+8801712-908561 juicylawinfo@gmail.com

Penal Code : Lecture 02

General Explanations : সাধারণ ব্যাখ্যাসমূহ

ম্যাপিং : সিলেবাসে বর্ণিত সাধারণ ব্যাখ্যাসমূহ [General explanations] নামে দণ্ডবিধির ২য় অধ্যায় এনগেজ আছে। আমাদেরও এটি ২য় লেকচার। ধারা ৬ থেকে ৫২। এর ভেতর মূলত এই আইনে ব্যবহৃত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও দ্ব্যর্থবোধক অর্থ দাঁড়াতে পারে এমন শব্দগুলোর সংজ্ঞা উল্লেখ করা আছে যেন এর ব্যাখ্যায় একটি সার্বজনীনতা থাকে। এর সাথে দণ্ডবিধির কিছু সাধারণ নীতিসমূহ সংক্রান্তও ধারা সন্নিবেশিত আছে। উপরন্তু, সাধারণ অভিপ্রায় সংক্রান্ত বেশ কয়েকটি ধারা আছে যা, দণ্ডবিধির উপলব্ধিতে অতি আবশ্যক ধারণা। তবে সিলেবাসে সাধারণ ব্যাখ্যাসমূহের পরেপরেই সাধারণ অভিপ্রায় নিয়ে Acts done by several persons in furtherance of common intention – এই শিরোনামে আলোচনা করা আছে। সাধারণ অভিপ্রায় সংক্রান্ত ধারাগুলো নিয়ে পরের লেকচারে আলোচনা করবো বিধায় সেটি (৩৪ থেকে ৩৮ ধারা পর্যন্ত) বাদ দিয়েই আলোচনা করবো।

দণ্ডবিধির ২য় অধ্যায় [ধারা : ৬ থেকে ৫২; সাধারণ ব্যাখ্যাসমূহ – General explanations]  এবং ৪র্থ অধ্যায় [ধারা : ৭৪ থেকে ১০৬; সাধারণ ব্যতিক্রমসমূহ – General exceptions] এর উপলব্ধি ছাড়া দণ্ডবিধি সঠিকভাবে প্রয়োগ করা যায় না। একজন বিচারকও এই দুটি অধ্যায়ের সঠিক ও সতর্ক প্রয়োগ করা ছাড়া ভুল করে বসতে পারেন। সঙ্গত কারণেই, মনোযোগের সাথে এগুলো আমাদেরকে পড়তে হবে।

মূল আলোচনা

৬ ও ৭ ধারা বাদে বিস্তারিত আলোচনার প্রয়োজন পড়বে না। প্রথমেই ৬ নং ধারাটি পড়ে নেন।

“ধারা ৬ : এই আইনের সংজ্ঞাগুলোর অর্থ ব্যতিক্রমসমূহ সাপেক্ষে হবে : এই বিধির সর্বত্র সকল অপরাধের প্রতিটি সংজ্ঞা, প্রতিটি দণ্ডপ্রদান এবং অনুরূপ সংজ্ঞা বা দণ্ডবিধানের প্রত্যেকটি উদাহরণের অর্থ ‘সাধারণ ব্যতিক্রমসমূহ’ শীর্ষক পরিচ্ছেদে বিধৃত ব্যতিক্রমসমূহ সাপেক্ষে করতে হবে, যদিও উক্ত ব্যতিক্রমসমূহ অনুরূপ সংজ্ঞা, দণ্ড প্রদান বিষয়ক বা উদাহরণে পুনরুল্লেখ করা না হয়।

উদাহরণসমূহ

(ক) এই আইনের যে সকল ধারায় অপরাধের সংজ্ঞা নির্দেশ করা হয়েছে, সে সকল ধারায় বলা হয় নাই যে, সাত বৎসরের কম বয়স্ক কোন শিশুর কর্তৃক উক্ত অপরাধগুলি অনুষ্ঠিত হতে পারে না, তথাপি সংজ্ঞাগুলির এই সাধারণ ব্যতিক্রম সাপেক্ষেই গ্রহণ করতে হবে যে, সাত বৎসরের কম বয়স্ক শিশুদের কোন কর্মই অপরাধ বলে পরিগণিত হবে না।

(খ) ক একজন পুলিশ কর্মকর্তা। তিনি বিনা পরোয়ানায় খ-কে গ্রেফতার করেন, যে খুন করেছে। এই ক্ষেত্রে ক অন্যায় আটক করার অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হবেন না; কেননা তিনি খ কে গ্রেফতার করতে আইনত বাধ্য ছিলেন। কাজেই বিষয়টি সাধারণ ব্যতিক্রমের অধীনে পড়ে, কোন ব্যক্তি আইনত যে কার্য করতে বাধ্য তিনি সে কার্য করলে তা অপরাধ হবে না।

মূল ধারায় দেয়া উদাহরণেই বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে যাবার কথা। এ ধারার মূল কথাটি হলো – দণ্ডবিধির ৪র্থ অধ্যায়ে বর্ণিত সাধারণ ব্যতিক্রমসমূহ অর্থাৎ ধারা ৭৪ থেকে ১০৬ পর্যন্ত বর্ণিত বিষয়সমূহ সাপেক্ষেই দণ্ডবিধির সংজ্ঞাসমূহ কার্যকর হবে। এই ধারায় এই ঘোষণাই দেয়া হয়েছে যে, সাধারণ ব্যতিক্রমসমূহের বিষয়বস্তু যদি বিভিন্ন ধারায় ধারায় অপরাধের বর্ণনা বা সংজ্ঞার সময়ে বলা নাও থাকে তবুও ধরে নিতে হবে ব্যতিক্রমসমূহের আওতা বিবেচনা করেই উক্ত কোনো সংজ্ঞা কার্যকর হবে।

এ সম্পর্কে আর বিশেষ কিছু বোঝার নেই এই মুহূর্তে, অন্তত এমসিকিউ পরীক্ষার জন্য। পরবর্তীতে যখন উক্ত সাধারণ ব্যতিক্রমসমূহ পড়বেন তখন বিষয়টি আরো বেশি পরিষ্কার হবে।



৭ বৎসর নিয়ে ৯ কথা!

এই ৭ বছর নিয়ে একটা কনফিউশন আছে। আমরা আপনাদের জন্য সেটি এখানেই দূর করে দিতে চাই।

এই ধারায় উদাহরণ দিতে গিয়ে বলা হয়েছে ৭ বছরের কম বয়সী কোনো শিশুর দ্বারা দণ্ডবিধিতে বর্ণিত কোনো অপরাধ সংঘটিত হলে তা ব্যতিক্রমের আওতায় পড়বে। তার মানে, দণ্ডবিধির ৪র্থ অধ্যায়ে সাধারণ ব্যতিক্রম শিরোনামের অংশে বা ৭৪ থেকে ১০৬ ধারার ভেতরে এই ব্যতিক্রমটির উল্লেখ থাকার কথা। হ্যাঁ, উল্লেখ আছে। ৮২ ও ৮৩ ধারা। ধারা দুইটি দেখে নেন এখানে :

“ধারা ৮২ : নয় বৎসরের কম বয়সের শিশু দ্বারা সম্পাদিত কাজ : নয় বৎসরের কম বয়স্ক শিশুর কোন কার্যই অপরাধ নয়।

“ধারা ৮৩ : নয় বৎসরের অধিক কিন্তু বার বৎসরের কম বয়সের অপরিণত বুদ্ধিসম্পন্ন শিশু দ্বারা সম্পাদিত কাজ : নয় বৎসর অপেক্ষা বেশি কিন্তু বার বৎসর অপেক্ষা কম বয়সের এমন কোন শিশুর কোন কাজ অপরাধ বলে গণ্য হবে না, যে শিশু সংশ্লিষ্ট কাজটি করার সময় উহার প্রকৃতি ও ফলাফল বিচার করার পক্ষে পর্যাপ্ত বুদ্ধির পরিপক্কতা লাভ করে নাই।

এই ৮২ ও ৮৩ ধারাটিতে একেবারে আদি খসড়ায় বা ১৮৬০ সালের অরিজিনাল আইনে ৭ বছরই উল্লেখ ছিলো। ১৮৬০ সালের মূল আইনে ৮২ ধারাটি স্যাম্পল আকারে হুবহু দেখে নেন।

“Section 82 : Act of a child under 7 years of age : Nothing is an offence which is done by a child under seven years of age. [১৮৬০ সালের আদি আইন]

কিন্তু বাংলাদেশে ২০০৪ সালের ২৪ নং সংশোধনী আইন অনুযায়ী এটাকে পরিবর্তিত করে ৯ বছর করা হয়। ৮২ ধারার সাথে সম্পর্কিত ৮৩ ধারাটিতে একই সময়ে সংশোধন করে ৯ বছর লেখা হয়। কিন্তু মজার ব্যাপার হলো – উক্ত ৮২ ও ৮৩ ধারার সাথে সম্পর্কিত ৬ নং ধারাটিতেও যে সংশোধন আনতে হবে সেটা খেয়াল করা হয় নাই। তাঁরা লক্ষ্য করেন নি সম্ভবত।

ফলে কত বছরের কম বয়সী শিশুর করা কোনো কাজ অপরাধ বলে বিবেচিত হয়না দণ্ডবিধি অনুযায়ী? – এই প্রশ্নের উত্তর হলো – ৯ বছর। এই ৬ ধারায় প্রয়োজনীয় সংশোধনী যুক্ত না থাকায় ভুল বুঝবেন না। কোনো আইনে সাধারণত এরকম ভুল দেখা যায়না। এই ধরনের ভুল বিরল। আইনপ্রণেতাদের অলক্ষ্যে থেকে যাওয়া বিষয়টি নিয়ে কমনসেন্স প্রয়োগ করে শিখে রাখুন। ভুল করবেন না।



এবার ধারা ৭।

“ধারা ৭ : একবার ব্যাখ্যাকৃত অভিব্যক্তির তাৎপর্য : এই বিধির যে কোন অংশে কোন উক্তি যেভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে বিধির সকল অংশে সে উক্তিটি সে ব্যাখ্যার সাথে সামঞ্জস্য রেখেই ব্যবহার করা হবে।

একবার যে শব্দের অর্থ ব্যাখ্যা করা হয়ে গেছে বা যে অর্থে ব্যাখ্যা করার কথা বলা হয়েছে – পুরো দণ্ডবিধিতে উক্ত শব্দের অর্থ উক্ত ব্যাখ্যাত অর্থেই প্রয়োগ করতে হবে। মানে, প্রত্যেক অভিব্যক্তিই সবস্থানে একই অর্থ বহন করবে। কোনো এক মামলায় এক অর্থে আবার অন্য একটি মামলায় অথবা ভিন্ন আসামীর জন্য অন্য অর্থে – এমনটা হয় না কখনো। আইন ব্যাখ্যারই এটা একটি সাধারণ নিয়ম যে, একই আইনে যদি কোনো শব্দ একাধিকবার ব্যবহার করা হয়, তাহলে সেই শব্দ সেই আইনের সর্বত্রই একই অর্থ প্রকাশ করবে। বিশৃঙ্খলভাবে বিভিন্ন স্থানে ভিন্ন ভিন্নভাবে তা ব্যবহৃত হতে পারে না।

এরপরে ৮ ধারা থেকে বিভিন্ন শব্দের সংজ্ঞা দেয়া হয়েছে। এই সংজ্ঞাগুলো নিজের উপলব্ধির জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ, যেমন, ‘অসাধুভাবে’ শব্দটি বিভিন্ন অপরাধের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে ব্যবহার করা হয়েছে দণ্ডবিধিতে। কিন্তু কোনটি ‘অসাধুভাবে’ আর কোনটি অসাধুভাবে নয় এর ভেতর পরিষ্কার পার্থক্য করতে না পারলে উক্ত সংজ্ঞার উপলব্ধি অসম্পূর্ণ থেকে যাবে আপনার।

আবার, এমসিকিউ ধরনের পরীক্ষার জন্যও এসব গুরুত্বপূর্ণ। পরীক্ষক মনেই করতে পারেন যে, আপনি একজন আইনজীবী হবেন অথচ বিচারক, আদালত ইত্যাদির সংজ্ঞা জানবেন না, তা কিভাবে হয়। ফলে প্রশ্ন দিয়েই দিতে পারে যে, ‘আদালত’ এর সংজ্ঞা দণ্ডবিধির কোন ধারায় দেয়া আছে? ২০১৭ সালের বার কাউন্সিল এমসিকিউ পরীক্ষায় ৫০ এর অধিক প্রশ্ন সরাসরি ধারা সম্পর্কে এসেছিলো। ফলে সংজ্ঞা সংক্রান্ত ধারাগুলো বিশেষভাবে মনে রাখার প্রয়োজন আছে। এই মনে রাখা ব্যাপারটা একদিনে রপ্ত হবে না। পুরো দণ্ডবিধি শেষ করে প্রথম রিভিশনে বিষয়টা অনেক আয়ত্বে চলে আসবে। প্রথমবার পড়ে যাবার সময় যত্ন করে এর মূল কনটেন্ট টা বোঝার চেষ্টা করুন। কোনটা কোন ধারা এই মেমোরাইজিং এখন বাদ দেন পুরা! জাস্ট ফলো আস ডিয়ার!

তবে স্রেফ সংজ্ঞামূলক ধারণাগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার বিশেষ কিছু নেই। যখন এইসব শব্দগুলো অন্যান্য অপরাধের সংজ্ঞায় ব্যবহৃত হবে তখন সেটা নিয়ে কিছুটা বিস্তার করবো, তাহলে প্রাসঙ্গিকভাবে বুঝতে সুবিধা হবে আর মনেও থাকবে ভালোভাবে। ওকে? আমরা ধারাগুলো তুলে দিলাম শুধুমাত্র। পরের দিকে একটা চার্ট থাকবে।

তবে এই সংজ্ঞাগুলো গুছিয়ে পড়ার এবং মনে রাখার একটা টিপস দেবো যখন আমরা এই লেকচারটি রিভিশন দেবো। আপাতত নিজের সক্ষমতা যাচাই করুন। সম্ভব হলে কোনো একটা উপায় বের করুন নিজে নিজে।

“ধারা ৮ : লিঙ্গ (Gender) : ‘তিনি’ সর্বনাম এবং উহার সকল রূপ পুরুষ-নারী নির্বিশেষে যে কোন ব্যক্তি সম্পর্কে ব্যবহৃত হয়েছে।” [ Section 8 : Gender : The pronoun “he” and its derivatives are used of any person, whether male or female.]

“ধারা ৯ : বচন (Number) : একই বিষয়ের পরিপ্রেক্ষিতে অন্যরূপ প্রতীয়মান না হলে এক বচনের অর্থবিশিষ্ট শব্দের তাৎপর্যে বহুবচনের অর্থ আওতাভুক্ত থাকবে এবং বহুবচনের অর্থবিশিষ্ট শব্দের তাৎপর্যে একবচন আওতাভুক্ত থাকবে।

ধারা ১০ : ‘নর’ ‘নারী’ (‘Man’ ‘Woman’) : ‘নর’ বলতে যে কোন বয়সের পুরুষ মানুষ বুঝায় এবং ‘নারী’ বলতে যে কোন বয়সের স্ত্রীলোক বুঝায়।

“ধারা ১১ : ব্যক্তি (Person) : ব্যক্তি বলতে সমিতিভুক্ত হোক বা না হোক যে কোন কোম্পানি বা সমিতি বা ব্যক্তি সংস্থা আওতাভুক্ত বুঝাবে।

“ধারা ১২ : জনসাধারণ (Public) : জনসাধারণ বলতে যে কোন অংশ বা শ্রেণী অথবা যে কোন সম্প্রদায় জনসাধারণ কথাটির অন্তর্ভূক্ত।

ধারা ১৩ : বাতিল।

“ধারা ১৪ : রাষ্ট্রের কর্মচারী (Servant of the State) : রাষ্ট্রের কর্মচারী অর্থ বাংলাদেশে নিযুক্ত বা কার্যরত অথবা বাংলাদেশে যাদেরকে সরকারি চাকুরিতে বহাল রাখা হয়েছে এমন সকল কর্মকর্তা বা কর্মচারীকে বুঝাবে।

ধারা ১৫, ১৬ : বাতিল।

“ধারা ১৭ : সরকার (Government) : সরকার বলতে বাংলাদেশ বা উহার কোন অংশে কার্যনির্বাহী সরকার পরিচালনা করবার জন্য আইনবলে ক্ষমতা প্রাপ্ত ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গকে বুঝাবে।

ধারা ১৮ : বাতিল।

“ধারা ১৯ : বিচারক (Judge) : বিচারক অর্থ শুধু সরকারিভাবে বিচারক বলে আখ্যাত বা নিযুক্ত প্রত্যেক ব্যক্তিকেই বোঝায় না, বরং যেকোন আইনগত কার্যব্যবস্থা, কোন দেওয়ানী বা ফৌজদারী যা হোক, চূড়ান্ত রায়দান বা আপীল না করা হলে চূড়ান্ত গণ্য হবে এইরূপ বায়দান বা অন্য কোন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক সমর্থিত হলে চূড়ান্ত গণ্য হবে এমন কোন রায়দান করতে ক্ষমতাপ্রাপ্ত প্রদত্ত প্রত্যেক ব্যক্তি, অথবা অনুরূপ রায়দান করার জন্য আইনবলে ক্ষমতাপ্রাপ্ত যে কোন ব্যক্তি সংস্থাভূক্ত ব্যক্তিকেও বুঝাবে।

উদাহরণসমূহ :

(ক) ১৮৫৯ সালের ১০নং আইন মোতাবেক কোন মোকদ্দমায় বিচার-ক্ষমতা প্রয়োগে একজন কালেক্টরই বিচারক।

(খ) যে অভিযোগের বিচারে ম্যাজিস্ট্রেটের অর্থ বা কারাদণ্ডদানের ক্ষমতা রয়েছে-তার দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপীল করা যাক বা না যাক- সে অভিযোগে বিচার ক্ষমতা প্রয়োগকারী ম্যাজিস্ট্রেট একজন বিচারক।

(গ) বাতিল ।

(ঘ) যে অভিযোগে ম্যাজিস্ট্রেট কেবলমাত্র কোন আদালতে বিচারের জন্য সোপর্দ করার ক্ষমতাপ্রাপ্ত, সে অভিযোগের ব্যাপারে এখতিয়ার প্রয়োগকারী ম্যাজিস্ট্রেট একজন বিচারক নয়।

“ধারা ২০ : বিচারালয় বা আদালত (Court of Justice) : বিচারালয় বা আদালত বলতে শুধু বিচার কার্য করতে ক্ষমতাপ্রাপ্ত বিচারক বা বিচারক সংস্থাকে বুঝাবে, যেক্ষেত্রে এইরূপ বিচারক বা বিচারক সংস্থা বিচার কার্য করছেন।

“ধারা ২১ : সরকারি কর্মচারী (Public servant) : ‘সরকারি কর্মচারী’ অর্থ নিচে উল্লেখিত যে কোন শ্রেণীর ব্যক্তিকে বুঝাবে, যথা:

প্রথম : বাতিল।

দ্বিতীয় : সরকারের আওতায় কার্যরত রাষ্ট্রের সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী কিংবা বিমান বাহিনীর প্রত্যেক কমিশন প্রাপ্ত কর্মকর্তা;

তৃতীয় : প্রত্যেক বিচারক বলতে সে ব্যক্তি, যিনি একাকী বা কোন ব্যক্তিসমষ্টির একজন সদস্যরূপে বিচারকাজ করার জন্য আইন দ্বারা ক্ষমতাপ্রাপ্ত, অন্তর্ভূক্ত হবে;

চতুর্থ : কোন আদালতের কর্মকর্তা, অনুরূপ কর্মকর্তা হিসেবে যার কর্তব্য হচ্ছে কোন আইনগত বা ঘটনাগত বিষয় সম্পর্কে তদন্ত করা বা রিপোর্ট দাখিল করা, অথবা কোন দলিল প্রণয়ন, প্রামাণ্য বলে স্বাক্ষরদান বা সংরক্ষণ করা, অথবা কোন সম্পত্তির দায়িত্ব গ্রহণ বা উহার বিলি ব্যবস্থা করা, অথবা কোন বিচার বিভাগীয় কার্যক্রম বলবৎ করা, অথবা কোন শপথ গ্রহণ করানো, অথবা আদালতের শৃঙ্খলা সংরক্ষণ করা এবং উক্ত কর্তব্যগুলির যে কোনটি সম্পাদন করার জন্য আদালত হতে বিশেষভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত প্রত্যেক ব্যক্তি;

পঞ্চম : কোন আদালত বা সরকারি কর্মচারীকে সহায়তাকারী প্রত্যেক জুরী, এসেসর বা পঞ্চায়েত সদস্য;

ষষ্ঠ : এইরূপ প্রত্যেক মধ্যস্থতাকারী বা অন্য কোন ব্যক্তি কোন বিচারানেয় বা অন্য কোন যোগ্যতাসম্পন্ন সরকারি কর্তৃপক্ষ কর্তৃক যার নিকট কোন সমস্যা বা বিষয় সিদ্ধান্ত বা রিপোর্টের জন্য প্রেরণ করা হয়েছে;

সপ্তম : এমন কোন ব্যক্তি যিনি এমন কোন পদে অধিষ্ঠিত রয়েছেন, যে পদমর্যাদা বলে তিনি কোন ব্যক্তিকে আটক করতে বা আটক করে রাখতে ক্ষমতাপ্রাপ্ত;

অষ্টম : সরকারের এমন কোন কর্মচারী যার কর্তব্য হচ্ছে অনুরূপ কর্মচারী হিসেবে অপরাধ নিরোধ করা, অথবা অপরাধের তথ্য দান করা, অথবা অপরাধীদের বিচারের সম্মুখীন করা, অথবা জনস্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও সুখ স্বাচ্ছন্দ্য সংরক্ষণ করা;

নবম : এমন কোন কর্মকর্তা যার অনুরূপ কর্মকর্তা হিসেবে কর্তব্য হচ্ছে সরকারের পক্ষে কোন সম্পত্তি দখল করা, গ্রহণ করা, রাখা বা ব্যয় করা, অথবা সরকারের পক্ষে কোন জরিপ এসেসমেন্ট বা চুক্তি সম্পাদন করা অথবা কোন কোন রাজস্ব বিষয়ক নির্দেশ বলবৎ করা, কিংবা সরকারের আর্থিক স্বার্থ সংক্রান্ত কোন বিষয়ে তদন্ত করা বা রিপোর্ট দাখিল করা অথবা সরকারের আর্থিক বিষয়ক কোন দলিল প্রণয়ন করা, সত্য (বা প্রামাণ্য) বলে স্বাক্ষর দান করা বা রাখা, অথবা সরকারের আর্থিক স্বার্থ সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে কোন আইনের বিচ্যুতি রোধ করা।

দশম : এমন প্রত্যেক কর্মকর্তা, অনুরূপ কর্মকর্তা হিসেবে যার কর্তব্য হচ্ছে কোন সম্পত্তি দখল, গ্রহণ, সংরক্ষণ বা ব্যয় করা, কোন গ্রাম, শহর বা জেলায় ধর্মনিরপেক্ষ সাধারণ উদ্দেশ্য সম্পাদনের জন্য কোন জরিপ করা বা এসেসমেন্ট করা বা কোন রেট বা ট্যাক্স ধার্য করা, অথবা কোন গ্রাম, শহর বা জেলার জনসাধারণের অধিকারসমূহ নির্ণয়ের উদ্দেশ্যে কোন দলিল প্রণয়ন করা, উহাকে প্রামাণ্য বলে স্বীকৃতিদান করা বা উহা সংরক্ষণ করা।

একাদশ : এমন কোন ব্যক্তি, যিনি এমন কোন পদে অধিষ্ঠিত, যে পদমর্যাদা বলে তিনি নির্বাচক তালিকা প্রণয়ন, প্রকাশনা, সংরক্ষণ বা পরিশোধন করার অথবা কোন নির্বাচন কিংবা নির্বাচনের অংশবিশেষ পরিচালনার ক্ষমতাপ্রাপ্ত ।

উদাহরণ-পৌর কমিশনার একজন সরকারি কর্মচারী।

দ্বাদশ : প্রত্যেক ব্যক্তি-

(ক) কোন সরকারি কর্তব্য সম্পাদনের জন্য সরকারের চাকুরিতে বা বেতনভোগী হিসেবে নিযুক্ত রয়েছেন বা ফি অথবা কমিশন আকারে পারিশ্রমিক পেয়ে থাকেন;

(খ) কোন আইনবলে বা আইনানুসারে প্রতিষ্ঠিত কোন স্থানীয় কর্তৃপক্ষ, কর্পোরেশন বা সংস্থায় চাকুরিতে বা এমন কোন অংশীদারী কারবার বা কোম্পানির চাকরিতে নিযুক্ত রয়েছেন যার আংশিক পুঁজি বা স্বত্ব সরকার কর্তৃক বা সরকারের উপর ন্যস্ত।

ব্যাখ্যা  ১ : সরকার কর্তৃক নিযুক্ত হোক বা না হোক উপরোক্ত সংজ্ঞাসমূহের যেকোনটির অন্তর্ভূক্ত ব্যক্তিগণ সরকারি কর্মচারীরূপে গণ্য হবেন।

ব্যাখ্যা ২ : যে স্থলে “সরকারি কর্মচারী” কথাগুলি দৃষ্ট হবে, সে স্থলেই উহার কার্যত সরকারি কর্মচারীর স্থলাভিষিক্ত ব্যক্তিকেই বুঝায় বলে মনে করতে হবে । উক্ত ব্যক্তির উক্ত সরকারি কর্মচারী পদে অধিষ্ঠিত হওয়ার অধিকারের কোন আইনগত ত্রুটি থাকলেও এই ব্যাখ্যার ব্যত্যয় হবে না।

ব্যাখ্যা ৩ : নির্বাচন অর্থ এমন কোন বিধান প্রণয়নকারী, পৌর বা অপর কোন সরকারি সংস্থার যে-কোন ধরনের সদস্যদের মনোনয়নের জন্য নির্বাচন বুঝাবে, যার সদস্য মনোনয়ন পদ্ধতি আইন কর্তৃক বা আইনের নির্দেশমতে নির্বাচন বলে বিধান করা হয়েছে।

“ধারা ২২ : অস্থাবর সম্পত্তি (Movable property) : অস্থাবর সম্পত্তি বলতে জমি, এবং ভূমির সহিত সংযুক্ত বা ভূমির সহিত সংযুক্ত এইরূপ কোন কিছুর সহিত স্থায়ীভাবে আবদ্ধ বস্তু ব্যতিরেকে, প্রত্যেক বর্ণনার শরীরি সম্পত্তি বুঝাবে।

“ধারা ২৩ : অবৈধ লাভ (Wrongful gain) : অবৈধ লাভ হচ্ছে, বেআইনীভাবে এইরূপ সম্পত্তি লাভ করা, যে সম্পত্তি লাভকারী ব্যক্তির কোন আইনানুগ অধিকার নাই ।

অবৈধ ক্ষতি (Wrongful loss) : কোন সম্পত্তিতে যে ব্যক্তির আইনগত অধিকার বা স্বত্ব রয়েছে, বেআইনীভাবে উক্ত ব্যক্তির সে সম্পত্তির ক্ষতি হলে বা হৃত হলে ‘অবৈধ ক্ষতি’ বলে ।

অবৈধভাবে লাভ করা (Gaining wrongfully) : কোন ব্যক্তি অবৈধভাবে অধিকারে রাখলে এবং অবৈধভাবে অর্জন করলে ঐ ব্যক্তিকে অবৈধভাবে লাভ করে বলে আখ্যাত হবে ।

অবৈধভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া (Losing wrongfully) : কোন ব্যক্তিকে অবৈধভাবে কোন সম্পত্তি হতে বেদখল রাখা হলে এবং অবৈধভাবে সম্পত্তিচ্যুত করা হলে ঐ ব্যক্তি অবৈধভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে গণ্য হবে।

“ধারা ২৪ : অসাধুভাবে (Dishonestly) : কোন ব্যক্তি কারো অবৈধভাবে লাভ ঘটাবার বা কারো অবৈধভাবে ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে কিছু করলে উক্ত ব্যক্তি তা ‘অসাধুভাবে’ করেছে বলে পরিগণিত হয় ।

“ধারা ২৫ : প্রতারণামূলকভাবে (Fraudulently) : কোন ব্যক্তি প্রতারণার উদ্দেশ্যে কিছু করলেই উক্ত ব্যক্তি ‘প্রতারণামূলকভাবে’ তা করেছে বলে পরিগণিত হয়, অন্যথায়, নয় ।

“ধারা ২৬ : বিশ্বাস করার কারণ (Reason to believe) : কোন ব্যক্তিকে কোন বিষয় বিশ্বাস করার জন্য তার উক্ত বিষয়ে বিশ্বাসের যথেষ্ট কারণ থাকলেই তার উক্ত বিষয়ে ‘বিশ্বাসের (বা বিশ্বাস করার) কারণ’ আছে বলে পরিগণিত হয়, অন্যথায় নয়।

“ধারা ২৭ : স্ত্রী, কেরানী, অথবা চাকরের দখলাধীন সম্পত্তি (Property in possession of wife, clerk or servant) : কোন ব্যক্তির সম্পত্তি উক্ত ব্যক্তির দরুণ তার স্ত্রী, কেরানী বা চাকরের দখলাধীন থাকলে এই আইনের অর্থ মোতাবেক উক্ত সম্পত্তি উক্ত ব্যক্তিরই দখলাধীন বলে পরিগণিত হবে।

ব্যাখ্যা : সাময়িক বা অস্থায়ীভাবে অথবা কোন বিশেষ উপলক্ষে কেরানী বা চাকরের পদে নিযুক্ত কোন ব্যক্তি এই ধারার অর্থ মোতাবেক অনুরূপ কেরানী বা চাকর বলে অভিহিত হবে।

“ধারা ২৮ : নকল করা (Counterfeit) : কোন ব্যক্তি একটি বস্তুকে দেখতে অপর কোন বস্তুর সদৃশ করে অনুরূপ আপাত সাদৃশ্য দ্বারা প্রতারণা করার উদ্দেশ্যে ব্যবহার করার অভিসন্ধি করলে, অথবা অনুরূপ সাদৃশ্য প্রতারণার উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে জানা সত্ত্বেও উক্ত বস্তুকে অনুরূপভাবে অপর কোন বস্তুর সদৃশ করালে উক্ত ব্যক্তি নকল করে বা করেছে বলে পরিগণিত হয়।

ব্যাখ্যা  ১ : নকলকরণের ব্যাপারে অনুকরণ অবিকল হওয়া অপরিহার্য নয় ।

ব্যাখ্যা  ২ : যেক্ষেত্রে কোন ব্যক্তি নকল করে একটি বস্তুকে দেখতে অপর একটি বস্তুর সদৃশ করে নেয় এবং আসল বস্তুর সাথে নকল (বা মেকি) জিনিসটির সাদৃশ্য এমন প্রকট হয় যে, তদ্বারা কোন ব্যক্তি প্রতারিত হতে পারে, তবে বিপরীত প্রমাণ না পাওয়া পর্যন্ত এইরূপ ধরে নেয়া হবে যে- যে ব্যক্তি অনুরূপভাবে নকল করে একটি বস্তুকে দেখতে অপর একটি বস্তুর সদৃশ করে নিয়েছে, সে ব্যক্তি অনুরূপ সাদৃশ্য দ্বারা প্রতারণা করার উদ্দেশ্যেই তা করেছে অথবা অনুরূপ সাদৃশ্য কর্তৃক প্রতারণা করা হতে পারে জেনেই তা করেছে।

“ধারা ২৯ : দলিল (Document) : দলিল কথাটি এমন কোন বস্তুকে বুঝায়, যে বস্তুর উপর অক্ষর, সংখ্যা বা চিহ্ন কর্তৃক অথবা অনুরূপ একাধিক উপায়ে প্রকাশিত বা বর্ণিত বিষয়টির সাক্ষ্য বা প্রমাণ হিসেবে উক্ত বস্তুটি প্রস্তুত করা হয় অথবা প্রমাণ হিসেবে উক্ত বস্তুটি ব্যবহৃত হতে পারে।

ব্যাখ্যা  ১ : কি উপায়ে বা কেমন বস্তুর উপর অক্ষর, সংখ্যা বা চিহ্নগুলি গঠন করা হয়েছে অথবা প্রমাণটি কোন আদালতে ব্যবহার করার উদ্দেশ্যে প্রস্তুত করা হয়েছে বা কোন আদালতে ব্যবহৃত হতে পারে কিনা তাতে কিছু যায় আসে না।

উদাহরণ : কোন চুক্তির শর্তাবলি সম্বলিত লিখিত বস্তু- যা চুক্তিটির প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে- একটি দলিল । কোন ব্যাংকারের চেক – একটি দলিল । কোন পাওয়ার-অব-এটর্নী- একটি দলিল প্রমাণ হিসেবে ব্যবহারের জন্য উদ্দীষ্ট বা প্রমাণ হিসেবে ব্যবহারের যোগ্য কোন মানচিত্র বা নকশা- একটি দলিল । নির্দেশাবলী বা উপদেশাবলি সম্বলিত কোন লিখিত কোন বস্তু – একটি দলিল ।

ব্যাখ্যা  ২ : অক্ষর, সংখ্যা বা চিহ্নাদি কর্তৃক ব্যবসায়গত বা অপর কোন প্রচলনসিদ্ধ তাৎপর্য মোতাবেক যদ্রƒপ ব্যক্ত করা হয়, এই ধারার অর্থানুযায়ী অনুরূপ অক্ষর সংখ্যা বা চিহ্নাদি কর্তৃক তদ্রƒপই ব্যক্ত হয়েছে বলে বিবেচনা করা হবে, যদিও কার্যত অনুরূপ ব্যক্ত না-ও হয়ে থাকতে পারে।

উদাহরণ : ক তার আদেশানুযায়ী প্রদেয় একটি বিল অব এক্সচেঞ্জের উল্টো দিকে তার নাম স্বাক্ষর করে। ব্যবসায়গত প্রচলনসিদ্ধ রীতি ও তাৎপর্য অনুযায়ী বরাত চিঠি এর উল্টো পিঠে এইরূপ স্বাক্ষর বলতে বুঝায় – বিলটি উহার ধারককে দিতে হবে । এইরূপ স্বাক্ষর একটি দলিল এবং স্বাক্ষরটির উপরে ‘ধারককে প্রদেয়’ কথাগুলি বা তদনুরূপ কোন কথা লেখা থাকলে স্বাক্ষরটিকে যে অর্থে গ্রহণ করা হতো, এই ক্ষেত্রেও স্বাক্ষরটিকে ঠিক সে অর্থেই গ্রহণ করতে হবে ।

“ধারা ৩০ : মূল্যবান জামানত (Valuable security) : মূল্যবান জামানত বলতে বুঝায়- যে দলিলে কোন আইনগত অধিকার অথবা স্বত্ব সৃষ্ট, বর্ধিত কিংবা সম্প্রসারিত, হস্তান্তরিত, নিয়ন্ত্রিত, বিলুপ্তি কিংবা মুক্ত করা হয় কিংবা করা হয়েছে বলে প্রতীয়মান হয় অথবা যে দলিলে কোন ব্যক্তি কোন আইনগত দায়িত্ব স্বীকার করে, বা করেছে বলে প্রতীয়মান হয়।

উদাহরণ : ক বরাত চিঠির উল্টো পিঠে তার নাম স্বাক্ষর করে। যেহেতু এইরূপ স্বাক্ষর দ্বারা বিলটির অধিকার বা স্বত্ব উহার আইনসম্মত ধারকের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে, সেহেত বিলের উল্টা পিঠে প্রদত্ত এই স্বাক্ষর একটি ‘মূল্যবান জামানত’।

“ধারা ৩১ : একটি উইল (A Will) : ‘একটি উইল’ শব্দটি বলতে যে কোন ইচ্ছাপত্রকে নির্দেশ করা বুঝায়

“ধারা ৩২ : কোন কাজ সম্পর্কে ব্যবহৃত বক্তব্য বেআইনী গাফিলতি বা আকৃতি সম্পর্কেও প্রয়োগযোগ্য (Words referring to acts include illegal omissions) : ক্ষেত্র বিশেষে প্রসঙ্গ হতে অন্যরূপ উদ্দেশ্য প্রতীয়মান না হলে, এই বিধির সর্বত্র কার্যগুলো সম্পর্কে ব্যবহৃত বক্তব্যগুলি বেআইনী গাফিলতি বা আকৃতি সম্পর্কেও প্রয়োগযোগ্য।

“ধারা ৩৩ : ‘কার্য’ ‘বিচ্যুতি’ (‘Act’ ‘Omission’): কার্য বলতে একক কাজ হিসেবে কার্যসমূহের শ্রেণীকেও বুঝাবে। বিচ্যূতি বলতে একক বিচ্যূতি হিসেবে বিচ্যূতিসমূহের শ্রেণীকেও বুঝাবে।

এখানে ধারা ৩৪ থেকে ৩৮ পর্যন্ত ধারাগুলো পরের লেকচারে আলোচনা করা আছে। ফলে এখানে এই ধারাগুলো তুলে দেয়া হলো না।

“ধারা ৩৯ : স্বেচ্ছাকৃতভাবে (Voluntarily) : কোন ব্যক্তি যদি কোন কাজ সংঘটনের উদ্দেশ্যে উক্ত কাজ সংঘটনের উপায় অবলম্বন করে উহা সংঘটন করে, অথবা এমন উপায় অবলম্বন করে কাজটি সংঘটন করে যা অবলম্বনকালে সে জানত বা তার বিশ্বাস করার কারণ ছিল যে, উক্ত উপায়টি অবলম্বনের ফলে উক্ত কাজের সংঘটন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, তবে উক্ত ব্যক্তি স্বেচ্ছাকৃতভাবে উক্ত কাজটি সংঘটন করে বা করেছে বলে পরিগণিত হয়।

উদাহরণ : ক দস্যুতা সংঘটনের সুবিধার জন্য রাত্রিবেলা একটি বড় শহরের একটি বসত বাড়িতে আগুন লাগায়। এইভাবে বসতবাড়িতে অগ্নিসংযোগের ফলে এক ব্যক্তির মৃত্যু ঘটে। এই ক্ষেত্রে ক-এর উক্ত ব্যক্তির মৃত্যু সংঘটনের উদ্দেশ্য নাও থাকতে পারে এবং এমনকি অনুষ্ঠিত মৃত্যুর জন্য সে অনুতপ্ত বা দুঃখিতও হতে পারে, তথাপি তার কাজের ফলে মৃত্যু অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে সে জ্ঞাত থেকে থাকে, তবে সে স্বেচ্ছাকৃতভাবে মৃত্যু ঘটিয়েছে ।

“ধারা ৪০ : অপরাধ (Offence) : এই ধারার ২ ও ৩ অনুচ্ছেদে উল্লেখিত পরিচ্ছদগুলো ও ধারাগুলো ছাড়াই অপর সকল ক্ষেত্রে অপরাধ বলতে এই আইন বলে দণ্ডনীয় কোন কাজ বা বিষয় বুঝাবে।৪র্থ অধ্যায়, ৫ক অধ্যায় এবং ৬৪, ৬৫, ৬৬, ৬৭, ৭১, ১০৯, ১১০, ১১২, ১১৪, ১১৫, ১১৬, ১১৭, ১৮৭, ১৯৪, ১৯৫, ২০৩, ২১১, ২১৩, ২১৪, ২২১, ২২২, ২২৩, ২২৪, ২২৫, ৩২৭, ৩২৮, ৩২৯, ৩৩০,৩৩১, ৩৪৭, ৩৪৮, ৩৮৮, ৩৮৯, এবং ৪৪৫ ধারায় ‘অপরাধ’ বলতে এই আইনবলে অথবা অতঃপর বর্ণিত কোন বিশেষ বা স্থানীয় আইনবলে দণ্ডনীয় কোন কাজ বা বিষয় বুঝাবে। এবং ১৪১, ১৭৬, ১৭৭, ২০১, ২০২, ২১২, ২১৬ ও ৪৪১ ধারার ‘অপরাধ’ কথাটি বলতে, স্থানীয় বা বিশেষ আইনে দণ্ডনীয় কাজ বা বিষয়টি উক্ত আইনবলে অর্থদণ্ডসহ বা বিনা অর্থদণ্ডে ছয় মাস বা তদূর্ধ্ব মেয়াদের কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হওয়ার ক্ষেত্রে একই অর্থ বুঝাবে।

“ধারা ৪১ : বিশেষ আইন (Special law) : কোন বিশেষ বিষয়ের প্রতি প্রয়োগযোগ্য আইনকে বিশেষ আইন বলে ।

“ধারা ৪২। স্থানীয় আইন (Local law) : কেবলমাত্র বাংলাদেশের অভ্যন্তরস্থ এলাকাসমূহের কোন বিশেষ অংশের ক্ষেত্রে প্রয়োগযোগ্য আইনকে স্থানীয় আইন বলে।

“ধারা ৪৩ : ‘বেআইনী’, ‘আইনত সম্পাদন করতে বাধ্য’ (‘Illegal’, ‘Legally bound to do’): অবৈধ বলতে এমন প্রত্যেক বিষয়ের প্রতি প্রযোজ্য যা কিছু অপরাধজনক বা যা কিছু আইন দ্বারা নিষিদ্ধ কিংবা যা কিছু দেওয়ানী কর্মপন্থা গ্রহণের যুক্তি বা আবশ্যকীয়তার উদ্ভব করে, তা সম্পর্কেই ‘বেআইনী’ কথাটি প্রয়োগযোগ্য; এবং যে ব্যক্তির পক্ষে কোন কিছু না করা বা কোন বিশেষ কার্যসম্পাদন হতে বিরত থাকা বেআইনী, সে ব্যক্তি উহা ‘করতে আইনত বাধ্য’ বলে পরিগণিত হয়।

“ধারা ৪৪ : ক্ষতি (Injury) : যদি কোন ব্যক্তির দেহ, মন, সুনাম বা সম্পত্তিতে অবৈধভাবে কোনরূপ ক্ষতিসাধন করা হয় তবে তাকে ‘ক্ষতি’ বলে ।

“ধারা ৪৫ : জীবন (Life) : প্রসঙ্গে ভিন্নতর কিছু না বুঝালে জীবন কথাটি কর্তৃক মানুষের জীবন বুঝাবে।

“ধারা ৪৬ : মৃত্যু (Death) : প্রসঙ্গে ভিন্নতর কিছু না বুঝালে মৃত্যু কথাটি কর্তৃক মানুষের ‘মৃত্যু’ বুঝাবে।

“ধারা ৪৭ : প্রাণী (Animal) :  ‘প্রাণী’ বলতে মানুষ ছাড়া অপর যে কোন প্রাণী বা জীব বুঝাবে।

“ধারা ৪৮ : জাহাজ (Vessel) : ‘নৌযান’ বলতে জলপথে মানুষ বা সম্পত্তি পরিবহনের জন্য নির্মিত যে কোন যানবাহনকে বুঝায়।

“ধারা ৪৯ : ‘বৎসর’, ‘মাস’ (‘Year’, ‘Month’) : যেখানেই ‘বৎসর’ কথাটি অথবা ‘মাস’ কথাটি ব্যবহার করা হয়েছে, সেখানেই বুঝতে হবে যে, উক্ত বৎসর বা মাস বৃটিশ ক্যালেন্ডার মোতাবেক গণনা করা হবে

“ধারা ৫০: ধারা (Section) : ‘ধারা’ শব্দে এই বিধির কোন অধ্যায়ের অংশসমূহের অন্যতম এমন কোন একটিকে বুঝাবে, যার পূর্বে সংখ্যাবাচক চিহ্ন আরোপ করে অন্যান্য অংশ হতে উহার পার্থক্য বা স্বাতন্ত্র্য নির্দেশ করা হয়েছে।

“ধারা ৫১ : শপথ (Oath) : আইনের বিধানমতে শপথের পরিবর্তে গ্রহণীয় দৃঢ়, প্রতিজ্ঞান্তিক অনুমোদন, এবং কোন আদালতেই হোক অথবা আদালতের বাইরে অন্যত্রই হোক, যে ঘোষণা কোন সরকারি কর্মচারীর সম্মুখে অথবা প্রমাণ হিসেবে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে প্রদান করার জন্য আইনবলে নির্দেশ করা হয় বা ক্ষমতা দেওয়া হয়, তা ‘শপথ’ কথাটির অন্তর্ভূক্ত।

“ধারা ৫২ : সরল বিশ্বাস (Good faith) : যথাযথ সতর্কতা ও মনোযোগ ছাড়া কিছু করা হলে বা কোন কিছু বিশ্বাস করা হলে তা ‘সরল বিশ্বাসে’ করা হয়েছে বা তাতে ‘সরল বিশ্বাসে’ বিশ্বাস করা হয়েছে বলে পরিগণিত করা হয় না।

“ধারা ৫২ক : আশ্রয়দান (Harbour) : ১৫৭ ধারা ছাড়া এবং ১৩০ ধারায় যেখানে আশ্রিত ব্যক্তিকে তার স্ত্রী বা স্বামী আশ্রয়দান বা রক্ষা করে তা ব্যতীত, (অন্য সকল ক্ষেত্রে) গ্রেফতার এড়াবার জন্য কোন ব্যক্তিকে আশ্রয়, খাদ্য, পানীয়, অর্থ, কাপড়চোপড়, অস্ত্র-শস্ত্র, গোলাবারুদ বা পরিবহনের উপায় উল্লিখিত বা অনুল্লিখিত প্রকরণের কোন উপায়ে কোন ব্যক্তিকে সহায়তা করা ‘আশ্রয়দান’ কথাটির অন্তর্ভূক্ত।



এখানে অনুশীলন করুন।

Penal Code 02

কুইজটি শুরু করতে নিচের বাটনে ক্লিক করুন।