ঘরে বসেই লাইভ ভিডিওতে
প্রতি মাসে মাত্র ৮০০/- টাকায়

MCQ পরীক্ষার প্রস্তুতি!

ভর্তি হতে কল করুন : 01712-908561

CrPC Lecture 06 [Sec. 177-205D]

ফৌজদারি কার্যবিধির ষষ্ঠ ভাগে বিন্যস্ত আছে ১৫ টি অধ্যায়!! এই ষষ্ঠ ভাগে ধারার বিস্তৃতিও অনেক; একেবারে ১৭৭-৪০৩। এই লেকচারে ১৭৭-২০৫ঘ পর্যন্ত আলোচনা রয়েছে। কোন ফৌজদারি আদালতে কোন মামলা করা যাবে, ম্যাজিস্ট্রেট এর কার্যক্রমের শুরু করার শর্তাবলী, ম্যাজিস্ট্রেট নালিশ পেলে কি করবেন, কখন পরোয়ানা দেবেন বা দেবেন না ইত্যাদি অতি বেসিক তথ্যসমূহ আলোচিত হয়েছে। বেশ গুরুত্ববহ এই লেকচারটি মনোযোগের সাথে পড়ুন।

CrPC : Lecture 06

Proceedings in Prosecutions : সরকারের পক্ষে মামলা পরিচালনার পদ্ধতি

ম্যাপিং : এবারে সম্ভবত সবচাইতে ইন্টারেস্টিং ভাগ, ৬ষ্ঠ ভাগ এর আলোচনা। ১৭৭ থেকে এক্কেবারে ৪০৩ পর্যন্ত আলোচনা। বিশাআআআল! অধ্যায় ১৫ থেকে অধ্যায় ৩০। ইন্টারেস্টিং বললাম এ কারণে যে, এই ভাগেই একটি আদালত কিভাবে কাজ করে তার বিস্তারিত পদ্ধতি বা প্রক্রিয়া বর্ণনা করেছে। একটি আদালত কিভাবে কাজ করবে, কোন কোন শর্তে কি কি ধরনের পদক্ষেপ নেবে, কোন কাজের পর কোন কাজ করবে ইত্যাদি অনেক বিস্তারিতভাবে আলোচনা আছে। একটি আদালত কিভাবে কাজ করে সেটার আইনী ভিত্তিটা বিস্তারিত জানার ব্যাপারটা নিশ্চয়ই আইনের একজন শিক্ষার্থীর কাছে রোমাঞ্চক বিষয়।

১৭৭ থেকে ৪০৩ ধারা কি একটা লেকচারেই পড়বো আমরা? না, সেটা একটা বোকামী হবে। আমাদের এই ভাগের আলোচনায় প্রপার ম্যাপিংটা খুব জরুরি।

এই পুরো ভাগের প্রধান শিরোনামটা কি জানেন? ফৌজদারি কার্যবিধির মূল আইনের বই থাকলে সেটা পাশে নিয়ে বসতে পারেন। বই না থাকলেও সমস্যা নেই বিশেষ। বই থাকলে পুরো বই না ঘেটে শুধুমাত্র সূচীপত্রে নজর দিলেই চলবে।

তো, এটার শিরোনাম হলো – ‘সরকারের পক্ষে মামলা পরিচালনার পদ্ধতি’ [Proceedings in prosecutions]। এই শিরোনাম নবীন শিক্ষার্থীর জন্য বুঝে ওঠাটা কঠিন বা উপলব্ধি করাটা কঠিন। আগেই বলেছিলাম, কোনো কিছু প্রথম দেখায় বোধগম্য না হলে সিম্পলি ছেড়ে দেবেন। শিরোনামটা মনে রাখেন। এই পুরো আলোচনা শেষ করে এই শিরোনামের দিকে আরেকবার তাকাবেন। তখন বুঝে যাবেন আশা করি।

আমরা এবার এর বিভিন্ন অধ্যায় ও এর ভেতরের প্রধান প্রধান শিরোনামগুলো দেখবো। এগুলো দেখলেই এই ভাগে কি কি আলোচনা করা আছে তার একটা চিত্র আপনার চোখে-মগজে ধরা দেবে।

এই ৬ষ্ঠ ভাগে আছে

অধ্যায় ১৫ : অনুসন্ধান ও বিচারের ক্ষেত্রে ফৌজদারি আদালতের এখতিয়ার যার ভেতরে আছে বিচারের স্থান ও ম্যাজিস্ট্রেট এর কার্যক্রম শুরু করার জন্য প্রয়োজনীয় শর্তাবলী

অধ্যায় ১৬ : ‘ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট নালিশ’ – ম্যাজিস্ট্রেট যখন কারো অভিযোগ আদালতে প্রথম শোনে তখন কিভাবে কাজ করবে সেটা বলা আছে।

অধ্যায় ১৭ : ‘ম্যাজিস্ট্রেটের কার্যক্রম শুরু’ – এখানে ম্যাজিস্ট্রেট মামলা গ্রহণ করলে তার কার্যক্রম কিভাবে শুরু হবে, সেইসব প্রক্রিয়াগুলো বর্ণনা আছে।

অধ্যায় ১৮ : এই অধ্যায়টি বাতিল করা হয়েছে।

অধ্যায় ১৯ : ‘অভিযোগ সম্পর্কিত’ শিরোনামে অভিযোগের ধরণ এবং একাধিক অভিযোগ থাকলে সেটাকে একত্রীকরণ বিষয়ে আলোচনা আছে।

অধ্যায় ২০ : ‘ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক মামলার বিচার’ – এখানে ম্যাজিস্ট্রেট মামলার বিচার কিভাবে করবেন, অভিযোগ গঠন করা, খালাস অথবা শাস্তি দেয়া ইত্যাদি বিষয়ে আলোচনা করা আছে।

অধ্যায় ২১ : বাতিল।

অধ্যায় ২২ : ‘সংক্ষিপ্ত বিচার’ – বিভিন্ন লঘু অপরাধ দ্রুততার সাথে বিচার করার পদ্ধতি।

অধ্যায় ২৩ : ‘দায়রা আদালতে বিচার’ – একটি দায়রা আদালত কিভাবে বিচার করবে, খালাস অথবা শাস্তি দেবে ইত্যাদি বিষয়ে আলাপ করা আছে।

অধ্যায় ২৪ : ‘অনুসন্ধান ও বিচারের সাধারণ বিষয়সমূহ’ – বিচার ও অনুসন্ধানের সময় কমন বা সাধারণ নীতি কি থাকবে তা বলা আছে এখানে।

অধ্যায় ২৫ : ‘অনুসন্ধান ও বিচারের সময় সাক্ষ্য গ্রহণ ও লিপিবদ্ধ করার পদ্ধতি’ আলোচনা আছে।

অধ্যায় ২৬ : ‘রায়’ -রায়ে কি থাকবে, কিভাবে থাকবে তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা।

অধ্যায় ২৭ : ‘দণ্ড অনুমোদনের জন্য পেশ’ শিরোনামে আলোচনা।

অধ্যায় ২৮ : ‘দণ্ড কার্যকরীকরণ’ কিভাবে হবে তা আলোচনা করা আছে।

অধ্যায় ২৯ : ‘দণ্ড স্থগিত, মওকুফ ও রদবদল’ শিরোনামে আলোচনা।

অধ্যায় ৩০ : ‘পূর্ববর্তী খালাস বা দণ্ডাদেশ’ শিরোনামে আলোচনা।

কি বুঝলেন? নাকি বোঝাবুঝির চেয়ে পেইন লাগলো বেশি? বোঝাবুঝির একটাই বিষয় : কোনো একটি ঘটনার বিচার কোথায় হবে, কিভাবে হবে, মামলার নালিশ থেকে শুরু করে, সেটা ম্যাজিস্ট্রেট আদালত হোক আর দায়রা আদালত হোক, মামলার কার্যক্রম শুরু করা, বিচার করা, রায় দেয়া, দণ্ড কার্যকর করা ইত্যাদি বিষয় নিয়ে এই ৬ষ্ঠ ভাগে আলোচনা আছে। এই ৬ষ্ঠ ভাগ থেকে বার কাউন্সিলের গত ৩ বারের এমসিকিউ পরীক্ষায় ১৫ টি এবং বিগত জুডিসিয়ারি পরীক্ষাগুলোতে অন্তত ১০ টি প্রশ্ন এসেছিলো।

ফলে মানসিকভাবে এটার জন্য প্রস্তুতি নিন যে পরবর্তী কয়েকটা লেকচার সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে পড়বেন। আমরা এই ৬ষ্ঠ ভাগকে কয়েকটি আলাদা আলাদা লেকচারে পড়বো, যেন সব গুলিয়ে না যায়। আমরা ১৭৭ থেকে ২০৫ ঘ পর্যন্ত এই লেকচারে পড়বো

মূল আলোচনা :
অধ্যায় ১৫ তে অনুসন্ধান ও বিচারের ক্ষেত্রে ফৌজদারি আদালতের এখতিয়ার নিয়ে আলোচনা। ফৌজদারি আদালতের এখতিয়ার কি নিয়ে? অনুসন্ধান ও বিচার নিয়ে। আমরা আগের লেকচারে পড়ে এসেছিলাম – পুলিশের তদন্তবিচারিক বিভাগের অনুসন্ধান ও বিচারে কাজের প্রক্রিয়ায় একটি মামলা সম্পন্ন হয়। তো এই অনুসন্ধান বা বিচারের স্থান সম্পর্কে বলা আছে ১৭৭ থেকে ১৮৯ ধারা পর্যন্ত। ১৫ অধ্যায়েই আরো আছে ১৯০ থেকে ১৯৯ খ পর্যন্ত। সেটা নিয়ে পরে কথা হবে।

ধরুন একজন লোক, তার বাড়ী গাজীপুর। কিন্তু সে ঢাকায় একটি বাসায় চুরি করতে গিয়ে ধরা পড়ে, তাহলে তার বিচার কোথায় হবে? অথবা মনে করুন, অন্য একটি জেলার একজন ব্যবসায়ী আপনার সাথে আর্থিক প্রতারণা করলো, তবে তার বিরুদ্ধে কোথায় মামলা করবেন? অথবা ধরুন, ঢাকা থেকে একজনকে অপহরণ করে কুমিল্লায় গিয়ে তার ওপর চরম নির্যাতন করলো, সেখান থেকে কোনোভাবে পালিয়ে সে চট্টগ্রামে পৌছে মৃত্যুবরণ করলো তার নিজ এলাকায়। তাহলে এই হত্যা মামলা কোথায় করতে হবে?

ফলে, মামলা করার স্থান কোনটি হবে সেটি একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয়। ধারা অনেকগুলো আছে। আমরা এর বেসিক নীতিগুলো আপনাদের সাথে আলোচনা করবো। সংশ্লিষ্ট ধারাগুলো আপনারা দেখবেন পাশাপাশি।

প্রথমেই ১৭৭ ও ১৭৮ ধারা দুইটি একসাথে পড়ুন।

“ধারা ১৭৭ : অনুসন্ধান ও বিচারের সাধারণ স্থান [Ordinary place of inquiry and trial] : প্রত্যেকটি অপরাধ যে আদালতের এখতিয়ারের স্থানীয় সীমার মধ্যে সংঘটিত হয়, সাধারণত সেই আদালত কর্তৃক উহার অনুসন্ধান ও বিচার হবে।

“ধারা ১৭৮ : বিভিন্ন দায়রা বিভাগে মামলার বিচারের আদেশ দেওয়ার ক্ষমতা : ১৭৭ ধারায় যাই থাকুক না কেন, সরকার নির্দেশ দিতে পারবেন যে, যে কোনো জেলায় বিচারের জন্য প্রেরিত কোনো মামলা বা কোন শ্রেণীর মামলাগুলির বিচার যে কোনো দায়রা বিভাগে হতে পারবে।

কোনো অপরাধ যেই আদালতের এখতিয়ারাধীন সেই আদালতেই সাধারণভাবে তার অনুসন্ধান ও বিচার কাজ হবে। তবে, এও সম্ভব যে সরকার আলাদাভাবে নির্দেশ দিলে যেকোনো দায়রা বিভাগও একটি মামলার বিচার-অনুসন্ধান করতে পারবে, যদিও তা তার এলাকাগত এখতিয়ারাধীন না হয়।

এবার ১৭৯ দেখুন।

“ধারা ১৭৯ : অপরাধ সংঘটনের জেলায় বা পরিণাম ঘটার স্থানে আসামির বিচার হবে : যে কাজ করা হয়েছে বা উহার পরিণাম দেখা দিয়েছে তার ভিত্তিতে কোনো ব্যক্তি অপরাধ করার অভিযোগে অভিযুক্ত হলে এরূপ অপরাধের অনুসন্ধান বা বিচার যে আদালতের এখতিয়ারের স্থানীয় সীমার মধ্যে উক্ত কাজ করা হয়েছে সেই আদালতে অথবা যে আদালতের এখতিয়ারের স্থানীয় সীমার মধ্যে উহার পরিণাম দেখা দিয়েছে সেই আদালতে হতে পারবে

উদাহরণ :

ক) ‘ক’ নামক এক ব্যক্তি ‘ভ’ নামক আদালতের এখতিয়ারের স্থানীয় সীমার মধ্যে আহত হলো এবং ‘ঘ’ নামক আদালতের এখতিয়ারের স্থানীয় সীমার মধ্যে মৃত্যুমুখে পতিত হলো। ‘ক’ এর প্রাণনাশ করার অপরাধের অনুসন্ধান বা বিচার ‘ভ’ বা ‘ঘ’ আদালতে হতে পারবে ।

খ) ‘ক’, ‘ভ’ আদালতের এখতিয়ারের স্থানীয় সীমার মধ্যে আহত হলো এবং ‘ঘ’ আদালতের এখতিয়ারের স্থানীয় সীমার মধ্যে দশদিন এবং ‘ঘ’ আদালতের এখতিয়ারের স্থানীয় সীমার মধ্যে আরও দশদিন যাবৎ তার দৈনন্দিন কাজ করতে পারল না। ‘ক’ কে গুরুতর রূপে আহত করার অপরাধের অনুসন্ধান বা বিচার ‘ভ’, ‘ম’ বা ‘ঘ’ আদালতে হতে পারবে

গ) ‘ক’ কে ‘ভ’ আদালতের এখতিয়ারের স্থানীয় সীমার মধ্যে ভীতি প্রদর্শনকারীর নিকট সম্পত্তি হস্তান্তর করতে বাধ্য করা হলো। ‘ক’এর নিকট হতে বলপূর্বক সম্পত্তি আদায় করার অপরাধের অনুসন্ধান বা বিচার ‘ভ’ বা ‘ম’ আদালতে হতে পারবে।

ঘ) ‘ক’ ঢাকায় আহত হলো এবং এর ফলে চট্টগ্রামে মারা গেল। ‘ক’ এর মৃত্যু ঘটানোর অপরাধের অনুসন্ধান বা বিচার চট্টগ্রামে হতে পারবে।

একদম পানির মতো সহজ! তাইনা? কোনো আলোচনার প্রয়োজন না থাকলেও এর নীতিটা আবারো বুঝে রাখেন। এর নীতিটা হলো – একাধিক জায়গায় অপরাধ ঘটলেও অপরাধের কোনো একটি অংশ যেখানে ঘটেছে সেইখানকার আদালত অপরাধটির বিচার করতে পারবে, এতে বিন্দুমাত্র বাধা নেই। অর্থাৎ অপরাধের শুরু, অংশ এবং শেষ এই তিনটি ভিন্ন ভিন্ন স্থানে হলে এই তিনটি আলাদা স্থানের আদালত প্রত্যেকেই সেটার বিচার করতে পারবে

১৮০ থেকে ১৮৪ ধারা পর্যন্ত প্রত্যেকটি ধারাই ১৭৯ ধারায় আলোচিত নীতিকেই ফলো করেছে। তার আলোকেই আরো কিছু সুনির্দিষ্ট অপরাধের কথা উল্লেখ করে এই ধারাগুলো প্রণীত হয়েছে। নীতি কিন্তু একই, ১৭৯ ধারার মতোই। ফলে বাহুল্য আলোচনায় না গিয়ে ধারাগুলো তুলে দেয়া থাকলো শুধু।

“ধারা ১৮০ : কৃতকার্য যে ক্ষেত্রে অন্য কোনো অপরাধের কারণে অপরাধ সেক্ষেত্রে বিচারের স্থান : যখন কোনো কাজ অন্য কোনো কাজের সাথে সম্পর্কযুক্ত হবার অপরাধ বলে গণ্য হয় এবং এরূপ অন্য কাজটিও অপরাধ অথবা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি অপরাধ করার সমর্থ বলে উহা অপরাধ বলে গণ্য হয়, তখন যে আদালতের এখতিয়ার স্থানীয় এলাকার মধ্যে দুইটি কাজের যে কোনো একটি সংঘটিত হয়, সেই আদালতে প্রথমোক্ত অপরাধের, অনুসন্ধান বা বিচার হতে পারবে।

উদাহরণ :

ক) অপরাধের সহায়তা দেওয়ার অনুসন্ধান বা বিচার যে আদালতের এখতিয়ারের স্থানীয় সীমার মধ্যে সহায়তা দেয়া হয়েছে, সেই আদালতে অথবা যে আদালতের স্থানীয় সীমার মধ্যে উক্ত সহায়তা ভিত্তিক অপরাধ সংঘটিত হয়েছে সেই আদালতে হতে পারবে।

খ) চোরাই মাল গ্রহণ বা রাখার অভিযোগের অনুসন্ধান বা বিচার যে আদালতের এখতিয়ারের স্থানীয় সীমার মধ্যে উক্ত মাল চুরি করা হয়েছে সেই আদালতে অথবা যে আদালতের এখতিয়ারের স্থানীয় সীমার মধ্যে উক্ত মালের যে কোনো একটি কোনো সময়ে অসৎভাবে গ্রহণ করা হয়েছে বা রাখা হয়েছে, সেই আদালতে হতে পারবে।

গ) অপহৃত বলে জ্ঞাত কোনো ব্যক্তিকে অন্যায়ভাবে গোপন করে রাখার অভিযোগের অনুসন্ধান বা বিচার যে আদালতের এখতিয়ারের স্থানীয় সীমার মধ্যে অন্যায়ভাবে গোপন করে রাখা হয়েছে সেই আদালতে অথবা যে আদালতের এখতিয়ারের সীমার মধ্যে অপহরণ করা হয়েছে, সেই আদালত হতে পারবে।

“ধারা ১৮১ : ঠগ হওয়া অথবা ডাকাতের দলভুক্ত হওয়া, হেফাজত হতে পলায়ন করা ইত্যাদি [Being a thug or belonging to a gang of dacoits, escape from custody, etc]: ১) ঠগ হবার অপরাধ, ঠগ হয়ে খুন, ডাকাতি, খুনসহ ডাকাতি, ডাকাতদলের সঙ্গে থেকে অপরাধ করার অথবা হেফাজত হতে পলায়ন করার অপরাধের অনুসন্ধান বা বিচার অভিযুক্ত ব্যক্তি যে আদালতের এখতিয়ারের স্থানীয় সীমার মধ্যে রয়েছে সেই আদালতে হতে পারবে।

২) অপরাধজনক তছরূপ ও অপরাধজনক বিশ্বাসভঙ্গ [Criminal misappropriation and criminal breach of trust] :  অপরাধজনক তছরূপ বা অপরাধজনক বিশ্বাসভঙ্গের অপরাধের অনুসন্ধান বা বিচার যে আদালতের এখতিয়ারের স্থানীয় সীমার মধ্যে অভিযুক্ত ব্যক্তি সংশ্লিষ্ট সম্পত্তির কোনো অংশ গ্রহণ করেছে বা রেখেছে অথবা অপরাধটি সংঘটিত হয়েছে সেই আদালতে হতে পারবে।

৩) চুরি [Theft] : চুরির অপরাধ অথবা চুরি বা চোরাই মালের দখল সম্পর্কিত কোন অপরাধের অনুসন্ধান বা বিচার যে আদালতের স্থানীয় সীমার মধ্যে অপরাধটি সংঘটিত হয়েছে, অথবা চোর চোরাইমাল দখলে রেখেছে অথবা চোরাইমাল জেনে বা চোরাইমাল বলে বিশ্বাস করার কারণ থাকা সত্ত্বেও কোনো ব্যক্তি উহা গ্রহণ করেছে বা দখলে রেখেছে সেই আদালতে হতে পারবে।

৪) লোক অপহরণ বা ব্যক্তিহরণ [Kidnapping and abduction] : লোক অপহরণ করা বা ব্যক্তি হরণ করার অপরাধের অনুসন্ধান বা বিচার যে আদালতের এখতিয়ারের স্থানীয় সীমার মধ্যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে অপহরণ করা হয়েছে বা হরণ করা হয়েছে অথবা তাকে প্রেরণ করা হয়েছে বা গোপন রাখা হয়েছে বা আটক রাখা হয়েছে সেই আদালতে হতে পারবে।

“ধারা ১৮২ : অপরাধের স্থান যেখানে অনিশ্চিত অথবা শুধু এক জেলার নয় অথবা যেখানে অপরাধ চলছে বা একাধিক কার্যের সমষ্টি সেক্ষেত্রে অনুসন্ধান বা বিচারের স্থান : যখন ইহা অনিশ্চিত থাকে যে, কয়েকটি স্থানীয় এলাকার কোনটিতে অপরাধ সংঘটিত হয়েছে; অথবা যে ক্ষেত্রে কোনো অপরাধ আংশিকভাবে একটি স্থানীয় এলাকায় এবং আংশিকভাবে অন্য একটি স্থানীয় এলাকায় সংঘটিত হয়; অথবা যেক্ষেত্রে কোনো অপরাধ চলছে এমন হয়, এবং একাধিক স্থানীয় এলাকায় সংঘটিত হতে থাকে; অথবা যেক্ষেত্রে বিভিন্ন এলাকায় কৃত কতিপয় কার্যের সমষ্টি হয়, সেক্ষেত্রে এরূপ স্থানীয় এলাকায় যে কোনো একটিতে এখতিয়ারবান আদালতে উহার অনুসন্ধান ও বিচার চলবে।

“ধারা ১৮৩ : ভ্রমণকালে সংঘটিত অপরাধ [Offence committed on a journey] : ভ্রমণকালে বা সমুদ্র যাত্রায় অপরাধী কর্তৃক সংঘটিত কোন অপরাধের অনুসন্ধান বা বিচার অপরাধী, অথবা যে ব্যক্তি বস্তুর বিরুদ্ধে অপরাধ করা হয়েছে, সেই অপরাধী, ব্যক্তি বা বস্তু যে আদালতের স্থানীয় এলাকার মধ্য দিয়ে অতিক্রম করে সেই আদালতে হতে পারবে।

ধারা ১৮৪ : বাতিল।

এদিকে ১৮৫ ধারা অনুসারে কোথায় বিচার হবে এ বিষয়ে কোনো কনফিউশন থাকলে হাইকোর্ট সিদ্ধান্ত দিতে পারে যে, বিচার কোথায় কোন আদালতে অনুষ্ঠিত হবে।

“ধারা ১৮৫ : সন্দেহের ক্ষেত্রে হাইকোর্ট বিভাগ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন যে, কোন জেলায় অনুসন্ধান বা বিচার অনুষ্ঠিত হবে : ) হাইকোর্ট বিভাগের অধস্তন দুই বা ততোধিক আদালতের কোনটিতে কোনো একটি অপরাধের অনুসন্ধান বা বিচার অনুষ্ঠিত হবে এরূপ কোনো প্রশ্ন দেখা দিলে [Whenever a question arises] হাইকোর্ট বিভাগ এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন

২) বাদ দেয়া হয়েছে।

১৮৬ ধারাতে ঐ ১৭৯ ধারাতে যে নীতি আলোচিত হয়েছে, সেই নীতিতেই সামান্য ভিন্ন একটা বিষয় আলোচনা করা আছে। শিরোনামটা হলো স্থানীয় অধিক্ষেত্রের বাহিরে সংঘটিত অপরাধের জন্য সমন বা পরোয়ানা জারির ক্ষমতা[Power to issue summons or warrant for offence committed beyond local jurisdiction]। এখানে যা বলা হয়েছে তার সারমর্ম হলো – মিরপুর থানায় একজন বাসিন্দা গাজীপুরের কালিয়াকৈর থানায় একটি অপরাধ করলে মিরপুর থানার সংশ্লিষ্ট বিচারক বা ম্যাজিস্ট্রেট বা আদালত তা বিচার করার জন্য উদ্যোগ নিতে পারবেন, মুচলেকা গ্রহণ করা বা হাজির হবার জন্য সমন পাঠানো ইত্যাদি সবই করতে পারবেন। সিম্পলি এটাই। ধারাটি পড়ে দেখুন।

“ধারা ১৮৬ : স্থানীয় অধিক্ষেত্রের বাইরে সংঘটিত অপরাধের জন্য সমন বা পরোয়ানা জারীর ক্ষমতা : ১) যখন কোনো মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বা একজন প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট যুক্তিসঙ্গতভাবে বিশ্বাস করেন যে, তার এখতিয়ারের স্থানীয় সীমার মধ্যেকার কোনো ব্যক্তি উক্ত সীমার বাইরে বাংলাদেশের ভিতরে বা বাইরে এমন কোনো অপরাধ করেছে যা ১৭৭ হতে ১৮৪ ধারা (উভয় ধারাসহ) অথবা বর্তমান বলবৎ কোনো আইন মোতাবেক উহা বাংলাদেশে বিচার্য, তখন তিনি অপরাধটি তাঁর স্থানীয় এলাকায় সংঘটিত হয়েছে বলে ধরে নিয়ে সেই সম্পর্কে অনুসন্ধান করতে পারবেন এবং ইতোপূর্বে বর্ণিত পদ্ধতিতে উক্ত ব্যক্তিকে তার নিকট হাজির হতে বাধ্য করতে পারবেন এবং এরূপ অপরাধের অনুসন্ধান বা বিচারের জন্য এখতিয়ারবান ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট তাকে প্রেরণ করতে পারবেন; অথবা অপরাধটি জামিনযোগ্য হলে তাকে হাজির হবার জন্য জামিনদারসহ বা ব্যতীত মুচলেকা গ্রহণ করতে পারবেন।

২) গ্রেফতারের ক্ষেত্রে ম্যাজিস্ট্রেট পদ্ধতি : যখন এরূপ এখতিয়ারবান ম্যাজিস্ট্রেট একাধিক থাকেন এবং এই ধারানুসারে কার্যরত ম্যাজিস্ট্রেট স্থির করতে পারেন না যে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে কোন ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট প্রেরণ করতে হবে বা হাজির হতে বাধ্য করা হবে, তখন তিনি আদেশের জন্য বিষয়টি হাইকোর্টে প্রেরণ  করবেন।

এই ফাঁকে একটা ছোট্ট জিনিস জেনে বুঝে রাখি। কগনিজেন্স কোর্ট (Cognizance Court) এবং ট্রায়াল কোর্ট (Trial Court) নামে দুইটি শব্দ কোর্টে যাওয়া আসা করতে থাকলে শোনার কথা। এর মানে কি? আমরাতো আগে আদালতের ধরণ পড়ে এসেছি। আমরা আরো জানি যে, প্রতিটি কোর্টেরই আলাদা আলাদা কর্মপরিধি বা এখতিয়ার উল্লেখ করা আছে আইনে। ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট সাধারণত কোনো একটি অপরাধ আমলে নিতে পারে। তো এই ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট যখন কোনো অপরাধ আমলে নেয় তখন সেটাকে আমলী আদালত (Cognizance Court) বলতে পারেন। সেই আমলী আদালত যেই অপরাধটি আমলে নিলেন সেই অপরাধটা বা সেই মামলাটা নিজেই বিচার করতে পারেন অথবা সেই মামলাটা বিচার করার জন্য অন্য কোনো আদালতে পাঠাতে পারেনযিনি আমলে নিলেন তিনিই কগনিজেন্স কোর্ট (Cognizance Court) আর যিনি বিচার করলেন তিনিই ট্রায়াল কোর্ট (Trial Court)। অনেক ক্ষেত্রে যিনি আমলে নিলেন তিনিই বিচার করতে পারেন। তখন কগনিজেন্স কোর্ট এবং ট্রায়াল কোর্ট অর্থ একই বিচারক বা একই আদালত। সাধারণত কোনো এক জায়গার চীফ জুিডসয়াল ম্যাজিস্ট্রেট অথবা চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট তার অধস্তনে থাকা ম্যাজিস্ট্রেটদের নির্দিষ্ট করে দেন যে কারা কারা বা কোন কোন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত আমলী আদালত হবে, আর কোন কোন আদালত ট্রায়াল কোর্ট হবে। ধারা ১৬ এবং ধারা ২১ এই বিষয়ে চীফদেরকে এই ক্ষমতা দিয়েছে। এখুনি ধারা দুইটি দেখে আসলে খাসা হবে কিন্তু! প্লিজ!!

অনেক সময় দেখবেন আইনে লেখা থাকে, যেমন ১৮৬ ধারায় ‘…. এরূপ অপরাধের অনুসন্ধান বা বিচারের জন্য এখতিয়ারবান ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট তাকে প্রেরণ করতে পারবেন…’ এর মানে হলো কেউ কগনিজেন্স বা আমলী আদালতের দায়িত্বে আছেন এবং তিনি ট্রায়াল কোর্ট বা বিচার আদালতে বিচারের জন্য তা পাঠাবেন। ১৮৬ ধারাটি আবার পড়ে নেন!

১৮৭ ধারা দেখে রাখতে কমনসেন্স বা সাধারণ যুক্তি প্রয়োগ করুন। ১৮৬ ধারারই এক্সটেনশন এটা। ১৮৮ ধারাটির মূল কথা হলো – বাংলাদেশের নাগরিক বাংলাদেশের বাইরে অপরাধ করলে তার বিচার করতে পারবে বাংলাদেশের আদালত এবং তাকে যেখানে পাওয়া যাবে, সেই এলাকার জন্য সংশ্লিষ্ট আদালতই সেই লোকের বিচার করতে পারবে। ধারায় আরো দেখুন, সরকারের পূর্ব অনুমতি ব্যতীত এরূপ ক্ষেত্রে অনুসন্ধান করা যাবে না। 

“ধারা ১৮৭ : অধস্তন ম্যাজিস্ট্রেট পরোয়ানা ইস্যু করলে সেক্ষেত্রে পদ্ধতি : ১) মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বা জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ব্যতীত অন্য কোনো ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক ১৮৬ ধারার অধীন প্রদত্ত পরোয়ানা বলে উক্ত ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হলে তিনি যার অধস্তন সেই চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বা চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট আটক ব্যক্তিকে প্রেরণ করবেন; নতুবা অপরাধটি অনুসন্ধান বা বিচারের জন্য এখতিয়ারবান ম্যাজিস্ট্রেট উক্ত ব্যক্তির গ্রেফতারের জন্য পরোয়ানা প্রদান করে থাকলে আটক ব্যক্তিকে পরোয়ানা প্রয়োগকারী পুলিশ অফিসারের নিকট অর্পণ করতে হবে; অথবা তাকে পরোয়ানা প্রদানকারী ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট প্রেরণ করতে হবে।

২) আটক ব্যক্তি যে অপরাধ করেছে বলে অভিযোগ বা সন্দেহ পোষণ করা হয়েছে, সে অপরাধের অনুসন্ধান বা বিচার যদি ১৮৬ ধারার অধীন কার্যরত ম্যাজিস্ট্রেট ব্যতীত একই জেলার অন্য কোনো ফৌজদারী আদালতে হয়, তাহলে উক্ত ম্যাজিস্ট্রেট সেই ব্যক্তিকে উক্ত আদালতে প্রেরণ করবেন।

“ধারা ১৮৮ : বাংলাদেশের বাইরে সংঘটিত অপরাধের দায়িত্ব : যখন বাংলাদেশের কোনো নাগরিক বাংলাদেশের সীমার বাইরে কোনো স্থানে কোনো অপরাধ করে; অথবা যখন কোনো ব্যক্তি বাংলাদেশে রেজিস্ট্রিকৃত কোনো জাহাজ বা উড়োজাহাজে তা যেখানেই থাকুক না কেন, কোনো অপরাধ করে; তখন বাংলাদেশের যে স্থানেই তাকে পাওয়া যাবে সেইস্থানে অপরাধ সংঘটন করেছে বলে ধরে নিয়ে সেই মোতাবেক তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সরকারের অনুমতি ব্যতীত বাংলাদেশে অনুসন্ধান হবে না : তবে শর্ত এই যে, এই অধ্যায়ের পূর্ববর্তী ধারাগুলিতে যাই থাকুক না কেন, সরকারের অনুমতি ব্যতীত ঐরূপ অপরাধ সম্পর্কিত কোনো অভিযোগের অনুসন্ধান বাংলাদেশে হবে না।

আরও শর্ত এই যে, এই ধারার অধীন কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে অপরাধটি যদি বাংলাদেশের করা হতো তাহলে যদি উক্ত ব্যবস্থা একই ব্যক্তির বিরুদ্ধে একই অপরাধের জন্য পরবর্তী ব্যবস্থার জন্য প্রতিবন্ধক হতো তাহলে উক্ত ব্যবস্থা বাংলাদেশের বাইরে কোনো স্থানে কৃত একই অপরাধের জন্য তার বিরুদ্ধে ১৯৭৪ সালের বিদেশী অপরাধী প্রত্যার্পণ আইনানুসারে ব্যবস্থা গ্রহণে প্রতিবন্ধক হবে।

“ধারা ১৮৯ : জবানবন্দির নকল ও দাখিলী দলিলাদি সাক্ষ্য হিসাবে গ্রহণ করতে নির্দেশ দেওয়ার ক্ষমতা : যখন ১৮৮ ধারায় উল্লিখিত কোনো অপরাধের অনুসন্ধান বা বিচার হয়, তখন সরকার উপযুক্ত মনে করলে নির্দেশ দিতে পারবেন যে, যে স্থানে অপরাধটি সংঘটিত হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে, সেই এলাকার বিচার বিভাগীয় কোনো অফিসারের নিকট যে সাক্ষ্য দেয়া হয়েছে উহার নকল বা যে আলামত হাজির করা হয়েছে তা অনুসন্ধান বা বিচার অনুষ্ঠানকারী আদালত কর্তৃক সেসকল ক্ষেত্রে সাক্ষ্য হিসাবে গৃহীত হবে; সেসব ক্ষেত্রে উক্ত আদালত উক্ত সাক্ষ্য বা আলামত সম্পর্কিত বিষয়ে সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য কমিশন প্রদান করতে পারবেন।



এইবার আমরা ১৯০ থেকে ১৯৯ খ পর্যন্ত আলোচনা করবো। এখানে কার্যক্রম শুরু করার জন্য প্রয়োজনীয় শর্তাবলী’ [Conditions requisite for initiation of proceedings] শিরোনামে আলোচনা করেছে। বলা বাহুল্য যে, এখানে কার্যক্রম বা proceedings বলতে মামলা শুরুর কার্যক্রমের শুরুর কথা বলা হচ্ছে। বারে কখনো এখান থেকে প্রশ্ন আসেনি। জুডিসিয়ারিতেও মাত্র একবার এসেছিলো। তবু এটা জানতে বুঝতে হবে। জরুরি আমাদের জন্য।

কগনিজেন্স কোর্ট এবং ট্রায়াল কোর্টের বিষয়টা একটু আগে আলোচনা করলাম। এখানে কাজে লাগবে এইসব ধারাসমূহ আলোচনা করার জন্য।

আমরা আগের লেকচারগুলোতে পড়ে এসেছিলাম যে, একটি ফৌজদারি মামলা দুই প্রকারে দায়ের হতে পারে। তবে ম্যাজিস্ট্রেটের পারসপেকটিভ থেকে দেখলে একজন ম্যাজিস্ট্রেট ৩ ভাবে একটি অপরাধ আমলে নিতে পারেন

১. ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে যে কেউ কোনো অভিযোগ করলে বা নালিশ করলে [১৯০ এর ১ এর ক]

২. পুলিশ অফিসারের কাছ থেকে পুলিশ রিপোর্টের মাধ্যমে জেনে [১৯০ এর ১ এর খ]

৩. ম্যাজিস্ট্রেট নিজের জ্ঞানমতে বা সন্দেহবশত বা কোনো লোকের কাছ থেকে খবর পেয়ে সে বিষয়ে আমলে নিতে পারে [১৯০ এর ১ এর গ]

কিন্তু কোন কোন ম্যাজিস্ট্রেট এই আমলে নিতে ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারেন? বলা হচ্ছে – চীফ জুডিসিয়াল বা চীফ মেট্রোপলিটন, প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট বা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বা সরকার কর্তৃক বিশেষভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেট এই আমলে নিতে পারার জন্য এখতিয়ারাবান বা ক্ষমতাবান। ১৯০ ধারাটিতে একেবারে পরিষ্কার করে এই কথা গুলোই বলা আছে। পড়ুন।

“ধারা ১৯০ : ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক অপরাধ আমলে নেয়া : ১) অতঃপর বর্ণিত ব্যতিক্রম ব্যতীত কোন চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট, মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট, চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট বা উপধারা (২) বা (৩) এর অধীন বিশেষভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেট যে কোনো অপরাধ আমলে নিতে পারবেন।

ক) এমন ঘটনাবলী সম্পর্কে অভিযোগ পেয়ে [upon receiving a complaint of facts] যা দ্বারা উক্ত অপরাধ সংঘটিত হয়;

) কোন পুলিশ অফিসারের নিকট হতে এরূপ ঘটনাবলী সম্পর্কে লিখিত রিপোর্ট পেয়ে [upon a report in writing of such facts made by any police-officer];

গ) এরূপ অপরাধ সংঘটিত হয়েছে বলে পুলিশ অফিসার ব্যতীত অন্য কোন লোকের নিকট হতে খবর পেয়ে অথবা নিজের জ্ঞানমতে বা সন্দেহবশত [upon information received from any person other than a police-officer, or upon his own knowledge or suspicion, that such offence has been committed]।

২) সরকার, এবং হাইকোর্ট বিভাগ কর্তৃক সাধারণ বা বিশেষ আদেশ সাপেক্ষে চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট যে কোনো দ্বিতীয় বা তৃতীয় শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেটকে (১) উপধারার ক) অনুচ্ছেদ বা খ) অনুচ্ছেদের অধীন সেসকল অপরাধ আমলে নেওয়ার ক্ষমতা দিতে পারেন যেগুলির তিনি বিচার করতে পারেন বা বিচারের জন্য প্রেরণ করতে পারেন

৩) কার্যবিধিতে বর্তমান বিধানের পরিপন্থী যাই থাকুক না কেন, সুনির্দিষ্ট কারণ উল্লেখপূর্বক সরকার কোনো নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে (১) উপধারার বিধি  ক), খ) ও গ) এর অধীনে অপরাধ আমলে নিবার ক্ষমতা দিতে পারেন এবং সংশ্লিষ্ট নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অপরাধটি বিচারের জন্য উপযুক্ত আদালতে প্রেরণ করবেন।

এবার পড়ুন ম্যাজিস্ট্রেট ৩ ভাবে মামলা স্থানান্তর করতে পারেন। আগে ধারা দুইটি দেখুন। ১৯১ ও ১৯২ ধারা।

“ধারা ১৯১ : আসামির আবেদনে স্থানান্তর [Transfer on application of accused] : যখন কোনো ম্যাজিস্ট্রেট পূর্ববর্তী ধারার (১) উপধারার (গ) অনুচ্ছেদের অধীন অপরাধ আমলে নেন তখন সাক্ষ্য গ্রহণের পূর্বে আসামিকে জানাতে হবে যে, সে অন্য আদালতে তার মামলার বিচার পাওয়ার অধিকারী এবং আসামি বা একাধিক আসামি থাকলে তাদের মধ্যে যে কোনো একজন উক্ত ম্যাজিস্ট্রেট দ্বারা বিচার পরিচালনায় আপত্তি করলে মামলাটি উক্ত ম্যাজিস্ট্রেট দ্বারা বিচারের পরিবর্তে দায়রা আদালতে সোপর্দ করতে হবে অথবা অন্য কোনো ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট হস্তান্তর করতে হবে।

“ধারা ১৯২ : ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক মামলা স্থানান্তর : ১) চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বা কোনো চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট যে বিষয়টি আমলে এনেছেন তা তিনি অনুসন্ধান ও বিচারের জন্য তার অধীনস্থ কোন ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট স্থানান্তর করতে পারবেন;

২) কোনো প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট কোনো বিষয় আমলে আনলে চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তাহাকে বিষয়টি অনুসন্ধান বা বিচার করার জন্য তার জেলার অন্য কোনো নির্দিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট হস্তান্তর করতে ক্ষমতা দিতে পারবেন, যিনি এই কার্যবিধির অধীন অভিযুক্তকে বিচার করতে অথবা তাকে বিচারে সোপর্দ করতে উপযুক্ত; এরূপ ম্যাজিস্ট্রেট তদানুসারে কেসটি নিষ্পত্তি করতে পারবেন।

১৯১ ধারায় আসামীর আবেদনে কেন এই স্থানান্তর প্রক্রিয়া জারি আছে, সেটা নিয়ে আপনাদের কাছেই প্রশ্ন রাখলাম। আপনারা যারা পড়লেন এই লেকচার, তারা একটু ফোনে আমাদের কাছে ব্যাখ্যা দেবেন দয়া করে। আমরা দেখতে চাই আপনারা আইনের শিক্ষার্থী হিসেবে কতটা আইনের বেসিক বোঝেন! কোনো আলোচনা করবোনা এখন।

১৯২ ধারা অনুসারে ম্যাজিস্ট্রেট কোনো একটি মামলা তার অধীনস্ত কোনো ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট স্থানান্তর করতে পারবেন বিচার ও অনুসন্ধানের জন্য। খেয়াল রাখতে হবে, যার কাছে স্থানান্তর করা হচ্ছে তিনি এই ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী উক্ত মামলা বিচার বা অনুসন্ধানের জন্য এখতিয়ারাবান কিনা। খুব সিম্পল। এইখানে কিন্তু আবারো কগনিজেন্স কোর্ট এবং ট্রায়াল কোর্ট বিষয়টা কাজে লাগছে! একটি চীফ মেট্রোপলিটন আদালত যখন শুধু আমলে নিয়ে মামলাটি বিচারের জন্য অন্য কোনো অধস্তন কোর্টে প্রেরণ বা স্থানান্তর করে তখন উক্ত উচ্চতর চীফ মেট্রোপলিটন কোর্ট কিন্তু কগনিজেন্স কোর্ট (Cognizance Court) আর অধস্তন কোর্ট উক্ত মামলার জন্য কিন্তু ট্রায়াল কোর্ট (Trial Court)! মানে আপনি দলের সবচে হিট প্লেয়ার হতে পারেন, তারকাখ্যাতি আপনার বিপুল থাকতে পারে, আপনি হয়তো মিডফিল্ডে খেলে থাকেন আপনার ফুটবল টিমে, কিন্তু কখনো কখনো ডিফেন্সে কখনো কখনো প্রয়োজনে স্ট্রাইকিং এও খেলার প্রয়োজন পড়তে পারে! কিন্তু আপনি হলেন বেসিক্যালি মিডফিল্ডার।

এইতো গেলো দুইভাবে স্থানান্তর। ৩য় আরেকভাবে স্থানান্তর করতে পারেন ম্যাজিস্ট্রেট এবং সেটা দায়রা কোর্টের কাছে। সেটা ১৯৩ ধারার বিষয়। শিরোনাম – দায়রা আদালত কর্তৃক অপরাধ আমলে নেয়া বা Cognizance offences by Courts of Session। স্থানান্তর বিষয়ে ডিরেক্টলি না বললেও এর মূল নির্যাস এটাই যে, দায়রা কোর্টের কাছেও মামলা স্থানান্তর হতে পারে ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক। আমরা জানি যে, সাধারণভাবে সকল মামলাই প্রথমে ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে এসে হাজির হয়। ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টই হলো আমলী আদালত, যাদের এখতিয়ার আছে কোনো অভিযোগ, তা সে পুলিশের মাধ্যমে প্রাপ্ত হোক, আর পাবলিকের কাছে থেকে প্রাপ্ত হোক, অথবা খোদ স্বয়ং ম্যাজিস্ট্রেটের নিজ জানামতে প্রাপ্ত হোক ; তা আমলে নেবার।

তো এই আমলে নেবার পরে যদি দেখা যায় মামলাটি বিষয়ে কোনো বিশেষ আইনে বলা আছে যে, এই মামলাটি দায়রা কোর্টে বিচার হবে বা সেখানেই আমলে নেবে, তবে ম্যাজিস্ট্রেট তা স্থানান্তর করে দায়রা কোর্টে পাঠাবেন। দ্যাখেন শুরুতেই বলা আছে – ‘এই কার্যবিধি …… ব্যতীত’। এবং এই ধারায় মূল আরেকটি কথা আছে – কোনো দায়রা আদালত মূল এখতিয়ারসম্পন্ন আদালত হিসেবে অপরাধ আমলে নেবেন না। আর এর উপধারা ২ এ বলা আছে অতিরিক্ত দায়রা জজ বা যুগ্ম দায়রা জজ কেবলমাত্র সেইসব মামলার বিচার করবেন, যেটা দায়রা জজ সাধারণ বা বিশেষ আদেশ দ্বারা তাদেরকে বিচারের জন্য পাঠাবেন। মূল ধারা পড়ুন, লাইনে থাকুন! 🙂

“ধারা ১৯৩ : দায়রা আদালত কর্তৃক অপরাধ আমলে নেয়া : ১) এই কার্যবিধি অথবা বর্তমানে বলবৎ অন্য কোনো আইনে ব্যক্তভাবে বিধান থাকা ব্যতীত উক্ত বিষয়ে যথাযথভাবে ক্ষমতাবান কোনো ম্যাজিস্ট্রেট আসামিকে প্রেরণ না করলে কোনো দায়রা আদালত মূল এখতিয়ার সম্পন্ন আদালত হিসাবে অপরাধ আমলে নিবেন না [Except as otherwise expressly provided by this Code or by any other law for the time being in force, no Court of Session shall take cognizance of any offence as a Court of original jurisdiction unless the accused has been sent to it by a Magistrate duly empowered in that behalf.]

২) সরকার সাধারণ বা বিশেষ আদেশ দ্বারা যে সকল মামলা বিচারের নির্দেশ দিবেন অথবা কোনো বিভাগের দায়রা জজ সাধারণ বা বিশেষ আদেশ দ্বারা যে সকল মামলা বিচারের জন্য হস্তান্তর করবেন, অতিরিক্ত দায়রা জজ ও যুগ্ম দায়রা জজগণ কেবলমাত্র সেসকল মামলার বিচার করবেন।

এতক্ষণের আলোচনায় তাহলে প্রধান প্রধান বিষয়গুলো কি? ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট ৩ ভাবে আমলে নিতে পারেন কোনো অভিযোগ। এই ক্ষমতা ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট একটি কগনিজেন্স কোর্ট হিসেবে বা আমলী আদালত হিসেব আমলে নিলেও বিচার ও অনুসন্ধানের জন্য অন্য অধস্তন কোর্টে প্রেরণ বা স্থানান্তর করতে পারেন। দায়রা কোর্টেও মামলা স্থানান্তর হতে পারে।

এর বাইরে ১৯৯ খ পর্যন্ত আর কোনো আলোচনা নেই। ধারাগুলো আপনাদের পাঠের জন্য তুলে দিলাম শুধু। রিডিং দেবেন মাস্ট।

ধারা ১৯৪ : বাতিল।

“ধারা ১৯৫ : সরকারি কর্মচারীর আইন সঙ্গত কর্তৃত্ব অবমাননার অভিযোগ : ১) কোনো আদালত আমলে আনবেন না-

ক) সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মচারী অথবা তিনি যার অধীনস্ত তার লিখিত অভিযোগ ব্যতীত দণ্ডবিধির ১৭২ ধারা হতে ১৮৮ ধারার অধীন দণ্ডনীয় অপরাধ;

খ) জনসাধারণের ন্যায় বিচার বিরোধী কতিপয় অপরাধের অভিযোগ : অপরাধটি কোনো আদালতের কার্যক্রমে বা কোন কার্যক্রম সম্পর্র্কে করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হলে উক্ত আদালত বা উহা যে আদালতের অধস্তন সেই আদালতের লিখিত অভিযোগ ব্যতীত দণ্ডবিধির ১৯৩, ১৯৪, ১৯৫, ১৯৬, ১৯৯, ২০০, ২০৫, ২০৬, ২০৭, ২০৮, ২০৯, ২১০, ২১১ বা ২২৮ ধারার অধীন দণ্ডনীয় কোন অপরাধ; অথবা

গ) সাক্ষ্যে প্রদত্ত দলিলাদি সম্পর্কিত কতিপয় অপরাধের অভিযোগ : অপরাধটি কোনো আদালতের কোনো কার্যক্রমে পেশকৃত বা সাক্ষ্যে গৃহীত কোনো দলিল সম্পর্র্কে উক্ত কার্যক্রমের কোনো পক্ষ কর্তৃক সংঘটিত হয়েছে বলে অভিযোগ করা হলে উক্ত আদালত বা উহা যে আদালতের অধস্তন সেই আদালতের লিখিত অভিযোগ ব্যতীত দণ্ডবিধির ৪৬৩ ধারায় বর্ণিত বা ৪৭১, ৪৭৫ বা ৪৭৬ ধারার অধীন দণ্ডনীয় কোন অপরাধ।

২) উপধারা (১)-এর (খ), (গ) অনুচ্ছেদে বর্ণিত আদালত বলতে দেওয়ানী রাজস্ব বা ফৌজদারী আদালত বুঝায়, কিন্তু ১৯০৮ সালের রেজিস্ট্রেশন আইনের অধীন কোনো রেজিস্ট্রার বা সাব-রেজিস্ট্রারকে বুঝায় না।

৩) এই ধারার উদ্দেশ্যে কোনো আদালতকে সেই আদালতের অধস্তন বলে গণ্য করা হবে যে আদালতে পূর্বতন আদালতের আপীলযোগ্য ডিক্রি বা দণ্ডের বিরুদ্ধে সাধারণত আপীল করা যায় অথবা দেওয়ানী আদালতের ক্ষেত্রে যে আদালতের ডিক্রির বিরুদ্ধে সাধারণত সাধারণ মূল এখতিয়ার সম্পন্ন প্রধান আদালতে আপীল চলে না সেই আদালতের স্থানীয় সীমার মধ্যে উক্ত দেওয়ানী আদালত অবস্থিত।

তবে শর্ত এই যে,

ক) যখন কোনো নিম্ন আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে একাধিক আদালত আপীল চলে, তখন উক্ত আদালতকে নিম্নমানের এখতিয়ারবান আপীল আদালতের অধস্তন বলে গণ্য করতে হবে এবং

খ) যখন দেওয়ানী আদালতে আপীল চলে এবং রাজস্ব আদালতেও আপীল চলে; তখন যে মামলা বা কার্যক্রম সম্পর্কে অপরাধ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে, সেই মামলা বা কার্যক্রমের প্রকৃতি অনুসারে উক্ত আদালতকে দেওয়ানী বা রাজস্ব আদালতের অধস্তন বলে গণ্য করতে হবে।

৪) (১) উপ-ধারায় উল্লেখিত অপরাধসমূহের ক্ষেত্রে উক্ত (১) উপধারার বিধানাবলী অপরাধ করার ষড়যন্ত্র, সহায়তা এবং চেষ্টার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।

৫) কোনো সরকারি কর্মচারী (১) উপধারার (ক) অনুচ্ছেদের অধীন অভিযোগ করলে; তিনি যে কর্তৃপক্ষের অধস্তন সেই কর্তৃপক্ষ তা প্রত্যাহারের আদেশ দিতে পারেন এবং এরূপ করা হলে উক্ত কর্তৃপক্ষ উক্ত আদেশের একটি নকল আদালতে প্রেরণ করবেন এবং আদালত উহা পাবার পর উক্ত অভিযোগ সম্পর্র্কে আর কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাবে না।

“ধারা ১৯৬ : রাষ্ট্র বিরোধী অপরাধের অভিযোগ : সরকার বা সরকার কর্তৃক এই বিষয়ে বিশেষভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো অফিসারের আদেশ বা কর্তৃত্ব বলে দায়েরকৃত নালিশ ব্যতীত কোনো আদালত দণ্ডবিধির ৬ বা ৯ক অধ্যায়ের অধীন দণ্ডনীয় কোনো অপরাধ (১২৭ ধারা ব্যতীত) অথবা একই বিধির ১০৮ক বা ১৫ক বা ২৯৪ক বা ২৯৫ক বা ৫০৫ ধারায় দণ্ডনীয় কোনো অপরাধ আমলে আনবেন না।

“ধারা ১৯৬ ক : কতিপয় অপরাধজনক ষড়যন্ত্রের অভিযোগ : কোনো আদালত দণ্ডবিধির ১২০খ ধারার অধীন দণ্ডনীয় অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের অপরাধ আমলে আনবেন না।

১) যেক্ষেত্রে ষড়যন্ত্রের উদ্দেশ্য অপরাধ ব্যতীত কোনো বেআইনী কাজ করা, অথবা বেআইনী উপায়ে কোনো আইনসঙ্গত কাজ করা অথবা এমন কোনো অপরাধ করা যার প্রতি ১৯৬ ধারার বিধানসমূহ প্রযোজ্য হয় এবং সরকার বা সরকার কর্তৃক এই বিষয়ে বিশেষভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো অফিসারের আদেশ বা কর্তৃত্ব বলে অভিযোগ করা না হয়; অথবা

২) যেক্ষেত্রে ষড়যন্ত্রের উদ্দেশ্য কোনো আমল অযোগ্য অপরাধ করা বা এমন আমলযোগ্য অপরাধ করা যা মৃত্যুদণ্ড, যাবজ্জীবন কারাদণ্ড অথবা দুই বছর বা ততোধিককালের সশ্রম কারাদণ্ডের দণ্ডনীয় নয়, এবং যদি সরকার, অথবা চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট, অথবা সরকার কর্তৃক এই বিষয়ে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো জেলা ম্যাজিস্ট্রেট লিখিত আদেশ দ্বারা কার্যক্রম শুরু করার অনুমতি না দেন।

তবে শর্ত এই যে, যেক্ষেত্রে অপরাধজনক ষড়যন্ত্রটির জন্য ১৯৫ ধারার (৪) উপধারার বিধানাবলী প্রযোজ্য, সেক্ষেত্রে এরূপ কোনো সম্মতির প্রয়োজন হবে না।

“ধারা ১৯৬ খ : কতিপয় ক্ষেত্রে প্রাথমিক অনুসন্ধান : যে অপরাধের ক্ষেত্রে ১৯৬ বা ১৯৬ক ধারার বিধানাবলী প্রযোজ্য সেক্ষেত্রে উক্ত ধারাগুলিতে বা এই বিধির জন্য অন্য কোনো অংশে যাই থাকুক না কেন কোনো জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ইন্সপেক্টরের নিম্নপদের নয় এরূপ কোনো পুলিশ অফিসারের দ্বারা প্রাথমিক সিদ্ধান্তের আদেশ দিতে পারবেন এবং এরূপ ক্ষেত্রে উক্ত পুলিশ অফিসারের ১৫৫ ধারার (৩) উপধারায় বর্ণিত ক্ষমতা থাকবে।

“ধারা ১৯৭ : বিচারক এবং সরকারি কর্মচারীর বিরুদ্ধে অভিযোগ : ১) যখন দণ্ডবিধির ১৯ ধারার অর্থানুসারে কোনো জজ, অথবা যখন কোনো ম্যাজিস্ট্রেট, অথবা সরকার কর্তৃক বা সরকারের মঞ্জুরী ব্যতীত অপসারণযোগ্য নয় এরূপ কোনো সরকারি কর্মচারী বলে অভিযোগ করা হয়, তখন সরকারের পূর্বানুমতি ব্যতীত কোন আদালত সেরূপ অপরাধ আমলে আনবেন না।

২) অভিযোগের ব্যাপারে সরকারের ক্ষমতা : উক্ত জজ, ম্যাজিস্ট্রেট বা সরকারি কর্মচারী অপরাধ বা অপরাধসমূহের অভিযোগ কার দ্বারা বা কিভাবে করা হবে সরকার তা নির্ধারণ করবেন এবং কোন আদালতে বিচার হবে তার নির্দিষ্ট করে দিতে পারবেন।

ধারা ১৯৭ক : বাতিল।

“ধারা ১৯৮ : চুক্তিভঙ্গ, মানহানি ও বিবাহ সম্পপর্কিত অপরাধের অভিযোগ : সংশ্লিষ্ট অপরাধে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির নালিশ ব্যতীত কোনো আদালত দণ্ডবিধির ১৯ বা ২১ অধ্যায়ের অধীন অথবা ৪৯৩ হতে ৪৯৬ ধারায় (উভয় ধারাসহ) অন্তর্ভূক্ত কোনো অপরাধ আমলে নিবেন না।

তবে শর্ত এই যে, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি যদি এরূপ মহিলা হন, যাকে দেশের রীতিনীতি ও প্রথানুসারে জনসমক্ষে বের হতে বাধ্য করা উচিত নয়, অথবা উক্ত ব্যক্তির বয়স যদি আঠারো বছরের নীচে হয়, অথবা সে যদি আহাম্মক বা উন্মাদ হয়, অথবা পীড়া বা অক্ষমতাবশত অভিযোগ করতে অসমর্থ হয়, তাহলে আদালতের অনুমতি নিয়ে অন্য কোনো লোক তার পক্ষ হতে অভিযোগ করতে পারবেন;

আরও শর্ত এই যে, দণ্ডবিধির ৪৯৪ ধারার অপরাধে ক্ষতিগ্রস্ত স্বামী যদি সশস্ত্র বাহিনীর কোনো শাখায় চাকুরিতে থাকেন এবং তার চাকুরির শর্ত সম্পর্র্কে তার কমান্ডিং অফিসার সার্টিফিকেট দেন যে, ব্যক্তিগতভাবে অভিযোগ করার জন্য তিনি ছুটি পেতে পারেন না, তাহলে ১৯৯খ ধারার (১) উপধারানুসারে উক্ত স্বামী কর্তৃক প্রদত্ত ক্ষমতায় ক্ষমতাবান অন্য কোনো ব্যক্তি আদালতের অনুমতি নিয়ে তার পক্ষ হতে অভিযোগ করতে পারবেন।

“ধারা ১৯৯ : ব্যভিচার অথবা বিবাহিতা স্ত্রীলোককে ফুসলায়ে নিবার অভিযোগ : সংশ্লিষ্ট স্ত্রীলোকটির স্বামীর অভিযোগ ব্যতীত, অথবা তার অনুপস্থিতিতে যে ব্যক্তি তার পক্ষ হতে অপরাধ সংঘটনের সময় স্ত্রীলোকটির তত্ত্বাবধান করত আদালতের অনুমতিক্রমে সেই ব্যক্তির অভিযোগ ব্যতীত কোনো আদালত দণ্ডবিধির ৪৯৭ অথবা ৪৯৮ ধারা কোন অপরাধ আমলে নিবেন না;

তবে শর্ত এই যে, স্বামীর বয়স যদি আঠারো বছরের কম হয়, অথবা উক্ত স্বামী যদি আহাম্মক বা উন্মাদ হয়, অথবা পীড়া বা অক্ষমতাবশত অভিযোগ করতে অসমর্থ হয়, তাহলে আদালতের অনুমতি নিয়ে অন্য কোন ব্যক্তি তার পক্ষ হতে অভিযোগ করতে পারবেন;

আরও শর্ত এই যে, উক্ত স্বামী যদি বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর কোনো শাখায় চাকুরিরত থাকেন এবং তার চাকুরির শর্ত সম্পর্র্কে তার কমান্ডিং অফিসার যদি সার্টিফিকেট দেন যে ব্যক্তিগতভাবে অভিযোগ করার জন্য তিনি ছুটি পেতে পারেন না এবং উপযুক্ত মতে স্ত্রীলোকটির তত্ত্বাবধানকারী ব্যক্তি যখন কোনো অভিযোগ করেননি, তখন ১৯৯খ ধারার (১) উপধারার অধীন স্বামী প্রদত্ত ক্ষমতায় ক্ষমতাবান অন্য কোনো ব্যক্তি আদালতের অনুমতি নিয়ে তার অভিযোগ করতে পারবেন।

“ধারা ১৯৯ ক : ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি ভিন্ন অন্য ব্যক্তির অভিযোগ সম্পর্র্কে আইন সঙ্গত অভিভাবকের আপত্তি : যখন ১৯৮ ধারা বা ১৯৯ ধারার কোন ক্ষেত্রে যে ব্যক্তির পক্ষ হতে অভিযোগ করার প্রস্তাব করা হচ্ছে, সেই ব্যক্তির বয়স যদি আঠারো বছরের কম হয় অথবা সে যদি পাগল হয়, এবং অনুমতির জন্য আবেদনকারী ব্যক্তি কোন উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ কর্তৃক উক্ত নাবালক বা পাগলের দেহের অভিভাবক নিযুক্ত বা ঘোষিত না হয় এবং আদালত যখন সন্তুষ্ট হন যে, একইভাবে বা ঘোষিত একজন অভিভাবক আছে তখন উক্ত অভিভাবককে নোটিশ দিতে হবে এবং অনুমতির আবেদন মঞ্জুর করার পূর্বে আদালত তাকে এই আবেদন মঞ্জুর করার বিরুদ্ধে আপত্তি করার জন্য যুক্তিসঙ্গত সুযোগ দিবেন।

“ধারা ১৯৯ খ : ১৯৮ বা ১৯৯ ধারার দ্বিতীয় শর্তানুসারে ক্ষমতা প্রদানের ধরণ : ১) ১৯৮ ধারার দ্বিতীয় শর্ত এবং ১৯৯ ধারার দ্বিতীয় শর্ত অনুসারে স্বামী কর্তৃক তার পক্ষ হতে অভিযোগ করার জন্য অন্য কোনো ব্যক্তিকে প্রদত্ত লিখিত এবং স্বামী কর্তৃক স্বাক্ষরিত অন্য কোনোভাবে প্রত্যায়িত হবে এবং উহাতে এই মর্মে বিবৃতি থাকবে যে, তাকে অভিযোগসমূহ জানানো হয়েছে এবং উহার ভিত্তিতেই অভিযোগ করা হবে; উহা উক্ত শর্তাবলীতে উল্লেখিত অফিসার কর্তৃক স্বাক্ষরিত এই মর্মে একটি সার্টিফিকেট থাকবে যে ব্যক্তিগতভাবে নালিশ করার জন্য স্বামীকে আপাতত ছুটি দেয়া যাবে না।

২) এরূপ কর্তৃত্ব বলে কথিত এবং (১) উপধারার বিধানাবলীর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ কোনো দলিল বিপরীত প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত প্রকৃত বলে ধারায় নেয়া হবে এবং সাক্ষ্যে গৃহীত হবে।



এইবার কি নিয়ে আলোচনা হলে ভালো হয়, বলেনতো!? ১৯০ ধারায় ১ এর ক তে আমরা পড়লাম ম্যাজিস্ট্রেট এর কাছে কেউ অভিযোগ নিয়ে গেলে তিনি সেটা আইনসম্মত হলে আমলে নেবেন। এই যে মানুষজন কোনো না কোনো অভিযোগ বা অপরাধের সংবাদ নিয়ে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে যায় – এটাকে আদালতে নালিশ বলা হয়। ইংরেজিতে Complaint বলে। এবার এটা নিয়ে ১৬ অধ্যায়। মাত্র ৪ টি ধারায় আলোচনা করেছে। জরুরি। প্রশ্ন আসেই সাধারণত। গত ৩ বারের পরীক্ষায় ৩ টি প্রশ্ন এসেছিলো, জুডিসিয়ারিতেও একবার।

এই নালিশ কিভাবে হয় জানেন তো? সাধারণত এই নালিশ একজন অভিযোগকারী বা ফরিয়াদকারী অভিযোগ আকারে হাজির করেন কোনো না কোনো এ্যাডভোকেট এর মাধ্যমে। এই অভিযোগ বা নালিশ যখন করা হয় তখন অভিযোগকারী বা বাদীকে সাধারণত উপস্থিত থাকতে হয় আদালতে। এ্যাডভোকেট কর্তৃক তৈরিকৃত নালিশের লিখিত বিবরণ পেশ করতে হয় বিচারকের কাছে। তারপর সেটার শুনানী হয়। উপস্থিত থেকে বাদীকে জবানবন্দী দিতে হয়। ম্যাজিস্ট্রেট তাকে শপথ পড়ান এবং মামলা বা অভিযোগের মূল বিষয়গুলো জিজ্ঞেস করেন। বাদী যা বলে ম্যাজিস্ট্রেট তার সারাংশ লিপিবদ্ধ করেন। সবশেষে বাদীর স্বাক্ষর নিয়ে ম্যাজিস্ট্রেট নিজেও স্বাক্ষর করেন এবং মামলা শুরু হয়।

২০০ ধারায় ফরিয়াদী বা অভিযোগকারীর জবানবন্দী যে নিতে হয়, তা কিভাবে ও কোন শর্তে নিতে হবে সেটা বলা আছে। সাধারণভাবে উপরোক্ত বর্ণনা মোতাবেক নালিশ সংক্রান্ত জবানবন্দী নিলেও কিছু ব্যতিক্রম বা শর্ত আছে। যেমন, এর ক ধারায় বলা হচ্ছে – ১৯২ ধারার অধীনে যদি একটি অভিযোগ স্থানান্তরের প্রয়োজন পড়ে এবং যদি উক্ত অভিযোগ বা নালিশ লিখিত থাকে তবে উক্ত ম্যাজিস্ট্রেটের জবানবন্দী গ্রহণের প্রয়োজন নেই; বরং যেই আদালতে তা স্থানান্তর হবে সেই আদালত প্রয়োজন মনে করলে নিতে পারে। এই ধারার গ তে বলা হচ্ছে, যদি মামলা বা অভিযোগ স্থানান্তরকারী ম্যাজিস্ট্রেট জবানবন্দী নিয়েই ফেলেন, তবে পরবর্তী ম্যাজিস্ট্রেট পুনরায় তার জবানবন্দী নিতে বাধ্য নয় অথবা জবানবন্দী নেবেন না। বিষয়টা জটিল লাগছে কি? জটিল লাগলে একটু দম নিয়ে এর আগ পর্যন্ত একবার মনে মনে রিকল করুন। সামান্য রেস্ট নিয়ে আবার পড়তে বসুন। পড়তে বসেই সরাসরি এই ২০০ ধারাটি পড়ে নেন মনোযোগের সাথে। সহজ বর্ণনা।

“ধারা ২০০ : ফরিয়াদীর জবানবন্দি গ্রহণ [Examination of complainant] : নালিশের ভিত্তিতে কোনো অপরাধ আমলে আনয়নকারী ম্যাজিস্ট্রেট সঙ্গে সঙ্গে ফরিয়াদীকে এবং উপস্থিত সাক্ষীকে শপথপূর্বক জবানবন্দি গ্রহণ করবেন এবং জবানবন্দির সারাংশ লিপিবদ্ধ করবেন এবং ফরিয়াদী বা এরূপ সাক্ষী উহাতে স্বাক্ষর দান করবেন, এবং ম্যাজিস্ট্রেটও স্বাক্ষর দান করবেন;

তবে শর্ত নিচে প্রদত্ত হলো :

ক) যখন লিখিত নালিশ করা হয় তখন ১৯২ ধারার অধীন মামলাটি হস্তান্তরের পূর্বে এরূপ জবানবন্দি গ্রহণের প্রয়োজন আছে বলে বিবেচিত হবে না।

কক) যখন লিখিত নালিশ করা হয় এবং কোন আদালত বা সরকারি কর্মচারী সরকারি কর্তব্য সম্পাদনের সময় বা সরকারি কর্তব্য সম্পাদনে রত বলে বিবেচিত হওয়ার সময় এই নালিশ করেন, তখন এই ধারায় উল্লেখিত কোনো কিছুই ফরিয়াদীর এরূপ জবানবন্দি গ্রহণের প্রয়োজন আছে বলে বিবেচিত হবে না।

খ) বাতিল।

গ) যখন ১৯২ ধারার অধীন মামলা হস্তান্তর করা হয় এবং হস্তান্তরকারী ম্যাজিস্ট্রেট পূর্বেই ফরিয়াদীর এবং সাক্ষী থাকলে সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ করেন, তখন যে ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট মামলা হস্তান্তর করা হয়, তিনি পুনরায় তাদের জবানবন্দি গ্রহণ করতে বাধ্য হবেন না

২০১ ধারায় বলছে – যদি কোনো ম্যাজিস্ট্রেটের কোনো অপরাধ আমলে নেবার ক্ষমতা না থাকে তবে তিনি যথাযথ আদালতে যেতে নির্দেশ দিয়ে সেই মর্মে মন্তব্য লিখবেন উক্ত লিখিত নালিশে। আর অভিযোগ মৌখিক হলে উপযুক্ত আদালতে যেতে বলবেন। সিম্পল। ধারাটি দেখেন।

“ধারা ২০১ : ঘটনা আমলে নিবার ক্ষমতা ম্যাজিস্ট্রেটের না থাকলে তখনকার পদ্ধতি : ১) যদি এমন কোনো ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট লিখিত অভিযোগ করা হয় যিনি ঘটনাটি আমলে নিতে উপযুক্ত নন তাহলে তিনি উহা যথাযথ আদালতে দাখিল করার জন্য সেই মর্মে পৃষ্ঠাঙ্কন করে অভিযোগটি ফেরত দিবেন।

২) অভিযোগটি যদি লিখিতভাবে করা না হয়, তাহলে উক্ত ম্যাজিস্ট্রেট ফরিয়াদীকে উপযুক্ত আদালত প্রেরণ করবেন।

ম্যাজিস্ট্রেট সাধারণত একটি নালিশ এলে সাথে সাথে পরোয়ানা জারি করে থাকেন। হয় গ্রেফতারি পরোয়ানা, নয়তো সমনের পরোয়ানা। পরোয়ানা বিষয়ে আমরা আগেই পড়ে এসেছি যে পরোয়ানায় কি কি থাকে, পরোয়ানার শর্তসমূহ কি কি ইত্যাদি। বাদী যখন অভিযোগ দেয় তখন সাথে সাথে তো আর অভিযুক্ত আদালতে আসে না, তাইনা? অভিযোগ দায়ের হলে তাকে অভিযুক্তকে খবর দিতে হয় যে, আপনার নামে একটি অভিযোগ আছে, আপনি আদালতে এসে হাজির হোন এবং আসামী ও বাদী উভয়ের বক্তব্য শুনেই আদালত বিচার করবে ও রায় দেবে। তাহলে একজন আসামী বা অভিযুক্তের প্রতি পরোয়ানা যে জারি হবে একটি অভিযোগ আমলে নেবার সাথে সাথে এটাতো বলাই বাহুল্য। কিন্তু কি কি ক্ষেত্রে পরোয়ানা নাও জারি হতে পারে? সেই বিষয়টিই বলা আছে ২০২ ধারায়। এর শিরোনামটা খেয়াল করুন ‘পরোয়ানা ইস্যু স্থগিত রাখা’

“ধারা ২০২ : পরোয়ানা ইস্যু স্থগিত রাখা [Postponement for issue of process]: ১) কোনো ম্যাজিস্ট্রেট যে অপরাধ আমলে নিবার জন্য ক্ষমতাবান সেই অপরাধের অভিযোগ পাবার পর অথবা ১৯২ ধারার অধীন উহা তার নিকট হস্তান্তরিত হবার পর, তিনি যদি উপযুক্ত মনে করেন তাহলে কারণ লিপিবদ্ধ করে আসামিকে হাজির হতে বাধ্য করার সমন বা পরোয়ানা প্রদান স্থগিত রাখতে পারেন এবং নালিশের সত্যতা বা অসত্যতা নির্ধারণের উদ্দেশ্যে নিজে ঘটনা সম্পর্কে অনুসন্ধান করতে পারেন; অথবা তিনি যদি তৃতীয় শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট না হন তাহলে তার অধীনস্ত অন্য ম্যাজিস্ট্রেট বা কোনো পুলিশ অফিসার বা তিনি যাকে উপযুক্ত মনে করেন এরূপ অন্য কোনো ব্যক্তিকে এই বিষয়ে অনুসন্ধান বা তদন্তের নির্দেশ দিবেন।

তবে শর্ত এই যে, যেক্ষেত্রে আদালত নালিশ করেন সেক্ষেত্র ব্যতীত অন্যান্য ক্ষেত্রে ২০০ ধারার বিধান পালন না করে এরূপ কোন নির্দেশ দেয়া যাবে না।

আরও শর্ত এই যে, যে ক্ষেত্রে ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট প্রতীয়মান হয় যে, যে অপরাধের জন্য অভিযোগ করা হয়েছে তা কেবল দায়রা আদালতেই বিচার্য সেক্ষেত্রে যে ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে ম্যাজিস্ট্রেট তাকে হাজির হতে বাধ্য করার পরোয়ানা ইস্যু স্থগিত রাখবেন এবং অভিযোগের সত্যতা ও অসত্যতা নিরূপণের উদ্দেশ্যে এই উপধারায় উল্লেখিত অনুসন্ধান বা তদন্ত করবেন বা করাবেন।

২) এই ধারার অধীন অনুসন্ধান বা তদন্ত যে ব্যক্তি করবেন তিনি যদি ম্যাজিস্ট্রেট বা পুলিশ অফিসার না হন, তাহলে তিনি এই কার্যবিধি অনুসারে বিনা পরোয়ানায় গ্রেফতারের ক্ষমতা ছাড়া কোনো থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সকল ক্ষমতা প্রয়োগ করবেন

২ক) এই ধারার অধীন কোন ঘটনা তদন্তকারী ম্যাজিস্ট্রেট উপযুক্ত মনে করলে শপথ করিয়ে সাক্ষীদের সাক্ষ্য গ্রহণ করতে পারবেন।

তবে শর্ত এই যে, ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট ইহা যদি প্রতীয়মান হয় যে, যে অপরাধের জন্য অভিযোগ করা হয়েছে তা কেবল দায়রা আদালতেই বিচার্য, তাহলে তিনি ফরিয়াদীকে তার সকল সাক্ষীদেরকে হাজির করতে বলবেন এবং তাদের শপথ করায়ে সাক্ষ্য গ্রহণ করবেন।

২খ) পুলিশ চূড়ান্ত রিপোর্ট দাখিল করলে ম্যাজিস্ট্রেট উক্ত রিপোর্ট গ্রহণ করতে এবং আসামিদিগকে অব্যাহতি দিতে পারবেন।

প্রথম প্যারাতেই এর মূল কথাটা উঠে এসেছে – যদি কোনো কারণে একটি নালিশের সত্যতা-অসত্যতা নিয়ে সন্দেহ হয়, তাহলে ম্যাজিস্ট্রেট সে সম্পর্কে অনুসন্ধান বা তদন্ত করবেন বা করাবেন এবং অভিযুক্তের প্রতি পরোয়ানা জারি স্থগিত রাখতে পারেনআবার কোনো একটি অপরাধ যা কিনা শুধুমাত্র দায়রা আদালতে বিচার্য এবং উক্ত নালিশ নিয়েও সন্দেহের অবকাশ আছে, সেক্ষেত্রেও ম্যাজিস্ট্রেট পরোয়ানা জারি স্থগিত রাখতে পারেন। এই ধারায় পরোয়ানা ইস্যু ছাড়াও অন্য বিষয় আলোচনা হয়েছে, যদিও শিরোনাম দেখে সেটা বোঝার উপায় নেই। একদম শেষ লাইনটা দেখবেন – পুলিশের চূড়ান্ত রিপোর্ট (Final Report) এর কথা মনে আছে? মনে আছে অভিযোগ পত্রের (Charge Sheet) কথা? চূড়ান্ত রিপোর্ট দিলে কি হয়? মানে আসামীর বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা নেই, তাইনা? আর অভিযোগের সত্যতা না থাকলে ম্যাজিস্ট্রেট আসামীকে অব্যাহতি দিতে পারেন। এই যে আসামীকে অব্যাহতি দিতে পারেন সেই ক্ষমতাটা এখানে পরিষ্কার করে উল্লেখ করা আছে ২০২ ধারায়। এই ধারাটি আরেকবার পড়ে নিন সম্ভব হলে।

এবার ২০৩ ধারাটি সরাসরি পড়ুন।

“ধারা ২০৩ : নালিশ খারিজকরণ [Dismissal of complaint] : যার নিকট অভিযোগ করা হয়েছে অথবা যার নিকট উহা হস্তান্তর করা হয়েছে, সেই ম্যাজিস্ট্রেট ফরিয়াদী কর্তৃক শপথপূর্বক প্রদত্ত বিবৃতি (যদি থাকে) এবং ২০২ ধারার অধীন অনুসন্ধান বা তদন্তের ফলাফল (যদি থাকে) বিবেচনা করে অগ্রসর হবার মত কোন কারণ না পেলে নালিশটি খারিজ করতে পারবেন। এক্ষেত্রে সংক্ষেপে তিনি তার এরূপ করার কারণ লিপিবদ্ধ করবেন।

কোনো আলোচনার মনে হয় প্রয়োজন নেই। এটা নালিশ খারিজ করার ধারা – এটা মনে রাখেন। এই অধ্যায় নিয়ে আর কোনো আলোচনা নয়।

এর পরের অধ্যায় ১৭ যার শিরোনাম ‘ম্যাজিস্ট্রেটের কার্যক্রম শুরু’ [Of the commencement of proceedings before magistrates]। এই অধ্যায় থেকে কখনো কোনো প্রশ্ন আসেনি। কিন্তু একজন ম্যাজিস্ট্রেটের কার্যপ্রক্রিয়া কিভাবে শুরু হবে এটাতো আপনার নিজের জন্যই বিশেষভাবে জানা দরকার। পরোয়ানা জারি করা, দায়রা আদালতে বা চীফ জুডিসিয়াল বা চীফ মেট্রোপলিটন আদালতে মামলা স্থানান্তর ইত্যাদি বিষয়ে আলোচনা আছে। একটি ফৌজদারি মামলায়, বিশেষ করে নালিশী মামলায় কিভাবে কি কি পর্যায় আসে এবং কিভাবে তা কার্যকর হয় তা কোর্টে গিয়ে ভালো ভাবে এর সবগুলো অফিস ও তাদের কার্যক্রম ব্যবহারিকভাবে বুঝে আসাটা ভালো।

এই ১৭ অধ্যায়ের ধারাগুলো নিচে  তুলে দেয়া থাকলো। অল্প কয়েকটি ধারা। রিডিং দেবেন মাস্ট।

“ধারা ২০৪ : পরোয়ানা ইস্যু [Issue of process] : ১) কোনো অপরাধ আমলে আণয়নকারী ম্যাজিস্ট্রেট যদি মনে করেন যে, অগ্রসর হবার মতো পর্যাপ্ত কারণ আছে এবং ঘটনাটি এরূপ যে, দ্বিতীয় তফসিলের চতুর্থ কলাম অনুসারে প্রথম পর্যায়ে একটি সমন দেয়া যেতে পারে তাহলে তিনি আসামির হাজির হবার জন্য সমন ইস্যু করবেন। ঘটনায় যদি এরূপ প্রতীয়মান হয় যে, উক্ত কলাম অনুসারে প্রথম পর্যায়েই পরোয়ানা দেয়া উচিত, তাহলে তিনি পরোয়ানা দিতে পারবেন; অথবা তিনি উপযুক্ত বলে মনে করলে আসামিকে কোনো নির্দিষ্ট সময়ে তার নিজের অথবা (নিজের এখতিয়ার না থাকিলে) অন্য কোনো এখতিয়ারবান ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট হাজির করার বা হাজির হবার জন্য সমন ইস্যু করতে পারবেন

১ক) বাদীপক্ষের সাক্ষীদের তালিকা দাখিল না করা হলে আসামির বিরুদ্ধে (১) উপধারার অধীন কোনো সমন বা পরোয়ানা ইস্যু করা যাবে না।

১খ) লিখিত নালিশের উপর ভিত্তি করে (১) উপধারার অধীন ইস্যুকৃত সমন বা পরোয়ানা ইস্যু করার সময় উহার সাথে নালিশের একটি নকল সংযুক্ত করতে হবে।

২) এই ধারার কোনো কিছু ৯০ ধারার বিধানসমূহকে প্রভাবিত করবে বলে গণ্য করা যাবে না

৩) বর্তমানে বলবৎ কোনো আইনে পরোয়ানার ফিস বা অন্য কোনো ফিস প্রদয় হলে উক্ত ফিস পরিশোধ না হওয়া পর্যন্ত পরোয়ানা ইস্যু করা যাবে না এবং এই ফিস যদি যুক্তিসঙ্গত সময়ের মধ্যে পরিশোধ করা না হয়; তাহলে ম্যাজিস্ট্রেট নালিশ খারিজ করতে পারবেন।”

“ধারা ২০৫ : ম্যাজিস্ট্রেট আসামির ব্যক্তিগত হাজিরা রেহাই দিতে পারবেন : ১) যখন কোনো ম্যাজিস্ট্রেট সমন জারী করেন তখন যুক্তিসঙ্গত কারণ থাকলে তিনি আসামিকে ব্যক্তিগত হাজিরা হতে রেহাই দিয়ে তাকে এ্যাডভোকেটের মাধ্যমে হাজির হবার অনুমতি দিতে পারবেন

২) কিন্তু তদন্ত বা বিচারকারী ম্যাজিস্ট্রেট তার বিচারিক ক্ষমতায় মামলায় যে কোনো পর্যায়ে আসামিকে ব্যক্তিগতভাবে হাজির হবার নির্দেশ দিতে পারবেন এবং প্রয়োজনবোধে ইতোপূর্বে বর্ণিত পদ্ধতিতে তাকে হাজির হতে বাধ্য করতে পারবেন।

ধারা ২০৫ ক : ১৯৮২ সালের ২৪ নং অধ্যাদেশ দ্বারা বাতিল।

ধারা ২০৫ খ : ১৯৮২ সালের ২৪ নং অধ্যাদেশ দ্বারা বাতিল।

“ধারা ২০৫ গ : দায়রা আদালতে মামলা হস্তান্তর যখন তা কেবলমাত্র দায়রা আদালত কর্তৃক বিচার্য : পুলিশ রিপোর্টের ভিত্তিতে অথবা অন্য কোনোভাবে দায়েরকৃত মামলায় অভিযুক্ত ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট হাজির হলে অথবা তাকে হাজির করা হলে ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট এটা যদি প্রতীয়মান হয় যে, অপরাধটি কেবলমাত্র দায়রা আদালতেই বিচার্য তা হলে তিনি

ক) মামলাটি দায়রা আদালতে প্রেরণ করবেন;

খ) জামিন সম্পর্র্কে এই কার্যবিধির বিধানসমূহের শর্ত সাপেক্ষে মামলা বিচারকালে এবং উহা শেষ না হওয়া পর্যন্ত আসামিকে হেফাজতে রাখার জন্য প্রেরণ করবেন;

গ) সাক্ষ্যের জন্য উপস্থাপন করতে হলে এরূপ দলিলাদি এবং জিনিসপত্রাদি থাকে ঐ গুলিসহ কেস রেকর্ড সেই আদালতে প্রেরণ করবেন।

ঘ) দায়রা আদালতে মামলা হস্তান্তর সম্পর্র্কে পাবলিক প্রসিকিউটরকে নোটিশ করবেন।

“ধারা ২০৫ গগ : চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বা চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ইত্যাদির নিকট মামলা প্রেরণ : ১) পুলিশ রিপোর্টের ভিত্তিতে অথবা অন্য কোনোভাবে রুজু মামলায় আসামি ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট হাজির হলে অথবা তাকে হাজির করা হলে এবং ইহা যদি ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট প্রতীয়মান হয় যে, অপরাধটি কেবলমাত্র চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বা চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক বিচার্য তাহলে তিনি 

ক) মামলাটি ক্ষেত্রমতে চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বা চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট প্রেরণ করবেন;

খ) জামিন সম্পর্র্কে এই কার্যবিধির বিধানাবলীর শর্ত সাপেক্ষে মামলা বিচারকালে এবং উহা শেষ না হওয়া পর্যন্ত আসামিকে হেফাজতে রাখার জন্য প্রেরণ করবেন;

গ) সাক্ষ্যের জন্য উপস্থাপন করতে হবে এরূপ দলিলাদি ও জিনিসপত্র, যদি থাকে এবং কেস রেকর্ড ক্ষেত্রমতে চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বা চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট প্রেরণ করবেন।

২) চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বা চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট উপধারা (১) অনুযায়ী কোন মামলা বা এরূপ যে কোনো শ্রেণীর মামলা পাবার পর তার অধীনস্ত অতিরিক্ত চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বা অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের কর্তৃক শুনানির জন্য নির্দেশ দিতে পারবেন।

“ধারা ২০৫ ঘ : একই অপরাধ সম্পর্কে নালিশী মামলা ও পুলিশী তদন্ত চলতে থাকলে অনুসরণীয় পদ্ধতি : ১) পুলিশ রিপোর্ট ছাড়া অন্যভাবে রুজুকৃত মামলার (অতঃপর নালিশী মামলা বলে উল্লিখিত) অনুসন্ধান বা বিচার চলাকালে যখন সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেটের দৃষ্টিগোচর করা হয় যে, তার আদালতে অনুসন্ধান বা বিচারাধীন অপরাধ সম্পর্কে পুলিশ কর্তৃক তদন্ত চলছে তখন উক্ত ম্যাজিস্ট্রেট তার দ্বারা অনুসন্ধান ও বিচারকার্য স্থগিত রাখবেন এবং উক্ত বিষয় সম্পর্কে তদন্তকারী পুলিশ অফিসারের রিপোর্ট তলব করবেন।

২) যদি তদন্তকারী পুলিশ অফিসার ১৭৩ ধারানুযায়ী রিপোর্ট দাখিল করেন এবং এরূপ রিপোর্টের ভিত্তিতে যে ব্যক্তি নালিশী মামলার আসামি তার বিরুদ্ধে ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক অপরাধ আমলে নেয়া হয়, তাহলে ম্যাজিস্ট্রেট নালিশী মামলা এবং পুলিশ রিপোর্টের ভিত্তিতে রুজুকৃত মামলা একইসঙ্গে অনুসন্ধান বা বিচার করবেন যেন উভয় মামলা পুলিশ রিপোর্টের ভিত্তিতে রুজু হয়েছে।

৩) পুলিশ রিপোর্টে যদি নালিশী মামলার কোনো আসামি জড়িত না হয় অথবা পুলিশ রিপোর্টের ভিত্তিতে ম্যাজিস্ট্রেট যদি কোনো অপরাধ আমলে গ্রহণ না করেন তাহলে তিনি যে মামলার অনুসন্ধান বা বিচার স্থগিত রেখেছিলেন, এই কার্যবিধির বিধানুসারে সেই অনুসন্ধান বা বিচারকার্যে অগ্রসর হবেন।



/38
80

22 minutes 48 seconds


CrPC [177-205d]

এখানে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৭৭-২০৫ঘ পর্যন্ত ধারাগুলোর এমসিকিউ টেস্ট আছে। সংশ্লিষ্ট ধারাগুলো পড়ে নিয়ে এটি অনুশীলন করুন।

এখানে আপনার নাম ও ফোন নাম্বার লিখুন। ইমেইলটি লেখা বাধ্যতামূলক নয়; তবে, ইমেইল এড্রেস দিলে আপনার ইমেইলে বিস্তারিত ফলাফল চলে যাবে।

1 / 38

কোনো নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেটদের মতো মামলা আমলে নেবার ক্ষমতা কে দিতে পারেন?

2 / 38

ফৌজদারি কার্যবিধির কোন বিধান অনুসারে সরকার কোনো নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেটদের মতো মামলা আমলে নেবার ক্ষমতা প্রদান করতে পারেন?

3 / 38

সাধারণভাবে নিচে বর্ণিত কোন ধরনের ম্যাজিস্ট্রেট কোনো মামলা আমলে নিতে পারেন না?

4 / 38

একটি ম্যাজিস্ট্রেট আদালত পরোয়ানা ইস্যু স্থগিত রাখতে পারেন নিচের কোন কারণে?

5 / 38

যখন ম্যাজিস্ট্রেট ফাইনাল রিপোর্ট গ্রহণ করেন, তখন আসামি- [বার : ২০১৩]

6 / 38

ফৌজদারি কার্যবিধির ১৯১ ধারার বিষয়বস্তু হিসেবে নিচের কোনটি সঠিক?

7 / 38

মহানগর এলাকার বাইরের অপরাধ আমলে নিতে পারে কোন আদালত?

8 / 38

যখন একটি মামলা গাজীপুর নাকি টাঙ্গাইল, কোন জেলায় অনুষ্ঠিত হবে সে সম্পর্কে কোনো সন্দেহ তৈরি হয় তখন সেই মামলা ব্যাপারে নিচের কোন আদালত সিদ্ধান্ত দিতে পারবে?

9 / 38

ফৌজদারি কার্যবিধির ২০০ ধারার বিষয়বস্তু হিসেবে নিচের কোনটি সঠিক?

10 / 38

আমলযোগ্য পুলিশ কেসের ক্ষেত্রে ম্যাজিস্ট্রেট অপরাধ আমলে নিতে পারে কিসে ভিত্তিতে?

11 / 38

মিরপুর থানার একজন বাসিন্দা গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর থানায় একটি অপরাধ করলে মিরপুর থানা সংশ্লিষ্ট ম্যজিস্ট্রেট নিচের কোনটি করতে পারেন?

12 / 38

ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক মামলা স্থানান্তর করা যায় ফৌজদারি কার্যবিধির কোন ধারা মোতাবেক?

13 / 38

ম্যাজিস্ট্রেট কয়ভাবে অপরাধ আমলে নিতে পারেন?

 

 

14 / 38

ম্যাজিস্ট্রেট অপরাধ আমলে নিতে পারেন ফৌজদারি কার্যবিধির কত ধারার অধীন?

15 / 38

সমন বা পরোয়ানার জন্য নির্ধারিত ফি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরিশোধ না করলে ম্যাজিস্ট্রেট নিচের কোনটি করতে পারেন?

16 / 38

একটি ফৌজদারি মামলায় ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে রেহাই দিয়ে একজন আইনজীবীর মাধ্যমে হাজির হবার অনুমতি কোন ধারায় বলা আছে?

17 / 38

ফৌজদারি কার্যবিধির কোন ধারায় দায়রা জজ অপরাধ আমলে নিতে পারেন? [জুডি. : ২০১১]

18 / 38

একজন অভিযোগকারীকে ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক পরীক্ষা করা প্রয়োজন হয় না, যদি অভিযোগকারী হয় একটি- [বার : ২০১৩]

19 / 38

অপরাধ সংঘটনের স্থান অনিশ্চিত হলে অনুসন্ধান বা বিচারের স্থান কোন আইনের কত ধারায়? [বার : ২০১৭]

20 / 38

দায়রা জজ কোন ধারার ক্ষমতাবলে cognizance গ্রহণ করেন? [জুডি. : ২০০৮]

21 / 38

একটি Complaint Case এর Cognizance taking stage -এ ম্যাজিস্ট্রেট যদি দেখতে পান যে তার কোনো এখতিয়ার নেই, তখন নিম্নের কোন আদেশটি সঠিক হবে? [জুডি. : ২০১২]

22 / 38

ফৌজদারি কার্যবিধির ২০৪ ধারা অনুসারে নিচের কোন ক্ষেত্রে সমন বা পরোয়ানা ইস্যু করা যায় না?

23 / 38

বাংলাদেশের বাইরে সংঘটিত অপরাধের অনুসন্ধান করতে হলে কার অনুমতির প্রয়োজন?

24 / 38

চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক কোনো দ্বিতীয় বা তৃতীয় শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেটকে যদি মামলা আমলে নেবার ক্ষমতা প্রদান করা হয়, তবে সেটি কার অনুমোদন সাপেক্ষে করতে হয়?

25 / 38

পরোয়ানা ইস্যু স্থগিত রাখা যায় ফৌজদারি কার্যবিধির কোন ধারা অনুসারে?

26 / 38

পরোয়ানা ইস্যু করা ফৌজদারি কার্যবিধির কত ধারার বিষয়বস্তু?

27 / 38

নালিশ খারিজের আদেশ একজন ম্যাজিস্ট্রেট ফৌজদারি কার্যবিধির কত ধারা অনুসারে দিতে পারেন?

28 / 38

ফৌজদারি কার্যবিধির ১৯১ ধারার বিষয়বস্তু হিসেবে নিচের কোনটি সঠিক?

29 / 38

ফরিয়াদি ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে জবানবন্দির দেবার পর জবাবন্দির লিখিত সারাংশের নিচে কার স্বাক্ষর থাকবে?

30 / 38

সাধারণভাবে কোনো দায়রা জজ মামলা আমলে নিতে পারেন না - এটি ফৌজদারি কার্যবিধির কত ধারার বিষয়বস্তু?

31 / 38

আসামির আবেদনে মামলা স্থানান্তর করা যায় ফৌজদারি কার্যবিধির কোন ধারা মোতাবেক?

32 / 38

নালিশী দরখাস্ত গ্রহণকালে নালিশকারীকে পরীক্ষা করা একজন ম্যাজিস্ট্রেটের জন্য [বার : ২০১৫]

33 / 38

কোনো বিচারক বা সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নেওয়ার জন্য কার কাছ থেকে পূর্ব অনুমতি নিতে হয়?

34 / 38

ফৌজদারি কার্যবিধির ১৯০ ধারা অনুসারে কোনো দ্বিতীয় বা তৃতীয় শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেটকে মামলা আমলে নেবার ক্ষমতা কে অর্পণ করতে পারেন?

35 / 38

নালিশের দরখাস্ত প্রাপ্তির পর ম্যাজিস্ট্রেট অভিযোগকারীর জবানবন্দি ফৌজদারি কার্যবিধির কোন ধারায় রেকর্ড করেন? [বার : ২০১২]

36 / 38

আসামির আবেদনে মামলা স্থানান্তর করা হয় কোন আদালতে?

37 / 38

ম্যাজিস্ট্রেট কত ধারা অনুযায়ী দায়রা আদালত কর্তৃক বিচার্য মামলা দায়রা আদালতে হস্তান্তর করতে পারে?

38 / 38

‘ক’ ঢাকাতে আহত হয় এবং উক্ত আঘাতের কারণে চট্টগ্রামে মারা যায়। ‘ক’ এর মৃত্যুর অপরাধের তদন্ত বা বিচার হতে পারে - [বার : ২০১৭]

Your score is

0%



 

বিগত এমসিকিউ সাফল্য

Registered [2017 & 2020 MCQ]

Passed Students [2017 & 2020 MCQ]

Registered [MCQ Exam of 2021]