যে বাড়তি খরচে বইটি প্রকাশ করাতে এবং বইয়ের পৃষ্ঠাসংখ্যার কারণেও বইটির দাম ৫০০ টাকা রাখতে হলো। বইটির পৃষ্ঠাসংখ্যা ৪৩৬ এবং বইটি বড় সাইজের বই; তার মানে ছোট বইয়ের প্রায় ৯০০ পৃষ্ঠার সমান। ফলে, নিরুপায় হয়ে দাম রাখতে হলো ৫০০ টাকা। তবে, কোনো কুরিয়ার খরচ আপনাদেরকে দিতে হবে না; সে দায়িত্ব আমাদের! বইটি কুরিয়ারে অর্ডার করতে ফোন দিন : 01711-140927 নাম্বারে। বইটিতে উত্তরগুলোর মান কেমন এবং বইটি কীভাবে বিন্যস্ত আছে তা বুঝতে নিচে থাকা স্যাম্পল পিডিএফ বাটনটিতে ক্লিক করে ডাউনলোড করে নিন। আরো কিছু ধারণা নিতে বইটির ভিডিও রিভিউ ইউটিউব থেকে দেখে নিতে পারেন এবং নিচে থাকা লেখকের ভূমিকাটিও পড়ে নিতে পারেন।
আইনের ধারাপাত – লিখিত বইটির ভূমিকা
ইচ্ছা ছিলো একেবারেই অন্যরকম বই বের করার। আইনকানুন একাডেমির লিখিত ব্যাচটি যখন ফার্মগেট শাখায় শুরু করেছিলাম [করোনার আগে মাত্র দুইটি ক্লাস নিতে পেরেছিলাম, পরে যা এখন অনলাইন লাইভ ক্লাসে চলমান] তখন ছাত্রদের সাথে শেয়ার করেছিলাম। তারা তখন আইডিয়াটিকে খুবই এপ্রেসিয়েট করেছিলেন এবং অনেকেই জিজ্ঞাসা করেছিলেন আপনি কি আপনার প্ল্যান মোতাবেক সামনের এক মাসেই বইটি প্রকাশ করতে পারবেন? বলেছিলাম – পারবো হয়তো। কিন্তু, করোনার সময়ে ঢুকে পড়ে কাজটিকে সেই প্ল্যানে এগিয়ে নিতে পারিনি। তবে, কিছু ব্যাপারে খুবই সচেষ্ট থাকার চেষ্টা করেছি।
পরীক্ষা তো দেবে পরীক্ষার্থীগণ। পড়া মুখস্থও করবেন পরীক্ষার্থী। খাতায় সঠিকভাবে উপস্থাপনও করবেন পরীক্ষার্থী। তাহলে একজন বইলেখকের কাজ কী এবং কোন পয়েন্টে? আসলে পরীক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োজন সঠিক গাইডলাইন আর প্রপার নোট। গাইডলাইনে প্রথমেই যেই টেকনিক্যাল বিবেচনা নিতে হয় সেটি হলো – পরীক্ষার সময়সীমা। সেই সময়সীমা অনুসারেই কীভাবে একটি নির্দিষ্ট সময়ে একটি প্রশ্নের উত্তর লিখে চাহিত সব প্রশ্নের উত্তর সম্পন্ন করা যায় সেটি মাথায় রাখতে হবে। আর প্রপার নোটের ক্ষেত্রে অনেকগুলো বিবেচনা বা ফিল্টার হিসেবে রাখতে হয় যেন প্রাসঙ্গিক বিষয় মোটামুটিভাবে উপস্থাপন করতে পারেন আপনারা।
উপরোক্ত দুইটি বিষয় মাথায় রেখেই এ বইটি এমনভাবে প্রণীত, যেন আপনার নিজের কোনো বাড়তি নোট করার প্রয়োজন না পড়ে। লেখক যদি নিজের জ্ঞানের সবটুকুই একটি নোটে দিয়ে দেন, তাহলেতো সেই নোট পরীক্ষার সময়সীমা বিবেচনায় লিখে শেষ করতে পারবেন না। ফলে, লেখককে সবসময়ই মাথায় রাখতে হয়, পরীক্ষার্থীদের একটি উত্তর লেখার জন্য এবং নাম্বার পাবার জন্য কী কৌশলে কীভাবে লিখলে একজন নাম্বার পাবেন এবং সফলকাম হবেন। ফলে, নিজের প্রতিভার ঝলক প্রদর্শনের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো আসন্ন সম্ভাব্য নবীন আইনজীবীদের সাফল্যের বিবেচনা। নিজের ইগোকে অতিক্রম করে পরীক্ষার্থীদের প্রতি ভালোবাসাসমেত এই বিবেচনাবোধ ছাড়া ভালো নোট তৈরি সম্ভব হয়না। ভালো নোট মানে একটি প্রপার নোট, কোনো গবেষণাপত্র নয়।
পরীক্ষার্থীগণ যেন আত্মবিশ্বাস অর্জন করেন প্রতিটি প্রশ্নের উত্তরের ক্ষেত্রে, সেজন্য প্রতিটি উত্তরের নিচেনিচেই নির্দেশনা অংশে কিছু বিষয় ব্যাখ্যা করা আছে এবং পরীক্ষার হলের যুদ্ধক্ষেত্রটি আপনি কীভাবে জয় করতে পারবেন সে বিষয়ে প্রযোজ্য ক্ষেত্রে আলোচনা রয়েছে।
সময়েরে ব্যাপারে বিশেষ বিবেচনা আপনার থাকতে হবে। অবশ্যই নিজের হাতের লেখার স্পিড বিবেচনা করতে হবে। ছাত্রদের গড় যোগ্যতা সর্বোচ্চ ২০ থেকে ২২টি শব্দ প্রতি মিনিটে। সে হিসেবে প্রতি ১৫ নম্বরের প্রশ্নের জন্য আপনার জন্য হাতে সময় থাকবে ৩৫ মিনিট। তাহলে ২০*৩৫ = ৭০০টি শব্দ গড়ে আপনি ১৫ নম্বরের জন্য আপনি লিখতে পারবেন পরীক্ষার খাতায়। ফলে, আমরা এটি নজরে এনেছি শিক্ষার্থীদের যে, আপনার উত্তর হতে হবে সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যেই, কিন্তু তা হতে হবে মোটামুটি পূর্ণাঙ্গ। বার কাউন্সিলের লিখিত পরীক্ষায় কিছু প্রশ্ন এসে থাকে, যা কিনা ৩৫ মিনিটে লেখার বিষয়বস্তু নয়। আবার, কিছু প্রশ্ন আসে হয়তো তা ৫৫০-৬০০ শব্দের ভেতরেই উত্তর শেষ হয়ে যাবে। যেমন, ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ধারা সম্পর্কে প্রশ্ন ইত্যাদি। ফলে, কমবেশি করে করে আপনাকে উত্তরগুলো সুবিধাজনক সময় বরাদ্দ দিয়ে লিখতে হবে।
যাইহোক, এই বইয়ের সবচেয়ে বড় তিনটি সুবিধা হলো –
১. উত্তরগুলো ৭০০ [কখনো কখনো ২০/৩০টি শব্দের কম বা বেশি] শব্দের মধ্যে রাখা হয়েছে বেশিরভাগ। আবার যেক্ষেত্রে উত্তর আরো খানিকটা বেশি হয়ে গেছে সেক্ষেত্রে প্রতিটি উত্তরের নিচে নিচে থাকা নির্দেশনায় বলা আছে যে, সময় সংক্ষিপ্ততায় কোন কোন প্যারাগুলো বাদ দেওয়া যেতে পারে। শিক্ষার্থীগণ কতটুকু লিখতে পারবেন একটি নির্দিষ্ট সময়ের ভেতরে, সেই প্রশ্ন বিবেচনা না করেই উত্তরগুলো লিখিত হয়েছে বাজারের বেশিরভাগ নোটে।
২. এই বইয়ের কোনো উত্তরই অপ্রাসঙ্গিক তথ্যে ভরপুর নয়। খুবই সুচিন্তিতভাবে অনেক কম্প্যাক্ট করে লেখা হয়েছে এবং অতি প্রাসঙ্গিক উত্তর দেওয়া হয়েছে, যা কিনা চলতি বইগুলোতে পাওয়া যায় না। চেয়েছে কোনো বিষয়ের উপাদান [Ingredients], কিন্তু উত্তরে অহেতুক একটি বিষয়ের শাস্তিসমূহ বা অন্যান্য অপ্রাসঙ্গিক তথ্য দিয়ে ভরিয়ে ফেলা হয়েছে। সতর্কভাবে সেগুলা আমরা পরিহার করেছি।
৩. উত্তর যেন সবচেয়ে মানসম্মত হয়, সেজন্য আমরা কয়েকটি ফিল্টার ব্যবহার করেছি, যদিও সবসময়ই তা ফলো করা হয়নি বা পেরে ওঠা যায়নি বা অনেক ক্ষেত্রে হয়তো তা প্রযোজ্যও নয়। যেমন, নম্বর বেশি তোলার জন্য প্রযোজ্য ক্ষেত্রে লিগ্যাল ম্যাক্সিম এর ব্যবহার, দ্ব্যর্থবোধক শব্দের ইংরেজি অংশ ব্র্যাকেটে দিয়ে দেওয়া, যুক্তিবিন্যাস প্যারায় প্যারায় বিন্যস্ত করা, যুক্তিবিন্যাসের ধারাবাহিকতা রক্ষা করা, উত্তর শেষ করার ক্ষেত্রে প্রশ্নে চাহিত বিষয়ের দিকে খেয়াল রেখে শেষ করা ইত্যাদি অসংখ্য ফিল্টার ব্যবহার করেকরেই এই বইয়ের উত্তরগুলো লিখিত হয়েছে। অন্য অনেক নোটে মাঝে মাঝে চোখে পড়লো যে, Conjunction তথা, কিন্তু, যদিও, তবে, ফলে ইত্যাদি শব্দের ভুল ব্যবহার হয়েছে যাতে করে উত্তরের যুক্তিবিন্যাস [Logical consistency] এলোমেলো হয়ে পড়েছে। আইনে কিন্তু এসবের ভুল ব্যবহারে মারাত্মক ভুল অর্থ প্রকাশ করতে পারে।
ফলে, উপরোক্ত বিশেষ ৩টি প্রধান বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান থাকায় আপনাদের কোনোরূপ ঝামেলা করে কোনো নোট নিজে হাতে তৈরি করার দরকার নেই একদমই। এই বইয়ে থাকা ৮৩টি প্রশ্নের ভেতরে ৩/৪টি প্রশ্ন গতানুগতিক বা খানিকটা দুর্বল হয়েছে। তবে, কথা দিতে পারি যে, বাকী সব প্রশ্ন অনেক বেশি মানসম্মত এবং প্রাসঙ্গিক হয়েছে এবং উপরে বলে আসা প্রস্তাবিত সময়সীমার সীমাবদ্ধতা বিবেচনাতেই লিখিত হয়েছে। পরীক্ষার্থীগণ নিজের করা কোনো নোট নিয়ে সমস্যায় থাকলে আমাদের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন, চেষ্টা থাকবে সমাধান করে দেবার।
আমার অনলাইনের শিক্ষার্থীদের যে ফেইসবুক গ্রুপে বা জুমে ক্লাস নেই, সেখানে শিক্ষার্থীদের জন্য একটি সাধারণ নির্দেশনা লাইভে দিয়েছিলাম। সেই অপ্রস্তুত ভিডিওটি শেষে ইউটিউব চ্যানেলে দিয়েছিলাম। সেটি ইতিমধ্যেই ৪৫০০+ ভিউ অতিক্রম করেছে। সেই ভিডিওটির উপস্থাপনা খানিক দুর্বল হলেও সেটি দেখে নিতে পারেন উপরোক্ত বিষয়গুলো আরো বুঝে নিতে। আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করে রাখতে পারেন। অনেক উপকৃত হবেন, কেননা, সেখানে নিয়মিত বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর নিয়ে আমি আলোচনা অব্যাহত রাখবো। চ্যানেল সার্চ করতে ইউটিউবের সার্চ বারে গিয়ে লিখবেন : Ainkanoon Academy। অথবা youtube.com/c/JuicyLaw এই লিংক লিখে যেকোনো ব্রাউজার থেকে ঢুকতে পারেন।
বইটিতে মূল সংশ্লিষ্ট ধারাগুলো যুক্ত করা আছে। আমাদের ভাবনাটি হলো – সংশ্লিষ্ট ধারাগুলো একসাথে একই বইয়ে থাকলে আপনাদের সুবিধা হবে মূল ধারাগুলো পাঠ করতে। হয়তো ৮৩টি প্রশ্নের জন্য ২৫০/২৮০ পৃষ্ঠার পরিসরের বই হলে দামটা কম রাখা যেতো, কিন্তু, শেষবিচারে মূল ধারাগুলো থাকাতে সুবিধাই হবে আপনাদের। ক্ষেত্র বিশেষে ইংরেজি অংশও আছে বেশিরভাগ জায়গায় যেন মূল ধারার পূর্ণাঙ্গ পাঠ সেরে রাখতে পারেন।
বইটি প্রণয়নে সার্বক্ষণিক সাথে ছিলেন শাম্মি আখতার। বিভিন্ন জটিল বিষয় নিয়ে দীর্ঘ পড়াশোনা চালিয়ে যাবার ও তা সংক্ষেপিত আকারে উপস্থাপনের অসাধারণ যোগ্যতাসম্পন্ন মেয়েটির সহযোগিতা না পেলে এই বইয়ের কাজ আরো পিছিয়ে পড়তো। অন্যদিকে, যারা আমাদেরকে শুরু হতে চেনেন তারা নাবিল নিয়াজকে সবাই চেনেন। আমার আগ্রহে আইন পড়ার স্বপ্ন তৈরি হলেও ও নিজেই একজন স্বাপ্নিক হবে, আইন জগতে আইন শিক্ষার্থীদের জন্য ভূমিকা রাখবে এই আশাবাদ ও স্বপ্ন এখনো আছে আমার। সময় কথা বলবে – এই আশাবাদ রাখি প্রতিশ্রুতিশীল এই তরুণ ও তরুণী বিষয়ে।
এই বইটি লেখার সময় যাদের পরামর্শ মাঝেমাঝে নিয়েছি এবং যারা অকাতরে তাদের মূল্যবান সময় দিয়ে সহায়তা করেছেন তাঁদের কাছে বিশেষ কৃতজ্ঞ; বিশেষত, আমার সরাসরি সিনিয়র অ্যাডভোকেট আবুল হাসনাত বেগ, অ্যাডভোকেট কলিগ সেকেন্দার আলী, অ্যাডভোকেট আহমদ ইবনুল ওয়াক্ত ইবসেন, অ্যাডভোকেট রওশন আলী প্রমুখের কাছে কৃতজ্ঞতা অশেষ।
মানুষ অসীম সম্ভাবনাময় প্রাণী; কিন্তু একইসাথে আমরা সীমাবদ্ধও বটে। অনেক আত্মবিশ্বাস সহকারে কথা বললেও নিজেরও অজান্তে সীমাবদ্ধতা বা ত্রুটি থাকা অস্বাভাবিক নয়। আর দশটা মানুষের মতোই আমি বা আমরাও রক্তে-মাংসে-দোষে-গুণেই মানুষ। যেকোনো বিচ্যুতি-ত্রুটির দায় লেখকের। জানাতে সংকোচ করবেন না; কৃতজ্ঞ থাকবো; কেননা, আনুষ্ঠানিক পড়ালেখা হয়তো অনেক আগেই চুকিয়েছি, কিন্তু দুনিয়ার নিত্যদিনের চলমান পাঠশালা কবর পর্যন্ত থাকবে – এমনটাই মনে করি।
মুরাদ মোর্শেদ
অ্যাডভোকেট ও আইনগ্রন্থ লেখক
১ জুলাই, ঢাকা। ০১৭১২ ৯০৮ ৫৬১
লিখিত বইটির নোট সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের মন্তব্য
আপনি তো ২৯৯-৩০০ তে বিপ্লব ঘটিয়ে দিয়েছেন! আপনার লিখাটা পড়লাম। অসাধারণ! মাথার বেশ কিছু জট খুলে গেলো। Can’t wait to have your book!
স্যারের নোটটি দেখে খুবই ভালো লাগলো। পেনাল কোডের যে বিষয়টি সারাজীবন খুব কনফিউজড লেগেছে, সেই বিষয় এতো সুন্দর ও যুক্তিসঙ্গতভাবে লিখেছেন তা অসাধারণ। স্যারের বইয়ের জন্য অপেক্ষা করছি আমরা। স্যারের জন্য অনেক দোয়া রইলো।
লিখিত পরীক্ষার জন্য
আইনকানুন একাডেমিতে প্রস্তুতি নিন, ঘরে বসেই!!
থাকছে লাইভ ভিডিও ক্লাস
খাতা দেখবেন সহকারী জজগণ ও অন্যান্য শিক্ষকগণ :: থাকছে মুরাদ মোর্শেদ স্যার এর গাইডলাইন আর কাউন্সেলিং
দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে!
বিস্তারিত জানতে ফোন দিন : 01309-541565 অথবা 01711-140927।