৬ ডিসেম্বর, শুক্রবার, ৩ টায়, ফার্মগেট, ঢাকায়

বার কাউন্সিল প্রস্তুতি বিষয়ক
উন্মুক্ত সেমিনার!

আসন বুকিং দিন : 01712-908561

Evidence Act : Lecture 9 

Section 101-117

ম্যাপিং : সাক্ষ্য আইনের ৩য় ভাগে ধারা ১০১ থেকে ১৬৭ পর্যন্ত আছে। মানে শেষ পর্যন্ত। এর মধ্যে খুব গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি অংশ আছে। এই ৩য় ভাগের মূল আলোচনার বিষয় সাক্ষ্য উপস্থাপন এবং তার ফলাফল বা তার প্রতিক্রিয়া। সপ্তম অধ্যায়ে ১০১ থেকে ১১৪ ধারা আছে। এখানে প্রমাণের ভার বা প্রমাণের দায় [Burden of proof] আলোচনা আছে। আর অষ্টম অধ্যায়ে ‘স্বীকৃতির বাধা’ [Estoppel] শিরোনামে মাত্র তিনটি ধারা। ১১৫ – ১১৭ ধারা।

ধারাগুলো খুবই সহজ। ৭ম অধ্যায়ে ১৪ টি ধারা থাকলেও সবগুলোর নীতি এক কথাতেই প্রকাশ করা যায়। কিন্তু বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে কিছু বিষয়কে আরো নির্দিষ্ট করার জন্য এতগুলো ধারার সৃষ্টি হয়েছে। ধারাগুলো ছোট ছোট এবং পরিষ্কার ভাষায় বর্ণিত আছে। মূল ধারা সংক্রান্ত কোনো বাড়তি আলোচনা না পড়লেও চলে। এখান থেকে বিগত পরীক্ষাগুলোতে মোট ৬ টি প্রশ্ন এসেছিলো। আর ৮ম অধ্যায় থেকে ১ টি।

মূল আলোচনা

মূল ধারাগুলো পড়ার আগে সামান্য আলোচনা বা উদাহরণ দেখুন।

প্রমাণের দায় বা প্রমাণের ভার সম্পর্কে একটি সাধারণ কথা মনে রাখবেন যে, যিনি কোনো কিছু দাবী করেন বা যিনি কোনো দাবীর পক্ষে রায় পাবার জন্য আদালতে আসেন তাকেই প্রমাণ করতে হয় তার বিষয়বস্তুটি। মানে প্রমাণের ভার যিনি দাবী করেন কোনো কিছুর, সবসময় তার ওপরেই বর্তায়। উদাহরণ দেখি।

ধরুন, আপনি বন্ধুর কাছে ১০,০০০/- টাকা ধার করেছেন। সেই টাকা আপনি পরিশোধ করছেন না। তখন আপনার বন্ধুটি আদালতে মামলা করলে তাকেই প্রমাণ করে দেখাতে হবে যে, আসলেই আপনি তার কাছ থেকে উক্ত টাকা ধার হিসেবে নিয়েছিলেন। এর জন্য তাকে উক্ত টাকার লেনদেনের সময়কার কোনো চুক্তি বা ব্যাংকের চেক অথবা অন্য কোনো উপায়ে তাকেই প্রমাণ করতে হবে যে আপনি তার কাছ থেকে টাকা নিয়েছিলেন। আপনাকে এটা প্রমাণ করতে হবে না যে, আপনি তার কাছ থেকে টাকা নেন নি। আপনার ওপর কোনো প্রমাণের ভার বা প্রমাণের দায় নেই। তবে, ধরা যাক, আপনি স্বীকার করে নিলেন যে, আপনি টাকাটা নিয়েছেন, কিন্তু সেই টাকাটা আপনারই প্রাপ্য ছিলো, সেটা কোনো ধার বা কর্জ ছিলো না; সেটা ছিলো অতীতের কোনো পাওনা টাকা, যা আপনাকে আপনার বন্ধু পরিশোধ করেছে মাত্র! এবার আপনার পালা। কেননা, এবার আপনি দাবি করলেন, তা ছিলো কোনো টাকা পরিশোধের ঘটনা মাত্র যা কিনা আপনারই পাওনা ছিলো! তার মানে, যিনি যা দাবী করবেন তাকেই তা প্রমাণ করতে হবে। এটাই সকল ক্ষেত্রে প্রমাণের দায়ভার এর নীতি। এর বাইরে কোনো কথা নেই।

সাধারণভাবে দেওয়ানি মামলায় বাদী পক্ষের ওপর প্রমাণের ভার থাকে আর ফৌজদারি মামলায় অভিযোগকারী বা বাদী পক্ষের বা রাষ্ট্র পক্ষের ওপর প্রমাণের ভার থাকে। তবে ঘটনাচক্রে বিবাদী বা আসামীর ওপরও প্রমাণের ভার স্থানান্তর হতে পারে, যদি কোনো দাবি তার থাকে!

একটু অতীতে যাই। আপনারা দণ্ডবিধির ব্যতিক্রম পড়ে এসেছিলেন। যেমন, একটি শিশু যদি ৯ বছরের কম বয়স হয় এবং তার সুবাদে সে দাবি করে যে, তার বয়স ৯ বছরের কম এবং এই কারণে বা হেতুতে সে মামলার বর্ণিত অভিযোগে সে অভিযুক্ত হতে পারে না; সেক্ষেত্রে তাকেই প্রমাণ করতে হবে তার বয়স ৯ বছরের কম [দণ্ডবিধির ৮২ ধারা]। আবার তার বয়স ৯ বছরের বেশি এবং ১২ বছরের কম, কিন্তু অভিযুক্ত বিষয়ে তার বয়সের যথার্থ পরিপক্কতা অর্জন হয়নি বিধায় সে মামলার অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পেতে পারে, এক্ষেত্রেও তাকেই সেটা প্রমাণ করতে হবে। ব্যক্তিগত আত্মরক্ষার অধিকার প্রসঙ্গেও আসামী এভাবে তার দাবি তুলতে গেলে প্রমাণের দায়ভার আসামীর ওপর পড়ে।

যাইহোক, ধারাগুলো ভালো করে একবার করে পড়ে নেবেন। ১০৭, ১০৮ উল্টে পাল্টে পড়ে নেবেন। এই দুইটার আলোচনা হয়তো দরকার ছিলো। এটা আপনাদের জন্য ‘নিজে করি’ হিসেবে রেখে দিলাম। 🙂 প্রশ্ন কিন্তু এই দুইটি ধারা থেকে আসে! অন্যান্য ধারাগুলোতে পর্যাপ্ত উদাহরণ সমেত মূল ধারাগুলো দেয়া আছে। ১১২ ও ১১৪ ধারা দুইটিও ভালো ভাবে পড়বেন। যথেষ্ট।

“ধারা ১০১ : প্রমাণের দায়িত্ব [Burden of proof] : কোন লোক আদালতে কোন ঘটনার অস্তিত্ব দাবী করিয়া যদি সেই ঘটনার অস্তিত্বের উপর নির্ভরশীল কোন আইনগত অধিকার বা দায় সম্পর্কে আদালতের রায় কামনা করে, তবে সেই ঘটনার অস্তিত্ব অবশ্যই তাহার প্রমাণ করিতে হইবে [Whoever desires any Court to give judgment as to any legal right or liability dependent on the existence of facts which he asserts, must prove that those facts exist.]।

কোন লোক যখন কোন ঘটনার অস্তিত্ব প্রমাণ করিতে বাধ্য থাকে, তখন বলা হয় যে, ঘটনাটি প্রমাণ করিবার দায়িত্ব সেই লোকের উপর ন্যস্ত।

(ক) ‘ক’ বলে যে, ‘খ’ একটি অপরাধ করিয়াছে। সেই অপরাধের জন্য ‘খ’ দণ্ডিত হইবে, এই মর্মে ‘ক’ আদালতের রায় কামনা করে।

‘খ’ যে সেই অপরাধ করিয়াছে, ‘ক’-এর তাহা অবশ্যই প্রমাণ করিতে হইবে।

(খ) ‘ক’ এই মর্মে আদালতের রায় কামনা করে যে, ‘খ’-এর দখলভুক্ত কোন একটি জমি ‘ক’ পাইবার অধিকারী। ইহার সমর্থনে কতগুলি ঘটনার অস্তিত্ব দাবী করে এবং ‘খ’ সেই সমস্ত ঘটনার অস্তিত্ব স্বীকার করে।

ঐ সমস্ত ঘটনার অস্তিত্ব অবশ্যই ‘ক’-এর প্রমাণ করিতে হইবে।

“ধারা ১০২ : প্রমাণের দায়িত্ব কাহার উপর বর্তায় [On whom burden of proof lies] : কোন দেওয়ানী মোকদ্দমায় বা কার্যক্রমে কোন পক্ষ হইতেই কোন সাক্ষ্য দেওয়া না হইলে যে পক্ষ মোকদ্দমায় ঠকিবে, মোকদ্দমার বিষয়বস্তু প্রমাণ করিবার দায়িত্ব সেই পক্ষের উপর বর্তায় [The burden of proof in a suit or proceeding lies on that person who would fail if no evidence at all were given on either side.]।

উদাহরণসমূহ
(ক) ‘ক’ একটি জমির জন্য ‘খ’-এর বিরুদ্ধে দেওয়ানী মোকদ্দমা দায়ের করে। জমিটি ‘খ’-এর দখলে আছে। ‘ক’ দাবী করে যে, ‘খ’-এর পিতা ‘গ’ ইউল করিয়া ঐ জমি ‘ক’-কে দিয়া গিয়াছে।

এই মোকদ্দমায় কোন পক্ষ কোন সাক্ষ্য না দিলে ‘খ’ জমির দখল বজায় রাখিবার অধিকারী হইবে।

সুতরাং এক্ষেত্রে প্রমাণের দায়িত্ব ‘ক’-এর উপর বর্তায়।

(খ) একটি খত মূলে পাওনা টাকা দাবী করিয়া ‘খ’ এর বিরুদ্ধে ‘ক’ একটি দেওয়ানী কোকদ্দমা দায়ের করে। ‘খ’ সংশ্লিষ্ট খত সম্পাদন স্বীকার করিয়া বলে যে, প্রতারণার দরুন উক্ত খত সম্পাদিত হইয়াছিল।  ‘ক’ তাহা অস্বীকার করে।

কোন পক্ষ যদি কোন সাক্ষ্য না দেয়, তবে খত সম্পর্কে কোন অভিযোগ থাকিবে না এবং প্রতারণা প্রমাণ হইবে না। ফলে ‘ক’ মোকদ্দমায় জিতিবে।

সুতরাং এক্ষেত্রে প্রমাণের দায়িত্ব ‘খ’-এর উপর বর্তায়।

“ধারা ১০৩ : কোনো নির্দিষ্ট তথ্য প্রমাণের দায়িত্ব [Burden of proof as to particular fact] : যে লোক কোনো ঘটনার অস্তিত্ব আদালতকে বিশ্বাস করাইতে চায়, সেই তথ্যের অস্তিত্ব প্রমাণ করিবার দায়িত্ব সেই লোকের ওপর ন্যস্ত, অবশ্য অন্য কোনো আইন অনুযায়ী উক্ত তথ্য প্রমাণের দায়িত্ব কোনো ব্যক্তি বিশেষের ওপর ন্যস্ত হইয়া থাকিলে তাহাই বলবৎ হইবে।

উদাহরণসমূহ
‘ক’ চুরির দায়ে ‘খ’-কে ফৌজদারীতে সোপর্দ করে। ‘ক’ আদালতকে বিশ্বাস করাইতে চায় যে, ‘খ’ চুরির কথা ‘গ’-এর নিকট স্বীকার করিয়াছে। স্বীকৃতির বিষয় অবশ্যই ‘ক’-এর প্রমাণ করিতে হইবে।

‘খ’ আদালতকে বিশ্বাস করাইতে চায় যে, সংশ্লিষ্ট সময়ে সে অন্যত্র ছিল। ইহা অবশ্যই তাহার প্রমাণ করিতে হইবে।

“ধারা ১০৪ : সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য করিবার জন্য যে ঘটনা প্রমাণ করিতে হইবে তাহা প্রমাণের দায়িত্ব [Burden of proving fact to be proved to make evidence admissible] : কোন লোক যাহাতে অপর কোন ঘটনার সাক্ষ্য দিতে পারে, তজ্জন্য যে ঘটনা প্রমাণ করা আবশ্যক, যে লোক সাক্ষ্য দিতে ইচ্ছুক তাহারই উপর উপরোক্ত ঘটনার প্রমাণের দায়িত্ব বর্তায়।

উদাহরণসমূহ
(ক) ‘খ’-এর মৃত্যুকালনি ঘোষণা ‘ক’ প্রমাণ করিতে ইচ্ছুক। এক্ষেত্রে ‘খ’-এর মৃত্যু অবশ্যই ‘ক’-এর প্রমাণ করিতে হইবে।

(খ) ‘ক’ একটি হারিয়ে যাওয়া দলিলের বিষয়বস্তু মাধ্যমিক সাক্ষ্য দ্বারা প্রমাণ করিতে ইচ্ছুক।

দলিলটি যে হারাইয়া গিয়াছে তাহা অবশ্যই ‘ক’-এর প্রমাণ করিতে হইবে।

“ধারা ১০৫ : আসামীর মামলা যে ব্যতিক্রমের মধ্যে ধরা পড়ে, তাহা প্রমাণের দায়িত্ব [Burden of proving that case of accused comes within exceptions] : কোন লোক কোন অপরাধে অপরাধী হইলে, মোকদ্দমাটি যাহাতে দণ্ডবিধিতে উল্লেখিত সাধারণ ব্যতিক্রমসমূহের মধ্যে পড়িতে পারে [within any of the General Exceptions in the  Penal Code], কিংবা দণ্ডবিধিতে উল্লেখিত কোন বিশেষ ব্যতিক্রম বা উহার অপর কোন অংশে উল্লেখিত কোন শর্তের মধ্যে পড়িতে পারে, বা উক্ত অপরাধ সম্পর্কিত অপর কোন আইনে উল্লেখিত কোন শর্তের মধ্যে পড়িতে পারে, এইরূপ কোন পরিস্থিতির অস্তিত্ব প্রমাণ করিবার দায়িত্ব অপরাধী লোকের উপর ন্যস্ত থাকে এবং এইরূপ ক্ষেত্রে আদালত অবশ্যই পরিস্থিতি অনুপস্থিত বলিয়া অনুমান করিবেন [the Court shall presume the absence of such circumstances]।

উদাহরণসমূহ
(ক) খুনের দায়ে অভিযুক্ত ‘ক’ অভিযোগ করে যে, মানসিক অসুস্থ্যতার দরুন সে তাহার কৃত কার্যের প্রকৃতি জ্ঞাত ছিল না।

ইহা প্রমাণের দায়িত্ব ‘ক’-এর উপর ন্যস্ত।

(খ) খুনের দায়ে অপরাধী ‘ক’ অভিযোগ করে যে, গুরুতর ও আকস্মিক উস্কানির ফলে সে আত্ম-নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা হারাইয়া ফেলেছিল।

ইহা প্রমাণের দায়িত্ব ‘ক’ এর উপর বর্তায়।

(গ) বাংলাদেশ দণ্ডবিধি ৩২৫ ধারায় উল্লেখিত হইয়াছে যে, কোন লোক উক্ত বিধির ৩৩৫ ধারায় উল্লেখিত অবস্থা ভিন্ন অন্যান্য ক্ষেত্রে সেব্চ্ছায় কাহাকেও গুরুতরূপে জখম করিয়ে আইনে নির্দিষ্ট দণ্ডে দণ্ডিত হইবে।

‘ক’ দণ্ডবিধির ৩২৫ ধারা অনুযায়ী গুরুতর জখম করিবার দায়ে অপরাধী হইল।

মামলাটি যে ৩৩৫ ধারায় উল্লেখিত পরিস্থিতির অধীনে পড়ে, তাহা প্রমাণ করিবার দায়িত্ব ‘ক’-এর উপর বর্তায়।

“ধারা ১০৬ : যে ঘটনা বিশেষভাবে কাহারও জানা থাকে তাহা প্রমাণের দায়িত্ব [Burden of proving fact especially within knowledge] : কোন ঘটনা যখন বিশেষ করিয়া কোন লোকের জানার মধ্যে থাকে তখন সেই ঘটনা প্রমাণ করিবার দায়িত্ব সেই লোকের উপরই ন্যস্ত থাকে

উদাহরণসমূহ
(ক) কোন লোক যখন এমন ইচ্ছা প্রণোদিত হইয়া একটি কার্য করে, যে ইচ্ছা কার্যের প্রকৃতি ও পরিস্থিতি হইতে অনুমিত ইচ্ছা অপেক্ষা ভিন্ন, তখন ইচ্ছা প্রমাণের দায়িত্ব সেই লোকের উপর ন্যস্ত থাকে।

(খ) বিনা টিকেটে রেল গাড়ীতে ভ্রমেণর দায়ে ‘ক’ অভিযুক্ত হইল। তাহার নিকট টিকেট ছিল; ইহা প্রমাণের দায়িত্ব তাহারই উপর বর্তায়।

“ধারা ১০৭ : ত্রিশ বৎসরের মধ্যে যে লোক জীবিত বলিয়া জ্ঞাত আছে তাহার মৃত্যু প্রমাণের দায়িত্ব [Burden of proving death of person known to have been alive within thirty years] : যখন প্রশ্ন হইতেছে, কোন লোক জীবিত বা মৃত এবং ইহা বুঝায় যে, বিগত ৩০ বৎসরের মধ্যে সেই লোক জীবিত ছিল, তখন যে লোক তাহাকে মৃত বলিয়া দাবী করে, উক্ত ব্যক্তি যে মৃত, তাহা প্রমাণের দায়িত্ব সেই লোকের উপর ন্যস্ত হয় [When the question is whether a man is alive or dead, and it is shown that he was alive within thirty years, the burden of proving that he is dead is on the person who affirms it.]।

“ধারা ১০৮ : যে ব্যক্তি সম্পর্কে সাত বছর যাবৎ কোন খবর পাওয়া যায় নাই সে জীবিত আছে, তাহা প্রমাণের দায়িত্ব [Burden of proving that person is alive who has not been heard of for seven years] : যখন প্রশ্ন হইতেছে, কোন ব্যক্তি জীবিত বা মৃত এবং প্রতীয়মান হইয়াছে যে, সেই লোক জীবিত থাকিলে স্বাভাবিকভাবে যাহারা তাহার খবর পইত, তাহারা সাত বছর যাবৎ তাহার কোন খবর নাই, তখন সেই লোক জীবিত বলিয়া যে দাবী করে, উহা প্রমাণ করিবার দায়িত্ব তাহার উপর ন্যস্ত হয় [Provided that when the question is whether a man is alive or dead, and it is proved that he has not been heard of for seven years by those who would naturally have heard of him if he had been alive, the burden of proving that he is alive is shifted to the person who affirms it.]।

“ধারা ১০৯ : অংশীদারগণের মধ্যে, জমিদার ও প্রজার মধ্যে, মালিক এবং প্রতিনিধির মধ্যে সম্পর্কে প্রমানের দায়িত্ব [Burden of proof as to relationship in the cases of partners, landlord and tenant, principal and agent] : যখন প্রশ্ন হইতেছে, কোন লেকের পরস্পর অংশীদার কিনা, কিংবা জমিদার ও প্রজা কিনা, কিংবা মালিক এবং প্রতিনিধি কিনা, এবং প্রমাণিত হইয়াছে যে, তাহারা অনুরূপভাবে কাজ করিয়া আসিতেছে, তখন যে লোক দাবী করে যে, উপরোক্ত লোকদের মধ্যে অনুরূপ সম্পর্কে নাই, অথবা সেই সম্পর্কের অবসান হইয়াছে, তাহা প্রমাণ করিবার দায়িত্ব সেই লোকের উপর ন্যস্ত হয়।

“ধারা ১১০ : মালিকানা প্রমাণের দায়িত্ব [Burden of proof as to ownership] : যখন প্রশ্ন হইতেছে, যে লোকের দখলে কিছু আছে বলিয়া বুঝায়, সেই লোক উহার মালিক কিনা, তখন যে লোক দাবী করে যে, দখলকারী লোক সেই জিনিসের মালিক নহে, সেই লোকের উপরই উহা প্রমাণের দায়িত্ব ন্যস্ত হয়।

“ধারা ১১১ : যে লেনদেনের ক্ষেত্রে এক পক্ষের সক্রিয় আস্থার সম্পর্কে, সেই ক্ষেত্রে সরল বিশ্বাসের প্রমাণ [Proof of good faith in transactions where one party is in relation of active confidence] : যেক্ষেত্রে দুই পক্ষের এক পক্ষের সহিত অপর পক্ষের সক্রিয় আস্থার সম্পর্ক বিদ্যমান, সেইক্ষেত্রে উক্ত দুই পক্ষের মধ্যে কোন লেনদেনের ব্যাপারে সরল বিশ্বাস সম্পর্কে যদি প্রশ্ন ওঠে, তবে যে পক্ষ সক্রিয় আস্থার দ্বারা সম্পর্কিত সেই পক্ষের উপর সরল বিশ্বাস প্রমাণের দায়িত্ব ন্যস্ত হয়।

উদাহরণসমূহ
(ক) মক্কেল কর্তৃক উকিলের কিছু বিক্রয়ের ব্যাপারে মক্কেল একটি মোকদ্দমা দায়ের করিয়া উক্ত বিক্রয়ের ক্ষেত্রে সরল বিশ্বাস সম্পর্কে প্রশ্ন উত্থাপন করিয়াছে। লেনদেনটির সরল বিশ্বাস প্রমাণ করিবার দায়িত্ব পিতার উপর বর্তায়।

(খ) সদ্য বয়ঃপ্রাপ্ত পুত্র কর্তৃক পিতার নিকট বিক্রয়ের ব্যাপারে পুত্র একটি মামলা দায়ের করিয়া উক্ত বিক্রয়ের ক্ষেত্রে সরল বিশ্বাস সম্পর্কে প্রশ্ন উত্থাপন করিয়াচ্ছে। লেনদেনটির সরল বিশ্বাস প্রমাণ করিবার দায়িত্ব পিতার উপর বর্তায়।

“ধারা ১১২ : বিবাহ স্থির থাকাকালে সন্তানের জন্মই তাহার বৈধতার চূড়ান্ত প্রমাণ [Birth during marriage conclusive proof of legitimacy] : কোন লোকের মাতার সহিত এক লোকের আইনতঃ সিদ্ধ বিবাহ কায়েম থাকাকালে, কিংবা বিবাহ বিচ্ছেদের পর দুইশত আশি দিনের মধ্যে তাহার মাতা অবিবাহিতা থাকাকালে যদি তাহার জন্ম হইয়া থাকে, এবং যদি না প্রমাণিত হয় যে, ঐ লোক যখন মাতৃগর্ভে আসিয়া থাকিতে পারে, অনুরূপ কোন সময়ে বিবাহিত পক্ষদ্বয়ের পরস্পরের মধ্যে মিলনের পথ উন্মুক্ত ছিল না, তবে জন্মের ঘটনা দ্বারা অবশ্যই চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হইবে যে, সে তাহার মাতার সহিত বিবাহিত উক্ত লোকের বৈধ সন্তান।

ধারা ১১৩ : বাতিল।

“ধারা ১১৪ : আদালত কতিপয় ঘটনার অস্তিত্ব অনুমান করিতে পারিবেন [Court may presume existence of certain facts] : স্বাভাবিক ঘটনাবলীর সাধারণ গতিধারা, মানবিক এবং সরকারী ও বেসরকারী কার্যাবলীর পরিপ্রেক্ষিতে একটি বিশেষ মোকদ্দমার ঘটনা বিবেচনা করিয়া যাহা ঘটিয়া থাকে সম্ভব বলিয়া আদালত মনে করেন, সেই ঘটনার অস্তিত্ব আদালতে অনুমান করিয়া লইতে পারিবেন।

উদাহরণসমূহ

আদালত অনুমান করিতে পারেন যে,

(ক) চুরির অব্যবহিত পরই চোরাই মালা যে লোকের দখলে থাকে, সে যদি তাহার দখলের কারণ দর্শইতে না পারে, তবে সে লোক চোর কিংবা চোরাই মাল বলিয়া জানা সত্ত্বেও সই উহা গ্রহণ করিয়াছে।

(খ) সহযোগীর বিবৃতি যদি না প্রয়োজনীয় তথ্যাদি সহ সমির্থত হয়, তবে তাহা বিশ্বাসের অযোগ্য।

(গ) স্বীকৃত বা পৃষ্ঠাঙ্কিত বিনিময় পত্র উপযুক্ত প্রতিদানের বিনিময়ে স্বীকৃত বা পৃষ্ঠাঙ্কিত হইয়াছে।

(ঘ) যে জিনিস বা জিনিসের যে অবস্থা সাধারণতঃ যে সময়ের পর আর বিদ্যমান থাকে না, তদপেক্ষা সম সময়ের মধ্যে সেই জিনিস বা জিনিসের সেই অবস্থা বিদ্যমান বলিা দেখান হইয়া থাকিলে, তাহা বিদ্যমান আছে।

(ঙ) বিচার বিষয়ক ও সহকারী কার্যাবলী নিয়মিতভাবে সম্পন্ন হইয়াছে।

(চ) নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে কার্যের সাধারণ রীতি-নীতি অনুসরণ করা হইয়াছে।

(ছ) যে সাক্ষ্য হাজির করিতে পারা যাইত, কিন্তু হাজির করা হয় নাই, তাহ হাজির হইলে যে লোক হাজির হইতে দেয় নাই, তাহার বিপক্ষ যাইত।

(জ) কোন লোক আইনতঃ যে প্রশ্নের উত্তর দিতে বাধ্য নয়, সেই প্রশ্নের উত্তর দিতে যে অস্বীকার করিলে উহার উত্তর সেই লোকের প্রতিকূলে যাইত।

(ঝ) যে দলিল দ্বারা একজনের নিকট আরেকজনের দায় সৃষ্টি হয়, দলিল যদি যাহার দায় সৃষ্টি হয় তাহার হাতে থাকে, তবে দায়ের অবসান ঘটিয়াছে।

কিন্তু সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে উপরে উল্লেখিত সূত্রসমূহ প্রযোজ্য হইবে কিনা, তাহার বিচার কবিবার সময় নিম্নবর্ণিত ঘটনাগুলিও অবশ্যই বিবেচনা করিবেন, যথা-

উদাহরণ (ক)-এর ক্ষেত্রে : চিহ্নিত একটি টাকা চুরি হইবার অব্যবহিত পর জনৈক দোকানদারের বাক্সে ঐ টাকা পাওয়া গেল, দোকানদার ঐ নির্দিষ্ট টাকা প্রাপ্তির সঠিক হেতু প্রদর্শন করিতে পারিল না, কিন্তু তাহার ব্যবসা প্রসঙ্গে সে টাকা পাইতেছে।

উদাহরণ (খ)-এর ক্ষেত্রে : ‘ক’ সর্বোত্তম চরিত্রের অধিকারী একজন লোক্, বিশেষ একটি যন্ত্রের ব্যবস্থাপনায় অবহেলার দ্বারা এক লোকের মৃত্যু ঘটাইবার দায়ে তাহার বিচার হইতেছে। ‘খ’-এর অনুরূপ চরিত্রবান লোক এবং সেও উক্ত ব্যবস্থাপনায় অংশ গ্রহণ করিয়াছিল। সে ঘটনার সঠিক বর্ণনা দিল এবং তাহার নিজের ও ‘ক’-এর সাধারণ অসাবধানতার কথা স্বীকার করিল।

উদাহরণ (খ)-এর ক্ষেত্রে :তিপয় লোকের দ্বারা একটি অপরাধ সংঘটিত হইল। ‘ক’, ‘খ’ ও ‘গ’ এই তিনজন অবরাধীকে ঘটনাস্থলেই গ্রেফতার করিয়া তাহাদিগকে পরস্পর হইতে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় আটক রাখা হইল। তাহাদের প্রত্যেকেই ‘খ’-কে জড়িত করিয়া ঘটনার বিবরণ দান করিল। বিবৃতিগুলিতে পরস্পরের বক্তব্যের এইরূপ সমর্থন পাওয়া গেল, যাহাতে কোনরূপ পূর্ব-পরিকল্পনা সম্পূর্ণ অসম্ভব প্রতীয়মান হয়।

উদাহরণ (গ)-এর ক্ষেত্রে : একটি বিনিময় পত্র প্রণেতা ‘ক’ একজন ব্যবসায়ী। বিনিময় পত্রটির স্বীকৃতিদাতা ‘খ’ একজন অজ্ঞ যুবক এবং সে সম্পূর্ণরূপে ‘ক’-এর প্রভাববাধীন।

উদাহরণ (ঘ)-এর ক্ষেত্রে : প্রমাণিত হইল যে, একটি নদী ৫ বছর আগে একটি নির্দিষ্ট গতিপথে প্রবাহিত ছিল। কিন্তু ইহাও জানা যায় যে, উক্ত সময়ের পর বন্যা হইয়াছে, যাহার ফলে নদীটির গতিপথে পরিবর্তন আসিতে পারে।

উদাহরণ (ঙ)-এর ক্ষেত্রে : বিচার বিষয়ক যে কার্যটি নিয়মিতভাবে সম্পন্ন হওয়া সম্পর্কে প্রশ্ন উঠিয়াছে, তাহা ব্যত্ক্রিমজনিত পরিস্থিতিতে সম্পন্ন হইয়াছে।

উদাহরণ (চ)-এর ক্ষেত্রে : প্রশ্ন হইল, একটি পত্র গৃহীত হইয়াছে কিনা। পত্রখানি ডাকে দেওয়া হয় বলিয়া প্রমাণিত হইয়াছে। কিন্তু গোলযোগের ফলে স্বাভাবিক ডাক চলাচলে বিঘœ হইয়াছিল।

উদাহরণ (ছ)-এর ক্ষেত্রে : সামান্য গুরুত্ব সম্পন্ন একটি চুক্তির ব্যাপারে ক লোকের বিরুদ্ধে দেওয়ানী মোকদ্দমা দায়ের হইয়াছে। ঐ চুক্তির সহিত সংশিষ্ট একটি দলিল দাখিল করিতে সেই লোক অস্বীকার করিল। কিন্তু দলিলটি দাখিল করিলে তদ্বারা তাহার পারিবারিক মনোভাব ও খ্যাতি ক্ষুন্ন হইতে পারিত।

উদাহরণ (জ)-এর ক্ষেত্রে : এক লোক উত্তর দিতে আইনতঃ বাধ্য নয়, সেই প্রশ্নের উত্তর দিতে অস্বীকার করিল। যে বিষয় প্রসঙ্গে তাহাকে প্রশ্নটি জিজ্ঞাসা করা হইয়াছে, তাহা ছাড়া অন্য ব্যাপারে ঐ প্রশ্নের উত্তর দ্বারা তাহার ক্ষতি হইতে পারিত।

উদাহরণ (ঝ)-এর ক্ষেত্রে : একটি মুচলেকা দ্বারা যাহার দায় সৃষ্টি হইয়াছে, মুচলেকাটি তাহারই দখলে আছে, কিন্তু মোকদ্দমার পরিস্থিতি এইরূপ যে, সে উহা চুরি করিয়া থাকিতে পারে।


এবারে ১১৫, ১১৬ এবং ১১৭ ধারায় এই ৩ টি ধারায় ‘স্বীকৃতির বাধা’ শিরোনামে প্রতিবন্ধের নীতি আলোচনা আছে। এটা সাক্ষ্য আইনের একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতি। প্রতিবন্ধের নীতিটি ইংরেজিতে Estoppel নামে পরিচিত। এর একটা ভালো বাংলা হলো – স্ব-কারযজনিত বাঁধা। পরীক্ষায় বাংলা বা ইংরেজি যে শব্দই দিয়ে আসুক না কেন, ভড়কাবেন না। এই Estoppel শব্দটার আরেকটা অর্থ হচ্ছে নিবৃত্তি। মানে কোনো কিছুকে থামানো বা থামিয়ে দেয়া।

ধারাগুলোর আগে সামান্য আলোচনা। ধরুন, আপনি একটি জমি কিনবেন রহিমের কাছ থেকে, এখনো কেনেন নি, সামনের মাসে কিনবেন। কিন্তু এ মাসেই সুমনকে পটিয়ে সটিয়ে বললেন আপনি উক্ত জমির মালিক। এবং সুমন আপনার কথায় সদবিশ্বাসে বিশ্বাস করে জমিটি কিনে ফেললো আপনার কাছ থেকে। পরের মাসে আপনি যখন সত্যি বা প্রকৃত অর্থে উক্ত জমিটি রহিমের কাছে থেকে ক্রয় করলেন তখন আপনি দাবি করলেন যে, আগের বিক্রয়টা সঠিক নয় এবং এই জমির মালিক আপনিই, কেননা, সুমনের জমি ক্রয় সঠিক নয়।

আপনি এই যে সুমনকে প্ররোচিত করলেন, তাকে বিশ্বাস করালেন এবং মিথ্যাভাবে, গোজামিল দিয়ে জমি বিক্রয় করলেন এবং এর পরে আপনি দাবি করলেন যে, জমিটির প্রকৃত মালিক আপনি, সুমন নয় – এমন দাবি করতে পারবেন না আপনি। এটাই Estoppel নীতির মূল কথা। মানে, আগের আপনার স্বীকৃতি দেয়া কোনো বিষয়কে আপনি অস্বীকার করতে পারবেন না। মানে, কোনো ব্যক্তির পরস্পর বিরোধী বক্তব্য আদালতে গ্রহণীয় নয়। খুব সিম্পল।

ধারাগুলোতে একবার মনোযোগী রিডিং দিয়ে রাখেন। ধারা ও বিষয়বস্তু সংক্রান্ত প্রশ্ন আসার সম্ভাবনাই বেশি।

“ধারা ১১৫ : স্বীকৃতির বাধা [Estoppel] : কোন লোক যখন তাহার ঘোষণা, কার্য বা কর্য হইতে বিরত থাকিবার দ্বারা স্বেচ্ছায় অপর কাহাকেও কোন কিছু সত্য বলিয়া বিশ্বাস করাইয়াছে বা বিশ্বাস করিতে দিয়াছে এবং সেই বিশ্বাসের ভিত্তিতে কাজ করিতে দিয়াছে, তখন উক্ত দুটি লোকের মধ্যে বা প্রথমোক্ত লোক এবং শেষোক্ত লোকের প্রতিনিধির মধ্যে কোন মোকদ্দমায় প্রথমোক্ত লোক বা তাহার পতিনিধি উক্ত বিষয়ের সত্যতা অস্বীকার করিতে পারিবে না [When one person has, by his declaration, act or omission, intentionally caused or permitted another person to believe a thing to be true and to act upon such belief, neither he nor his representative shall be allowed, in any suit or proceeding between himself and such person or his representative, to deny the truth of that thing.]।

উদাহরণসমূহ
‘ক’ স্বেচ্ছায় এবং মিথ্যাভাবে ‘খ’-কে বিশ্বাস করায় যে কোন একটি জমির মালিক ‘ক’ এবং তদ্বারা ‘খ’-কে ঐ জমি কিনিতে ও উহার মুল্য দিতে প্রলুব্ধ করে।

পরবর্তীকালে ঐ জমি ‘ক’-এর সম্পত্তিতে পরিণত হয়, এবং বিক্রয়ের সময় উক্ত জমিতে তাহার কোন স্বত্ব ছিল না, এই অজুহাতে বিক্রয় নাকচ করিবার চেষ্টা করে। এইক্ষেত্রে তাহার স্বত্বহীনতা অবশ্যই প্রমাণ করিতে দেওয়া যাইবে না।

“ধারা ১১৬ : প্রজার ক্ষেত্রে এবং দখলকারীর অনুমতিক্রমে ব্যবহারকারীর ক্ষেত্র স্বীকৃতির বাধা [Estoppel of tenant; and of licensee of person in possession] : কোন স্থাবর সম্পত্তিতে কাহারও প্রজাস্বত্ব (বা ভাড়াটিয়া স্বত্ব) বিদ্যমান থাকাকালে সেই প্রজা (বা ভাড়াটিয়া) অথবা তাহার স্বত্বে স্বত্ববান লোককে একথা অবশ্যই অস্বীকার করিতে দেওয়া যাইবে না যে, উক্ত প্রজাস্বত্ব (ভাড়াটিয়ার) জমিদারী (বা মালিকী) স্বত্ব ছিল, এবং কোন লোক কোন স্থাবর সম্পত্তির দখলকারে অনুমতি লইয়া উহাতে প্রবেশ করিয়া থাকিলে তাহাকে একথা অবশ্যই অস্বীকার করিতে দেওয়া যাইবে না যে, উক্ত অনুমতি দানের সময় উক্ত সম্পত্তি দখল করিবার অনুমতিদাতার ছিল [No tenant of immovable property, or person claiming through such tenant, shall, during the continuance of the tenancy, be permitted to deny that the landlord of such tenant had, at the beginning of the tenancy, a title to such immovable property; and no person who came upon any immovable property by the license of the person in possession thereof shall be permitted to deny that such person had a title to such possession at the time when such license was given.]।

“ধারা ১১৭ : বরাত চিঠির স্বীকৃতিদাতা, গচিছতগ্রহীতা এবং অনুমতিক্রমে ব্যবহারকারীর ক্ষেত্রে স্বীকৃতির বাধা [Estoppel of acceptor of bill of exchange, bailee or licensee] : বরাত চিঠির কোন স্বীকৃতিদাতাকে একথা অবশ্য। অস্বীকার করিতে দেওয়া হইবে না যে, উক্ত বরাত চিঠি প্রণয়ন করিবার বা উহাতে পৃষ্ঠাঙ্কন করিবার ক্ষমতা প্রণেতার ছিল। কিংবা, কোন গচ্ছিত গ্রহীতা বা অনুমতিক্রমে কিছু ব্যবহাকারীকে একথা অবশ্যই অস্বীকার করিতে দেওয়া হইবে না যে, গচ্ছিতদাতা অনুমতিদাতার গচ্ছিত দান বা ব্যবহারের অনুমতি দানের সময় গচ্ছিতদাতা বা অনুমতিদাতার গচ্ছিত দান বা অনুমতি দানের ক্ষমতা ছিল।

ব্যাখ্যা ১ : বরাত চিঠির স্বীকৃতিদাতা একথা অস্বীকার করিতে পারিবেন যে, বরাত চিঠিখানা যাহার দ্বারা প্রণীত বলিয়া বুঝিতে দেওয়া হইয়াছে, ঐ পণ্যের গচ্ছিতদাতার বিরুদ্ধে স্বত্ব তাহার ছিল।

ব্যাখ্যা ২ : জামিন গ্রহীতা যদি জামিনদাতা ব্যতিরেকে যদি অপর কোন লোকের কাছে পণ্য অর্পণ করে, তবে সে প্রমাণ করিতে পারে যে, যে লোকের নিকট পণ্য অর্পিত হইয়াছে এই পণ্যে জামিনদাতার বিরুদ্ধে তাহার স্বত্ব ছিল।



Evidence Act 09

কুইজটি শুরু করতে নিচের বাটনে ক্লিক করুন।