ঘরে বসেই লাইভ ভিডিওতে
প্রতি মাসে মাত্র ৮০০/- টাকায়

MCQ পরীক্ষার প্রস্তুতি!

ভর্তি হতে কল করুন : 01712-908561

CPC Lecture 07 [Sec. 75-78 & Order 24-26, 38-40]

দেওয়ানি কার্যবিধির রায়ের পূর্বে ক্রোক ও গ্রেফতার, রিসিভার নিয়োগ, অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা, কমিশন ও জামানত প্রসঙ্গ যেসব কিনা ৭৫-৭৮ ধারা এবং ২৪-২৬ নং আদেশ ও ৩৮-৪০ নং আদেশসমূহে বিধৃত আছে। এই ধারা ও আদেশসমূহ থেকে নিয়মিতভাবে প্রশ্ন এসে থাকে। ভালোভাবে এই লেকচারের বিষয়টি অধ্যয়ন করতে হবে।


অন্তর্বর্তীকালীন আদেশসমূহ : রায়ের পূর্বে ক্রোক ও গ্রেফতার, রিসিভার নিয়োগ, অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা, কমিশন ও জামানত প্রসঙ্গ [ধারা 75-78 এবং আদেশ 24-26 ও 38-40]

ম্যাপিং : আগের কয়েকটি লেকচারের মতো এবারে শুধু আদেশ নিয়ে আলোচনা নয়। ধারাবাহিকতাও নেই এটিতে। সিলেবাসে Interim Orders: Arrest and attachment before judgment, Appointment of receiver, Temporary injunctions, Commission, Security for costs শিরোনামে মূলত একটি বিষয়বস্তুর নানারকম প্রকারভেদ ও তার প্রয়োগ নিয়ে নির্দেশ করা হয়েছে। এই অন্তর্বর্তীকালীন আদেশের অধীনে দেওয়ানি কার্যবিধিতে ভিন্ন ভিন্ন সংশ্লিষ্ট আদেশে বা মূল কোডের ধারাগুলোতে আলোচনা রয়েছে। সেটাও বিষয়ভিত্তিতে আছে। এই লেকচারে সিলেবাসে উল্লি­খিত বিষয়গুলোকে একসাথে করে নিয়ে আলোচনা করা হলো।

মূল আলোচনা
প্রথমেই অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ [Interim Order এবং Interlocutory Order] বলতে কি বোঝায় সে সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা নেওয়া প্রয়োজন। ইংরেজি শব্দে এর অনেকরকম অর্থ থাকলেও প্রধানত যথাক্রমে temporary এবং not final অর্থ দুইটিতেই সবচে ভালোভাবে বোঝা যায় এ সম্পর্কে। দেওয়ানি কার্যবিধিতে অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ বলতে বোঝায়- এমন এক ধরনের আদেশ যা কিনা মোকদ্দমা চলাকালীন সময়, মোকদ্দমা নিষ্পত্তি হবার পূর্বেই, মোকদ্দমার বিষয়বস্তু নিয়ে আদালত কর্তৃক নির্দেশিত কোনো আদেশ; তবে এটি কোনোভাবেই বাদী বা বিবাদীর চূড়ান্ত অধিকার বা দায় নির্ধারণ করে না এটি প্রধানত বাদী পক্ষেই দেওয়া হয়ে থাকলেও ক্ষেত্রবিশেষে বিবাদীর পক্ষেও এমন অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দিতে পারে আদালত। এই অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ এর প্রয়োজন পড়তে পারে এজন্য যে, কখনো কখনো এমন পরিস্থিতির উদ্ভব হতে পারে যে, বিরোধীয় সম্পত্তি বা বিষয়বস্তু মোকদ্দমার কোনো পক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত করে ফেলতে পারে বা পরিবর্তন ঘটিয়ে ফেলতে পারে যাতে করে চূড়ান্ত অধিকার বা দায় নির্ধারণের সময় মোকদ্দমার কোনো পক্ষ ক্ষতির শিকার হতে পারে। মোকদ্দমার বিষয়বস্তুর রক্ষণাবেক্ষণ ও নিরাপত্তা দেওয়া সাধারণভাবে যেকোনো অন্তর্বর্তীকালীন আদেশের  লক্ষ  থাকে। আদালত অবশ্যই এই ধরনের আদেশ যথাযথ ন্যায়সঙ্গতভাবে ও প্রয়োজনীয়তার ভিত্তিতে দেবেন।

অন্তর্বর্তীকালীন আদেশের একটি পপুলার উদাহরণ হতে পারে- অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা। যেমন, কোনো জাল দলিল প্রণয়নের মাধ্যমে কোনো জমির স্বত্ব একজন দাবি করলো এবং উক্ত জমির প্রকৃত মালিক সেটির বিরুদ্ধে আদালতে একটি মোকদ্দমা দায়ের করলো ঘোষণামূলক ডিক্রির। সেই মোকদ্দমায় বাদী পক্ষ তথা প্রকৃত মালিক অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার একটি অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ প্রার্থনা করে এই বলে যে, উক্ত জমিতে কোনো কিছু করার ব্যাপারে বিবাদী পক্ষকে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা প্রদান না করলে তার অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে যাবে। যতোদিন না পর্যন্ত চলমান মোকদ্দমার কোনো সুরাহা না হচ্ছে বা চূড়ান্ত ডিক্রি বা রায় না হচ্ছে ততক্ষণ পর্যন্ত উক্ত অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ কার্যকর থাকবে। বাদীপক্ষ যদি এই মোকদ্দমায় জিতে যায়, তবে বাদী বিবাদীর দ্বারা উক্ত জমির সম্ভাব্য আরো ক্ষতি থেকে বেঁচে গেলো। উক্ত অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দ্বারা সম্পত্তিটির সুরক্ষা নিশ্চিত হলো, যতোক্ষণ না পর্যন্ত মোকদ্দমার চূড়ান্ত ডিক্রি হচ্ছে। এই হলো এমন আদেশের সুবিধা। এই মোকদ্দমায় বাদী বা প্রকৃত মালিক হেরেও যেতে পারে। তবে উক্ত অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ মোকদ্দমার চূড়ান্ত ডিক্রির ওপর কোনোই প্রভাব তৈরি করবে না। বোঝা গেলো কি?

না বুঝলেও সমস্যা নেই। আমরাতো মূল সংশ্লিষ্ট ধারা আর আদেশগুলো পড়বোই। ক্লিয়ার হবো। বেয়ার এ্যাক্ট পড়াটাই আমাদের সবচে বড় সাহস।

অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা ছাড়াও আরো যে যে উপায়ে বা কারণে এই অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ হয় সেসব সম্পর্কে ২৪, ২৫, ২৬, ৩৮, ৩৯ এবং ৪০ এই কয়েকটি আদেশ পড়লেই পরিষ্কার হয়ে যাবে। সিলেবাসে উল্লি­খিত বিষয়গুলোও এরই ভেতরেই আছে সব। অনেকেই আদেশগুলো পড়তে গিয়ে ভিমরি খেতে পারেন, বিশেষত ২৬ আদেশটির সাথে অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ এর সম্পর্ক খুঁজতে গিয়ে। আগে পড়তে থাকুন।

২৪ ও ২৫ আদেশ নিয়ে খুব বিস্তারিত বলার নাই। ২৪ আদেশে কয়েকটি উদাহরণের মাধ্যমে আদালতে কেন কিভাবে টাকা পরিশোধ করতে হয় সেটি বলা আছে। ধারণা ও বিষয়বস্তুটি শুধু মনে রাখুন। অন্যদিকে ২৫ আদেশে ২ নং বিধিটি পুরোপুরি মনে রাখবেন। সহজও আছে। নিচে এই ছোট দুইটি আদেশ সরাসরি পড়ে নেন।

আদেশ ২৪ : আদালতে পরিশোধ [Payment into court]

“১ : দাবি পরিতুষ্টির টাকা বিবাদী কর্তৃক আদালতের জমা দেওয়া : ঋণ বা পূর্ণ পরিতুষ্টির অনুরূপ পরিমাণ অর্থ আদালত জমা দিতে পারে।

২ : টাকা জমার নোটিশ : আদালতে টাকা জমা দেয়ার বিষয়ে বিবাদী কর্তৃক বাদীকে আদালতের মাধ্যমে নোটিশ দিতে হবে এবং বাদীর আবেদনক্রমে উক্ত জমা দেওয়া টাকা (যদি না আদালত অন্য রূপ নির্দেশ দেন) বাদীকে পরিশোধ করা হবে।

৩ : নোটিশের পরে বাদীকে জমাকৃত টাকার উপর সুদ দেওয়া যাবে না : বিবাদীর জমা দেওয়া টাকা দ্বারা দাবির পূরণ হোক কিংবা বাকি পড়–ক, অনুরূপ নোটিশ পাওয়ার তারিখ হতে বাদীকে উক্ত জমাকৃত টাকার উপর কোনো সুদ মঞ্জুর করা যাবে না।

৪ : যেক্ষেত্রে বাদী আংশিক পরিতুষ্টি হিসেবে জমাকৃত টাকা গ্রহণ করে : ১) যেক্ষেত্রে বাদী উক্ত টাকা তার দাবির কেবলমাত্র আংশিক পরিতুষ্টি হিসেবে গ্রহণ করে, সেক্ষেত্রে সে অবশিষ্ট অঙ্কের জন্য তার মোকদ্দমা চালাতে পারবে এবং যদি আদালত সিদ্ধান্ত নেন যে, বিবাদীর জমা দেওয়া টাকা বাদীর পূর্ণ সন্তুষ্টি মোতাবেক হয়েছিল, তাহলে টাকা জমা দেয়ার পরে, মোকদ্দমার যে, খরচ হয়েছে, তা এবং উহার পূর্বে যতদূর বাদীর অতিরিক্ত দাবির কারণে খরচ হয়েছে, তা বাদীকে পরিশোধ করতে হবে।

২) যেক্ষেত্রে বাদী উক্ত টাকা তার দাবির পূর্ণ পরিতুষ্টি হিসেবে গ্রহণ করে সেক্ষেত্রে সে ঐ মর্মে আদালতে বিবৃতি দাখিল করবে এবং উক্ত বিবৃতি নথিভুক্ত করা হবে এবং আদালত তদানুসারে রায় ঘোষণা করবেন; এবং মোকদ্দমার খরচ সম্পর্কে নির্দেশ দিতে গিয়ে আদালত উভয় পক্ষের মধ্যে কে খরচ পরিশোধ করবে সেই জন্য মোকদ্দমায় কে বেশি নিন্দনীয় তা বিবেচনা করবেন।

উদাহরণসমূহ :

ক) ‘ক’ এর নিকট ‘খ’ ১০০ টাকা পাবে। টাকা পরিশোধের জন্য কোনো তাগিদ না দিয়ে এবং তাগিদ দেয়ার দ্বারা টাকা আদায়ের বিলম্ব হেতু তাকে অসুবিধায় ফেলার কারণ না থাকা সত্ত্বেও ‘খ’, ‘ক’ এর বিরুদ্ধে উক্ত টাকার জন্য মোকদ্দমা করে। আরজি দাখিল হওয়ার পরেই ‘ক’ আদালতে টাকা জমা দেয়। ‘খ’ উহা তার দাবির পূর্ণ পরিতুষ্টি হিসেবে গ্রহণ করে, কিন্তু এরূপ ক্ষেত্রে আদালত তাকে মোকদ্দমার খরচ মঞ্জুর করবে না, কারণ মোকদ্দমাটি তার পক্ষে সম্ভবত ভিত্তিহীন ছিলো।

খ) উপরের (ক) উদাহরণে বর্ণিত অবস্থাধীনে ‘খ’, ‘ক’ এর বিরুদ্ধে মোকদ্দমা দায়ের করে। ‘ক’ দাবির বিরোধিতা করে। তৎপরে ‘ক’ আদালতে টাকা পরিশোধ করে দেয়। ‘খ’ তার দাবির পূর্ণ পরিতুষ্টি হিসেবে উহা গ্রহণ করে। এরূপ ক্ষেত্রে আদালতের ‘খ’ কে মোকদ্দমার খরচ প্রদান করা উচিত, কারণ ‘ক’ এর আচরণ হতে দেখা যায় যে, মোকদ্দমাটি দরকারি ছিলো ।

গ) ‘খ’, ‘ক’ এর নিকট ১০০ টাকা পাবেন, এবং মোকদ্দমা ছাড়াই সে উক্ত টাকা দিতে ইচ্ছুক। ‘ক’, ‘খ’ এর নিকট ১৫০ টাকা দাবি করে এবং ঐ টাকার জন্য ‘ক’ এর বিরুদ্ধে মোকদ্দমা করে। আরজি দাখিল হলে ‘ক’ ১০০ টাকা আদালতে দাখিল করে এবং কেবল বাকি ৫০ টাকা পরিশোধে তার দায়িত্বের বিষয়ে বিরোধিতা করে। ‘খ’ উক্ত ১০০ টাকা তার দাবির পূর্ণ পরিতুষ্টি হিসেবে গ্রহণ করে। ক কে আদালতের খরচ পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া উচিত।



আদেশ ২৫ : খরচের জন্য জামানত [Security for costs]

“১ : বাদীর নিকট হতে কখন খরচ বাবদ জামানত প্রদানের আদেশ দেওয়া হয় : ১) যেক্ষেত্রে মোকদ্দমার যেকোনো স্তরে আদালতের কাছে ইহা প্রতীয়মান হয় যে, একমাত্র বাদী বা (যখন একাধিক বাদী থাকে) সকল বাদী বাংলাদেশের বাইরে বাস করছে; এবং উক্ত বাদী বা তাদের কোনো একজন বাদীও মোকদ্দমার সম্পত্তি ব্যতীত বাংলাদেশের ভিতরে কোনো যথেষ্ট স্থাবর সম্পত্তি দখল করে না, সেক্ষেত্রে আদালত স্বত:প্রবৃত্ত হয়ে বা কোনো বিবাদীর আবেদনক্রমে তৎকর্তৃক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মোকদ্দমার যাবতীয় খরচ এবং কোনো বিবাদীর সম্ভাব্য খরচের জন্য জামানত প্রদানের জন্য বাদী বা বাদীগণকে নির্দেশ দিতে পারেন।

২) যে কেউ বাংলাদেশ ত্যাগ করলে যদি উক্ত অবস্থাধীনে এরূপ সম্ভাবনার উদ্ভব হয় যে, মোকদ্দমার খরচের জন্য যখন তাকে তলব দেওয়া হবে তখন সে আসতে পারবেনা, তাহলে তাকে উপবিধি (১) এর অর্থানুসারে বাংলাদেশের বাইরে বসবাস করছে বলে গণ্য করা হবে।

৩) টাকা পরিশোধের মোকদ্দমায় বাদী স্ত্রীলোক হলে কোনো বিবাদীর আবেদনক্রমে আদালত মোকদ্দমার যেকোনো স্তরে যদি এই মর্মে পরিতুষ্ট হন যে, উক্ত বাদী বাংলাদেশের ভিতরে কোনো যথেষ্ট স্থাবর সম্পত্তি দখল করেন, তবে অনুরূপ আদেশ প্রদান করতে পারেন।

২ : জামানত প্রদানের ব্যর্থতার ফল : ১) নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জামানত প্রদান করা না হলে মোকদ্দমা খারিজ করে আদালত একটি আদেশ দিবেন, যদি না বাদী বা বিবাদীগণকে তথা হতে প্রত্যাহারের অনুমতি দেওয়া হয়।

২) অত্র বিধি অনুসারে কোনো মোকদ্দমা খারিজ হলে, উক্ত খারিজের আদেশ রদের জন্য বাদী আবেদন করতে পারে, এবং যদি উহা আদালতের পরিতুষ্টি মোতাবেক প্রমাণিত হয় যে, অনুমোদিত সময়ের মধ্যে সে যথেষ্ট কারণে জামানত প্রদানে বারিত হয়েছিল, তাহলে জামানত, মোকদ্দমার খরচ বা অন্য কিছু সম্পর্কে ইহার শর্তসাপেক্ষে আদালত খারিজের আদেশ রদ করবেন, এবং মোকদ্দমা চালানোর জন্য অপর একটি দিন ধার্য করবেন।

৩) অনুরূপ আবেদনপত্র সম্পর্কে বিবাদীর উপর বিজ্ঞপ্তি জারি না করে খারিজের আদেশ রদ করা যাবে না।



এইবার কমিশন সম্পর্কিত আদেশটি মনোযোগের সাথে দেখা দরকার। এই আদেশটিতে অনেক বিস্তারিত খুঁটিনাটিসহ আলোচনা আছে। অবশ্য কমিশন সম্পর্কিত ধারাগুলোও [ধারা ৭৫-৭৮] দেখে নিতে হবে। কমিশন হলো আদালত কর্তৃক অন্য কাউকে কোনো প্রদত্ত ক্ষমতা, যার বলে তিনি বা তারা সরেজমিনে কোনো বিষয় প্রত্যক্ষ করে আদালতে রিপোর্ট দেন। বিচারক সাধারণত কোনো সরেজমিন পরিদর্শন বা আদালতের বাইরে গিয়ে কোনো কাজ করেন না। কিন্তু যদি এমন প্রয়োজন পড়ে, তখন তিনি এই কমিশন গঠন করে দেন, যার মাধ্যমে আদালত বা বিচারক রিপোর্ট পান এবং সেই রিপোর্টের ভিত্তিতেই তিনি আদালতের কার্যপদ্ধতি এগিয়ে নেন। এই কমিশন গঠনের আদেশ কোনো পক্ষের আবেদনের ভিত্তিতে করা যেতে পারে আবার আদালত নিজের বিবেচনামূলক ক্ষমতাতেও প্রয়োজনে আদেশ দিতে পারেন।

আগে সংশ্লিষ্ট ধারাগুলো দেখুন। ৭৫ ধারাটিই মূলত মনে রাখুন এখানে।

তৃতীয় ভাগ

আনুষঙ্গিক আইনগত কার্যধারা

কমিশন

“ধারা ৭৫ : কমিশন প্রেরণের জন্য আদালতের ক্ষমতা [Power of Court to issue commissions] : যেরূপ নির্ধারণ করা হয়, সেরূপ শর্তাবলী ও সীমাবদ্ধতা সাপেক্ষে, আদালত-

ক) কোনো ব্যক্তির সাক্ষ্য নিবার জন্য [to examine any person];
খ) স্থানীয় তদন্ত অনুসন্ধানের জন্য [to make a local investigation];
গ) হিসাব পরীক্ষা বা সমন্বয় করার জন্য [to examine or adjust accounts]; অথবা
ঘ) বাটোয়ারা করার জন্য কমিশন প্রেরণ করতে পারবেন [to make a partition]।

ধারা ৭৬ : বাতিল।

“ধারা ৭৭ : অনুরোধ পত্র : বাংলাদেশের বাইরে বসবাসকারী কোনো সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণের জন্য আদালত কমিশন প্রেরণের পরিবর্তে অনুরোধ পত্র প্রেরণ করতে পারে।

“ধারা ৭৮ : বিদেশী আদালত কর্তৃক প্রেরিত কমিশন : যেরূপ নির্ধারণ করা হয়, সেরূপ শর্তাবলী ও সীমাবদ্ধতা সাপেক্ষে সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণের জন্য কমিশন সম্পাদন ও ফেরত পাঠানো সংক্রান্ত বিধানসমূহ-

ক) বাংলাদেশের সীমানার বাইরে অবস্থিত এবং সরকারের ক্ষমতাবলে প্রতিষ্ঠিত বা চলিত আদালত, বা
খ) বাতিল।
গ) বাংলাদেশের বাইরের কোনো রাজ্য বা দেশের কোনো আদালত কর্তৃক বা উহার নির্দেশক্রমে প্রেরিত কমিশনের ক্ষেত্রেও প্রযুক্ত হবে।



এবার কমিশন সম্পর্কিত সেই বিস্তারিত আদেশটি পড়ুন স্টেপ বাই স্টেপ। ৭৫ ধারায় যে ৪টি ক্ষেত্রের কথা কমিশন গঠনের ক্ষেত্র হিসেবে বলা আছে সেগুলোই এই আদেশে আলাদা আলাদা উপশিরোনামে বিভক্ত করে বিস্তারিত বলা আছে। এর বাইরে ‘সাধারণ বিধানসমূহ’ উপশিরোনামে ১৫ বিধি থেকে এই কমিশনের খরচসহ অন্যান্য বিষয়াদি আলোচনা আছে। এই আদেশের সবশেষ বিধি ২৩ জরুরি। মনোযোগ দিয়ে পুরো আদেশটি পড়লে এক দফাতেই বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে যাবে। শুধু দরকার নিরবিচ্ছিন্ন মনোযোগ। পড়তে থাকুন আদেশটি।

আদেশ ২৬ : কমিশন [Commissions]

সাক্ষীদের সাক্ষ্য গ্রহণে কমিশনসমূহ [Commissions to Examine Witnesses]
“১ : যেক্ষেত্রে আদালত সাক্ষীদের সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য কমিশন পাঠাতে পারেন : আদালতের এখতিয়ারভুক্ত এলাকায় বসবাসরত কোনো ব্যক্তি অত্র কোডের অধীনে আদালতে হাজির হওয়া হতে অব্যাহতি প্রাপ্ত হয়ে থাকলে বা অসুস্থতা বা বৈকল্যতার জন্য কেউ এতে হাজির হতে অসমর্থ হলে আদালত প্রশ্নাবলীর মাধ্যমে বা অন্যভাবে উক্ত ব্যক্তির সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য যেকোনো আদালত যেকোনো মোকদ্দমায় কমিশন প্রেরণ করতে পারবেন [Any Court may in any suit issue a commission for the examination on interrogatories or otherwise of any person resident within the local limits of its jurisdiction who is exempted under this Code from attending the Court or who is from sickness or infirmity unable to attend it]।

২ : কমিশনের জন্য আদেশ : আদালত স্বত:প্রবৃত্ত হয়ে অথবা মোকদ্দমার কোনো পক্ষের বা যার সাক্ষ্য নেওয়া হবে সেই সাক্ষীর শপথনামা সমর্থিত বা অন্যভাবে কোনো আবেদনক্রমে আদালত কোনো সাক্ষীর কমিশন প্রেরণের নির্দেশ দিতে পারেন।

৩ : যেক্ষেত্রে সাক্ষী আদালতের এখতিয়ারের মধ্যে বাসবাস করে : আদালতের এখতিয়ারের স্থানীয় সীমানার ভিতর বাসবাসকারী কোনো ব্যক্তির সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য কমিশন প্রেরণ করতে হলে আদালত যাকে উহা সম্পাদন করতে উপযুক্ত মনে করেন, সেরূপ কোনো ব্যক্তির প্রতি তা প্রেরণ করা যাবে।

৪ : যে সকল ব্যক্তির জবানবন্দি গ্রহণের জন্য কমিশন পাঠানো যায় : ১) যেকোনো আদালত যেকোনো মোকদ্দমায়-

ক) আদালতের স্থানীয় এখতিয়ারের বাইরে বসবাসরত কোনো ব্যক্তির;
খ) আদালতের কোনো ব্যক্তির জবানবন্দি গ্রহণের তারিখের পূর্বে সেই ব্যক্তি অনুরূপ এখতিয়ারভুক্ত এলাকা ত্যাগের উপক্রম করলে;
গ) প্রজাতন্ত্রের চাকুরিরত কোনো ব্যক্তি আদালতের মতে যিনি জনসেবার ক্ষতি ব্যতীত উপস্থিত হতে পারবেন না

সেই রকম ব্যক্তিদের জবানবন্দি গ্রহণের জন্য আদালত কমিশন পাঠাতে পারেন।

৫ : বাংলাদেশের বাইরে সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণের কমিশন বা অনুরোধ প্রেরণ : বাংলাদেশের বাইরে বসবাসকারী কোনো ব্যক্তির সাক্ষ্য গ্রহণের নিমিত্ত কমিশন প্রেরণের জন্য যেখানে আবেদন করা হয়েছে সেই আদালত যেক্ষেত্রে এই মর্মে পরিতুষ্ট হন যে, উক্ত ব্যক্তির সাক্ষ্য দরকারি, তবে সেক্ষেত্রে আদালত অনুরূপ কমিশন বা অনুরোধপত্র প্রেরণ করতে পারেন।

৬ : কমিশন মোতাবেক আদালত সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ করবেন : প্রত্যেক আদালত কোনো ব্যক্তির জবানবন্দি গ্রহণ করার জন্য কমিশন পেয়ে সেই মোতাবেক তার সাক্ষ্য গ্রহণ করবেন বা করাবেন।

৭ : সাক্ষীর জবানবন্দিসহ কমিশন ফেরত দান : কোনো কমিশন যথাযথভাবে সম্পাদিত হয়ে থাকলে তদানুসারে গৃহীত প্রমাণাদিসহ উহা প্রেরণকারী আদালতের নিকট ফেরত পাঠাতে হবে, যদি না, কমিশন প্রেরণকারী আদেশে অনুরূপ নির্দেশিত হয়ে থাকে। যেক্ষেত্রে কমিশন প্রেরণকারী আদেশের অনুরূপ নির্দেশিত হয়ে থাকে, সেক্ষেত্রে উক্ত আদেশের শর্ত অনুসারে কমিশন ফেরত দিতে হবে, এবং কমিশনও উহা ফেরত দান এবং তদানুসারে গৃহীত প্রমাণাদি (নিচের পরবর্তী বিধির বিধান সাপেক্ষে) মোকদ্দমা নথির অংশরূপে গণ্য হবে।

৮ : যখন জবানবন্দি সাক্ষ্য হিসেবে পাঠ করা যাবে : কোনো কমিশন অনুসারে গৃহীত সাক্ষ্য কোনো মোকদ্দমায় যে পক্ষের বিরুদ্ধে উহা প্রদান করা হয় তার সম্মতি ব্যতিরেকে সাক্ষ্য হিসেবে পাঠ করা যাবে না, যদি না-

ক) যে ব্যক্তি সাক্ষ্য প্রদান করেছে সে আদালতের এখতিয়ারের বাইরে থাকে, অথবা সে মৃত্যু বা অসুস্থতা বা বৈকল্যতা হেতু ব্যক্তিগতভাবে হাজির হয়ে সাক্ষ্য দানে অসমর্থ অথবা আদালতে ব্যক্তিগতভাবে হাজির হতে অব্যাহতি প্রাপ্ত বা সে প্রজাতন্ত্রের চাকুরিজীবি হওয়ায় আদালতের মতে জনসেবার ক্ষতি ব্যতীত হাজির হতে পারে না; অথবা

খ) আদালত (ক) দফায় বর্ণিত অবস্থার যে কোনোটির প্রমাণ পরিত্যাগ করেন এবং যে কারণে উক্ত সাক্ষ্য কমিশন যোগে গৃহীত হয়েছিল তা উহা পাঠের সময় বিদ্যমান না থাকার প্রমাণ সত্ত্বেও কোনো ব্যক্তির সাক্ষ্য মোকদ্দমায় প্রমাণ হিসেবে পাঠ করার ক্ষমতা প্রদান করেন।

স্থানীয় তদন্তের জন্য কমিশন [Commissions for Local Investigations]
৯ : স্থানীয় তদন্তের জন্য কমিশন : যেকোনো মোকদ্দমায় বিরোধীয় কোনো বিষয় ব্যাখ্যা করা বা কোনো সম্পত্তির বাজারমূল্য বা কোনো পরিমাণ বা কোনো অন্তবর্তীকালীন মুনাফা বা খেসারত বা বাৎসরিক খাঁটি মুনাফা নির্ণয় করার উদ্দেশ্যে আদালত স্থানীয় তদন্ত আবশ্যক বা উপযুক্ত মনে করলে আদালত যাকে উপযুক্ত মনে করবেন, সেই ব্যক্তির নিকট কমিশন প্রেরণ করে বিষয়টি সম্পর্কে অনুরূপ তদন্ত করতে এবং আদালত কর্তৃক নির্ধারিত অনধিক তিন মাস সময়ের মধ্যে উহার উপর প্রতিবেদন প্রদান করতে নির্দেশ দিতে পারেন [In any suit in which the Court deems a local investigation to be requisite or proper for the purpose of elucidating any matter in dispute, or of ascertaining the market-value of any property, or the amount or any mesne profits or damages or annual net profits, the Court may issue a commission to such person as it thinks fit directing him to make such investigation and to report thereon to the Court within such time not exceeding three months as may be fixed by the Court]।

তবে শর্ত থাকে যে, আদালত কমিশনের আবেদনক্রমে এবং যথেষ্ট কারণ দর্শানো হলে সময় বর্ধিত করতে পারেন।

১০ : কমিশনারের কার্য পদ্ধতি : ১) কমিশনার যেরূপ প্রয়োজন মনে করেন, সেরূপ স্থানীয় পরিদর্শনের পর এবং তার গৃহীত প্রমাণাদিকে লিখিত রূপ দেয়ার পর উক্ত প্রমাণাদির সাথে তার স্বাক্ষরিত একটি লিখিত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করবেন।

২) প্রতিবেদন এবং জবানবন্দি মোকদ্দমায় প্রমাণ হিসেবে থাকবে। কমিশনারের প্রতিবেদন এবং তার গৃহীত প্রমাণাদি (কিন্তু প্রতিবেদন ব্যতীত প্রমাণ নয়) মোকদ্দমার প্রমাণ এবং নথির অঝকরূপে গণ্য হবে, কিন্তু আদালত বা আদালতের অনুমতিক্রমে মোকদ্দমার কোনো পক্ষ কমিশনারকে প্রকাশ্য আদালতে ব্যক্তিগতভাবে তার নিকট অর্পণ করা হয়েছিল বা তার প্রতিবেদনে উল্লি­খিত হয়েছে, এমন সব বিষয় সম্পর্কে বা তার প্রতিবেদন সম্পর্কে অথবা যে পদ্ধতিতে তিনি তদন্ত করেছেন সেই সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারবে।

৩) যেক্ষেত্রে আদালত কমিশনারের কার্যক্রম সম্পর্কে কোনো কারণে অসন্তুষ্ট হন, সেক্ষেত্রে আদালত যেরূপ উপযুক্ত মনে করেন, সেরূপ অতিরিক্ত তদন্তের নির্দেশ দিতে পারেন।

হিসাবপত্র পরীক্ষার জন্য কমিশন [Commission to examine Accounts]
১১ : হিসাবপত্র পরীক্ষার বা সমন্বয় করার জন্য কমিশন : কোনো মোকদ্দমায় হিসাবপত্র পরীক্ষা বা সমন্বয় সাধন দরকারি হলে আদালত যাকে উপযুক্ত মনে করবেন, তার নিকট কমিশন প্রেরণ করে উক্ত পরীক্ষা বা সমন্বয় সাধনের নির্দেশ দিতে পারেন।

১২ : আদালত কমিশনারকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিবেন : ১) কার্যক্রমের যে অংশ এবং যে সকল নির্দেশাবলী দরকারি বলে প্রতীয়মান হবে, আদালত সেগুলি কমিশনারকে সরবরাহ করবেন এবং কমিশনারকে কেবলমাত্র তার তদন্তের কার্যবিবরণী আদালতে প্রেরণ করতে হবে অথবা তার পরীক্ষার জন্য তার নিকট প্রেরিত বিষয়টি সম্পর্কে নিজের মতামত সম্বলিত প্রতিবেদনও প্রেরণ করতে হবে যা নির্দেশাবলীতে ¯পষ্টরূপে উল্লে­খ থাকবে।

২) কার্যক্রম এবং প্রতিবেদন প্রমাণ হিসেবে থাকবে : কমিশনারের কার্যক্রম এবং প্রতিবেদন (যদি থাকে) মোকদ্দমায় প্রমাণ হিসেবে থাকবে, কিন্তু যেক্ষেত্রে এগুলি সম্বন্ধে আদালতের অসন্তুষ্ট হওয়ার কারণ আছে, সেক্ষেত্রে আদালত ইহার বিবেচনা মতো প্রয়োজনীয় অতিরিক্ত তদন্তের নির্দেশ দিতে পারেন।

বাটোয়ারার জন্য কমিশন [Commissions to make Partitions]
১৩ : স্থাবর সম্পত্তির বাটোয়ারার জন্য কমিশন [Commission to make partition of immovable property] : যেক্ষেত্রে বাটোয়ারার জন্য প্রাথমিক ডিক্রি প্রদত্ত হয়েছে, সেক্ষেত্রে, বিষয়টি ৫৪ ধারার আওতাভুক্ত না হলে, আদালত যাকে উপযুক্ত মনে করবেন, তার নিকট উক্ত ডিক্রিতে ঘোষিত অধিকার অনুসারে বাটোয়ারা বা পৃথকীকরণের জন্য কমিশন প্রেরণ করতে পারবেন [Where a preliminary decree for partition has been passed, the Court may, in any case not provided for by section 54, issue a commission to such person as it thinks fit to make the partition or separation according to the rights as declared in such decree]।

১৪ : কমিশনের কার্য পদ্ধতি : ১) কমিশনার প্রয়োজনীয় তদন্ত অনুষ্ঠানের পর, যে আদেশমূলে কমিশন প্রেরিত হয়েছিল সেই আদেশে নির্দেশিত অংশ অনুপাতে সম্পত্তিটি বিভক্ত করবেন, এবং উক্ত অংশগুলি পক্ষগণের মধ্যে বন্টন করবেন এবং যদি উপরোক্ত আদেশমূলে ক্ষমতাপ্রাপ্ত হয়ে থাকে, তবে বিভিন্ন অঙ্কের মূল্যের সমতা সাধনের জন্য যে টাকা পরিশোধ করতে হবে তা বিনিময় করতে পারেন।

২) কমিশনার তখন একটি প্রতিবেদন প্রস্তুত এবং স্বাক্ষর করবেন অথবা কমিশনারগণ (যেক্ষেত্রে একাধিক ব্যক্তির নিকট কমিশন প্রেরিত হয়ে থাকে এবং তাতে একমত হতে না পারলে) প্রত্যেক পক্ষের অংশ নির্দেশ করে এবং (যদি উপরোক্ত আদেশের এরূপ নির্দেশিত হয়ে থাকে) প্রত্যেক অঙ্কের পরিমাণ ও চৌহদ্দি পৃথক করে আলাদা প্রতিবেদনসমূহ প্রস্তুত এবং স্বাক্ষর করবেন। উক্ত প্রতিবেদন বা প্রতিবেদনগুলি কমিশনের সাথে সংযুক্ত করে আদালত কর্তক নির্ধারিত অনূর্ধ্ব তিন মাস সময়ের মধ্যে আদালতে প্রেরণ করতে হবে; এবং উক্ত প্রতিবেদন বা প্রতিবেদনগুলি কমিশনের সাথে সংযুক্ত করে আদালত কর্তৃক নির্ধারিত অনূর্ধ্ব তিন মাস সময়ের মধ্যে আদালতে প্রেরণ করতে হবে; এবং উক্ত প্রতিবেদন বা প্রতিবেদন সম্পর্কে কোনো পক্ষ কোনো আপত্তি প্রদান করলে তা শুনানির পরে আদালত উহা অনুমোদন পরিবর্তন বা বাতিল করবেন।

তবে শর্ত থাকে যে, আদালত কমিশনারের আবেদনক্রমে এবং যথেষ্ট কারণ দর্শানো হলে সময় বর্ধিত করতে পারেন।

৩) যেক্ষেত্রে আদালত প্রতিবেদন বা প্রতিবেদনসমূহ অনুমোদন বা পরিবর্তন করেন, সেক্ষেত্রে অনুমোদন বা পরিবর্তিত প্রতিবেদন অনুসারে আদালত একটি ডিক্রি প্রদান করবেন, কিন্তু আদালত যদি কমিশনের প্রতিবেদন বা প্রতিবেদনসমূহ বাতিল করেন, তবে আদালত নতুন কমিশন প্রেরণ করবেন অথবা উপযুক্ত অন্য কোনো আদেশ দান করবেন।

সাধারণ বিধানসমূহ [General Provisions]
১৫ : কমিশনের খরচ আদালতে জমা দিতে হবে : অত্র আদেশ অনুসারে কমিশন প্রেরণের পূর্বে যে পক্ষের অনুরোধ বা যে পক্ষের উপকারার্থে কমিশন প্রেরিত হবে, আদালত সেই পক্ষকে তার বিবেচনা মতো যুক্তিসঙ্গত পরিমাণ টাকা (যদি থাকে) কমিশনের খরচ বাবদ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আদালতে জমা দিতে নির্দেশ দিতে পারেন [Before issuing any commission under this Order, the Court may order such sum (if any) as it thinks reasonable for the expenses of the commission to be, within a time to be fixed, paid into Court by the party at whose instance or for whose benefit the commission is issued]।

১৬ : কমিশনের ক্ষমতা : অত্র আদেশ অনুসারে নিযুক্ত কোনো কমিশনার, নিয়োগের আদেশে অন্যরূপ নির্দেশ না থাকলে-

ক) পক্ষগণের স্বয়ং এবং তারা বা তাদের কোনো একপক্ষের হাজির করা কোনো সাক্ষীর এবং উল্লিখিত বিষয় সম্পর্কে অন্য কোনো ব্যক্তির সাক্ষ্য প্রদানের জন্য ডাকা কমিশনার উপযুক্ত মনে করলে, তার সাক্ষ্য গ্রহণ করতে পারেন;

খ) তদন্তের বিষয়বস্তুর প্রসঙ্গিক দলিলপত্র এবং অন্যান্য জিনিস তলব করতেও পরীক্ষা করতে পারেন;

গ) আদেশে উল্লি­খিত কোনো জমিতে বা দালানে যেকোনো যুক্তিসঙ্গত সময়ে প্রবেশ করতে পারবেন।

১৭ : কমিশনারের সম্মুখে সাক্ষীর হাজিরা ও জবানবন্দি প্রদান : ১) সাক্ষীদের সমন প্রদান, হাজিরা এবং জবানবন্দি গ্রহণ এবং সাক্ষীর পারিশ্রমিক প্রদান ও সাক্ষীর উপর দণ্ড আরোপ সংক্রান্ত অত্র কোডের বিধানসমূহ বাংলাদেশে অবস্থিত আদালত কর্তৃক এরূপে নির্দেশিত কাজ সম্পাদনের জন্য প্রেরিত হোক না কেন, উক্ত কমিশন কর্তৃক অত্র আদেশ অনুসারে সাক্ষ্য দানের জন্য বা দলিল উপস্থিত করার জন্য আবশ্যকীয় ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে, এবং অত্র বিধির উদ্দেশ্যে কমিশনারকে দেওয়ানি আদালত হিসেবে গণ্য করা হবে।

২) যে আদালতের স্থানীয় সীমানার ভিতর কোনো সাক্ষী বসবাস করে, তিনি প্রয়োজনীয়তা খুঁজে পেলে সে সাক্ষীর প্রতি বা তার বিরুদ্ধে কোনো পরোয়ানা প্রেরণের জন্য সেরূপ কোনো আদালতে (হাইকোর্র্ট বিভাগ নয়) কমিশনার আবেদন করতে পারেন, এবং উক্ত আদালত ইচ্ছা করলে যুক্তিসঙ্গত ও উপযুক্ত বিবেচনা করে অনুরূপ পরোয়ানা প্রেরণ করতে পারেন।

১৮ : কমিশনারের সামনে পক্ষগণের হাজিরা : ১) যেক্ষেত্রে অত্র আদেশ অনুসারে কমিশন প্রেরণ করা হয়, সেক্ষেত্রে আদালত মোকদ্দমার পক্ষগণকে কমিশনারের সামনে ব্যক্তিগতভাবে বা তাদের প্রতিনিধি বা উকিল মারফত হাজির হতে নির্দেশ দিবেন ।

২) যেক্ষেত্রে সকল বা কোনো একটি পক্ষ এরূপে হজির না হয়, সেক্ষেত্রে কমিশনার তাদের অনুপস্থিতিতে অগ্রসর হতে পারেন।

বিদেশী ট্রাইব্যুনালের অনুরোধক্রমে প্রেরিত কমিশন [Commissions issued at the Instance of Foreign Tribunals]
১৯ : যে সকল ক্ষেত্রে হাইকোর্র্ট বিভাগ সাক্ষীর জবানবন্দির জন্য কমিশন প্রেরণ করতে পারেন : ১) যদি হাইকোর্র্ট বিভাগ পরিতুষ্ট হন যে-

ক) বিদেশী রাষ্ট্রে অবস্থিত কোনো বিদেশী আদালত উহা সম্মুখস্থ কার্যক্রমের কোনো সাক্ষীর সাক্ষ্য লাভ করতে ইচ্ছুক;
খ) কার্যক্রমটি দেওয়ানি প্রকৃতির এবং
গ) সংশ্লিষ্ট সাক্ষী উক্ত হাইকোর্টের আপিল এখতিয়ারের সীমানায় বসবাস করছে, তাহলে, ২০ বিধির বিধান সাপেক্ষে, উক্ত সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য কমিশন প্রেরণ করতে পারেন।

২) উপবিধি (১) এর ক, খ ও গ দফায় উল্লি­খিত বিষয় সম্পর্কে-

ক) বাংলাদেশে নিযুক্ত বৈদেশিক রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদের কনসুলার অফিসার কর্তৃক স্বাক্ষরিত এবং সরকারের মাধ্যমে হাইকোর্র্ট বিভাগে প্রেরিত একটি প্রত্যয়নপত্র দ্বারা; অথবা
খ) উক্ত বৈদেশিক রাষ্ট্র কর্তৃক প্রদত্ত সরকারের মাধ্যমে হাইকোর্র্ট বিভাগে প্রেরিত একটি অনুরোধপত্র দ্বারা; অথবা
গ) বৈদেশিক রাষ্ট্র কর্তৃক প্রদত্ত এবং হাইকোর্র্ট বিভাগের সম্মুখে কোনো কার্যক্রমে কোনো পক্ষ কর্তৃক দাখিলকৃত কোনো অনুরোধপত্র দ্বারা সাক্ষ্য দেওয়া যাবে।

২০ : কমিশনের আবেদন : হাইকোর্র্ট বিভাগ ১৯ বিধির অধীন-

ক) বিদেশী আদালতের সম্মুখে কোনো কার্যক্রমের কোনো পক্ষের আবেদনক্রমে; বা

খ) সরকারের নির্দেশ মতে কার্যরত সরকারের কোনো আইন কর্মকর্তার আবেদনক্রমে কমিশন প্রেরণ করতে পারেন।

২১ : যার নিকট কমিশন প্রেরণ করা যাবে : যে আদালতে স্থানীয় সীমানায় সাক্ষী বসবাস করে ১৯ বিধি অনুসারে সেই আদালতে অথবা যেক্ষেত্রে সাক্ষী কোনো হাইকোর্র্ট বিভাগের সাধারণ মৌলিক দেওয়ানি এখতিয়ারের সীমানায় বসবাস করে, সেক্ষেত্রে আদালত যাকে কমিশন সম্পাদনের জন্য উপযুক্ত বিবেচনা করেন, তারই নিকট কমিশন প্রেরন করা যাবে।

২২ : কমিশন প্রেরণ সম্পাদন এবং ফেরত দান এবং বিদেশী আদালত প্রমাণ প্রেরণ : অত্র আদেশের ৬, ১৫, ১৬, ১৭ ও ১৮ বিধিতে বর্ণিত বিধানসমূহ যতদূর সম্ভব উক্ত কমিশন প্রেরণ, উহার কার্য সম্পাদন এবং ফেরত পাঠাবার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে, এবং তখন অনুরূপ কোনো কমিশন যথাযথভাবে সম্পাদিত হয়, যখন উহা তদানুসারে গৃহীত সাক্ষ্যসহ হাইকোর্র্ট বিভাগে ফেরত দিতে হবে, যা বিদেশী আদালতে প্রেরণ করার জন্য অনুরোধপত্রসহ হাইকোর্র্ট বিভাগ প্রেরণ করবেন।

কমিশনার কর্তৃক গৃহীত সময় বাদ দেওয়া [Exclusion of time taken by Commissioner]
২৩ : কমিশনার কর্তৃক গৃহীত সময় বাদ দেওয়া [Exclusion of time taken by Commissioner] : মোকদ্দমার যেকোনো পর্যায়ে যেকোনো উদ্দেশ্যে প্রেরিত কোনো কমিশনের ক্ষেত্রে কমিশন সম্পাদনের পর উহা ফেরত দানের জন্য অথবা প্রতিবেদন দাখিলের জন্য কমিশনার কর্তৃক গৃহীত সময় ঐ পর্যায়ের কোনো কিছু করার বা কোনো কার্য সম্পাদনের জন্য নির্ধারিত সময় হতে বাদ দেওয়া হবে [Where a commission is issued for any  purpose at any  stage of a suit, the time taken by the Commissioner for returning the Commission after execution or for submitting the report, as the case may be, shall be excluded from the time fixed for doing anything or performing any act at that stage.]।



এবার আদেশ ৩৮ থেকে ৪০। এই আদেশগুলোতে যা যা বর্ণিত আছে এগুলো অন্তর্বর্তীকালীন আদেশের আদর্শ উদাহরণ। এই তিনটি আদেশ থেকে এমসিকিউ পরীক্ষায় গুরুত্বের সাথে প্রশ্ন আসে। আগে আদেশ পড়ুন। আদেশের নিচে আলোচনা বা সারসংক্ষেপ করা আছে।

আদেশ ৩৮ : রায়ের পূর্বে গ্রেফতার এবং ক্রোক [Arrest and attachment before judgment ]

রায়ের পূর্বে গ্রেফতার [Arrest before Judgment]
“১ : যেক্ষেত্রে বিবাদীকে হাজিরার জন্য জামানত প্রদানের জন্য ডাকা যাবে : যেক্ষেত্রে ১৬ ধারার (ক) হতে (ঘ) দফা পর্যন্ত উল্লি­খিত প্রকৃতির মোকদ্দমা ছাড়া অন্য মোকদ্দমার যেকোনো পর্যায়ে এফিডেভিটের দ্বারা বা অন্য কোনোভাবে আদালত পরিতুষ্ট হন যে [Where at any stage of a suit, other than a suit of the  nature referred to in section 16, clauses (a) to (d), the Court is satisfied, by affidavit or otherwise]-

ক) বিবাদী বাদীকে বিলম্বিত করার অথবা আদালতের কোনো পরোয়ানা এড়াবার অথবা তার বিরুদ্ধে প্রদেয় কোনো ডিক্রি জারি ব্যাহত বা বিলম্বিত করার উদ্দেশ্যে [that the defendant, with intend to delay the plaintiff, or to avoid any process of the Court or to obstruct or delay the execution of any decree that may be passed against him]-

১. আত্মগোপন করেছে বা আদালতের এখতিয়ারের স্থানীয় সীমানা পরিত্যাগ করেছে [has absconded or left the local limits of the jurisdiction of the Court] বা

২. আত্মগোপন করার বা আদালতের এখতিয়ারের এলাকার স্থানীয় সীমানা অতিক্রম করার উপক্রম করেছে [is about to abscond or leave the local limits of the jurisdiction of the Court], বা

৩. তার সম্পত্তি বা উহার কোনো অংশ হস্তান্তর করেছে বা আদালতের এখতিয়ারের স্থানীয় সীমানা হতে অপসারণ করেছে [has disposed of or removed from the local limits of the jurisdiction of the Court his property or any part thereof], বা

খ) বিবাদী বাংলাদেশ ত্যাগের উপক্রম করেছে, যেই অবস্থায় উক্ত মোকদ্দমায় বিবাদীর বিরুদ্ধে কোনো ডিক্রি প্রদত্ত হলে, তা জারি করার ব্যাপারে বাদী বাধাপ্রাপ্ত বা বিলম্বিত হওয়ার যুক্তিসঙ্গত সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে; সেক্ষেত্রে আদালত বিবাদীকে গ্রেফতারের জন্য এবং তার হাজিরার জন্য কেন জামানত দিতে হবে না, তার কারণ দর্শানোর নিমিত্তে তাকে আদালতে হাজির করার জন্য পরোয়ানা দিতে পারবে [that the defendant is about to leave Bangladesh under circumstances affording reasonable probability that the plaintiff will or may thereby be obstructed or delayed in the execution of  any decree that may be passed against the defendant in the suit, the Court may issue a warrant to arrest the defendant and bring him before the Court to show cause why he should not furnish security for his appearance]।

তবে শর্ত থাকে যে, বিবাদী যদি বাদীর দাবি পরিতুষ্ট করার উপযুক্ত পরিমাণ টাকা উক্ত পরোয়ানা জারির ভারপ্রাপ্ত কর্মচারীকে প্রদান করে, তবে তাকে গ্রেফতার করা হবে না, এবং মোকদ্দমা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বা আদালত পরবর্তী কোনো আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত উক্ত টাকা আদালতে জমা থাকবে।

২ : জামানত : ১) যেক্ষেত্রে বিবাদী উপযুক্ত কারণ দর্শাতে ব্যর্থ হয়, সেক্ষেত্রে আদালত তাকে তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত দাবির উত্তরে যথেষ্ট পরিমাণ টাকা বা অন্য কোনো সম্পত্তি আদালতে জমা দেয়ার আদেশ দিবেন অথবা মোকদ্দমা বিচারাধীন থাকাকালে এবং তার বিরুদ্ধে উক্ত মোকদ্দমায় ডিক্রি প্রদত্ত হলে উহা পরিতুষ্ট না হওয়া পর্যন্ত যেকোনো সময় তাকে তলব করা হলে হাজির হওয়ার জন্য জামানত দেয়ার অথবা পূর্ববর্তী বিধির শর্তাংশ অনুসারে বিবাদী কোনো টাকা প্রদান করে থাকলে, ইহার বিবেচনা মতো উপযুক্ত আদেশ দিতে পারেন [Where the defendant fails to show such cause the Court shall order him either to deposit in Court money or other property sufficient to answer the claim against him, or to furnish security  for his appearance at any  time when called upon while the suit is pending and until satisfaction of any decree that may be passed against him in the suit, or make such order as it thinks fit in regard to the sum which may have been paid by the defendant under the proviso to the last preceding rule] ।

২) বিবাদীর হাজিরার প্রত্যেক জামিনদার, বিবাদী অনুরূপভাবে হাজির হতে ব্যর্থ হলে উক্ত মোকদ্দমায় যে টাকা পরিশোধের জন্য বিবাদীর উপর আদেশ হবে, তা সে নিজে পরিশোধের জন্য বাধ্য হবে।

৩ : জামিনদার মুক্ত হওয়ার আবেদন করলে কার্য পদ্ধতি : ১) বিবাদীর হাজিরার জন্য জামিনদার যেকোনো সময় তাকে তার বাধ্যবাধকতা হতে মুক্ত করার জন্য সংশ্লিষ্ট আদালতে আবেদন করতে পারবে ।

২) অনুরূপ আবেদন করা হলে, আদালত বিবাদীকে হাজির হওয়ার জন্য সমন দিবেন, অথবা যদি উপযুক্ত মনে করেন, তবে প্রথমবারেই তাকে গ্রেফতারের জন্য পরোয়ানা দিতে পারেন।

৩) বিবাদী সমন বা গ্রেফতারি পরোয়ানা অনুসারে হাজির হলে অথবা সে স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করলে, আদালত জামিনদারকে তার বাধ্যবাধকতা হতে মুক্ত করার নির্দেশ দিবেন এবং বিবাদীকে নতুন জামানতের জন্য তলব করবেন।

৪ : যেক্ষেত্রে বিবাদী জামানত প্রদানে বা নতুন জামানত দিতে ব্যর্থ হয়, সেক্ষেত্রে কার্য পদ্ধতি : যেক্ষেত্রে বিবাদী ২ বা ৩ বিধি অনুসারে কোনো আদেশ পালন করতে ব্যর্থ হয়, সেক্ষেত্রে আদালত মোকদ্দমায় সিদ্ধান্ত প্রদান না করা পর্যন্ত বা যেক্ষেত্রে বিবাদীর বিরুদ্ধে ডিক্রি প্রদান করা হয়েছে, সেক্ষেত্রে ডিক্রি পরিতুষ্ট না হওয়া পর্যন্ত তাকে দেওয়ানি কারাগারে সোপর্র্দ করতে পারেন।

তবে শর্ত থাকে যে, অত্র বিধি অনুসারে কোনো ব্যক্তিকে ছয় মাসের অধিক সময় কারাগারে আটক রাখা চলবে না, কিংবা মোকদ্দমার বিষয়বস্তুর পরিমাণ বা মূল্য পঞ্চাশ টাকার অনূর্ধ্ব হলে, সেক্ষেত্রে ছয় সপ্তাহের অধিক সময়ের জন্য [Provided that no person shall be detained in prison under this rule in any case for a longer period than six months, nor for a longer period than six weeks when the amount or value of the subject-matter of the suit does not exceed fifty Taka]।

তবে আরও শর্ত থাকে যে, কোনো ব্যক্তি উক্ত আদেশ পালন করার পর তাকে অত্র বিধির অধীনে কারাগারে আটক রাখা যাবে না।

রায়ের পূর্বে ক্রোক [Attachment before Judgment]
৫ : যেক্ষেত্রে বিবাদীকে সম্পত্তি উপস্থিত করার জন্য জামানত প্রদানের নির্দেশ দেওয়া যায় : ১) যেক্ষেত্রে শপথনামা দ্বারা বা অন্য কোনোভাবে মোকদ্দমার যেকোনো পর্যায়ে আদালত এই মর্মে সন্তুষ্ট হন যে, বিবাদী তার বিরুদ্ধে কোনো ডিক্রি প্রদত্ত হলে তা জারিকরণে বাধাদান বা বিলম্বিত করার উদ্দেশ্যে [Where, at any stage of a suit, the Court is satisfied, by affidavit or otherwise, that the defendant, with intend to obstruct or delay the execution of any decree that may be passed against him]-

ক) তার সম্পত্তির সমগ্র বা কোনো অংশ হস্তান্তর করার উপক্রম করেছে [is about to dispose of the whole or any part of his property]; বা

খ) আদালতের এখতিয়ারের স্থানীয় সীমানা হতে তার সমগ্র সম্পত্তি বা উহার কোনো অংশ অপসারণের উপক্রম করেছে [is about to remove the whole or any part of his property from the local limits of the jurisdiction of the Court]

সেক্ষেত্রে আদালত ইহার নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আদেশের উল্লি­খিত পরিমাণ অঙ্কের টাকা জামানত হিসেবে দাখিল করতে বা উক্ত সম্পত্তি বা উহার মূল্য বা ডিক্রি পরিতুষ্ট হওয়ার মতো উহার যথেষ্ট অংশ আবশ্যক হলে আদালতের এখতিয়ারে ন্যস্ত করার জন্য অথবা সে কেন জামানত প্রদান করবে না তার কারণ দর্শাতে হাজির হবার জন্য বিবাদীর প্রতি নির্দেশ দিতে পারবেন।

২) আদালত অন্যরূপ নির্দেশ না দিলে, যে সম্পত্তি ক্রোক করা আবশ্যক বাদীকে উহা এবং উহার আনুমানিক মূল্য নির্দিষ্ট সম্পত্তির সমগ্র বা উহার কোনো অংশ শর্ত সাপেক্ষে ক্রোকের ও নির্দেশ দিতে পারেন।

৬ : কারণ না দর্শানো বা জামানত না দিলে ক্রোক : ১) যেক্ষেত্রে বিবাদী জামানত প্রদান না করার কারণ দর্শাতে ব্যর্থ হয়, অথবা আদালত কর্তৃক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় জামানত প্রদানে ব্যর্থ হয়, সেক্ষেত্রে আদালত উল্লি­খিত সম্পত্তি বা উহার যে অংশ প্রদেয় ডিক্রির পরিতুষ্টির জন্য যথেষ্ট বলে প্রতীয়মান, সেরূপ অংশ ক্রোক হওয়া মর্মে আদেশ দিতে পারেন [where the defendant fails to show cause why he should not furnish security, or fails to furnish the security required, within the time fixed by the Court, the Court may order that the property specified, or such portion thereof as appears sufficient to satisfy any decree which may be passed in the suit, be attached] ।

২) যেক্ষেত্রে বিবাদী অনুরূপ কারণ দর্শায় বা আবশ্যকীয় জামানত প্রদান করে, এবং উল্লি­খিত সম্পত্তি বা উহার কোনো অংশ ক্রোক হয়, সেক্ষেত্রে আদালত ক্রোক প্রত্যাহৃত হওয়া মর্মে আদেশ দিবেন বা ইহার বিবেচনা অনুযায়ী উপযুক্ত অন্য কোনো আদেশ প্রদান করবেন।

৭ : ক্রোক করার পদ্ধতি : অন্যরূপ প্রকাশ্য বিধান ছাড়া, ডিক্রি জারির দরুন সম্পত্তি ক্রোকের পদ্ধতিতে উক্ত ক্রোক অনুষ্ঠিত হবে।

৮ : রায়ের পূর্বে ক্রোককৃত সম্পত্তিতে আপত্তির তদন্ত : যেক্ষেত্রে রায়ের পূর্বে ক্রোককৃত সম্পত্তি সম্পর্কে কোনো দাবি উত্থাপিত হয়, সেক্ষেত্রে উক্ত দাবি ইতোপূর্বে এতে টাকা পরিশোধের ডিক্রি জারিতে ক্রোককৃত সম্পত্তি দাবির তদন্তের জন্য বর্ণিত পদ্ধতিতে তদন্ত করতে হবে

৯ : জামানত প্রদান করা হলে বা মোকদ্দমা খারিজ করা হলে ক্রোক অপসারণ : বিবাদী ক্রোক বাবদ খরচের জামানতসহ আবশ্যকীয় জামানত প্রদান করে বা যখন মোকদ্দমাটি খারিজ হয়, তখন আদালত ক্রোক প্রত্যাহার করে আদেশ দিবেন।

১০ : রায়ের পূর্বে ক্রোক আগন্তুকের অধিকার ক্ষুণ্ন করে না বা ডিক্রিদারকে নিলাম বিক্রয়ের আবেদন করতে বাধা দেয় না : রায়ের পূর্বে ক্রোক দ্বারা মোকদ্দমায় পক্ষ নয় এমন ব্যক্তিদের ক্রোকের পূর্বে বিদ্যমান অধিকার ক্ষুণ্ন হবে না, বা ডিক্রির অধিকারী বিক্রয়ের জন্য আবেদন করতে বাধা প্রদান করবে না।

১ : রায়ের পূর্বে ক্রোককৃত সম্পত্তি ডিক্রি জারিতে পুনরায় ক্রোক করা যাবে না : যেক্ষেত্রে অত্র আদেশের বিধানের বলে সম্পত্তি ক্রোকাবদ্ধ হয়েছে এবং পরবর্তীতে বাদীর অনুকূলে একটি ডিক্রি প্রদান করা হয়েছে, সেক্ষেত্রে উক্ত ডিক্রি জারির জন্য আবেদনক্রমে উক্ত সম্পত্তি পুনরায় ক্রোক করার জন্য কোনো আবেদন করার প্রয়োজন হবে।

১২ : কৃষিজাত দ্রব্য রায়ের পূর্বে ক্রোক যোগ্য নয় : অত্র আদেশের কোনো কিছু বাদীকে কৃষকের হস্তগত কোনো কৃষিজাত দ্রব্য ক্রোকের জন্য আবেদন করার ক্ষমতা প্রদান করবে বলে অথবা আদালতকে উক্ত দ্রব্য ক্রোক বা হাজির করার আদেশ দানের ক্ষমতা প্রদান করবে বলে গণ্য করা যাবে না [Nothing in this Order shall be deemed to authorize the plaintiff to apply for the attachment of any agricultural produce in the possession of an agriculturist, or to empower the Court to order the attachment or production of such produce] ।

১৩ : স্মল কজ আদালত স্থাবর সম্পত্তি ক্রোক করবেন না : অত্র আদেশের কোনো কিছু স্মল কজ আদালতকে স্থাবর সম্পত্তির ক্রোকের আদেশ দানের কোনো ক্ষমতা প্রদান করবে বলে গণ্য করা যাবে না।

কথা এখানে দুইটি। ‘রায়ের পূর্বে গ্রেফতার’ এবং ‘রায়ের পূর্বে ক্রোক’। প্রথমটি ব্যক্তির বিষয়ে, দ্বিতীয়টি সম্পত্তির বিষয়ে। অনেক সময় দেখা যায় যে, কোনো ক্ষতিপূরণের বা অর্থের মোকদ্দমায় একজন বিবাদী সমন এড়িয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে পলাতক থাকেন অথবা সমন পেলেও আদালতে হাজির হোন না, অথবা মোকদ্দমার দায় এড়াতে দেশ ছেড়েও চলে যেতে পারেন, অথবা নিজের সম্পত্তি তড়িঘড়ি করে বিক্রি করে দেন যেন মোকদ্দমার দায় শোধ করতে না হয় ইত্যাদি বা এ রকম আরো অনেক কিছুই করতে পারে একজন বিবাদী। এরূপ পরিস্থিতিতে বাদীর মোকদ্দমা দায়েরের পরেও অনিশ্চয়তা থাকে ব্যাপক আকারে, বিশেষত বড় কোনো অর্থ বা ক্ষতিপূরণের মোকদ্দমায়।

এই যে অনিশ্চয়তা থাকে, সেটি যদি বাদী উল্লে­খ করে আদালতের কাছে জানায় এবং তৎসংশ্লিষ্ট প্রয়োজনীয় আদেশও চাইতে পারে একজন বাদী- সেক্ষেত্রে আদালত রায়ের পূর্বে গ্রেফতার বা রায়ের পূর্বে সম্পত্তি ক্রোক- এই দুইয়ের মাধ্যমে বাদীর সুরক্ষা দিতে পারে। তবে মোকদ্দমার আরজি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় দলিলাদিতে সেটি স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হতে হবে যে, মোকদ্দমাটি একটি প্রাইমা ফেসি কেইস তথা মোকদ্দমাটি বাদীর দিকেই প্রমাণিত হবার সমূহ সম্ভাবনা আছে অথবা মোকদ্দমাটি একটি জেনুইন কেইস এবং আদালতকেও সন্তুষ্ট হতে হবে যে, আদালত যদি অন্তর্বর্তীকালীন এ রকম কোনো আদেশ না দেয় তবে বাদীর সমূহ ক্ষতি হবে। ৩৮ আদেশে বর্ণিত এই দুই ধরনের অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ এমনকি বিবাদীর প্রতি সমন জারি হবার আগে অর্থাৎ বাদীর আরজি উপস্থাপিত হবার পরপরই দিতে পারে, যদি আদালত এটিকে পর্যাপ্ত যুক্তিযুক্ত মনে করে। এটুকুই প্রাথমিক ধারণা।

রায়ের পূর্বে গ্রেফতার সম্পর্কে আদেশটির ১ বিধিতে স্পষ্টভাবে বর্ণিত আছে যে, কোন ৪টি পরিস্থিতির মধ্যে আদালত বিবাদীকে গ্রেফতারের জন্য ও হাজিরার জন্য জামানত কেন দিতে হবে না মর্মে বিবাদীকে আদালতে হাজির হবার আদেশ দেবেন। আবার বিবাদী যদি বাদীর দাবির প্রয়োজনীয় বা সন্তোষজনক টাকা জমা দেয় তবে তাকে গ্রেফতার করা যাবে না। উক্ত জমাকৃত টাকা আদালতের কাছে জমা থাকবে। বিধি ১ হচ্ছে রায়ের পূর্বে গ্রেফতারের গ্রাউন্ড।

২ এবং ৩ বিধিতে জামানত সংক্রান্ত বিধান এবং ৪ বিধিতে দেওয়ানি কারাগারে সোপর্দ বিষয়ক বিধান আছে। দেওয়ানি কারাগারে আটকের মেয়াদ ৬ মাসের অধিক হবে না; এবং মোকদ্দমার বিষয়বস্তু পঞ্চাশ টাকার কম হলে ৬ সপ্তাহের বেশি হবে না

রায়ের পূর্বে ক্রোক সংক্রান্ত বিষয়াদি নিয়ে ৩৮ আদেশের ৫ থেকে ১৩ বিধি পর্যন্ত বিস্তারিত বলা আছে। সাধারণত ডিক্রি জারিতে বাধাদান বা তা বিলম্বিত করার উদ্দেশ্য আদালতের কাছে প্রতীয়মান হলে দুইটি গ্রাউন্ডে সম্পত্তি উপস্থিত করার জন্য বিবাদীকে নির্দেশ দিতে পারে আদালত। আদালত এক্ষেত্রে কেন কোনো সম্পত্তি আদালতের এখতিয়ারে ন্যস্ত করবে না বা বিবাদী কোনো জামানত প্রদান করবে না এই মর্মে কারণ দর্শাইতে বলে থাকেন। প্রয়োজনীয় বা উপযুক্ত কারণ দর্শাইতে না পারলে বা জামানত না দিলে সম্পত্তি ক্রোকের বিধান আছে ৬ বিধিতে। আবার জামানত প্রদান করা হলে বা মোকদ্দমা খারিজ হলে ক্রোক অপসারণ হতে পারে। ১০ থেকে ১৩ বিধিতে বেশ কিছু বিষয় নির্দেশ করেছে। এগুলো ভালো করে আবারো পড়ে নেন। এসব থেকে প্রশ্ন আসার সমূহ সম্ভাবনা থাকে সবসময়।

রায়ের পূর্বে গ্রেফতার এবং রায়ের পূর্বে ক্রোক- এই দুইটি আদেশই আপিলযোগ্য অন্যদিকে আদালত যদি বাদীর পক্ষে এই আদেশসমূহ না দেয় তবে বাদী কিন্তু আপিল করতে পারবে না; তবে এটি অবশ্যই রিভিশনযোগ্য।

এরপরে আদেশ ৩৯ আরো গুরুত্বপূর্ণ। এখানে দেওয়ানি মোকদ্দমায় বহুল ব্যবহৃত অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা নিয়ে আলোচনা আছে। সরাসরি আদেশটি ধীরে ধীরে মনোযোগের সাথে পড়ুন।

আদেশ ৩৯ : অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা এবং অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ [Temporary injunctions and interlocutory orders

অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা [Temporary Injunctions]
“১ : যে সকল ক্ষেত্রে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করা যায় : যেক্ষেত্রে কোনো মোকদ্দমায় শপথনামা দ্বারা বা অন্য কোনোভাবে প্রমাণিত হয়-

ক) যে, কোনো মোকদ্দমায় বিরোধভুক্ত কোনো সম্পত্তি মোকদ্দমার কোনো পক্ষ কর্তৃক ধ্বংসপ্রাপ্ত, ক্ষতিগ্রস্ত বা হস্তান্তরিত হওয়ার বা কোনো ডিক্রি জারিতে অন্যায়ভাবে বিক্রয় হওয়ার ঝুঁকির সম্মুখীন [that any property in dispute in a suit is in danger of being wasted, damaged or alienated by any party to the suit, or wrongfully sold in execution of a decree,]; অথবা

খ) যে, বিবাদী তার পাওনাদারকে প্রতারিত করার উদ্দেশ্যে তার সম্পত্তি অপসারণ বা হস্তান্তর করার হুমকি প্রদর্শন বা ইচ্ছা প্রকাশ করছে, সেক্ষেত্রে আদালত উক্ত কাজ রোধ করার জন্য আদেশ দিয়ে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করতে পারেন, অথবা মোকদ্দমা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বা পরবর্তী আদেশ না হওয়া পর্যন্ত উক্ত সম্পত্তি ধ্বংসকরণ, ক্ষতিগ্রস্তকরণ, হস্তান্তর, নিলাম, বিক্রয়, অপসারণ বা সমর্পণ স্থগিত করার উদ্দেশ্যে আদালত যেরূপ উপযুক্ত মনে করেন, সেরূপ আদেশ দিতে পারেন [that the defendant threatens, or intends, to remove or dispose of his property with a view to defraud his creditors, the Court may by order grant a temporary injunction to restrain such act, or make such other order for the purpose of staying and preventing the wasting, damaging, alienation, sale, removal or disposition of the property as the Court thinks fit, until the disposal of the suit or until further orders.]।

২ : লঙ্ঘনের পুনরাবৃত্তি বা অবিরাম অনুবৃত্তি রোধে নিষেধাজ্ঞা : ১) বিবাদীকে চুক্তিভঙ্গ করা বা অন্য কোনো প্রকার ক্ষতি করা হতে বিরত রাখার মোকদ্দমায় ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়ে থাকুক বা না থাকুক, মোকদ্দমা শুরু হবার পর যেকোনো সময় এবং রায়ের পূর্বে বা পরে বাদী অভিযোগভুক্ত চুক্তি ভঙ্গ বা ক্ষতি করা হতে অথবা একই চুক্তি হতে উদ্ভূত অথবা সম্পত্তি বা অধিকারের সাথে সম্পর্কিত কোনো চুক্তি ভঙ্গ বা ক্ষতি করা হতে বিবাদীকে বিরত রাখার জন্য আদালতে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার জন্য আবেদন করতে পারে [In any suit for restraining the defendant from committing a breach of contract or other injury of any kind, whether compensation is claimed in the suit or not, the plaintiff may, at any time after the commencement of the suit, and either before or after judgment, apply to the Court for a temporary injunction to restrain the defendant from committing the breach of contract or injury complained of, or any breach of contract or injury of a like kind arising out of the same contract or relating to the same property or right.]।

২) নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ হিসাব রক্ষণ, জামানত প্রদান অথবা অন্য কিছু সম্পর্কে আদালতের বিবেচনা মতো উপযুক্ত শর্ত সাপেক্ষে আদালত উক্ত নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করে আদেশ দান করতে পারেন।

৩) যদি অমান্য করা হয়, অথবা অনুরূপ কোনো শর্ত ভঙ্গ করা হয়, তবে নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুরকারী আদালত, সেই অমান্য করা বা ভঙ্গ করার জন্য দোষী ব্যক্তির সম্পত্তি ক্রোক করার নির্দেশ দিতে পারেন, এবং উক্ত ব্যক্তিকে অনধিক ছয়মাস মেয়াদের জন্য দেওয়ানি কারাগারে আটক রাখারও নির্দেশ দিতে পারেন, যদি না আদালত ইতোমধ্যে তার মুক্তির নির্দেশ দেন।

৪) অত্র বিধি অনুসারে কোনো ক্রোক এক বছরের অধিক বলবৎ থাকবে না, উক্ত সময়ের পরও যদি অবাধ্যতা লঙ্ঘন অব্যাহত থাকে, তাহলে সম্পত্তি নিলামে বিক্রয় করা যাবে এবং বিক্রয় লব্ধ অর্থ হতে আদালত ইহার বিবেচনা মতো উপযুক্ত পরিমাণ খেসারত প্রদান করতে পারেন এবং অবশিষ্ট অর্থ (যদি থাকে), উহাতে অধিকারী পক্ষকে প্রদান করবেন।

৩ : নিষেধাজ্ঞা প্রদানের পূর্বে আদালত অপর পক্ষকে নোটিশ প্রদানের নির্দেশ দিবেন : আদালত সকল ক্ষেত্রেই নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করার পূর্বে অপর পক্ষকে নিষেধাজ্ঞার আবেদনপত্র সম্পর্কে নোটিশ প্রদানের নির্দেশ দিবেন এবং সন্তুষ্ট হবে যে, নোটিশ জারি হয়েছে, অথবা প্রতিপক্ষের অস্বীকৃতির কারণে বা অন্য কোনো কারণে নোটিশ জারি করা যায় নি;

তবে শর্ত থাকে যে, কোনো ঋণ সম্পর্কে যে সকল দ্রব্য কোনো ব্যাংকে বন্ধক রাখা হয়, সেই ঋণ করার কৃত সময়ের মধ্যে পরিশোধের ব্যর্থতার জন্য উক্ত দ্রব্যসমূহ নিলামে বিক্রয় করা হলে, সেই ব্যাপার ব্যতীত, যেক্ষেত্রে ইহা প্রতীয়মান হয় যে, বিলম্বের কারণে নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুরের উদ্দেশ্য ব্যাহত হবে, সেক্ষেত্রে আদালত উক্ত নোটিশ ছাড়াও নিষেধাজ্ঞা প্রদান করতে পারেন।

৩ক : গরজারিতে ফেরত আসা নোটিশ জারির পদ্ধতি : বিধি ৩ অনুসারে জারির জন্য নির্দেশিত নোটিশ ইস্যুর তারিখ থেকে সাত দিনের মধ্যে জারি বা গরজারিতে আদালতে ফেরত দিতে হবে, এবং গরজারিতে নোটিশ ফেরত আসলে যতদূর প্রযোজ্য ৫ আদেশের ২০ বিধির বিধান অনুসারে আদালত নোটিশটি পুনরায় সাত দিনের মধ্যে জারি করাবে এবং এইরূপ জারি যথাযথ জারি যথাযথ নোটিশ জারি বলে গণ্য হবে

৪ : নিষেধাজ্ঞার আদেশ মুক্ত, পরিবর্তন বা রদ করা যাবে : নিষেধাজ্ঞার কোনো আদেশ কোনো পক্ষ অসন্তুষ্ট হলে সেই পক্ষের আবেদনক্রমে আদালত কর্তৃক উক্ত নিষেধাজ্ঞার আদেশে মুক্ত বা পরিবর্তিত বা রদ করা যাবে।

৫ : কর্পোরেশনের প্রতি নিষেধাজ্ঞা উহার কর্মকর্তাদের উপরও বাধ্যতামূলক : কোনো কর্পোরেশনের প্রতি প্রদত্ত নিষেধাজ্ঞা শুধু উক্ত কর্পোরেশনের উপরই বাধ্যতামূলক নয়, বরং যে সকল সদস্য এবং কর্মকর্তার ব্যক্তিগত কাজ উহা রোধ করতে চায়, তাদের উপরও তা বাধ্যতামূলক।

৫ক. অপর পক্ষের শুনানি ব্যতীত অন্তর্বর্তী বা অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আদেশ দেওয়া যাবে না : ১) কোনো আদালত সরকারি উকিলের ওপর ন্যায়সঙ্গত নোটিশ জারি না করে এবং তাকে অথবা এই ব্যাপারে তার দ্বারা ক্ষমতাপ্রাপ্ত অন্য কোনো উকিলকে শুনানির সুযোগ না দিয়ে সরকার বা বিধিবদ্ধ গণসংস্থার বিরুদ্ধে কোনো বেসরকারি পক্ষের অুনরোধে এই আদেশের উপযুক্ত বিধিগুলোর কোনো একটির অধীন একতরফা অন্তর্বর্তী বা অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আদেশ প্রদান করবে না, যদি রূপ আদেশ কোনো উন্নয়ন কর্মসূচি বা কাজ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ক্ষতি হবার বা হস্তক্ষেপ করবার সম্ভাবনা থাকে বা অন্যভাবে জনস্বার্থে ক্ষতিকর হয়।

২) কোনো বেসরকারি পক্ষ অপর বেসরকারি পক্ষের বিরুদ্ধে অন্তর্বর্তী বা অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আবেদন করলে আদালত সকল ক্ষেত্রেই অপরপক্ষকে নোটিশ প্রদানের নির্দেশ প্রদান করবে, যদি না এটি প্রতীয়মান হয় যে, বিলম্বের কারণ নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুরের উদ্দেশ্যে পরাভূত হবে।

৩) কোনো বেসরকারি পক্ষের অনুরোধে অপর বেসরকারি পক্ষের বিরুদ্ধে একতরফা অন্তর্বর্তী বা অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আদেশ প্রদান করা হলে অপর পক্ষের হাজির হবার তারিখ হতে সাত দিনের মধ্যে আদালত বিষয়টি গুণাগুণের ওপর ভিত্তি করে শুনানি ও নিষ্পত্তি করবে, যদি না অপর পক্ষের অনুরোধে আরো সময় বৃদ্ধি করা হয়, যে পক্ষের অনুরোধে এটি প্রদান করা হয়, সেই পক্ষ যদি মূলতবির প্রার্থনা করে, অথবা আদালত শুনানির জন্য আহ্বান করলেও শুনানি ব্যর্থ হয়, তাহলে উক্ত অন্তর্বর্তী বা অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আদেশ তাৎক্ষণিক প্রত্যাহৃত হবে।

৪) যে পক্ষের অনুরোধে অন্তর্বর্তী বা অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করা হয়, অবশেষে যদি তার বিরুদ্ধে মোকদ্দমার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়, এবং এটি প্রতয়িমান হয় যে, উক্ত নিষেধাজ্ঞার কারণে অপর পক্ষের ক্ষতি হয়েছে, তাহলে আদালত মোকদ্দমার সিদ্ধান্ত গ্রহণের সময় অপর পক্ষ যে খরচা পেতে অধিকারী তদরিক্ত ক্ষতিপূরণমূলক খরচা অপর পক্ষের অনুকূলে মঞ্জুর করবে যা কিনা দশ হাজার টাকার অধিক হবে না।

৫) অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার জন্য ক্ষতিগ্রস্ত হবার কারণে তিনি অন্য কোনোভাবে খরচা পেতে অধিকারী হলে উপবিধি ৪ অনুসারে মঞ্জুরীকৃত খরচা পক্ষকে অতিরিক্ত ক্ষতিপূরণ পেতে অনধিকারী করবে না, কিন্তু অতিরিক্ত ক্ষতিপূরণ দাবি করা হলে ৪ উপবিধি অনুসারে গৃহীত খরচা বিবেচনায় নিতে হবে।

অন্তর্বর্তী আদেশসমূহ [Interlocutory Orders ]
৬ : অন্তবর্তী বিক্রয়ের আদেশ দেয়ার ক্ষমতা : কোনো অস্থাবর সম্পত্তি মোকদ্দমার বিষয়বস্তু হয়ে থাকলে অথবা রায় ঘোষণার পূর্বেই উক্ত মোকদ্দমায় ক্রোক করা হয়ে থাকলে, যা দ্রুত এবং স্বাভাবিক ক্ষয়সাপেক্ষ, অথবা যা অন্য কোনো ন্যায় সঙ্গত এবং যথেষ্ট কারণে অবিলম্বে বিক্রয় করার প্রয়োজন হয়, তা আদালত মোকদ্দমার যেকোনো পক্ষের আবেদনক্রমে ইহার বিবেচনা মতো উপযুক্ত পদ্ধতি এবং শর্ত সাপেক্ষে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি কর্তৃক নিলামে বিক্রয়ের আদেশ দিতে পারেন।

৭ : মোকদ্দমার বিষয়বস্তুর আটক, সংরক্ষণ, পরিদর্শন ইত্যাদি : ১) মোকদ্দমার কোনো পক্ষের আবেদনক্রমে এবং আদালতের বিবেচনায় উপযুক্ত শর্ত সাপেক্ষে, আদালত-

ক) যে সম্পত্তি কোনো মোকদ্দমার বিষয়বস্তু বা যা সম্পর্কে কোনো প্রশ্ন উত্থাপিত হতে পারে, তা আটক, সংরক্ষণ বা পরিদর্শনের আদেশ দিতে পারেন;
খ) উপরোক্ত যাবতীয় বা যেকোনো উদ্দেশ্য কোনো ব্যক্তিকে উক্ত মোকদ্দমার অপর কোনো পক্ষের দখলকৃত কোনো জমিতে বা দালানে প্রবেশ করার ক্ষমতা দান; এবং
গ) উপরোক্ত যাবতীয় বা যেকোনো উদ্দেশ্যে কোনো নমুনা সংগ্রহের বা কোনো পর্যবেক্ষণ করার বা পরীক্ষা করার জন্য, যা পূর্ণ তথ্য বা প্রমাণ লাভের উদ্দেশ্যে দরকারি বা সুবিধাজনক মনে হতে পারে, কোনো ব্যক্তিকে ক্ষমতা দান করতে পারেন।

২) পরোয়ানা জারি সংক্রান্ত বিধানসমূহ অত্র বিধি অনুসারে প্রবেশের ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন সাধনপূর্বক প্রযোজ্য হবে।

৮ : অনুরূপ আদেশের জন্য আবেদন নোটিশ প্রদানের পর করতে হবে : ১) মোকদ্দমা দায়ের করার পরে যেকোনো সময় বিবাদীকে নোটিশ দেয়ার পর বাদী ৬ বা ৭ বিধি অনুসারে আদেশের জন্য আবেদন করতে পারবে।

২) বিবাদী হাজির হওয়ার পর যেকোনো সময় বাদীকে নোটিশ দিয়ে অনুরূপ আদেশের জন্য আবেদন করতে পারবে

৯ : মোকদ্দমার বিষয়বস্তু সম্পর্কিত ভূমিতে যখন পক্ষকে অবিলম্বে দখলে রাখা যাবে : যেক্ষেত্রে সরকারকে রাজস্ব দানকারী কোনো ভূমি বা বিক্রয়যোগ্য রায়তী স্বত্ব মোকদ্দমার বিষয়বস্তু হয়, উক্ত ভূমি বা মধ্যস্বত্ব দখলকারী পক্ষ যদি সরকারকে রাজস্ব প্রদানে বা রায়তী স্বত্বের মালিককে প্রাপ্য খাজনা দিতে অবহেলা করে এবং ফলে উক্ত ভূমি বা রায়তী স্বত্ব নিলামে বিক্রয়ের আদেশ দেওয়া হয়, সেক্ষেত্রে উক্ত ভূমি বা রায়তী স্বত্ব নিলামে বিক্রয়ের আদেশ দেওয়া হয়, সেক্ষেত্রে উক্ত ভূমি বা রায়তী স্বত্বে স্বার্থের দাবিদার উক্ত মোকদ্দমার অন্য কোনো পক্ষ নিলাম বিক্রয়ের পূর্বে বাকি পড়া রাজস্ব বা খাজনা পরিশোধ করলে (এবং আদালতের ইচ্ছা অনুসারে জামানত সহ বা ব্যতীত) অবিলম্বে তাকে উক্ত ভূমি বা রায়তী স্বত্বের দখলে রাখা হবে;

এবং আদালত ইহার ডিক্রিতে উক্তরূপে পরিশোধিত টাকা উপযুক্ত হারে সুদসহ অথবা উক্ত পরিশোধিত টাকা আদালতের নির্দেশিত হারে সুদসহ উক্ত অপারগ ব্যক্তির বিরুদ্ধে মোকদ্দমায় প্রদত্ত ডিক্রির নির্দেশ মোতাবেক হিসাবের সমন্বয় সাধনক্রমে প্রদানের নির্দেশ দিতে পারেন।

১০ : টাকা ইত্যাদি আদালতে জমা দেওয়া : যেক্ষেত্রে মোকদ্দমার বিষয়বস্তু টাকা অথবা অন্য কোনো অর্পণযোগ্য জিনিস হয়, এবং মোকদ্দমার কোনো পক্ষ যদি এই মর্মে স্বীকারোক্তি করে যে, অপর এক পক্ষের জিম্মাদার হিসেবে তার নিকট উক্ত টাকা বা বস্তু রয়েছে, অথবা উহা অপর এক পক্ষের বা অপরপক্ষের প্রাপ্য, সেক্ষেত্রে আদালত আদেশ দিতে পারেন যে, উহা জামানতসহ বা জামানত ব্যতীত আদালতের পরবর্তী নির্দেশ সাপেক্ষে আদালতে জমা হোক বা শেষোক্ত পক্ষের নিকট অর্পণ করা হোক।

আপনারা ইতিমধ্যেই স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা নিয়ে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনে [ধারা ৫৪ থেকে ৫৭] পড়ে এসেছেন। ফলে কিছু বেসিক আইডিয়া আছেই। আর দেওয়ানি কার্যবিধির ৩৯ আদেশে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা নিয়ে আলোচনা আছে যা কিনা একই সাথে অন্তর্বর্তীকালীন আদেশের একটি অন্যতম প্রকার।

এই আদেশে অনেকগুলো বিষয় মনে রাখা জরুরি। কোন কোন ক্ষেত্রে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করা যায় সেটি সম্পর্কে ১ বিধিতেই বলা আছে। আরো বলা আছে- মোকদ্দমার কোনো পক্ষ যদি মোকদ্দমার বিরোধীয় বিষয়বস্তু ধবংস, ক্ষতিগ্রস্ত বা হস্তান্তরিত করতে বা ডিক্রি জারিতে তা অন্যায়ভাবে বিক্রি করার ঝুঁকির ভেতর ফেলে তখন অথবা পাওনাদারকে প্রতারিত করার জন্য বিরোধীয় সম্পত্তি অপসারণ বা হস্তান্তর করার হুমকি বা ইচ্ছা প্রকাশ করে থাকে বলে আদালতের কাছে প্রতীয়মান হয় তখন এই অস্থায়ী আদেশ মঞ্জুর করা হয়ে থাকে সাধারণত। আবার কোনো ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়ে থাকুক বা না থাকুক, একই চুক্তি থেকে উদ্ভূত অন্য কোনো সম্পত্তি বা অধিকার সম্পর্কিত যেন কোনো ক্ষতিসাধন না হয় সেজন্যও এই অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আদেশ মঞ্জুর করা হয়ে থাকে [বিধি ২]। নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করা হয়ে থাকলে এবং সেই আদেশের অন্যথা করলে ৬ মাস পর্যন্ত দেওয়ানি কারাগারে আটক অথবা সর্বোচ্চ ১ বছরের পর্যন্ত সম্পত্তি ক্রোক করা যেতে পারে। ১ বছর পরেও যদি সেই আদেশের অবাধ্যতা লংঘন অব্যাহত থাকে তবে আদালত সম্পত্তি নিলামেও তুলতে পারে [বিধি ২ এর উপবিধি ২ ও ৩]। যেকোনো অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আগে অবশ্যই অপর পক্ষকে নোটিশ দিতে হবে। নিষেধাজ্ঞার আদেশ মঞ্জুরের কারণে যে পক্ষের ক্ষতি হয়, সেই পক্ষ যদি মোকদ্দমায় জিতে যায় তাহলে অন্যান্য খরচ বাদেও সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে পারে আদালত [বিধি ৫ এর ৪ উপবিধি]।

এর বাইরে অন্যান্য বিধিগুলোতে অন্তর্বর্তী আদেশসমূহ শিরোনামে আরো কিছু বিধি আছে। সেগুলো সম্পর্কে স্রেফ ধারণাটুকু রাখুন।



এরপরে আদেশ ৪০। রিসিভার নিয়োগ সম্পর্কে আদেশ এটি। মানে তত্ত্বাবধায়ক নিয়োগ। কিসের তত্ত্ববধায়ক বা কিসের রিসিভার? এইযে আমরা এতক্ষণ রায়ের পূর্বে ক্রোক, সম্পত্তি ক্রোক, বিরোধীয় বিষয়বস্তুর ওপরে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা দেওয়া এসব পড়ে আসলাম; কিন্তু এই সমস্ত ক্ষেত্রে একজন রিসিভার বা তত্ত্বাবধায়ক নিয়োগের প্রয়োজন পড়ে যিনি নিষেধাজ্ঞার আদেশ বা যেকোনো অন্তর্বর্তী আদেশের মাধ্যমে আসা সম্পত্তির দেখভাল করে থাকেন। আদালত একজন রিসিভার নিয়োগ করে থাকেন। একজন রিসিভার কখনোই মোকদ্দমার পক্ষবৃন্দের কোনো স্বার্থসংশ্লিষ্ট লোক হবেন না। একজন রিসিভারের পারিশ্রমিক থাকে, থাকে সুনির্দিষ্ট আকারে কিছু দায়িত্বও। আদেশটির বিষয়বস্তু মনে রাখুন বিশেষভাবে

আদেশ ৪০ : রিসিভার নিয়োগ [Appointment of receivers]

“১ : রিসিভার নিয়োগ : ১) আদালতের কাছে ন্যায়সঙ্গত ও সুবিধাজনক বলে প্রতীয়মান হলে আদালত আদেশ দিয়ে-

ক) ডিক্রির পূর্বে বা পরে কোনো সম্পত্তির রিসিভার নিয়োগ করতে পারেন;
খ) সম্পত্তির দখল বা জিম্মাদারী হতে কোনো ব্যক্তিকে অপসারণ করতে পারেন;
গ) উহা রিসিভারের দখলে, হেফাজতে বা ব্যবস্থাপনায় সোপর্দ করতে পারেন; এবং
ঘ) মোকদ্দমা দায়ের করা ও জবাব দেওয়া এবং সম্পত্তি আদায়করণ, ব্যবস্থাপনা, নিরাপদকরণ, সংরক্ষণ এবং উন্নয়ন, উহার খাজনা এবং মুনাফা সংগ্রহ, উক্ত খাজনা ও মুনাফার প্রয়োগ ও হস্তান্তর এবং দলিল সম্পাদন সম্পর্কে মালিকের নিজের যেরূপ ক্ষমতা আসে সেরূপ বা আদালত যে সকল ক্ষমতা উপযুক্ত মনে করেন, রিসিভারকে অনুরূপ সকল ক্ষমতা প্রদান করতে পারেন।

২) কোনো ব্যক্তিকে সম্পত্তির দখল ও জিম্মাদারী হতে অপসারণের জন্য যাকে মোকদ্দমার কোনো একটি পক্ষের অনুরূপভাবে অপসারণের বর্তমান অধিকার নাই, অত্র বিধির কোনো কিছু আদালতকেও উক্ত ব্যক্তিকে অনুরূপ অপসারণের ক্ষমতা দিবে না।

২ : পারিশ্রমিক : আদালত একটি সাধারণ বা বিশেষ আদেশ দ্বারা রিসিভারের কাজের জন্য পারিশ্রমিক ধার্য করতে পারবেন।

৩ : দায়িত্ব : এরূপভাবে নিযুক্ত প্রত্যেক রিসিভার-

ক) সম্পত্তি সম্পর্কে সে যা পাবে তার যথাযথ হিসাব দানের জন্য আদালত কর্তৃক উপযুক্ত বিবেচনায় জামানত (যদি থাকে) প্রদান করবে;
খ) আদালত কর্তৃক নির্দেশিত মেয়াদে এবং ছাঁচে তার হিসাব দাখিল করবে;
গ) আদালতের নির্দেশ মতো তার নিকট হতে পাওনা পরিশোধ করবে; এবং
ঘ) তার স্বেচ্ছাকৃত ত্রুটি বা গুরুতর অবহেলার দরুন সম্পত্তির ক্ষতিসাধিত হলে তজ্জন্য দায়ী হবে।

৪ : রিসিভারের দায়িত্ব বলবৎকরণ : যেক্ষেত্রে রিসিভার-

ক) আদালতের নির্দেশিত সময়ে এবং ছাঁচে তার হিসাব দাখিলে ব্যর্থ হয়; বা
খ) তার নিকট পাওনা টাকা আদালতের নির্দেশ মতো পরিশোধ করতে ব্যর্থ হয়; বা
গ) তার স্বেচ্ছাকৃত ত্রুটি বা গুরুতর অবহেলার জন্য সম্পত্তির ক্ষতি সাধিত হয়;

সেক্ষেত্রে আদালত তার সম্পত্তি ক্রোকের নির্দেশ দিতে পারেন এবং উক্ত সম্পত্তি নিলাম বিক্রয় করতে পারবেন এবং বিক্রয় লব্ধ অর্থ দ্বারা তার নিকট পাওনা টাকা পরিশোধে বা তার দ্বারা সাধিত ক্ষতির খেসারত প্রদানে ব্যবহার করতে পারেন এবং অবশিষ্ট টাকা (যদি থাকে) রিসিভারকে প্রদান করবেন।

৫ : যখন কালেক্টরকে রিসিভার নিয়োগ করা যায় : যেক্ষেত্রে উক্ত সম্পত্তি সরকারকে রাজস্ব প্রদানকারী ভূমি বা উক্ত ভূমির রাজস্ব হস্তান্তরিত বা মুক্ত করা হয়ে থাকে এবং আদালত যদি মনে করেন যে, কালেক্টর কর্তৃক ব্যবস্থাপনা চালিত হলে সংশ্লিষ্ট সকলের স্বার্থরক্ষা হবে, সেক্ষেত্রে আদালত কালেক্টরের সম্মতিক্রমে তাকে উক্ত সম্পত্তির রিসিভার নিয়োগ করতে পারেন।



এই অধ্যায়ের এমসিকিউগুলো পরে যুক্ত করা হবে। দুঃখিত।



 

বিগত এমসিকিউ সাফল্য

Registered [2017 & 2020 MCQ]

Passed Students [2017 & 2020 MCQ]

Registered [MCQ Exam of 2021]