ঘরে বসেই লাইভ ভিডিওতে
প্রতি মাসে মাত্র ৮০০/- টাকায়

MCQ পরীক্ষার প্রস্তুতি!

ভর্তি হতে কল করুন : 01712-908561

CrPC Lecture 10 [Sec. 404-431]

ফৌজদারি কার্যবিধির সপ্তম ভাগে এবার আমরা।৪০৪-৪৪২ক ধারাসমূহ এই ভাগের বিষয় হলেও ফৌজদারি আপিলের অংশটুকুই [ধারা ৪০৪-৪৩১] এই লেকচারে রয়েছে। ফৌজদারি এই অংশটুকু খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বেশ গুরুত্ববহ এই লেকচারটির প্রতিটি ধারা মনোযোগের সাথে পড়ুন।

CrPC : Lecture 10

Appeal : আপীল [ধারা ৪০৪ – ৪৩১]

ম্যাপিং : আমরা এই কার্যবিধির শেষের দিকে চলে এসেছি প্রায়। এবার ফৌজদারি কার্যবিধির আপীল, রেফারেন্স ও রিভিশন বিষয়ক ভাগ ৭ম ভাগ আলোচনা করবো। এই ৭ম ভাগে ৪০৪ থেকে ৪৩১ পর্যন্ত আপীল বিষয়ে এবং ৪৩২ থেকে ৪৪২ পর্যন্ত রেফারেন্স ও রিভিশন নিয়ে আলোচনা আছে। এই লেকচারে শুধু আপীল নিয়ে আলোচনা।

এই অধ্যায়টা কিন্তু বেশ জরুরি। বিগত পরীক্ষাগুলোতে জুডিসিয়ারিতে ৫ টি এবং বারের পরীক্ষায় ১১ টি প্রশ্ন এসেছিলো। মানে গড়ে ৩/৪ টি প্রশ্ন থাকেই। বুঝে বুঝে এই লেকচারের আলোচনা পড়া দরকার আমাদের।

মূল আলোচনা :
একটু পেছন থেকে আসি। আপনারাও মনে করার চেষ্টা করুন। মামলা দায়ের হতে পারে পুলিশের মাধ্যমে অথবা অভিযোগকারীর নালিশের মাধ্যমে। একটি ম্যাজিস্ট্রেট আদালত প্রাথমিকভাবে একটি মামলাকে আমলে নেন অথবা মামলা খারিজ করে দেন। মামলা আমলে নিলে সমন ইস্যু হয়। আসামী হাজির হয় বা আসামীকে গ্রেফতার করা হয়। মামলা অন্য আদালতে স্থানান্তর হতে পারে বিচার ও অনুসন্ধানের জন্য। মামলার বিচার শুরু হয়, সেখানে মামলার উভয় পক্ষ তাদের বক্তব্য হাজির করে, সাক্ষ্য দেয়। আদালত সেগুলো পরীক্ষা করে। যুক্তিতর্ক হয়। বিচারক মামলার রায় দেন। সমস্ত দিক পর্যালোচনায় বিচারক আসামীকে শাস্তি বা খালাস দিতে পারেন। শাস্তি ঘোষণা ও বিচার সম্পন্ন করা আদালতের কাজ। এরপরে সেই শাস্তি কার্যকর করার দায়িত্ব সরকারের। এর জন্য জেলখানা আছে। আছে অন্যান্য দণ্ড কার্যকর করার পন্থা।

ধরুন, একটি বিচারিক আদালতের রায় ঘোষণা হলো। কিন্তু সেই বিচারেও তো ভুল হতে পারে! পক্ষপাতও হতে পারে। অভিযোগকারী বা ফরিয়াদি মনে করতে পারেন যে, তিনি ন্যায় বিচার পাননি। অনেক সময় আসামীরও মনে হতে পারে তিনিও ন্যায় বিচার পাননি। আসামী মনে করতে পারে – তার অপরাধের তুলনায় তাকে বেশি শাস্তি দেয়া হয়েছে। তাহলে এর বিরুদ্ধে প্রতিকার কি? আইন যে ন্যায়ের শাসন প্রতিষ্ঠা করে তা কিভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়? আপীল এবং রিভিশন হলো সেই প্রতিকার যার মাধ্যমে নায্য বিচার নিশ্চিত করা হয়।

বিষয়টি আরেকবার বলি। আইন কিন্তু সবসময় অভিযোগকারী ও আসামী / অভিযুক্ত উভয় পক্ষের জন্য প্রয়োজনীয় সব সুযোগ দিয়ে থাকে। উদ্দেশ্য – ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা। কোনো অভিযোগ ম্যাজিস্ট্রেট যদি খারিজ করে দেন মামলা শুরু হবার আগেই, তবে উক্ত অভিযোগকারীর প্রতিকার আছে। তিনি সেখানকার দায়রা কোর্টের কাছে এর রিভিশন দায়ের করতে পারেন। আবার আসামী যদি মনে করে যে, তাকে অন্যায়ভাবে শাস্তি দেয়া হয়েছে তবে তিনি সেটার বিরুদ্ধে আপীল করতে পারেন। একটি জেলার সর্বোচ্চ [দায়রা আদালতে] আদালতে অসন্তুষ্ট হলে আবার হাইকোর্টেও যাওয়া যায়। তার মানে একটি নিম্ন আদালত যা রায় দেয়, সেটার বিরুদ্ধে সংক্ষুব্ধ একজন ব্যক্তি, তিনি উচ্চতর আদালতে গিয়ে বলতে পারেন যে, আমি আমার নায্য বিচার পাইনি; আমাকে নায্য বিচার দেয়া হোক। তখন উচ্চতর আদালত সেটা বিবেচনা করবেন। বিবেচনা করে তিনি নিম্ন আদালতের রায় বহাল রাখতে পারেন, সেটা বদলাতে পারেন। একটি বিচারিক আদালতের রায়ে যেকোনো সংক্ষুব্ধ পক্ষ ন্যায় বিচার পায়নি এই মর্মে উক্ত বিচারিক আদালতের উচ্চতর কোনো আদালতে সে বিষয়ে প্রতিকার চাইতে পারে।

আপীলের কোনো সংজ্ঞা দেওয়ানি কার্যবিধি বা ফৌজদারি কার্যবিধির কোথাও দেয়া নেই। সাধারণত কোনো নিম্ন আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চতর আদালতে বিচার প্রার্থনা করাকে আপীল বলা হয়। আদালতের রায়ে বা সিদ্ধান্তে একজন সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি, তিনি অভিযোগকারী বা আসামী যেকেউই হতে পারেন, উচ্চতর আদালতে নায্য বিচারের দাবি করতে পারেন, এই বিষয়টাই হলো আপীল। আবার, অন্যভাবে দেখলে বলা যায়, আপীল হলো নিম্ন আদালতের রায় সঠিক কিনা তা যাচাই করার একটা পদ্ধতি বা মাধ্যম। এমনকি, আপীল চলমান বিচারিক প্রক্রিয়ার একটি ন্তর মাত্র!

আপীল বিষয়ে ধারাগুলোতে নির্দিষ্ট করে কিছু অপরাধের ক্ষেত্রে আপীলের পদ্ধতি কি হবে তা বলা আছে। এমনিতে সাধারণভাবে বিশেষ বিশেষ আইনসমূহে আলাদা করে উল্লেখ করাই আছে যে, উক্ত বিশেষ অপরাধের মামলায় কিভাবে আপীল করতে হবে, কার কাছে করতে হবে। ফৌজদারি কার্যবিধিতে আপীলের ধারাগুলোতে দণ্ডবিধিতে বর্ণিত কিছু অপরাধের আপীলের ক্ষেত্রে বিশেষ বিধান উল্লেখ করা আছে। যেমন ৪০৫ ধারায় ক্রোককৃত সম্পত্তি পুনরুদ্ধারের আবেদন অগ্রাহ্য হলে তার বিরুদ্ধে আপীল বিষয়ে। ৪০৬ ধারায় সদাচরণের মুচলেকার বিরুদ্ধে আপীল ইত্যাদি। আবার বিভিন্ন নিম্ন আদালতের ক্ষেত্রে কোন আদালতের আদেশ বা রায়ের ক্ষেত্রে কোন আদালতে যেতে হবে তার বর্ণনা করা আছে। যাই হোক, এই অধ্যায়টির বেশিরভাগ ধারাই বুঝে রাখার, মনে রাখার চেষ্টা করতে হবে।

৪০৪ নং ধারা থেকে আপীল বিষয়ক আলোচনা শুরু হলেও ৪১৮ ধারা এবং ৪০৪ ধারা দুইটি আপীলের মূল নীতি বর্ণনা করেছে। আমরা ধারা দুইটি দেখে নেই এখানেই।

“ধারা ৪০৪ : অনুরূপ বিধান না থাকলে আপীল চলবে না [Unless otherwise provided, no appeal to lie] : এই আইন বা বর্তমানে বলবৎ অন্য কোন আইনের বিধানানুসারে না হলে অন্য কোনভাবে কোন ফৌজদারী আদালতের রায় বা আদেশের বিরুদ্ধে আপীল করা যাবে না [No appeal shall lie from any judgment or order of a Criminal Court except as provided for by this Code or by any other law for the time being in force.]।

“ধারা ৪১৮ : কোন কোন বিষয়ে আপীল গ্রহণযোগ্য : ঘটনার প্রশ্নে বা আইনের প্রশ্নে আপীল চলতে পারে [An appeal may lie on a matter of fact as well as a matter of law]।

ব্যাখ্যা : এই ধারার উদ্দেশ্যে কোন দণ্ডের কথিত কঠোরতা আইনের বিষয় বলে গণ্য হবে।

৪০৪ ধারার কথাটা বুঝলেন কি? ‘এই আইন’ – মানে ফৌজদারি কার্যবিধির কথা বলা হচ্ছে। অর্থাৎ এই আইনে উল্লেখ না থাকলে কোনো একটি ফৌজদারি আদালতের রায় বা আদেশের বিরুদ্ধে আপীল করা যাবে না। কোন কোন বিষয়ে কিভাবে আপীল করা যাবে বা যাবেনা এটা নিয়ে অল্প কিছু ধারা এই অধ্যায়ে আছে।

৪০৪ ধারায় আরো বলা হচ্ছে  ‘… বর্তমানে বলবৎ অন্য কোনো আইনের বিধানানুসারে না হলে …’ । অন্য কোনো আইন বলতে যেমন ধরেন – প্রতিটি আলাদা আলাদা আইনে, যেমন যৌতুক নিরোধ আইন বা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ইত্যাদি যতোরকম ফৌজদারি অপরাধ সংক্রান্ত আইন আছে – সেগুলোর প্রত্যেকটিতেই দেখবেন যে সেখানে আপীল সংক্রান্ত এক বা একাধিক ধারা বা বিধান রয়েছে। তার মানে উক্ত নির্দিষ্ট কোনো ফৌজদারি অপরাধ সংক্রান্ত আইনে যদি আপীলের কোনো পদ্ধতি সুনির্দিষ্ট করা থাকে তবে সেই অনুযায়ীই আপীল হবে।

তার মানে ফৌজদারি কার্যবিধিতে বা অন্য কোনো আইনের উল্লেখিত বিধান অনুসারে না হলে কোনো ফৌজদারি অপরাধের বিষয়ে কোনো ফৌজদারি আদালতের রায় বা সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপীল করা যাবে না।

৪০৪ ধারাটা অত্যন্ত সহজ একটি ধারা! এটা পরীক্ষার জন্য কোনো সরাসরি কাজে লাগবে না। কিন্তু এতো ভেঙ্গে ভেঙ্গে আলোচনা করা হলো এজন্য যে, আপনারা যেকোনো ধারা এভাবে স্টেপ বাই স্টেপ বোঝার চেষ্টা করবেন। নিজে নিজে ভাববেন। কোনো শিক্ষকের প্রয়োজন পড়বে না আশা করি।

এবার ৪১৮ ধারাটা দেখে আসুন একবার। সেখানে বলা হচ্ছে – দুইটি কারণে আপীল করা যেতে পারে। একটি হলো আইনের প্রশ্নে এবং অপরটি হলো ঘটনার প্রশ্নে। আইনের প্রশ্ন আর ঘটনার প্রশ্ন বিষয়টা কি? শুধু আইনের প্রশ্নে আর ঘটনার প্রশ্নে আপীল করা যায় এটা মনে রাখবেন। এই ধারণা নিয়ে পরে আলোচনা করবো।

একটু আগে জেনে আসলাম – কোনো নিম্ন আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চতর আদালতে বিচার প্রার্থনা করাকে আপীল বলা হয়। নিম্ন আদালত আর উচ্চ আদালত কি? এটা আমাদের এতোদিনে চিনে ফেলার কথা। আমরা আমলী আদালত বা Cognizance Court এবং বিচার আদালত বা Trial Court সম্পর্কে জেনে এসেছিলাম। এই দুইটা নামকরণের ক্ষেত্রে দেখে আসলাম একটি আদালত কি ধরনের ভূমিকা পালন করছে তার ওপর নির্ভর করছে সেই আদালত বা কোর্টের পরিচয়। তো, সেই একইভাবে একটি আদালত যখন আপীল শোনে বা তার শোনার এখতিয়ার থাকে তখন তার ভূমিকা অনুযায়ী তাকে আপীল আদালত বা ইংরেজিতে Appellate Court  বলা হয়।

আপীল সংক্রান্ত ধারাগুলো [৪০৪ থেকে ৪৩১ ধারা পর্যন্ত ] পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে, আপীল করার ধারাগুলোকে নিচের ৫ টি প্রধান ভাগে ভাগ করা যায়। সেগুলো হলো –

১. বিশেষ কিছু আদেশের বিরুদ্ধে আপীল করা যায় [৪০৫, ৪০৬ এবং ৪০৬ক ধারায় বর্ণিত আছে]।

২. দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপীল করা যায় [৪০৭, ৪০৮, ৪০৯ ও ৪১০ ধারায় এগুলো বর্ণিত আছে]।

৩. খালাসের আদেশে বিরুদ্ধে আপীল করা যায় [৪১৭ ধারায় বর্ণিত আছে]।

৪. অপর্যাপ্ত দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপীল করা যায় [৪১৭ ক ধারায় বর্ণিত আছে]।

৫. ৩ টি ক্ষেত্রে বা আদেশের বিরুদ্ধে আপীল করা যায় না [৪১২, ৪১৩ এবং ৪১৪ ধারায় বর্ণিত আছে]।

তার মানে প্রথম ৪ টিতে আপীল করা যায় এবং ৫ নাম্বারে ৩টি ক্ষেত্রে আপীল করা যায় না – আপীল সংক্রান্ত ধারাগুলোর এই সংক্ষিপ্ত ম্যাপিংটা মনে রাখবেন। আপীল দিনের আলোর মতো পরিষ্কার হয়ে যাবে।

আমরা এর একটা একটা করে বুঝি। ৪০৫, ৪০৬ এবং ৪০৬ক ধারায় তিনটি বিশেষ আদেশের ক্ষেত্রে সংক্ষুব্ধ পক্ষ কিভাবে আপীল করতে পারে তার বর্ণনা আছে। ক্রোককৃত সম্পত্তি, শান্তি রক্ষা বা সদাচরণের মুচলেকা এবং জামানত সম্পর্কিত আদেশ নিয়ে আপীল কোথায় কিভাবে হবে তা বলা আছে। ৪০৫ শুধু মূল ধারাটি পড়ে রাখুন। ৪০৬ এর মূল কথা হলো – নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বা অন্য কোনো ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক সদাচরণ বা শান্তিরক্ষার জন্য মুচলেকার আদেশের বিরুদ্ধে সোজাসুজি দায়রা আদালতে আপীল করতে হবে। আর ৪০৬ক এর মূল কথা হলো – চীফ মেট্রো বা চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এর অধস্তন আদালতের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ঐসব চীফদের কাছে এবং চীফদের আদালতের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দায়রা আদালতে আপীল করতে হবে। ধারাগুলো দেখে নেন।

“ধারা ৪০৫ : ক্রোককৃত সম্পত্তি পুনরুদ্ধারের আবেদন অগ্রাহ্য হলে উহার বিরুদ্ধে আপীল : কোন আদালত সম্পত্তি বা সম্পত্তির বিক্রয়লব্ধ অর্থ প্রদানের জন্য কোন ব্যক্তির ৮৯ ধারা অনুসারে দায়েরকৃত আবেদনপত্র নাকচ করলে তিনি সেই আদালতে আপীল করতে পারেন যে আদালতে পূর্ববর্তী আদালতের আদেশের বিরুদ্ধে সাধারণত আপীল করা চলে।

“ধারা ৪০৬ : শান্তি রক্ষা বা সদাচরণের মুচলেকার আদেশের বিরুদ্ধে আপীল : কোন ম্যাজিস্ট্রেট কোন ব্যক্তিকে ১১৮ ধারা অনুসারে শান্তি বা সদাচরণের জন্য জামানত দেওয়ার আদেশ দিলে সেই ব্যক্তি উক্ত আদেশের বিরুদ্ধে দায়রা আদালতে আপীল দায়ের করতে পারবে।

আরও শর্ত এই যে, যাদের বিরুদ্ধে ১২৩ ধারার (২) ধারা বা (৩ক) এই ধারার বিধানানুসারে দায়রা জজের নিকট মামলা করা হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে এই ধারার কোন কিছু প্রযোজ্য হবে না।

“ধারা ৪০৬ক : জামানত গ্রহণ করতে অস্বীকার করা বা জামানত নাকচ করার আদেশের বিরুদ্ধে আপীল : ১২২ ধারার অধীন জামানত গ্রহণ করতে অস্বীকার বা জামানত নাকচ করে প্রদত্ত আদেশে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি উক্ত আদেশের বিরুদ্ধে আপীল করতে পারবেন-

ক) চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের বা চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের অথবা জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশের বিরুদ্ধে দায়রা আদালতে;

খ) চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ছাড়া অপর কোন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশের বিরুদ্ধে চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট; অথবা

গ) অন্য কোনো জুডিসিয়াল বা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশের বিরুদ্ধে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট।

এবার ৪০৭ থেকে ৪১০ দেখবো। ৪০৭, ৪০৮, ৪০৯ ও ৪১০ ধারায় মূলত দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপীল সংক্রান্ত আলোচনা আছে। এগুলো নিয়ে আলোচনার বাড়তি কিছু নেই। ধারাগুলো পড়তে পড়তে একটা ইমেজ নিজের মতো করে সাজিয়ে তৈরি করুন তো। প্রথমেই আদালতের হায়ারার্কি অথবা কর্তৃত্বের কাঠামোটি মনে করার চেষ্টা করুন। তারপর নিচের ধারাগুলো পড়তে পড়তে কল্পনা করে সাজিয়ে নিন। পারেন কিনা দ্যাখেন।

“ধারা ৪০৭ : দ্বিতীয় বা তৃতীয় শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট প্রদত্ত দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপীল : দ্বিতীয় বা তৃতীয় শ্রেণীর কোন ম্যাজিস্ট্রেটের বিচারে দণ্ডিত কোন ব্যক্তি চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট আপীল করতে পারবেন, তিনি স্বয়ং আপীলটি শুনানী ও নিষ্পত্তি করতে পারবেন অথবা নিষ্পত্তি করার জন্য কোনো এডিশনাল চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট হস্তান্তর করতে পারবেন এবং অনুরূপ হস্তান্তরিত কোনো আপীল প্রত্যাহার করতে পারবেন

“ধারা ৪০৮ : যুগ্ম দায়রা জজ বা প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট প্রদত্ত দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপীল : যখন কোন ব্যক্তি কোন যুগ্ম দায়রা জজ বা কোন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বা অপর কোন প্রথম শ্রেণীর জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের বিচারে দণ্ডিত হয়, সেই ব্যক্তি দায়রা জজের নিকট আপীল করতে পারবে

তবে শর্ত এই যে,

ক) যখন কোন মামলায় যুগ্ম দায়রা জজ পাঁচ বছরের বেশি সময়ের কারাদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দেন, তখন সংশ্লিষ্ট বিচারে দণ্ডিত সকল বা কোন আসামিকে হাইকোর্ট বিভাগে আপীল করতে হবে।

খ) যখন কোন ব্যক্তি কোন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বা জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক দণ্ডবিধির ১২৪ক ধারায় বর্ণিত অপরাধের জন্য দণ্ডিত হয় তখন হাইকোর্ট বিভাগে আপীল করতে হবে।

“ধারা ৪০৯ : কিভাবে দায়রা আদালতে আপীলের শুনানি হয় : দায়রা আদালতে বা দায়রা জজের নিকট পেশকৃত আপীল দায়রা জজ বা অতিরিক্ত দায়রা জজ শ্রবণ করবেন [shall be heard by the Sessions Judge or by an Additional Sessions Judge]।

তবে শর্ত থাকে যে, অতিরিক্ত দায়রা জজ সেই আপীলেই শ্রবণ করবেন, যেগুলি সম্পর্র্কে সরকার সাধারণ বা বিশেষ আদেশ দ্বারা নির্দেশ দেন অথবা দায়রা জজ যেগুলি তার নিকট অর্পণ করেন।

“ধারা ৪১০ : দায়রা আদালত প্রদত্ত দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপীল : দায়রা জজ বা অতিরিক্ত দায়রা জজের বিচারে দণ্ডিত ব্যক্তি হাইকোর্ট বিভাগে আপীল করতে পারবে

৪০৯ এ কিন্তু বলা আছে অতিরিক্ত দায়রা জজ কোন আপীলগুলো শুনবেন সে বিষয়ে। এই প্রশ্নটি পরীক্ষায় আসা উচিত! 🙂 ধারাটি ভেঙ্গে ভেঙ্গে আবার পড়ে নেন।

এবার নিচের চিত্রটি দেখে নেন। আপনার কল্পিত ইমেজের সাথে কতটা মিললো, চেক করুন। এখানে শুধুমাত্র দণ্ডাদেশের ক্ষেত্রে আপীল অংশটুকু দেয়া আছে।

আমরা এবারে কোন কোন নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে আপীল করা যাবে না, সে বিষয়ক ধারাগুলো দেখবো। ৩ টি ক্ষেত্রে আপীল করা যাবে না।

১. দোষ স্বীকারের ক্ষেত্রে : আমরা confession বা দোষ স্বীকারোক্তি বিষয়ে পড়ে এসেছিলাম যে, ম্যাজিস্ট্রেট এর সামনে একজন আসামী দোষ স্বীকার করতে পারেন। সেটার বেশ কিছু শর্ত ছিলো, যেমন, আসামী পরিষ্কারভাবে বুঝে শুনে সজ্ঞানে এই দোষ স্বীকারোক্তি করতে পারবেন। সেক্ষেত্রে ক্ষেত্রবিশেষ বিবেচনায় ম্যাজিস্ট্রেট তাকে কম দণ্ড দিতে পারে বা অব্যাহতি দিতে পারে। এরূপ ক্ষেত্রে স্বাভাবিকভাবেই এই বিষয়ে আপীল চলতে পারে না। ৪১২ ধারাটি এ বিষয়ে বলেছে।

২. তুচ্ছ মামলার ক্ষেত্রে : তুচ্ছ মামলা যেটার শাস্তি অনধিক ১ মাস কারাদণ্ড বা অনধিক ৫০ টাকা জরিমানা, এরকম হলে সেক্ষেত্রে আপীল করা যাবে না। এটা ৪১৩ ধারার বিষয়বস্তু।

৩. সংক্ষিপ্ত বিচারের ক্ষেত্রে : অনেক সময় কার্যবিধির ২৬০ ধারায় ক্ষমতাবান ম্যাজিস্ট্রেট যদি অনধিক ২০০ টাকা জরিমানা করেন তবে তার বিরুদ্ধেও আপীল করা যাবেনা। ৪১৪ ধারার বিষয়বস্তু এটা

নিচে এই মূল ধারাগুলো দেখে নেন।

ধারা ৪১১ : বাতিল।

ধারা ৪১১ক : বাতিল।

“ধারা ৪১২ : আসামি দোষ স্বীকার করলে কতিপয় ক্ষেত্রে আপীল চলবে না [No appeal in certain cases when accused pleads guilty] : ইতোপূর্বে এই আইনে যাই বর্ণিত থাকুক না কেন, আসামি দোষ স্বীকার করলে [where an accused person has pleaded guilty and has been convicted] এবং উক্ত স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে দায়রা আদালত বা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বা কোন প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট তাকে দণ্ডদান করলে দণ্ডের পরিমাণ বা দণ্ডাদেশের বৈধতা ব্যতীত উক্ত দণ্ডের বিরুদ্ধে কোন আপীল চলবে না।”

“ধারা ৪১৩ : তুচ্ছ মামলায় কোন আপীল নাই [No appeal in petty cases] : এই আইনে ইতোপূর্বে যাই থাকুক না কেন দায়রা আদালত কেবলমাত্র অনধিক একমাস কারাদণ্ড দিলে অথবা দায়রা আদালত বা চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বা প্রথম শ্রেণীর অন্য কোন ম্যাজিস্ট্রেট অনধিক পঞ্চাশ টাকা জরিমানা করলে দণ্ডিত ব্যক্তি কোন আপীল করতে পারবে না।

ব্যাখ্যা : উক্ত আদালত বা ম্যাজিস্ট্রেট মূল শাস্তি স্বরূপ কারাদণ্ড না দিয়ে জরিমানা অনাদায়ে কারাদণ্ডের আদেশ দিলে এরূপ কারাদণ্ডের বিরুদ্ধে কোন আপীল চলবে না।

“ধারা ৪১৪ : সংক্ষিপ্ত বিচারের কতিপয় দণ্ডের বিরুদ্ধে আপীল নাই : এই আইনে ইতোপূর্বে যাই বর্ণিত থাকুক না কেন, সংক্ষিপ্তভাবে বিচারকৃত কোন মামলায় ২৬০ ধারা অনুসারে কাজ করতে ক্ষমতাবান কোন ম্যাজিস্ট্রেট কেবলমাত্র অনধিক দুইশত টাকা জরিমানা করলে দণ্ডিত ব্যক্তি কোন আপীল করতে পারবে না।”

“ধারা ৪১৫ : ৪১৩ ও ৪১৪ ধারার শর্ত : ৪১৩ বা ৪১৪ ধারায় উল্লিখিত কোন দণ্ডের বিরুদ্ধে আপীল করা যাবে যদি উক্ত দণ্ডের বর্ণিত কোন শাস্তির সাথে অন্য কোন শাস্তি সংযুক্ত করা হয়; তবে যে দণ্ডাদেশ অন্য কোনভাবে আপীলযোগ্য নয় সেই দণ্ডাদেশ কেবলমাত্র দণ্ডিত ব্যক্তিকে শান্তি রক্ষার জন্য জামানত দেওয়ার আদেশ দেয়া হয়েছে বলেই আপীলযোগ্য হবে না।

ব্যাখ্যা : এই ধারার অর্থ অনুসারে জরিমানা অনাদায়ে কারাদণ্ড দুই বা ততোধিক শাস্তির সংযুক্তি নয়।

“ধারা ৪১৫ক : কতিপয় ক্ষেত্রে আপীলের বিশেষ অধিকার : এই অধ্যায়ে যাই থাকুক না কেন, যখন একই বিচারে একাধিক ব্যক্তি দণ্ডিত হয় এবং তাদের মধ্যে যে কোন একজনের বিরুদ্ধে আপীল যোগ্য রায় বা আদেশ দেয়া হয়, তখন এরূপ বিচারে দণ্ডিত ব্যক্তিদের সকলের বা যে কোন একজনের আপীল করার অধিকার থাকবে।

“ধারা ৪১৬ : বাতিল।”

এবারে ৪১৭ এবং ৪১৭ ক। প্রথমটায় খালাসের ক্ষেত্রে আপীল এবং দ্বিতীয়টাতে অপর্যাপ্ত দণ্ডের বিরুদ্ধে আপীল বিষয়ে বর্ণনা আছে। নির্দিষ্ট কিছু আদেশের বিরুদ্ধে আপীল [৪০৫ – ৪০৬ ক ধারা] এবং দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপীল [৪০৭ – ৪১০ ধারা] আমরা ওপরে পড়ে আসলাম। মানে, যেসব ক্ষেত্রে আপীল করা যায় তার ২ টি অংশ পড়ে আসলাম, মাঝখানে যেসব আদেশের বিরুদ্ধে আপীল করা যায় না তা পড়লাম, আর এখন অবশিষ্ট আরো ২টি ক্ষেত্রে আপীল কিভাবে কার্যকর আছে তা দেখবো এই ৪১৭ ও ৪১৭ ক ধারা দুইটিতে। ওপরের আপীল করার ক্ষেত্রের তালিকাটা আরেকবার দেখে আসেন। তারপর ৪১৭ ধারাটি মনোযোগের সাথে পড়েন। ৪১৭ ও ৪১৭ ক নিয়ে আরেকটি চিত্র দেয়া থাকলো সারসংক্ষেপ আকারে। তবে আগে ধারা দুইটি পড়ে নেন।

“ধারা ৪১৭ : খালাসের ক্ষেত্রে আপীল [Appeal in case of acquittal] : ১) উপধারা ৪ এর বিধান সাপেক্ষে সরকার যে কোন ক্ষেত্রে আপীল দায়ের করার জন্য পাবলিক প্রসিকিউটরকে নির্দেশ দিতে পারবেন

ক) কোন আদালত কর্তৃক মূল মামলায় বা আপীলে প্রদত্ত খালাসের আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্ট বিভাগে;

খ) মূল মামলায় বা আপীলে ম্যাজিস্ট্রেট প্রদত্ত খালাসের আদেশের বিরুদ্ধে দায়রা আদালতে

২) উক্তরূপ আদেশ যদি ফরিয়াদি কর্তৃক আনীত মামলায় দেয়া হয়ে থাকে [if such an order is passed in any case instituted upon complaint] এবং যদি আদেশটিতে আইনগত ভুল থাকে যা কিনা ন্যায়বিচারকে পরাভূত করে, তবে ৪১৮ ধারায় যাইই বলা থাকুক না কেন, ফরিয়াদি আপীল দায়ের করতে পারবে :

ক) দায়রা আদালত কর্তৃক প্রদত্ত মূল খালাসের আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্ট বিভাগে;

খ) যেকোনো ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক প্রদত্ত মূল খালাসের আদেশের বিরুদ্ধে দায়রা আদালতে

৩) খালাসের আদেশের তারিখ হতে ৬০ দিন অতিক্রান্ত হবার পর ফরিয়াদী খালাসের আদেশের বিরুদ্ধে কোন আপীল দায়ের করলে হাইকোর্ট বিভাগে তা গ্রাহ্য হবে না

৪) কোন ক্ষেত্রে খালাসের আদেশের বিরুদ্ধে আপীল গৃহীত না হলে, উপধারা (১) এর অধীন উক্ত খালাসের আদেশের বিরুদ্ধে আপীল চলবে না।

১ উপধারায় পুলিশ কেসের ক্ষেত্রে মামলার বিষয়বস্তু নিয়ে আলোচনা করা আছে। ৪১৭ ধারার ১ এ বলা হচ্ছে উপধারা ৪ এর বিধানসাপেক্ষে বা ব্যতিক্রমসাপেক্ষে একজন পিপি বা পাবলিক প্রসিকিউটর দায়রা কোর্টের মূল অথবা আপীলে প্রদত্ত খালাসের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে এবং ম্যাজিস্ট্রেট প্রদত্ত মূল অথবা আপীলে প্রদত্ত খালাসের আদেশের বিরুদ্ধে দায়রা আদালতে আপীল করতে পারবে। অনুরূপভাবে একজন ফরিয়াদিও আপীল করতে পারবে [উপধারা ২ এ বলা আছে] – ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট এর খালাসের আদেশের বিরুদ্ধে দায়রা আদালতে এবং দায়রা আদালত এর খালাসের আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে। তবে ফরিয়াদির ক্ষেত্রে লক্ষ্য করে দ্যাখেন – ‘মূল খালাসের আদেশের বিরুদ্ধে’ লেখা আছে; পক্ষান্তরে পিপির ক্ষেত্রে ‘মূল মামলায় বা আপীলে প্রদত্ত খালাসের আদেশের বিরুদ্ধে’ – এভাবে লেখা আছে। পার্থক্যটা কি? আমরা একটু উদাহরণ দিয়ে বোঝার চেষ্টা করি।

মনে আছে নিশ্চয় যে, মামলা দুইভাবে দায়ের হতে পারে। একটা হলো থানায় পুলিশের মাধ্যমে, অপরটি কোনো অভিযোগকারী বা ফরিয়াদি কর্তৃক সরাসরি ম্যাজিস্ট্রেট এর কাছে অভিযোগ দায়ের করার মাধ্যমে। তো, থানার এই মামলাগুলো কে পরিচালনা করে? পরিচালনা করে থাকে সরকারী উকিল। মানে পিপি বা পাবলিক প্রসিকিউটর। পিপি’রা রাষ্ট্রের পক্ষে পুলিশের করা মামলাগুলো পরিচালনা করে থাকে।

ধরুন, পুলিশ ১০ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করলো এবং একজনকে আটক করে তার বিরুদ্ধে এই মামলাটি দিলো। কিন্তু মামলায় ম্যাজিস্ট্রেট এর কাছে কোনোভাবে প্রতীয়মান হলো যে, উক্ত আসামী এর সাথে জড়িত নয় এবং তাকে ম্যাজিস্ট্রেট খালাস দিলো। তার মানে একটি বিচারিক আদালত ‘মূল মামলায়’ আসামীকে খালাস দিলো। তখন আসামীর খালাস আদেশের বিরুদ্ধে একজন পিপি দায়রা কোর্টে আপীল করলো যে, এই খালাস আদেশ ন্যায়সম্মত হয়নি; আপীলে তার খালাস আদেশ বাতিল চাইলো এবং বিচার করার দাবি তুললো। দায়রা কোর্টে উক্ত খালাস আদেশ বহাল থাকলো, মানে পিপি বা রাষ্ট্রপক্ষ সেখানে আবারো পরাজিত হলো। তো এই দায়রা কোর্ট কিন্তু এখানে একটি আপীল আদালতের ভূমিকা পালন করেছে। দায়রা কোর্টের এই আপীল আদেশে সংক্ষুব্ধ হয়ে রাষ্ট্রপক্ষ বা পিপি আবারো হাইকোর্টে আপীল করতে পারে। এইবারের আপীল কোনো ‘মূল মামলায়’ হচ্ছে না কিন্তু! এটা হচ্ছে ‘আপীলে প্রদত্ত খালাসের আদেশের বিরুদ্ধে’ আপীল। ১ নং উপধারায় এই বিষয়টিই বলা হয়েছে। ক্লিয়ার? যদি বুঝে থাকেন তো আপনাকে স্যালুট!

আরো খানিকটা স্বচ্ছ ধারণা নেবার জন্য ২ উপধারা বিষয়ে আলোচনাটিকে আরেকটু এক্সটেন্ট করি, কি বলেন? ধরুন, একজন অভিযোগকারী বা ফরিয়াদী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সরাসরি হাজির হয়ে একটি নালিশের মাধ্যমে আঘাত বা গুরুতর আঘাতের বিষয়ে দুইজনকে আসামী করে একটি মামলা করেছে। সেই ম্যাজিস্ট্রেট আদালত তাদের দুইজনকে খালাস দিলো। এই আদেশের বিরুদ্ধে উক্ত মামলার অভিযোগকারী বা বাদী দায়রা কোর্টে এর বিরুদ্ধে আপীল করতে পারবে। ধরা যাক, দায়রা কোর্ট সেই খালাস আদেশ বহাল রাখলো, অর্থাৎ অভিযোগকারী বা বাদী এখানে পরাজিত হলো। তখন কিন্তু অভিযোগকারী বা ফরিয়াদির বা বাদীর আর কোনো সুযোগ নেই এটি নিয়ে আরো উচ্চতর আদালতে বা হাইকোর্টে গিয়ে আবারো আপীল করার। ধারাটিতে দ্যাখেন – ‘মূল খালাসের আদেশের বিরুদ্ধে’ লেখা আছে। কোনো ‘আপীলে প্রদত্ত খালাসের আদেশের বিরুদ্ধে’ লেখা নেই। অর্থাৎ আপীল আদালতের আদেশের বিরুদ্ধে এই অধিকার ফরিয়াদির নেই, পক্ষান্তরে পিপি বা রাষ্ট্রপক্ষের আছে। ফরিয়াদির শুধুমাত্র আপীল করার অধিকার আছে মূল মামলায় খালাসের আদেশের বিরুদ্ধে – সেক্ষেত্রে ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টের বিচারিক আদালতের ক্ষেত্রে দায়রা কোর্টে এবং দায়রা কোর্টের বিচারিক আদালতে হলে হাইকোর্টে। এইটুকু বুঝে উঠলে আপনার এক কাপ চা অথবা কফি পাওনা রইলো আমাদের কাছে।

৩ নং উপধারায় বলা আছেফরিয়াদি ৬০ দিনের মধ্যে আপীল করতে পারবে। তার পরে পারবে না। পিপি’র ক্ষেত্রে কিছু বলা না থাকলেও আমরা একটা তথ্য তামাদি আইন অনুযায়ী জেনে রাখি : আপীলের ক্ষেত্রে পিপি ৬ মাস সময় পেয়ে থাকেন।

৪ নং উপধারাটা পড়েন একবার। কি বলা হয়েছে এখানে? এখানে বলছে কোনো আপীল যদি আদালতে গৃহীতই না হয় তবে, উক্ত খালাসের বিরুদ্ধে আপীল চলবে না। আদালতে সাধারণত সংক্ষুব্ধ পক্ষ যখন আপীল করেন খালাসের আদেশের বিরুদ্ধে, তখন একটা দরখাস্ত দিয়েই তা উচ্চ আদালতে বলতে হয়। কিন্তু কোনো কারণে সেই দরখাস্ত গৃহীত না হলে সেটার কিন্তু কোনো শুনানীই আর অনুষ্ঠিত হবে না সেই উচ্চ আদালতে। ফলে আপীল করার আর কোনো সুযোগ থাকবে না, সেখান থেকেই সংক্ষুব্ধ পক্ষকে বিদায় নিতে হবে।

এবার ৪১৭ ক ধারায় আসেন। ধারাটি পড়ে নেন আগে। ৪১৭ ধারাটি বুঝে থাকলে এটা সহজ হয়ে যাবার কথা।

“ধারা ৪১৭ক : অপর্যাপ্ত দণ্ডের বিরুদ্ধে আপীল [Appeal against inadequacy of sentence] : ১) কোন আদালতের বিচারে প্রদত্ত দণ্ডাদেশের ক্ষেত্রে দণ্ডাদেশের অপর্যাপ্ততার কারণে হাইকোর্ট বিভাগে আপীল দায়ের করার জন্য সরকার পাবলিক প্রসিকিউটরকে নির্দেশ দিতে পারবেন

২) আদালতের বিচারে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার ক্ষেত্রে একজন ফরিয়াদি দণ্ডাদেশের অপর্যাপ্ততার কারণে আপীল আদালতে আপীল করতে পারবেন;

তবে শর্ত এই যে, দণ্ডাদেশের তারিখ হতে ৬০ দিন অতিক্রম হবার পর এই উপধারার অধীন আপীল আদালত কর্তৃক কোন আপীল গৃহীত হবে না

৩) দণ্ডের অপর্যাপ্ততার কারণে কোন আপীল দায়ের করা হলে আপীল আদালত দণ্ড বৃদ্ধির বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর জন্য আসামিকে যুক্তিসঙ্গত সুযোগ না দিয়ে দণ্ড বৃদ্ধি করবেন না এবং কারণ দর্শানোর সময় আসামি তার খালাসপ্রাপ্তি অথবা দণ্ড হ্রাসের জন্য প্রার্থনা করতে পারবেন।”

তার মানে, এই ধারা অনুসারে – পাবলিক প্রসিকিউটর বা পিপি এবং ফরিয়াদি উভয়েই কোনো আসামীর কম শাস্তির বিরুদ্ধে আপীল আদালতে আপীল করতে পারবে। ফরিয়াদির ক্ষেত্রে আবারো এখানে ৬০ দিনের মধ্যে তা করতে হবে। পাবলিক প্রসিকিউটরের জন্যও এই সময়সীমা – ৬০ দিন। খালাসের আদেশের বিরুদ্ধে কিন্তু এই সময়সীমা ছিলো পিপির ক্ষেত্রে ৬ মাস, ভুলবেন না। আরেকটা বিষয় – ম্যাজিস্ট্রেট আদালত হোক আর দায়রা আদালত হোক, পিপি বা পাবলিক প্রসিকিউটর এইরকম কম শাস্তির বিরুদ্ধে বা অপর্যাপ্ত দণ্ডের বিরুদ্ধে শুধুমাত্র হাইকোর্টে আপীল করতে পারবেন। অর্থাৎ খালাসের আদেশের বিরুদ্ধে আপীল আদালত দায়রা কোর্টও হতে পারে, হাইকোর্টও হতে পারে, কিন্তু অপর্যাপ্ত দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে শুধুমাত্র হাইকোর্টেই আপীল করা যায় ; এটা পিপির ক্ষেত্রে বা পুলিশ বাদী বা জিআর কেসের ক্ষেত্রে। ফরিয়াদীর জন্য কিন্তু ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টের অপর্যাপ্ত দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে দায়রা কোর্টে যাবার সুযোগ আছে বা দায়রা কোর্টেই তা করতে হবে। ৪১৭ ক এর ৩ উপধারায় বলা হচ্ছে – যেই আসামীর দণ্ড বৃদ্ধির জন্য আপীল করা হয়েছে, সেই আসামীকে অবশ্যই কারণ দর্শানোর সুযোগ বা তার আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিতে হবে। বা আসামী তার খালাসও দাবি করতে পারবেন এমনকি।

৪১৭ এবং ৪১৮ নং ধারা নিয়ে আরো বিস্তারিত পাঠের বিষয়বস্তু আছে, কিন্তু বারের পরীক্ষার জন্য তা জরুরি নয়। এইটুকু বোঝাবুঝির ভেতরেই আপনারা প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবেন বলে আশা করি।

৪১৮ ধারাটি তো শুরুতেই আলাপ করে এসেছি। ৪১৯ থেকে আপীলের প্রক্রিয়াসমূহ ধাপে ধাপে বর্ণনা করা আছে। আপীলের আবেদন কিভাবে করতে হয়? সেটার সাথে কি যুক্ত করতে হয়? কোনো আলোচনা বাহূল্য। ধারাটি দেখুন।

“ধারা ৪১৯ : আপীলের আবেদন [Petition of appeal] : প্রত্যেকটি আপীল লিখিত দরখাস্ত আকারে করতে হবে এবং এরূপ প্রত্যেকটি দরখাস্তের সাথে, যে আদালতে পেশ করা হচ্ছে সেই আদালত ভিন্নতর নির্দেশ না দিলে যে রায় বা আদেশের বিরুদ্ধে আপীল করা হচ্ছে আদেশের সাথে উহার একটি নকল দিতে হবে।

আপীলকারী কারাগারে থাকলে কিভাবে এই আপীল হবে? বলা আছে ৪২০ ধারায়।

“ধারা ৪২০ : আপীলকারী কারাগারে থাকলে তখনকার পদ্ধতি [Procedure when appellant in jail] : আপীলকারী কারাগারে থাকলে রায় প্রভৃতির নকলসহ তার আপীলের দরখাস্ত কারাগারের ভারপ্রাপ্ত অফিসারের নিকট পেশ করতে হবে এবং অতঃপর উক্ত অফিসার উক্ত দরখাস্ত ও নকল যথাযথ আপীল আদালতের নিকট প্রেরণ করবেন।

আপীলের সংক্ষিপ্তভাবে খারিজ বলতে কি বোঝায় ? আপীল খারিজ না হয়ে যদি গৃহীত হয় শুনানীর জন্য তবে কিভাবে তার নোটিশ দিতে হবে সে বিষয়ে বলা আছে ৪২১ এবং ৪২২ ধারায়। কোনো আলোচনার দরকার নেই।

“ধারা ৪২১ : আপীল সরাসরি খারিজ [Summary dismissal of appeal] : ১) ৪১৯ অথবা ৪২০ ধারার অধীন দরখাস্ত ও নকল পাবার পর আপীল আদালত উহা পড়বেন এবং যদি ইহা বিবেচনা করেন যে, হস্তক্ষেপ করার মত পর্যাপ্ত কারণ নাই তাহলে সঙ্গে সঙ্গে আপীল খারিজ করতে পারবেন।

তবে শর্ত এই যে, ৪১৯ ধারার অধীন পেশকৃত আপীলের ক্ষেত্রে আপীলকারী বা তার উকিলকে বক্তব্য পেশ করার যুক্তিসঙ্গত সুযোগ না দিয়ে আপীল খারিজ করা যাবে না [Provided that no appeal presented under section 419 shall be dismissed unless the appellant or his pleader has had a reasonable opportunity of being heard in support of the same]।

২) এই ধারার অধীন আপীল খারিজ করার পূর্বে আদালত মামলার নথি তলব করতে পারবেন; কিন্তু এরূপ করতে বাধ্য হবেন না।

“ধারা ৪২২ : আপীলের নোটিশ [Notice of appeal] : আপীল আদালত যদি সঙ্গে সঙ্গে আপীল খারিজ করেন বা না করেন তাহলে যে সময় ও যে স্থানে উক্ত আপীল শ্রবণ করা যাবে সেই সময় ও স্থান সম্পর্র্কে আপীলকারী বা তার উকিলকে এবং এই সম্পর্র্কে সরকার কর্তৃক নিযুক্ত অফিসারকে নোটিশ দিবেন এবং উক্ত অফিসার আবেদন করলে তাকে আপীলের কারণসমূহের একটি নকল দিবেন

এর পরে আপীল শুনানী করে একটি আপীল আদালত কিভাবে আপীল নিষ্পত্তি করবেন বা একটি আপীল আদালতের ক্ষমতা কতটুকু, তা আলোচনা করা আছে ৪২৩ ধারায়। ধারাটি পড়ে শুধু ধারণা নিয়ে রাখতে পারেন। ৪২৩ সহ অন্যান্য ধারাগুলো ধারাবাহিকভাবে দিয়ে রাখলাম। সবশেষে ৪৩১ ধারাটি জেনে রাখবেন বিশেষভাবে – আপীল পণ্ড হওয়া বিষয়ে। এখানকার মূল কথা হলো আসামীর মৃত্যু হলে সেই আপীল আর কার্যকর কোনো আপীল নয়, আপীলটি বাতিল হয়ে যাবে – এটাকেই আপীল পণ্ড হওয়া বলা হচ্ছে।

“ধারা ৪২৩ : আপীল নিষ্পত্তির ব্যাপারে আপীল আদালতের ক্ষমতা : ১) মামলার নথি পূর্ব হতে আদালতে না থাকলে আপীল আদালত উহা চেয়ে পাঠাবেন। অতঃপর নথি পাঠ করে এবং আপীলকারী বা তার কৌসুলী হাজির হলে তার বক্তব্য এবং পাবলিক প্রসিকিউটর হাজির হলে তার বক্তব্য শ্রবণ করে আদালত যদি মনে করেন যে, হস্তক্ষেপ করার মত যথেষ্ট কারণ নাই তাহলে আপীল খারিজ করতে পারবেন; অথবা

ক) খালাসের আদেশের বিরুদ্ধে আপীলের ক্ষেত্রে উক্ত আদেশ পরিবর্তন করতে পারবেন অথবা নির্দেশ দিতে পারবেন যে, অধিকতর অনুসন্ধান করতে হবে অথবা আসামির পুনর্বিচার হবে অথবা তাকে বিচারের জন্য প্রেরণ করতে হবে, যেখানে যেরূপ প্রযোজ্য; অথবা তাকে দোষী সাব্যস্ত করে আইন অনুসারে তাকে দণ্ড দিতে পারবেন;

খ) দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপীলের ক্ষেত্রে –

(১) অভিমত ও দণ্ডাদেশ পরিবর্তন করতে পারবেন এবং আসামিকে খালাস বা অব্যাহতি দিতে পারবেন; অথবা তাকে এরূপ আপীল আদালতের অর্ধস্তন উপযুক্ত এখতিয়ারবান কোন আদালত কর্তৃক পুনর্বিচারের আদেশ দিতে পারবেন; অথবা বিচারে প্রেরণের আদেশ দিতে পারবেন; অথবা

(২) অভিমত পরিবর্তন করে অথবা দণ্ডাদেশ বহাল রেখে, অথবা অভিমত পরিবর্তন করে বা না করে দণ্ড হ্রাস করতে পারবেন; অথবা

(৩) দণ্ড এরূপ হ্রাস করে বা না করে এবং সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে বা না করে দণ্ডের প্রকৃতি পরিবর্তন করতে পারবেন; কিন্তু ১০৬ ধারার (৩) উপধারার বিধান সাপেক্ষে দণ্ড বৃদ্ধি করতে পারবেন না;

খখ) দণ্ড বৃদ্ধির জন্য আপীল করা হলে (১) সিদ্ধান্ত ও দণ্ড রদ করতে এবং আসামিকে খালাস বা অব্যাহতি দিতে অথবা উপযুক্ত আদালতে তার পুনর্বিচারের আদেশ দিতে পারবেন; অথবা (২) অভিমত পরিবর্তন করে বা দণ্ডাদেশ বহাল রেখে, অথবা (৩) অভিমত পরিবর্তন করে বা না করে দণ্ডের প্রকৃতি অথবা পরিমাণ অথবা দণ্ডের প্রকৃতি ও পরিমাণ পরিবর্তন করতে পারবেন যাতে দণ্ড হ্রাস বা বৃদ্ধি হয়;

গ) অন্য কোন আদেশের বিরুদ্ধে আপীলের ক্ষেত্রে উক্ত আদেশ পরিবর্তন করে বিপরীত আদেশ দিতে পারবেন;

ঘ) ন্যায়সঙ্গত বা যথাযথ কোন সংশোধন করতে পারবেন অথবা কোন সঙ্গত বা প্রাসঙ্গিক আদেশ দিতে পারবেন।

তবে শর্ত এই যে, দণ্ড বৃদ্ধির বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর জন্য আসামিকে সুযোগ দান না করে দণ্ড বৃদ্ধি করা যাবে না।

আরও শর্ত এই যে, যে দণ্ড বা আদেশের বিরুদ্ধে আপীল করা হয়েছে সেই দণ্ড বা আদেশ দানকারী আদালত একই অপরাধের জন্য আসামিকে যে দণ্ড দিতে পারবেন, আপীল আদালত তদপেক্ষা অধিক দণ্ড দান করবেন না।

২) বাতিল।

“ধারা ৪২৪ : অধস্তন আপীল আদালতের রায় : মূল এখতিয়ার সম্পন্ন ফৌজদারী আদালতের ষড়বিংশ অধ্যায়ে যে নিয়মাবলী বর্ণিত আছে, তা যতদূর সম্ভব হাইকোর্ট বিভাগ ব্যতীত অন্য আপীল আদালতের রায়ের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।

তবে শর্ত এই যে, আপীল আদালত ভিন্নরূপ নির্দেশ না দিলে রায় শুনার জন্য আসামিকে হাজির করতে হবে না বা তাকে হাজির হতে বলা হবে না।

“ধারা ৪২৫ : আপীলে হাইকোর্ট বিভাগের আদেশ প্রত্যায়ন করে নিম্ন আদালতে পাঠাতে হবে : ১) এই অধ্যায় অনুসারে হাইকোর্ট বিভাগ কোন মামলার আপীল নিষ্পত্তি করলে হাইকোর্ট বিভাগের উক্ত রায় যে আদালত কর্তৃক আপীলকৃত সিদ্ধান্ত দণ্ড বা আদেশ লিপিবদ্ধ বা প্রদত্ত হয়েছিল সেই আদালতে প্রত্যায়িত করে পাঠাবেন। চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বা জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ব্যতীত অন্য কোন ম্যাজিস্ট্রেট সিদ্ধান্ত দণ্ড বা আদেশ লিপিবদ্ধ বা প্রদান করলে রায়ের সার্টিফিকেটের চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট অথবা জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের মারফত প্রেরিত হবে।

২) যে আদালতের নিকট হাইকোর্ট বিভাগ স্বীয় রায় বা আদেশ প্রেরণ করেন, সেই আদালত অতঃপর হাইকোর্ট বিভাগের রায় বা আদেশের সাথে সঙ্গতি রেখে আদেশ দিবেন এবং প্রয়োজন হলে তদানুসারে সেই নথিপত্র সংশোধন করবেন।

“ধারা ৪২৬ : আপীল পেন্ডিং থাকলে দণ্ড স্থগিত : ১) দণ্ডিত ব্যক্তির আপীল সাপেক্ষ আপীল আদালত লিখিতভাবে কারণ লিপিবদ্ধ করে আদেশ দিতে পারবেন যে, আপীলকৃত দণ্ড বা আদেশ কার্যকরীকরণ স্থগিত থাকবে এবং আসামি আটক থাকলে আরও আদেশ দিতে পারবেন যে, তাকে জামিনে বা তার নিজের মুচলেকায় মুক্তি দিতে হবে।

২) এই ধারায় প্রদত্ত আপীল আদালতের ক্ষমতা হাইকোর্ট বিভাগের অধস্তন কোন দণ্ডিত ব্যক্তির আপীলের ক্ষেত্রে হাইকোর্টও প্রয়োগ করতে পারবেন।

২ক) আপীলকারীকে জামিনে মুক্তি দান : কোন ব্যক্তি কোন আদালত কর্তৃক অনূর্ধ্ব এক বছর মেয়াদের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হলে এবং উক্ত দণ্ডের বিরুদ্ধে আপীল করা চলে দণিডত ব্যক্তি আপীল করার ইচ্ছা করছে বলে যদি আদালতের সন্তুষ্টি বিধান করতে পারে, তাহলে আদালত আদেশ দিতে পারবেন যে, আপীল পেশ ও (১) উপধারা অনুসারে আপীল আদালতের আদেশ সংগ্রহের জন্য আদালতের মতানুসারে যে সময় পর্যাপ্ত, সেই সময়ের জন্য সে জামিনে মুক্ত থাকবে এবং যতদিন সে জামিনে মুক্ত থাকবে ততদিন পর্যন্ত কারাদণ্ড স্থগিত রয়েছে বলে গণ্য হবে।

২খ) হাইকোর্ট বিভাগ যখন সন্তুষ্ট হন যে, ইহা দে দণ্ড দিয়েছেন বা বহাল রেখেছেন দণ্ডিত ব্যক্তিকে সে দণ্ডের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের আপীল বিভাগে আপীলের জন্য বিশেষ অনুমতি দেয়া হয়েছে, তখন হাইকোর্ট বিভাগ উপযুক্ত মনে করলে আদেশ দিতে পারবেন যে, আপীল সাপেক্ষে আপীলকৃত দণ্ড বা আদেশ স্থগিত থাকবে এবং দণ্ডিত ব্যক্তি আটক থাকলে তাকে জামিনে মুক্তি দিতে হবে।

৩) আপীলকারী যখন শেষ পর্যন্ত কারাদণ্ডে বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়, তখন যে সময়ের জন্য সে মুক্ত ছিল দণ্ডের মেয়াদ হিসাবের সময় তা বাদ দিতে হবে।

“ধারা ৪২৭ : খালাসের বিরুদ্ধে আপীলের ক্ষেত্রে আসামীকে গ্রেফতার : যখন ৪১৭ বা ৪১৭ক ধারার অধীন কোনো আপীল দায়ের করা হয়, তখন ক্ষেত্রমতে হাইকোর্ট বিভাগ অথবা অন্য কোনো আপীল আদালত পরোয়ানা জারি করে নির্দেশ দিতে পারবেন যে, আসামীকে গ্রেফতার করে ইহার সামনে বা কোনো অধস্তন আদালতে হাজির করা হোক এবং যে আদালতে তাকে হাজির করা হয় সেই আদালত আপীলের নিষ্পত্তি সাপেক্ষে তাকে হাজতে প্রেরণ করতে পারবেন অথবা তাকে জামিন দিতে পারবেন।

“ধারা ৪২৮ : আপীল আদালত অতিরিক্ত সাক্ষ্য গ্রহণ করতে বা গ্রহণের নির্দেশ দিতে পারবেন : ১) এই অধ্যায়ের অধীন কোন আপীল বিবেচনার সময় আপীল আদালত যদি অতিরিক্ত সাক্ষ্য গ্রহণ প্রয়োজন বলে মনে করেন, তাহলে তার কারণ লিপিবদ্ধ করবেন এবং এই সাক্ষ্য গ্রহণ করতে পারবেন; অথবা কোন ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক উহা গ্রহণের নির্দেশ দিতে পারবেন; অথবা আপীল আদালত যখন হাইকোর্ট বিভাগ হয়, তখন কোন দায়রা আদালত বা কোন ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক উহা গ্রহণের নির্দেশ দিতে পারবেন।

২) দায়রা আদালত বা ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক যখন অতিরিক্ত সাক্ষ্য গৃহীত হয়, ইহা বা তিনি উক্ত সাক্ষ্য সত্যায়ন করে আপীল আদালতে প্রেরণ করবেন এবং উক্ত আদালত অতঃপর আপীল নিষ্পত্তির দিকে অগ্রসর হবেন।

৩) আপীল আদালত ভিন্নরূপ নির্দেশ না দিলে অতিরিক্ত সাক্ষ্য গ্রহণের সময় আসামি বা তার কৌসুলী উপস্থিত থাকবেন।

৪) পঞ্চবিংশ অধ্যায়ের বিধান সাপেক্ষে এই ধারার অধীন সাক্ষ্য গ্রহণ করা হবে, যেন ইহা একটি অনুসন্ধান।

“ধারা ৪২৯ : আপীল আদালতের বিচারকগণ সমসংখ্যায় বিভক্ত হলে তখনকার পদ্ধতি : আপীল আদালতের বিচারকগণ যখন তাদের অভিমতে সমানভাবে বিভক্ত হন তখন তাদের অভিমতসহ মামলাটি একই আদালতের অন্য একজন বিচারকের নিকট পেশ করতে হবে এবং তিনি যেরূপ উপযুক্ত মনে করেন সেরূপ শুনানির পর (যদি থাকে) তার অভিমত প্রদান করবেন এবং রায় বা অভিমত তার অভিমত অনুসারে প্রদত্ত হবে।

“ধারা ৪৩০ : আপীলে আদেশের চূড়ান্ত অবস্থা : ৪১৭, ৪১৭ক ধারা এবং ৩২শ অধ্যায় যে সকল বিধান আছে সেই সকল ক্ষেত্র ব্যতীত আপীল আদালত কর্তৃক আপীলে প্রদত্ত রায় ও আদেশ চূড়ান্ত হবে

“ধারা ৪৩১ : আপীল পণ্ড হওয়া : ৪১৭ ধারা ও ৪১৭ক ধারা অধীন প্রত্যেকটি আপীল আসামির মৃত্যু হলে চূড়ান্তভাবে পণ্ড হয়ে যাবে এবং এই অধ্যায়ের অধীন অন্যান্য প্রত্যেকটি আপীল (জরিমানার বিরুদ্ধে আপীল ব্যতীত) আপীলকারীর মৃত্যু হলে চূড়ান্তভাবে পণ্ড হয়ে যাবে

 



/72
40

43 minutes 12 seconds


CrPC [404-431]

এখানে ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০৪-৪৩১ পর্যন্ত ধারাগুলোর এমসিকিউ টেস্ট আছে। সংশ্লিষ্ট ধারাগুলো পড়ে নিয়ে এটি অনুশীলন করুন।

এখানে আপনার নাম ও ফোন নাম্বার লিখুন। ইমেইলটি লেখা বাধ্যতামূলক নয়; তবে, ইমেইল এড্রেস দিলে আপনার ইমেইলে বিস্তারিত ফলাফল চলে যাবে।

1 / 72

খালাস আদেশের বিরুদ্ধে ফরিয়াদি ও পাবলিক প্রসিকিউটর এর আপিল দায়ের করতে হয় যথাক্রমে -

2 / 72

যদি আদালত শুধুমাত্র জরিমানা আরোপ করে এবং উক্ত জরিমানা প্রদানের ব্যর্থতার কারণে দণ্ড আরোপ করলে উক্ত দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে - [বার : ২০১৭]

3 / 72

ফৌজদারি কার্যবিধির কত ধারায় ফৌজদারি আপিল abatement এর বিধান আছে? [বার : ২০১৭]

4 / 72

একটি ফৌজদারি আপিল প- হয় কখন?

5 / 72

যুগ্ম দায়রা জজ প্রদত্ত খালাস আদেশের বিরুদ্ধে আপিল দায়ের করতে হয়- [বার : ২০১৫]

6 / 72

ফৌজদারি কার্যবিধি বা অন্য বিশেষ আইনে বিধান না থাকলে আপিল চলবে না - ফৌজদারি আপিল সম্পর্কে এই ভিত্তিমূলক কথাটি কোন ধারার বিষয়বস্তু?

7 / 72

নিচে বর্ণিত কোন ধরনের দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করতে হয়?

8 / 72

একজন প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেটের, রাষ্ট্রদ্রোহিতা ব্যতীত, অন্য সকল অপরাধের দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে কোন আদালতে আপিল করতে হবে? [জুডি. : ২০১২]

9 / 72

কোনো রাষ্ট্র-বাদী মামলায় মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক প্রদত্ত মূল মামলায় খালাস আদেশ এর বিরুদ্ধে কোথায় আপিল করতে হবে?

10 / 72

খালাসের আদেশে বিরুদ্ধে আপিল সংক্রান্ত বিষয়ে নিচের কোন বাক্যটি সঠিক নয়?

11 / 72

আপিল আদালতের ক্ষমতা সম্পর্কে নিচের কোনটি সঠিক তথ্য নয়?

12 / 72

১ম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেটের দণ্ডাদেশের বিরূদ্ধে আপিল করতে হবে কোন আদালতে? [বার : ২০১২]

13 / 72

ফৌজদারি কার্যবিধির ৪১৪ ধারার বিষয়বস্তু হিসেবে নিচের কোনটি সঠিক?

14 / 72

কোনো যুগ্ম দায়রা জজের অপর্যাপ্ত দণ্ডাদেশে সংক্ষুব্ধ রাষ্ট্রপক্ষ কোথায় আপিল করবেন?

15 / 72

ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী কয়টি ক্ষেত্রে আপিল চলে না?

16 / 72

সদাচরণের মুচলেকার আদেশের বিরুদ্ধে আপিল চলে  - এটি ফৌজদারি কার্যবিধির কোন ধারার বিষয়বস্তু?

17 / 72

একজন অভিযোগকারী খালাস আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারে- [বার : ২০১৩]

18 / 72

ফরিয়াদি কর্তৃক খালাস আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিষয়ে নিচের কোন বাক্যটি সঠিক নয়?

19 / 72

একজন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট একটি নালিশী মামলায় কারাদণ্ড প্রদান করেন। উক্ত দণ্ডাদেশ বৃদ্ধির জন্য অভিযোগকারী নিম্নের কোন আদালতে আপিল দায়ের করবে? [জুডি. : ২০১৩]

20 / 72

আপিলের আবেদন কীভাবে করতে হয় সে সম্পর্কে ফৌজদারি কার্যবিধির কোন ধারায় বলা আছে?

21 / 72

যুগ্ম দায়রা জজ কোনো মামলায় ৫ বছরের কারাদণ্ড দিলে এর বিরুদ্ধে আপিল কোথায় করতে হবে?

22 / 72

একজন দায়রা জজ কোনো আসামিকে বিচারে খালাস প্রদান করেন। উক্ত রায়ের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত আসামি মারা যায় সেক্ষেত্রে আপিলটির ফলাফল কী হবে? [জুডি. : ২০১৩]

23 / 72

ফৌজদারি কার্যবিধির ৪২১ ধারার বিষয়বস্তু নিচের কোনটি সঠিক?

24 / 72

কোনো রাষ্ট্র-বাদী মামলায় অতিরিক্ত দায়রা জজ প্রদত্ত মূল খালাস আদেশের বিরুদ্ধে আপিল কোথায় দায়ের করতে হয়?

25 / 72

আপিল আদালত সরাসরি আপিল খারিজ করতে পারে ফৌজদারি কার্যবিধির কত ধারায়? [বার : ২০১৭]

26 / 72

এডিশনাল চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে হস্তান্তরিত আপিল কে প্রত্যাহার করে?

27 / 72

ক্রোককৃত সম্পত্তি পুনরুদ্ধারের আবেদন অগ্রাহ্য হলে এরূপ আদেশের বিরুদ্ধে ফৌজদারি আপিল চলে  - এটি কোন ধারার বিষয়বস্তু?

28 / 72

দায়রা আদালতের প্রদত্ত দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপিল করতে হয় কোথায়?

29 / 72

আপিলের নোটিশ প্রদান করতে হয় ফৌজদারি কার্যবিধির কোন ধারা মোতাবেক?

30 / 72

শান্তিরক্ষা বা সদাচরণের মুচলেকার আদেশের বিরুদ্ধে আপিল কোথায় করতে হয়?

31 / 72

একজন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপিল করতে হয় কোথায়?

32 / 72

কোনো রাষ্ট্র-বাদী মামলায় অতিরিক্ত দায়রা জজ কর্তৃক আপিলে প্রদত্ত খালাস আদেশ এর বিরুদ্ধে কোথায় আপিল করতে হবে?

33 / 72

কোনো রাষ্ট্র-বাদী মামলায় মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক আপিলে প্রদত্ত খালাস আদেশ এর বিরুদ্ধে কোথায় আপিল করতে হবে?

34 / 72

দণ্ডাদেশের অপর্যাপ্ততার বিরুদ্ধে ফরিয়াদি ও পাবলিক প্রসিকিউটর এর আপিল দায়ের করার সময়সীমা যথাক্রমে -

35 / 72

একজন চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপিল হবে- [বার : ২০১৩]

36 / 72

পাবলিক প্রসিকিউটর কর্তৃক খালাস আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিষয়ে নিচের কোন বাক্যটি সঠিক নয়?

37 / 72

সংক্ষিপ্ত বিচারের কোন ক্ষেত্রে আপিল চলবে না?

38 / 72

একজন ১ম শ্রেণির জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট পেনাল কোডের ৩৭৯ ধারায় অভিযুক্ত আসামির বিরুদ্ধে চার্জ গঠনকালে আসামি guilty plead করার ১ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন। উক্ত দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপিল দায়ের হলে নিম্নের কোনটি হতে পারে? [জুডি. : ২০১৩]

39 / 72

সংক্ষিপ্ত বিচারে অনধিক ২০০/- টাকা অর্থদণ্ড হলে উক্ত আদেশের বিরুদ্ধে প্রতিকার কী? [বার : ২০১৫]

40 / 72

নিচের কোন ক্ষেত্রে আপিল করা চলে না?

41 / 72

কোনো পিপি কর্তৃক খালাসের আদেশের বিরুদ্ধে কোনো আপিলের দরখাস্ত গৃহীত না হলে পিপি’র করণীয় হিসেবে নিচের কোনটি সঠিক?

42 / 72

যুগ্ম দায়রা জজ ৭ বছরের কারাদণ্ড আরোপ করলে উক্ত দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে কোন আদালতে আপিল করতে হবে? [বার : ২০১২]

43 / 72

আপিল পেন্ডিং থাকলে দণ্ড স্থগিত থাকবে - এটি ফৌজদারি কার্যবিধির কোন ধারার বিষয়বস্তু?

44 / 72

আপিলকারী কারাগারে থাকলে আপিল করার পদ্ধতি হিসেবে ফৌজদারি কার্যবিধির ৪২০ ধারা অনুযায়ী নিচের কোনটি সঠিক?

45 / 72

একজন অতিরিক্ত দায়রা জজ কোন ধরনের আপিল শ্রবণ করে থাকেন?

46 / 72

যদি আদালত শুধুমাত্র জরিমানা আরোপ করে এবং উক্ত জরিমানা প্রদানের ব্যর্থতার কারণে দণ্ড আরোপ করলে উক্ত দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপিল চলবে না - এটি ফৌজদারি কার্যবিধির কোন ধারার বিষয়বস্তু?

47 / 72

বিচারিক আদালত একজন দণ্ডিতকে জামিন দিতে পারে যদি তার কারদণ্ডের মেয়াদ হয় অনধিক- [বার : ২০১৫]

48 / 72

অর্থদণ্ডের বিরুদ্ধের আনীত আপিল চলাকালে আসামি মারা গেলে আপিলটি- [বার : ২০১৫]

49 / 72

ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৩১ ধারার বিষয়বস্তু হিসেবে নিচের কোনটি সঠিক?

50 / 72

নিচের কোন ক্ষেত্রে আপিল করা চলে না?

51 / 72

তুচ্ছ মামলায় কোনো আপিল নাই - এটি ফৌজদারি কার্যবিধির কোন ধারার বিষয়বস্তু?

52 / 72

ঢাকার সাভার থানার আওতাধীন একজন রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগে সর্বোচ্চ ম্যাজিস্ট্রেট আদালত কর্তৃক দণ্ডিত হলে তিনি তার দণ্ডের বিরুদ্ধে আপিল কোথায় করবেন?

53 / 72

অর্থদণ্ডের বিরুদ্ধে আপিল চলাকালে আসামি মারা গেলে আপিলটি - [জুডি. : ২০১৫]

54 / 72

আপিল আদালত অতিরিক্ত সাক্ষ্য গ্রহণ করতে পারেন বা গ্রহণের নির্দেশ দিতে পারেন - এটি ফৌজদারি কার্যবিধির কোন ধারার বিষয়বস্তু?

55 / 72

কোনো নালিশী মামলায় মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক প্রদত্ত মূল মামলায় খালাস আদেশ এর বিরুদ্ধে কোথায় আপিল করতে হবে?

56 / 72

৩য় শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট প্রদত্ত খালাস আদেশের বিরুদ্ধে আপিল হবে- [বার : ২০১৩]

57 / 72

আসামি দোষ স্বীকার করলে আপিল চলবে না - এটি ফৌজদারি কার্যবিধির কোন ধারার বিষয়বস্তু?

58 / 72

আসামি দোষ স্বীকার করলে নিচে বর্ণিত কোন বাক্যটি সঠিক নয়?

59 / 72

ঢাকা মেট্রোপলিটনের শাহবাগ থানাধীন একজন ১ মাসের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হলে সেই দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপিল সম্পর্কে নিচের কোন বাক্যটি সঠিক?

60 / 72

‘ক’ দণ্ডবিধি, ১৮৬০ এর ৩২৩ ধারায় দোষী সাব্যস্ত হলে জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ‘ক’ কে ১ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করে। ‘ক’ উক্ত রায়ের কার্যকারিতা স্থগিত চেয়ে আপিল দায়েরের শর্তে জামিনের আবেদন করেন। ‘ক’ এর দরখাস্তটি ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ এর কত ধারায় আনীত হয়েছে? [জুডি. : ২০১৭]

61 / 72

একজন চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত কোন অধস্তন আদালতের দণ্ডাদেশের আপিল শুনতে পারেন?

62 / 72

কোনো দ্বিতীয় শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেটের অপর্যাপ্ত দণ্ডাদেশে সংক্ষুব্ধ রাষ্ট্রপক্ষ কোথায় আপিল করবেন?

63 / 72

কোনো ফরিয়াদি কর্তৃক মামলায় অতিরিক্ত দায়রা জজ কর্তৃক প্রদত্ত আপিলে খালাস আদেশের বিরুদ্ধে আপিল কোথায় করতে হয়?

64 / 72

একজন দ্বিতীয় শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট প্রদত্ত দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপিল করতে হয়-

65 / 72

তৃতীয় শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট প্রদত্ত দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপিল করতে হয়- [বার : ২০১৫]

66 / 72

একজন দ্বিতীয় শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট প্রদত্ত দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপিল নিচের কোন আদালতে অনুষ্ঠিত হতে পারে?

67 / 72

মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট যদি দণ্ডবিধির ১২৪ক ধারায় শাস্তি দেয় তবে এর বিরুদ্ধে আপিল কোথায় করতে হবে?

68 / 72

একটি Complaint Case -এ প্রদত্ত খালাসের রায় প্রদানের কত দিনের মধ্যে Complaint আপিল করতে পারবে? [জুডি. : ২০১২]

69 / 72

ফৌজদারি কার্যবিধির ৪২০ ধারার বিষয়বস্তু হিসেবে নিচের কোনটি সঠিক?

70 / 72

ঢাকার শাহবাগ থানার আওতাধীন একজন রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগে দণ্ডিত হলে তিনি তার দণ্ডের বিরুদ্ধে আপিল কোথায় করবেন?

71 / 72

কোনো দণ্ডের কঠোরতা কী ধরনের বিষয় বলে গণ্য করা হয় আইনে?

72 / 72

একজন ১ম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট প্রদত্ত দণ্ডাদেশ অপর্যাপ্ত হলে, রাষ্ট্রপক্ষ দণ্ড বৃদ্ধির জন্য কোথায় আপিল করতে পারে? [জুডি. : ২০১৪]

Your score is

0%



বিগত এমসিকিউ সাফল্য

Registered [2017 & 2020 MCQ]

Passed Students [2017 & 2020 MCQ]

Registered [MCQ Exam of 2021]