ঘরে বসেই লাইভ ভিডিওতে
প্রতি মাসে মাত্র ৮০০/- টাকায়

MCQ পরীক্ষার প্রস্তুতি!

ভর্তি হতে কল করুন : 01712-908561

Penal Code Lecture 004 [Sec. 107-120]

এখানে দণ্ডবিধির পঞ্চম অধ্যায় [১০৭-১২০ ধারা] তথা যৌথ দায় সংক্রান্ত ধারণা আলোচনা করা আছে যার শিরোনাম ‘অপসহায়তা’ বা Abetment । যেকোনো ফৌজদারি অপরাধে একাধিক ব্যক্তি জড়িত থাকে এবং সেক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন দায় অথবা কখনো একই দায় সৃষ্টি হতে পারে। এই অধ্যায় বাদেও দণ্ডবিধিতে এরূপ দায় নির্ধারণ সংক্রান্তে অন্যান্য অংশগুলো হলো ৩৪-৩৮ ধারা এবং ১২০ক-১২০খ ধারাসমূহ।

Penal Code : Lecture 004

Abetment : অপরাধের সহায়তা / প্ররোচনা

ম্যাপিং : এবারের আলোচনার বিষয় সিলেবাসে উল্লেখিত ৪ নং বিষয়, অপরাধের সহায়তা বা Abetment। এটা দণ্ডবিধির ৫ম অধ্যায় যার বিস্তৃতি ১০৭ নং ধারা থেকে ১২০ পর্যন্ত। ৩য় ও ৪র্থ অধ্যায়ের আলোচনা পরে করবো। বার কাউন্সিলের সিলেবাসে উল্লেখিত ক্রমটিই বহাল রাখছি আমরা। এই ৫ম অধ্যায়ের শিরোনাম অপরাধে সহায়তা প্রসঙ্গে বা Of abetment৩য় লেকচারে আমরা আলোচনা করলাম ধারা ৩৪-৩৮। এখন এক লাফে ১০৭ ধারায় কেন এই প্রশ্ন আসা স্বাভাবিক। এর একটা যুতসই উত্তর হলো – ধারা ৩৪-৩৮ এর আলোচনার বিষয় ছিলো যৌথ দায়, এবং যৌথ দায়ের সাথে অনেক ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত এই অপরাধে সহায়তা বা Abetment প্রসঙ্গে আলোচনা। সঙ্গত কারণেই বার কাউন্সিল সিলেবাসে যৌথ দায় এর পরেপরেই Abetment সম্পর্কে সিলেবাসে উল্লেখ করেছে।

ফৌজদারি অপরাধের ক্ষেত্রে এই টপিকের আলোচনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ধরুন কয়েকজন সন্ত্রাসীর হামলায় একজন শিক্ষক খুন হলেন। উক্ত কয়েকজনের অপরাধের মাত্রা কি হবে তা নির্ধারণ করার জন্য ধারা ৩৪-৩৮ পর্যন্ত প্রয়োগ সাপেক্ষে ন্যায় বিচার করবে আদালত। কিন্তু মামলা সংক্রান্ত পুলিশের তদন্তে বের হয়ে আসলো ঐ সকল সন্ত্রাসীরা দুইজন ব্যক্তির নির্দেশে উক্ত খুনের জন্য প্ররোচিত হয়েছে বা নির্দেশিত হয়েছে। সেক্ষেত্রে উক্ত দুই মূল পরিকল্পক বা প্ররোচনাকারীদের কি শাস্তি হবে? কি তাদের ভূমিকা? তাদের ভূমিকাকে আইনের চোখে কিভাবে দেখা হয় বা হবে? এই সমস্ত বিষয়ই আসলে প্ররোচনা বা Abetment সংক্রান্ত ধারাগুলোর মূল উদ্দেশ্য।

গত পরীক্ষাগুলোতে মাত্র একটি প্রশ্ন এসেছিলো এই টপিকের ওপর। তবে লিখিত পরীক্ষায় এই টপিকটি বেশ গুরুত্ব বহন করে।

মূল আলোচনা
আলোচনায় ঢোকার আগে একবার ডিকশনারী দেখে আসি। টপিকের মূল শব্দ Abetment এর ক্রিয়াপদটি হলো abet – যার মূল অর্থ বাংলায় – ‘সহায়তা করা’। সহায়তা করার ইংরেজিতে আরেকটি চলতি শব্দ হলো aid। কিন্তু এটা সাধারণত ইতিবাচক অর্থে ব্যবহৃত হয়, অপরদিকে abet শব্দটি একটি খারাপ বা অপরাধমূলক উদ্দেশ্যকে নির্দিষ্ট / ইঙ্গিত করে। Oxford অভিধানে বলা হচ্ছে : “abet : v. : to help or encourage somebody to commit an offence or do something wrong ; …”। এর মূল নির্যাস হলো – অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে সহায়তা প্রদান, যাকে এক শব্দে বলা যায় ‘অপসহায়তা’। প্ররোচনা, উস্কানি, যোগসাজশ ইত্যাদি শব্দেও এই শব্দের অর্থ প্রকাশ করা যায়। যোগসাজশ শব্দটি কিন্তু বেশ ইন্টারেস্টিং যা এই ধারণার ব্যবহারিক প্রয়োগের সাথে খুব মিলে যায়। যাইহোক, এর সাথে আমরা একটা লিগ্যাল ম্যাক্সিম জেনে রাখি; এই টপিকের থিম মনে রাখা সহজ হবে। “Qui facit per alium facit per se” এই ল্যাটিন লিগ্যাল ম্যাক্সিম এর অর্থ হলো “He who acts through another does the act himself” মানে একজন যদি অন্যের মাধ্যমে কোনো কাজ করায় তবে ধরে নিতে হবে তিনিই কাজটি করছেন।

একেকটা করে ধারা আলোচনা করি। আমরা ১০৭, ১০৮ এবং ১০৯ এই তিনটি ধারা বিস্তারিত পড়বো প্রধানত।

”ধারা ১০৭ : কোন ব্যাপারে সহায়তা প্রদান [Abetment of a thing] : কোন ব্যক্তি কোন ব্যাপারে সহায়তা করেছে বলে গণ্য হবে, যদি সে ব্যক্তি-

প্রথমত: কোন বিষয় সম্পাদন করার জন্য কোন ব্যক্তিকে প্ররোচনা দেয় অথবা

দ্বিতীয়ত: কোন বিষয় সম্পাদনের জন্য এক বা একাধিক অপর ব্যক্তি কিংবা ব্যক্তিবর্গের সাথে এরূপ চক্রান্তে লিপ্ত হয়, যে চক্রান্তের ফলে কোন কার্য বা অবৈধ বিরতি [act or illegal omission] সংঘটিত হয় এবং অনুরূপ কার্য বা অবৈধ বিরতি উক্ত বিষয় সম্পাদনের জন্য সংঘটিত হয় বা

তৃতীয়ত: কোন কার্য করে বা অবৈধভাবে কোন কার্য করা হতে বিরত থেকে উপযুক্ত কার্যে ইচ্ছাপূর্বক সাহায্য করে।

ব্যাখ্যা ১ : কোন ব্যক্তি এমন কোন গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা যা প্রকাশ করতে সে বাধ্য, তা ইচ্ছাপূর্বক গোপন করে ইচ্ছাকৃতভাবে কোন বিষয় সম্পাদন করার ব্যবস্থা করে বা করার কিংবা তা সম্পাদনকরণের বা সম্পাদনের উদ্যোগ করে, সে ব্যক্তি উক্ত বিষয় সম্পাদনে প্ররোচিত করে বলে বিবেচিত হবে।

উদাহরণ : সহকারী অফিসার ‘ক’ কোন বিচারালয়ের পরোয়ানা মারফত ‘চ’ কে গ্রেফতার করার ক্ষমতা প্রদত্ত হয়। ‘খ’ উক্ত তথ্য অবহিত হয় এবং ‘গ’ যে ‘চ’ নয় এ সম্পর্কে অবহিত হয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে ‘ক’ কর্তৃক ‘গ’ কে গ্রেফতার করায়। এক্ষেত্রে ‘খ’ প্ররোচনা করে ‘গ’ এর গ্রেফতারে সাহায্য করে বলে গণ্য হবে।

ব্যাখ্যা ২ : যে ব্যক্তি কোন কার্য সম্পন্ন করার সময়, উক্ত কার্য সম্পাদনকল্পে কোন কিছু করে এবং তদ্বারা এর সম্পাদন সুগম করে, সে ব্যক্তি উক্ত কার্য সম্পাদনে সহায়তা করে বলে বিবেচিত হবে।

মূল ধারাটি মনোযোগ দিয়ে একবার পাঠ করলেই বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে যাবার কথা। এই ধারাটি যেহেতু একটা বিস্তৃত অধ্যায়ের প্রথম ধারা, ফলত এই ধারায় অধ্যায়ের মূল শিরোনাম বা আলোচনাকে সংজ্ঞায়িত করে নিয়েছে। অপরাধের সহায়তা বলতে কি বোঝায়, কি তার পরিধি তাই-ই আলোচনা করা আছে। ১০৭ নং ধারায় বলা হচ্ছে তিনটি উপায়ে বা ধরনে অপরাধের সহায়তা দেয়া যায়

১. প্ররোচনার মাধ্যমে [by instigation]
২. ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে [by conspiracy]
৩. কার্য বা কার্যবিরতির দ্বারা [intentionally aids by act or illegal omission]

অর্থাৎ প্ররোচনা, ষড়যন্ত্র, কার্য বা কার্যবিরতির এই তিনটি পদ্ধতিতে অপরাধের সহায়তা করা যায়, ১০৭ ধারাতে সেটাই বলা হচ্ছে। এই তিনটির যেকোনো একটি করা মানেই তা অপরাধে সহায়তা করা বলে বিবেচিত হবে।

এবার ১০৮ ধারা। এই ধারাটি বড়। অনেক উদাহরণসমৃদ্ধ এই ধারায় প্ররোচনাকারীর ভূমিকা কেমন হলে কেমনভাবে তা আইনের দৃষ্টিতে অপরাধ হবে তা সম্পর্কে বিস্তারিত ব্যাখ্যা করা হয়েছে। ধারায় অন্তুর্ভূক্ত উদাহরণগুলো খুব মনোযোগ দিয়ে পড়ে নিন।

”ধারা : ১০৮ : দুষ্কর্মে সহায়তাকারী বা প্ররোচনাদাতা [Abettor] : যে ব্যক্তি কোন অপরাধ সংঘটনে বা অপরাধ বলে গণ্য কোন কার্য সংঘটনে সহায়তা করে, সে ব্যক্তি অপরাধে সহায়তা করে, যদি উক্ত অপরাধ কিংবা কার্য প্ররোচনাকারী ব্যক্তির ন্যায় একই উদ্দেশ্যে বা অবগতি সহকারে কোন অপরাধ বা দুষ্কর্মে সাহায্যকারী ব্যক্তির ন্যায় একই উদ্দেশ্যে বা অবগতি সহকারে কোন অপরাধ সংঘটনের জন্য আইনত যোগ্য বিবেচিত ব্যক্তি কর্তৃক সম্পাদিত হয়।

ব্যাখ্যা ১ : কার্যের অবৈধ বিরতিতে [of the illegal omission of an act] সহায়তাকরণ অপরাধরূপে গণ্য হতে পারে, যদিও প্ররোচনাদাতা উক্ত কার্য সম্পাদনের জন্য স্বয়ং বাধ্য নয়

ব্যাখ্যা ২ : প্ররোচনাদাতার অপরাধ সংঘটন করার জন্য এটা প্রয়োজনীয় নয় যে, সাহায্যকৃত কার্যটি সম্পাদিত হবে কিংবা অপরাধ সংঘটনের জন্য প্রয়োজনীয় পরিণতি ঘটবে।

উদাহরণ :

ক) ‘ক’, ‘গ’ কে খুন করার জন্য ‘খ’ কে প্ররোচিত করে। ‘খ’ কার্যটি করতে অস্বীকৃতি জানায়। ‘ক’, ‘খ’ কে হত্যার প্ররোচনা দেয়ার অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হবে

খ) ‘ক’, ‘গ’ কে খুন করার জন্য ‘খ’ কে প্ররোচিত করে। উক্ত প্ররোচনা অনুসরণে ‘খ’, ‘গ’ কে ছুরিকাঘাত করে। ‘গ’ জখম হতে আরোগ্য লাভ করে। ‘ক’ খুন করার জন্য ‘খ’ কে দুষ্কর্মে সহায়তা করার অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হবে।

ব্যাখ্যা ৩ : দুষ্কর্মে সাহায্যকৃত ব্যক্তির আইনত অপরাধ সংঘটনের যোগ্য হওয়া প্রয়োজনীয় নয়। তার দুষ্কর্মে সাহায্যকারী ব্যক্তির মত একইরূপ দোষজনক অভিপ্রায় বা জ্ঞান [guilty intention or knowledge] কিংবা যে কোন দুষ্ট অভিপ্রায় বা জ্ঞান প্রয়োজনীয় নয়।

উদাহরণ:

ক) ‘ক’ দোষজনক উদ্দেশ্যে কোন শিশু বা পাগলকে এরূপ একটি কাজ করতে সহায়তা করে, যে কাজ আইনত কোন অপরাধ সংঘটনের যোগ্য ব্যক্তি এবং ‘ক’ এর ন্যায় একই উদ্দেশ্যসম্পন্ন কোন ব্যক্তি কর্তৃক করা হলে অপরাধ বলে বিবেচিত হত। এক্ষেত্রে কার্যটি সংঘটিত হোক বা না হোক, ‘ক’ অপরাধ সংঘটনে সহায়তা করার জন্য দোষী সাব্যস্ত হবে

খ) ‘ক’, ‘য’ কে খুন করার উদ্দেশ্যে সাত বছরের কম বয়স্ক শিশু ‘খ’ কে এরূপ একটি কাজ করতে প্ররোচিত করে যার ফলে ‘য’ এর মৃত্যু সংঘটিত হয়। ‘খ’ উক্ত দুষ্কর্মে সহায়তার জন্য ‘ক’ এর অনুপস্থিতিতে কার্যটি সম্পাদন করে এবং তদ্বারা ‘য’ এর মৃত্যু ঘটে। এক্ষেত্রে যদিও আইনমতে ‘খ’ অপরাধ সংঘটনের যোগ্য ছিল না, তথাপি ‘ক’ এরূপ শাস্তিযোগ্য হবে যেন ‘খ’ যথার্থই আইনের দৃষ্টিতে অপরাধ সংঘটনের যোগ্য ছিল এবং সে খুন করেছিল, সেহেতু সে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হবে।

গ) ‘ক’, ‘খ’ কে একটি বাসগৃহে আগুন লাগানোর জন্য প্ররোচিত করে। ‘খ’ অকৃপ্রতিস্থতার দরুন কার্যটির প্রকৃতি অনুধাবনে অসমর্থ হওয়ায় বা সে যা করছে তা যে ভুল বা আইনের পরিপন্থী তা বুঝার অযোগ্য হওয়ায়, ‘ক’ এর প্ররোচনায় উক্ত গৃহে আগুন ধরিয়ে দেয়। ‘খ’ কোন অপরাধ সংঘটিত করেনি, কিন্তু ‘ক’ একটি বাসগৃহে অগ্নিসংযোগের অপরাধে সাহায্য করার জন্য দোষী গণ্য হবে এবং সে উক্ত অপরাধে সাহায্য করার জন্য বিহিত দণ্ডে দণ্ডিত হবে।

ব্যাখ্যা ৪ : অপরাধে সহায়তা অপরাধরূপে গণ্য হওয়া বিধায় অনুরূপ দুষ্কর্মের সাহায্যও অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে।

উদাহরণ : ‘ক’, ‘য’ কে হত্যা করার জন্য ‘গ’ কে প্ররোচিত করার উদ্দেশ্যে ‘খ’ কে প্ররোচিত করে। ‘খ’ তদানুসারে ‘য’ কে হত্যা করার জন্য ‘গ’ কে প্ররোচিত করে এবং ‘গ’, ‘খ’ এর প্ররোচনার ফলে উক্ত অপরাধ সংঘটন করে। ‘খ’ তার হত্যার অপরাধের জন্য বিহিত দণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং যেহেতু ‘ক’ উক্ত অপরাধ সংঘটনের জন্য ‘খ’ কে প্ররোচিত করেছিল সেহেতু ‘ক’-ও অনুরূপ দণ্ডে দণ্ডিত হবে।

ব্যাখ্যা ৫ : ষড়যন্ত্র করে দুষ্কর্মে সহায়তার অপরাধ সংঘটন করার জন্য সাহায্যকারী ব্যক্তির উক্ত অপরাধ সংঘটনকারীর সাথে একত্রে এর সংঘটন করা অপরিহার্য নয়। যে ষড়যন্ত্রের অনুকরণে উক্ত অপরাধ সংঘটিত হয়, সে ষড়যন্ত্রে তার যোগদানই যথেষ্ট বিবেচিত হবে।

উদাহরণ : ‘য’ এর প্রতি বিষ প্রয়োগের নিমিত্তে ‘ক’, ‘খ’ এর সাথে একটি পরিকল্পনা করে। সিদ্ধান্ত করা হয় যে, ‘ক’ বিষ প্রয়োগ করবে। অতঃপর একজন তৃতীয় ব্যক্তি বিষ প্রয়োগ করবে একথা উল্লেখ করে ‘খ’, ‘গ’ এর নিকট পরিকল্পনাটি ব্যাখ্যা করে, কিন্তু সে ‘ক’ এর নাম উল্লেখ করে না। ‘গ’ বিষ সংগ্রহ করতে সম্মত হয় এবং তা সংগ্রহ করে ও বর্ণিত প্রণালীতে এটা প্রয়োগের উদ্দেশ্যে ‘খ’ এর নিকট সমর্পণ করে। ‘ক’ বিষ প্রয়োগ করে; ফলে ‘য’ মৃত্যুবরণ করে। এক্ষেত্রে যদিও ‘ক’ ও ‘গ’ একত্রে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়নি তথাপি যে ষড়যন্ত্রে ‘য’ কে নিহত করা হয়েছে, ‘গ’ সেই ষড়যন্ত্রে নিয়োজিত হয়েছে। কাজেই ‘গ’ অত্র ধারায় বর্ণিত অপরাধ সংঘটন করেছে এবং সে খুনের অপরাধের জন্য বিহিত দণ্ডে দণ্ডিত হওয়ার যোগ্য।

‘৭ বছর নিয়ে ৯ কথা’ দ্বিতীয় লেকচারে আলোচনা করেছিলাম। মনে আছে কি? ১০৮ নং ধারাতেও সেই একই ভুল রয়ে গেছে। ১০৮ ধারার ৩ নং ব্যাখ্যার খ নং উদাহরণটি দেখুন। ৭ বছরের স্থানে ৯ বছর হবে প্রকৃতপক্ষে।

সমস্ত উদাহরণগুলো পড়ে থাকলে এর বাইরে নতুন করে কিছু বোঝার নেই। তবে আমরা এগুলোর একটা সারসংক্ষেপ করে নিতে পারি।

অপরাধে বা দুষ্কর্মে সহায়তাকারী / প্ররোচনাকারী [abettor] সম্পর্কে প্রথম প্যারায় যা বলা হয়েছে তার বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেয়া হয়েছে ব্যাখ্যা ১ ও ব্যাখ্যা  ২ তে। এরপর উদাহরণ শিরোনামে দুইটি উদাহরণও দেয়া আছে। ব্যাখ্যা ১ ও ২ এর মূল নির্যাস হচ্ছে – প্ররোচনাকারীর একজন অপরাধী হিসেবে বিবেচিত হওয়ার জন্য তাকে স্বয়ং অপরাধকর্মটি না করলেও চলবে এবং এমনকি যদি প্ররোচনাকারীর প্ররোচনায় অপরাধটি শেষ পর্যন্ত সংঘটিত নাও হয়, তাহলেও শুধু প্ররোচনা করাটাই একটা অপরাধ। ব্যাখ্যা ৩ এ ব্যাখ্যা অংশ পরেই ৪ টি উদাহরণ দেয়া হয়েছে। এই ব্যাখ্যা ৩ এর মূল নির্যাস হচ্ছে – নয় বছর [৭ বছরের স্থানে ৯ বছর হবে প্রকৃতপক্ষে] কম বয়সের শিশু,পাগল, মানসিকভাবে অসুস্থ প্রমুখদের দ্বারা, অপরাধ সংঘটিত হলে সাধারণত আইনের দৃষ্টিতে তারা অপরাধী নয় – এটা আমরা জানি। কিন্তু প্ররোচনাকারী যদি এমন কাউকে দিয়ে কোনো অপরাধকর্ম করায়, তাহলে একজন অপরাধ করতে সক্ষম ব্যক্তি উক্ত অপরাধটি করলে প্ররোচনাকারীর যা অপরাধ হতো, এক্ষেত্রেও সেই অপরাধেই অপরাধী হবে প্ররোচনাকারী। অর্থাৎ, প্ররোচনাকারীর কোনো রেহাই নেই আইনের দৃষ্টিতেব্যাখ্যা ৪ এর নির্যাস হচ্ছে – কোনো ‘প্ররোচনাদাতাকে’ প্ররোচনা দেয়া বা সহায়তা করাও প্ররোচনাকারীর সমান অপরাধেই অপরাধী হবে। ক খ-কে বললো গ কে প্ররোচনা দিতে ঘ কে খুন করার ব্যাপারে। খ এখানে একজন প্ররোচনাকারী। কিন্তু খ কে আসলে ক প্ররোচনা দিয়েছে, সুতরাং সেও একজন প্ররোচনাকারী। খ এর অপরাধ ও শাস্তি যা, ক এরও তাইই হবে – এটাই এর মূলকথা। ব্যাখা ৫ এর মূল নির্যাস হচ্ছে – অপরাধকর্মে একজন সহায়তাকারী হয়তো মূল প্ররোচনাকারীকে জানে না বা তার সাথে কোনো সমস্বিত পরিকল্পনা হয়নি, তথাপি সে উক্ত অপরাধে অপরাধী হবে।

যেখানে যান, যেদিক দিয়েই যান মূল অপরাধে প্ররোচনাকারীর কোনো রেহাই নেই আইনের দৃষ্টিতে – এটাই ১০৮ ধারার মূল কথা।

একটু দম নিয়ে ১০৮ ধারাটি কি আবার পড়ে আসবেন শুরু থেকে? মিলিয়ে মিলিয়ে আবার পড়ে নেন। প্লিজ! দ্বিতীয়বার পড়ে নিয়ে চা খেয়ে নেন এক কাপ! 🙂

এবার ১০৮ ক।

”ধারা : ১০৮ ক : বাংলাদেশ, বাংলাদেশের বাইরের অপরাধসমূহে সহায়তা দান [Abetment in Bangladesh, of offences outside it] : যে ব্যক্তি বাংলাদেশের বহির্ভাগে এবং বহির্দেশস্থ এরূপ কোন কার্যে সহায়তা করে, যা বাংলাদেশে সংঘটিত হলে অপরাধ বলে বিবেচিত হত, সে ব্যক্তি এ বিধির অর্থ অনুসারে অপরাধে সহায়তা করে বলে গণ্য হবে।

উদাহরণ : বংলাদেশী নাগরিক ‘ক’ গোয়ায় অবস্থিত বিদেশী নাগরিক ‘খ’ কে গোয়ায় একটি খুন সংঘটনের জন্য প্ররোচিত করে। ‘ক’ খুন সংঘটনের সহায়তা করার জন্য দোষী সাব্যস্ত হবে।

খুব সিম্পল। বাংলাদেশের আদালত বিদেশে সংঘটিত বাংলাদেশী প্ররোচনাকারীকে দোষী সাব্যস্ত করতে পারবে।

এবার ১০৯।

”ধারা : ১০৯ : দুষ্কর্মে সহায়তার ফলে সহায়তাকৃত কাজটি সম্পাদিত হওয়ার ক্ষেত্রে, এবং এর দণ্ডদানের কোন বিধান না থাকার ক্ষেত্রে দুষ্কর্মে সহায়তার শাস্তি [Punishment of abetment if the act abetted is committed in consequence and where no express provision is made for its punishment] : যে অপরাধ সংঘটনে সহায়তা করা হইয়াছে, সহায়তার দরুন যদি সেই অপরাধ সংঘটিত হয় এবং এই আইনে অনুরূপ সহায়তার দণ্ডদানের জন্য যদি কোনো স্পষ্ট বিধান করা না হইয়া থাকে, তবে –

অনুরূপ সহায়তাকারী যে অপরাধটি সংঘটনে সহায়তা করিয়াছে সেই অপরাধের জন্য যে দণ্ডের বিধান করা হইতেছে, অপরাধটি সংঘটনে সহায়তার জন্য তাহাকেও সেই দণ্ডেই দণ্ডিত করা হবে।

ব্যাখ্যা : কোনো কার্য বা অপরাধ সহায়তার ফলে সংঘটিত হইয়াছে বলিয়া তখনই বলা হয় যখন কার্যটি বা অপরাধটি যে প্ররোচনা, ষড়যন্ত্র বা সাহায্য দ্বারা সহায়তা করা হইয়াছে সেই প্ররোচনার ফলে বা সেই ষড়যন্ত্র অনুসারে বা সেই সহায়তা দ্বারা সংঘটিত হয়।

উদাহরণসমূহ:

ক) ‘ক’ সরকারি কর্মচারী ‘খ’ কে ‘ক’ এর সরকারি কার্যাবলী সম্পাদনকালে সহানুভূতি প্রদর্শনের পারিতোষিক হিসেবে ঘুষ দেয়ার প্রস্তাব করে। ‘খ’ উক্ত ঘুষ গ্রহণ করেন। ‘ক’ ১৬১ ধারায় বর্ণিত অপরাধে সহায়তা করেছে বলে গণ্য হবে।

খ) ‘ক’, ‘খ’ কে মিথ্যা সাক্ষ্যদানে প্ররোচিত করে। ‘খ’ উক্ত প্ররোচনার ফলে উক্ত অপরাধ সংঘটন করে। ‘ক’ উক্ত অপরাধে সাহায্য করার জন্য দোষী সাব্যস্ত হবে এবং ‘খ’ এর তুল্য দণ্ডে দণ্ডিত হবে।

গ) ‘ক’ ও ‘খ’, ‘য’ কে বিষ প্রয়োগ করার জন্য ষড়যন্ত্র করে। ‘ক’ উক্ত ষড়যন্ত্রের অনুসরণে বিষ সংগ্রহ করে এবং এটা ‘খ’ কে দেয়, যাতে সে এটা ‘য’ কে পান করায়। ‘খ’ উক্ত ষড়যন্ত্রের অনুসরণে ‘ক’ এর অনুপস্থিতিতে ‘য’ কে বিষ পান করায় এবং তদ্বারা ‘য’ এর মৃত্যু ঘটে। এক্ষেত্রে ‘খ’ খুনের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হবে। ‘ক’ ষড়যন্ত্র করে উক্ত অপরাধে সাহায্য করার জন্য দোষী সাব্যস্ত হবে এবং খুনের দায়ে বিহিত দণ্ডে দণ্ডিত হবে।

দণ্ডবিধির কিছু কিছু ধারায় অপরাধে সহায়তা করার জন্য শাস্তি নির্দিষ্ট করা আছে। উদাহরণ দিয়ে ব্যাপারটা বুঝে নেই। যেমন, ১৩২ ধারা। এই ধারায় বলা আছে বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীর কোনো সদস্য বা অফিসার কোনো বিদ্রোহে সহায়তা করে, তবে তার কি কি শাস্তি হতে পারে তা নির্দিষ্ট করে বলা আছে। এরকম আরো কিছু ধারায় অপরাধে সহায়তা করা বা প্ররোচনা করার শাস্তি নির্দিষ্ট করা আছে। যেমন ১১০-১২০ ধারা, ১২১, ১২১, ১২৩ ধারা, ১৩০, ১৩২, ১৩৪ এবং ১৩৬ ধারা। কিন্তু যেসমস্ত ধারায় কোনো অপরাধের মূল অপরাধীর শাস্তি উল্লেখ করা আছে, কিন্তু সহায়তাকারী বা প্ররোচনাকারীর কোনো শাস্তির বিধান উল্লেখ করা নেই, সেখানে এই সহায়তাকারী বা প্ররোচনাকারীর কি শাস্তি হবে? এই বিষয়টাই উল্লেখ করা আছে এই ১০৯ ধারায়। এই ধারার মূল উদ্দেশ্য হলো দুষ্কর্মে বা অপরাধকর্মে সহায়তার জন্য শাস্তি কি হবে তা নির্দিষ্ট করা। ১০৯ ধারার মূল কথা হলো – কোনো দুষ্কর্মে বা অপরাধকর্মে সহায়তার জন্য কোনো বিশেষ শাস্তির বিধান যদি না থাকে তাহলে কৃত অপরাধের মূল অপরাধী যেই শাস্তি পাবে বলে উল্লেখ আছে, সেই শাস্তিই অপরাধের সহায়তাকারী বা প্ররোচনাকারীর জন্য প্রযোজ্য হবে! অর্থাৎ মূল অপরাধীর সমান শাস্তি পাবে।



কিছু তাত্ত্বিক ধারণা

এখন আমরা কিছু বেসিক ধারণা নিয়ে রাখবো। এই ধারণাগুলো পরীক্ষায় আসবে বা বার কাউন্সিলের সিলেবাসে উল্লেখ আছে এমনটা নয়। এখান থেকে যে প্রশ্ন আসবে এমন সম্ভাবনাও একেবারে নেই বললেই চলে। তবে দণ্ডবিধির থিওরি উপলব্ধির জন্য এগুলো কাজে দেবে। ১০৭ থেকে ১০৯ পর্যন্ত ধারাগুলোর ভেতরে কয়েকটি মৌলিক ধারণা আছে। এই মৌলিক ধারণা বিশেষত দণ্ডবিধির তাত্ত্বিক আলোচনার পরিসরে প্রয়োজন পড়ে।

কোনো অপরাধে সাধারণত একাধিক মানুষ যুক্ত থাকলে কোনো একজন কর্তৃক প্রধানভাবে অপরাধটি সংঘটিত হয়ে থাকে। অন্যরা সেখানে সহযোগীর ভূমিকা নিয়ে থাকে। সহযোগীদেরও মূল অপরাধটি ঘটানোতে ভূমিকা ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকতে পারে। সকল সহযোগীই একই ভূমিকায় অবতীর্ণ হয় না। কেউ দাঁড়িয়ে থেকে পাহারা দিতে পারে, কেউ একটি খুনের ঘটনায় শুধুমাত্র ছুরি বানিয়ে ও সরবরাহ করে সহযোগিতা করে থাকতে পারে, কেউ প্ররোচনা দিয়ে থাকতে পারে, কেউ ঘটনাস্থলে উপস্থিত না থেকেও পরিকল্পনায় থাকতে পারে, কেউ প্ররোচনা দিয়ে থাকতে পারে ইত্যাদি। অর্থাৎ হরেক রকমের ভূমিকায় একেকজনের অবস্থান চিহ্নিত করা যেতে পারে।

আমরা এতক্ষণ পড়ে আসলাম যে, অপরাধে সহায়তাকারীর শাস্তি মূল অপরাধীর অপরাধের কারণে প্রাপ্য শাস্তিই উক্ত সহায়তাকারী পাবে। কিন্তু, অপরাধ সংঘটনে ভিন্ন ভিন্ন ভূমিকা অনুযায়ী শাস্তির তারতম্যও ঘটতে পারে। একটি বিশেষ ঘটনার বিশেষ পরিস্থিতি সাপেক্ষেই এসব নির্ধারিত হবে। তবে কোনো সন্দেহ নেই যে, অপরাধে সহায়তা সংক্রান্ত যেসব বিধান আছে, সেসব বিধানের ভেতরে কোনো সহায়তাকারীর ভূমিকা প্রমাণ করতে পারলে বর্ণিত বিধান অনুযায়ীই শাস্তি হবে। মূলত এসব নির্ভর করে সাক্ষ্য ও প্রমাণের ওপর।

তাহলে একটি অপরাধের ক্ষেত্রে একাধিক মানুষ জড়িত থাকলে তাদেরকে ভিন্ন ভিন্ন পরিচয়ে পরিচিত করানোর প্রয়োজনে বেশ কিছু পরিভাষার উদ্ভব হয়ে থাকে। নিচে সেগুলো সম্পর্কে ধারণা দেয়া থাকলো।

প্রধান অপরাধী [Principal Offender]
যার দ্বারা মূল অপরাধটি সংঘটিত হয়, তাকেই মূল অপরাধী [principal offender] বলা হয়ে থাকে। একটি ছুরিকাঘাতের ঘটনায় যিনি ভিকটিমকে আঘাত করেছেন সরাসরি, তিনিই সেখানে মূল অপরাধী। আবার একটি সংঘবদ্ধ চুরির ঘটনায় যিনি একটি নির্দিষ্ট বস্তু ‘চুরি’ করেছেন তিনিই মূল অপরাধী।

প্রধান অপরাধীর একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো – অপরাধের মূল কার্যটি তার হাতেই সংঘটিত হবে। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো – অপরাধটি সংঘটনের সময়ই তাকে উপস্থিত থাকতে হবে। অপরাধের সহায়তাকারীর একটি ঘটনাস্থলে উপস্থিত না থাকলেও চলে।

সহায়ক অপরাধী [Secondary Offender]
ইংরেজিতে সেকেন্ডারি শব্দটির অনুবাদ এই আলোচনার কনটেক্সট অনুযায়ী ‘সহায়ক’ হিসেবে বলা হয়েছে। এর চেয়ে উপযুক্ত বাংলা আমাদের জানা নেই। তো, এই সহায়ক অপরাধী তিনিই যিনি মূল অপরাধীর অপরাধ সংঘটনে সহায়তা করে থাকেন। যেমন, একটি ছুরিকাঘাতের ঘটনায় ভিকটিমকে কেউ জোরপূর্বক আটকে রেখে মূল অপরাধীকে ছুরিকাঘাত করার সুযোগ বা সহায়তা করলে তিনি সহায়ক অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত হবেন। আবার, সংঘবদ্ধ চুরির ঘটনায় বাড়ীর প্রধান দরজার তালা খুলে দিয়ে প্রধান অপরাধীকে চুরিতে সহায়তা করলে তিনিও সহায়ক অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত হবেন।

সহায়ক অপরাধী ঘটনার আগে অথবা ঘটনার সময় – এই উভয় সময়ে সহায়তা করতে পারেন। ঘটনার পরের সহায়তা যদি পূূর্বপরিকল্পিত হয়ে থাকে তবে সেটাও এর ভেতরে বিবেচনায় আসতে পারে। কিন্তু যদি তা পূর্ব পরিকল্পিত হয়ে না তাকে তবে তা অন্য একটি পৃথক অপরাধ হবে। যেমন, সংঘবদ্ধ চুরির ঘটনায় চোরাইকৃত মাল বা বস্তুগুলি যদি অন্য একজন বিক্রির ব্যবস্থা করে দিয়ে থাকেন [যিনি চুরির পরিকল্পনায় ছিলেন না বা সে ব্যাপারে কিছু জানতেন না] তবে তিনি সহায়ক অপরাধী হবেন না। তবে অন্য অপরাধে অভিযুক্ত হতে পারেন।

যৌথভাবে প্রধান অপরাধী [Joint Principals]
আবার কতক ক্ষেত্রে এমনও হতে পারে যে, একটি ঘটনায় প্রধান অপরাধী একাধিক ব্যক্তি। সেক্ষেত্রে তাদেরকে যৌথভাবে প্রধান অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করা যেতে পারে। একটি সংঘবদ্ধ চুরির ঘটনায় একাধিক ব্যক্তি বাড়ির বিভিন্ন ঘরের জিনিসপত্র ‘চুরি’ করে থাকলে তারা প্রত্যেকেই এখানে যৌথভাবে প্রধান অপরাধী [joint principals] হিসেবে চিহ্নিত হতে পারেন।

ইনোসেন্ট এজেন্ট [Innocent Agent]
এর কোনো ভালো বাংলা বের করতে অপারগ! 🙁 তবে ধারণাটি শিখে রাখুন। এর সাথে প্রাসঙ্গিক ধারাটি হলো ১০৮ ধারা এর ৩ নং ব্যাখ্যা ও এর সংশ্লিষ্ট উদাহরণগুলো। এই শব্দের মানেটা দেখে নিন আগে –

innocent agent (law) : A person who unknowingly, unintentionally, or under force or coercion commits a criminal act on behalf of another.

অর্থাৎ ইনোসেন্ট এজেন্ট বলতে এমন একজন ব্যক্তিকে বোঝায়, যার অজান্তে বা অনিচ্ছায় একটি অপরাধ সংঘটিত হয় অন্যের ইচ্ছায় বা নির্দেশে। এখানে, ১০৮ ধারার ৩ নং ব্যাখ্যার খ নং উদাহরণটি আগে পড়ে নিতে পারেন। নিচে দিয়ে দিলাম।

“খ) ‘ক’, ‘য’ কে খুন করার উদ্দেশ্যে সাত বছরের কম বয়স্ক শিশু ‘খ’ কে এরূপ একটি কাজ করতে প্ররোচিত করে যার ফলে ‘য’ এর মৃত্যু সংঘটিত হয়। ‘খ’ উক্ত দুষ্কর্মে সহায়তার জন্য ‘ক’ এর অনুপস্থিতিতে কার্যটি সম্পাদন করে এবং তদ্বারা ‘য’ এর মৃত্যু ঘটে। এক্ষেত্রে যদিও আইনমতে ‘খ’ অপরাধ সংঘটনের যোগ্য ছিল না, তথাপি ‘ক’ এরূপ শাস্তিযোগ্য হবে যেন ‘খ’ যথার্থই আইনের দৃষ্টিতে অপরাধ সংঘটনের যোগ্য ছিল এবং সে খুন করেছিল, সেহেতু সে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হবে।

উপরোক্ত উদাহরণে শিশুটিকে দিয়েই মূল অপরাধটি সংঘটিত করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে শিশুটি প্রধান অপরাধী [Principal offender]। কিন্তু দণ্ডবিধির ব্যতিক্রমসমূহ অনুযায়ী উক্ত শিশুর অপরাধটি অপরাধ বলে গণ্য হবে না কেননা অপরাধ ও তার ফলাফল সম্পর্কে কোনো ধারণা তার তৈরি হয়নি। অর্থাৎ যেক্ষেত্রে প্রধান অপরাধী একজন ইনোসেন্ট এজেন্ট [খ নং উদাহরণে বর্ণিত মোতাবেক] সেক্ষেত্রে তিনি সংশ্লিষ্ট মূল অপরাধের কারণে প্রধান অপরাধী বলে গণ্য হবেন না। তবে বলা বাহুল্য যে, প্ররোচনাকারী ব্যক্তি তার কৃতকর্মের বা অপরাধে সহায়তার জন্য শাস্তি পাবেন।

Vicarious Liability

[এটা নিয়ে পরে আলোচনা যুক্ত করা হবে]



Abetment বা অপরাধে সহায়তা / প্ররোচনা বিষয়ক প্রাথমিক আলোচনা আমরা এখানেই সমাপ্তি টানতে পারি; অন্তত বার কাউন্সিলের MCQ পরীক্ষার জন্য। ১০৭ থেকে ১০৯ পর্যন্ত এই টপিকের তত্ত্বীয় আলোচনা আছে, যেটা আমরা এতক্ষণ পড়লাম; আর ১১০-১২০ পর্যন্ত ধারাগুলো বিভিন্ন ভিন্ন ভিন্ন পরিস্থিতিতে অপরাধে সহায়তাকারীর শাস্তি কি হবে তা বর্ণনা করা আছে। ধারাগুলোর শিরোনাম দেখলেই বুঝতে পারবেন। ১১০-১২০ পর্যন্ত প্রথমে শুধু শিরোনামগুলো একবার করে দেখে নিন। শুধুমাত্র শিরোনাম পড়ে কতটুকু উপলব্ধি করতে পারেন, সেটার চেষ্টা একবার করুন। নিজেকে মূল্যায়ন করতে পারবেন নিজেই। ভয়ের কিছু নেই। পরেপরেই আবার মূল ধারাগুলো তুলেই দিলাম আপনাদের জন্য।

১১০-১২০ পর্যন্ত ধারাগুলোর শিরোনাম
”ধারা : ১১০ : সহায়তাকৃত ব্যক্তি সহায়তাকারীর অভিপ্রায় হতে কার্য করিবার ভিন্ন অভিপ্রায়ে কার্য করিবার ক্ষেত্রে সহায়তার শাস্তি
ধারা : ১১১ : সহায়তাকৃত কার্য হতে ভিন্ন কার্য সম্পাদনের ক্ষেত্রে সহায়তাকারীর দায়িত্ব
ধারা : ১১২ : যেক্ষেত্রে প্ররোচনাদাতা বা সাহায্যকারী সাহায্যকৃত কার্য ও সম্পাদিত কার্যের জন্য সম্মিলিত দণ্ডে দণ্ডিত হবে
ধারা : ১১৩ : সাহায্যকৃত কার্যের কারণে দুষ্কর্মের সহায়তাকারী কর্তৃক অভিপ্রেত পরিণতি হতে ভিন্ন পরিণতির ক্ষেত্রে দুষ্কর্মে সহায়তাকারীর দায়িত্ব
ধারা : ১১৪ : অপরাধ সংঘটনকালে সহায়তাকারীর উপস্থিতি
ধারা : ১১৫ : মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় অপরাধে সহায়তাকরণ; অপরাধ সংঘটিত না হইলে
ধারা : ১১৬ : কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় অপরাধে সহায়তাকরণ; অপরাধটি সংঘটিত না হওয়ার ক্ষেত্রে
ধারা : ১১৭ : জনসাধারণ কিংবা দশের অধিক ব্যক্তি কর্তৃক অপরাধ সংঘটনে সহায়তাকরণ
ধারা : ১১৮ : মৃত্যুদণ্ডে বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় অপরাধ সংঘটনের ষড়যন্ত্র গোপন করা – যদি অপরাধটি সংঘটিত হয়; যদি অপরাধটি সংঘটিত না হয়
ধারা : ১১৯ : সরকারি কর্মচারি কর্তৃক এমন অপরাধ সংঘটনের চক্রান্ত গোপনকরণ যা নিবারণ করা তার কর্তব্য
ধারা : ১২০ : কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় অপরাধ সংঘটনের ষড়যন্ত্র গোপন করা – যদি অপরাধটি সংঘটিত হয়; যদি অপরাধটি সংঘটিত না হয়

শিরোনাম দেখে কতটা উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন সেটা এবার যাচাই করতে সব মূল ধারাগুলো পড়ুন। বিশেষ কোনো আলোচনার প্রয়োজন নেই এখানে। এখান থেকেও কিন্তু এমসিকিউ প্রশ্ন আসতেই পারে। সুতরাং, পড়া থেকে রেহাই নেই!

তবে কথা আছে আরেকটু। ১১০ – ১১২, ১১৪ – ১১৭ এই কয়েকটি ধারা মনোযোগের সাথে একবার পড়ার চেষ্টা করুন। প্রথমবারের চেষ্টায় মাথায় প্যাঁচ লেগে গেলে পড়াটাকে কমিয়ে নিয়ে ১১৫ ও ১১৭ ধারা দ্বিতীয়বার পড়ুন। তারপরেও বিরক্ত লাগলে তৃতীয়বার আর চেষ্টা না করে বিদায় নিতে পারেন এই লেকচার থেকে। বাস্তবিকপক্ষে ১১০ থেকে ১২০ পর্যন্ত ধারাগুলোর সবগুলো বুঝে বুঝে পড়া বেশ চাপের কিন্তু! মাথায় হাতুড়ি পেটানোর শব্দের ইল্যুশন তৈরি হতে পারে। সেজন্য আগেভাগে সতর্ক করে রাখলাম।

একটা কঠিন ও জটিল বিষয় বুঝতে গিয়ে অন্য কোনো সহজ, মৌলিক বা বেসিক বিষয় বাদ দেয়াটা বোকামী হবে। আইন পড়তে গিয়ে যেটাই বুঝতে পারবেন না, সেখানে আঠার মতো লেগে থেকে জীবনের মূল্যবান সময় নষ্ট করার মানে নেই। সমুদ্র-মহাসমুদ্রের লোনা পানি পান না করে সামনে এগোতে থাকেন, মিঠা নদীর কোনো স্রোতের দেখা পেয়ে যেতে পারেন। এই ছোট্ট পরামর্শ ভুলবেন না।

মূল ধারাগুলো

“ধারা ১১০ : সহায়তাকারী বা প্ররোচনাদানকারী যে উদ্দেশ্যে সহায়তা বা প্ররোচনা দান করেছে সহায়তা প্রাপ্ত ব্যক্তি তা অপেক্ষা ভিন্ন উদ্দেশ্যে কাজ করে থাকলে অনুরূপ সহায়তা বা প্ররোচনার জন্য সাজা (Punishment of abetment if person abetted does act with different intention from that of abettor) : কোন ব্যক্তি যদি কোন কাজ বা অপরাধ সংঘটনের সহায়তা বা প্ররোচনা দান করার পর, সে ব্যক্তি যাকে সহায়তা বা প্ররোচনা দান করেছে সে যদি তার (প্রথমোক্ত ব্যক্তির) উদ্দেশ্য বা জ্ঞান হতে ভিন্নতর উদ্দেশ্য বা জ্ঞানের ভিত্তিতে কাজটি বা অপরাধটি করে থাকে, তবে সহায়তাকারীর যেরূপ উদ্দেশ্য ছিল সে উদ্দেশ্য অথবা তারই অবগতির ভিত্তিতে কাজটি সম্পাদিত হলে তাতে যে অপরাধ অনুষ্ঠিত হতো, সহায়তাকারীকে সে অপরাধের জন্য বিহিত দণ্ডেই দণ্ডিত করা হবে, অপর কোন অপরাধের জন্য বিহিত দণ্ডে নয়।

“ধারা ১১১ : যে কাজের জন্য সহায়তা করা হয়েছে সে কাজ ভিন্ন অপর কোন কাজ সম্পাদিত হলে সেক্ষেত্রে সহায়তাকারীর দায়িত্ব (Liability of abettor when one act abetted and different act done) : যখন একটি কাজের জন্য সহায়তা করা হয়েছে কিন্তু সে কাজটি ভিন্ন অপর একটি কাজ সম্পাদিত হয়েছে, তখন যে কাজটি সম্পাদিত হয়েছে তার জন্য প্রত্যক্ষভাবে সহায়তা করা হলে যে অপরাধ হতো সে অপরাধের জন্য যেভাবে এবং যতটুকু পর্যন্ত দণ্ডের বিধান করা হয়েছে, সহায়তাকারী সেভাবে এবং ততটুকু পর্যন্ত দণ্ডে দণ্ডিত হবে, তবে শর্ত থাকে যে, যে কাজটি সম্পাদিত হয়েছে সে কাজটি সহায়তার একটি সম্ভাব্য পরিণতি হতে হবে, এবং যে প্ররোচনা, সাহায্য বা ষড়যন্ত্র কর্তৃক সহায়তা করা হয়েছে কাজটি সে প্ররোচনা, সাহায্য বা ষড়যন্ত্রের প্রভাবেই সম্পাদিত হতে হবে।

উদাহরণসমূহ –

(ক) ক একটি শিশুকে চ-এর খাদ্যে বিষ মিশাতে প্ররোচিত করে এবং এতদুদ্দেশ্যে শিশুটির হাতে বিষ দেয়। এই প্ররোচনার ফলে শিশুটি ভুলক্রমে চ-এর খাদ্যের পাশে রাখা গ-এর খাদ্যে বিষ মিশায়। এখানে শিশুটি যদি ক-এর প্ররোচনার প্রভাবেই কাজটি করে থাকে এবং শিশুটি যে কাজটি করল তা যদি তৎকালীন অবস্থাবলীর পরিপ্রেক্ষিতে সহায়তার ফলেই করা হয়ে থাকে, তবে ক শিশুটিকে প্রত্যক্ষভাবে গ-এর খাদ্যে বিষ মিশাতে প্ররোচিত করলে তজ্জন্য এবং যতদূর পর্যন্ত বিহিত দণ্ডে দণ্ডিত হতো, এইক্ষেত্রে ক ঠিক সেভাবে এবং ততদূর পর্যন্ত দণ্ডে দণ্ডিত হবে।

(খ) চ-এর বাড়ি পুড়িয়ে দেওয়ার জন্য ক খ-কে প্ররোচিত করে। ক-এর প্ররোচনায় প্ররোচিত হয়ে খ চ-এর বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেয় এবং সে সঙ্গে বাড়ি হতে সম্পত্তি চুরিও করে। ক বাড়িটি পুড়িয়ে দেওয়ার কার্যে সহায়তার জন্য অপরাধী হবে বটে কিন্তু চুরি করার সহায়তার জন্য অপরাধী হবে না; কেননা চুরি একটি সম্পূর্ণরূপে স্বতন্ত্র কাজ ছিল এবং উহা বাড়ি পুড়িয়ে দেওয়ার কাজের একটি সম্ভাব্য পরিণতি ছিল না।

(গ) ক মাঝরাতে একটি ঘর ভেঙ্গে ডাকাতি করার জন্য খ ও গ-কে প্ররোচিত করে। এই প্ররোচনার ফলে খ ও গ-ডাকাতি করার জন্য মাঝরাতে ঘরের ভিতর প্রবেশ করলে ঘরের জনৈক বাসিন্দা চ তাদের বাধা দেয়। খ ও গ চ-কে খুন করে। এই ক্ষেত্রে খুনের অপরাধটি যদি ক-এর সহায়তার সম্ভাব্য ফলে হয়ে থাকে তবে ক খুনের অপরাধের জন্য বিহিত দণ্ডে দণ্ডিত হবে।

“ধারা ১১২ : যখন প্ররোচনাদাতা বা সহায়তাকারী-সহায়তাকৃত কাজ ও সম্পাদিত কাজের জন্য সম্মিলিত দণ্ডে দণ্ডিত হবে (Abettor when liable to cumulative punishment for act abetted and for act done) : যদি সহায়তাকৃত বা প্ররোচিত কাজটি ছাড়াও উপরে বর্ণিত সর্বশেষ ধারায় উল্লেখিত যে কাজের জন্য সহায়তাকারী দায়ী হবে সে কার্যটিও সম্পাদিত হয় এবং তা একটি স্বতন্ত্র অপরাধরাপে পরিগণিত হয়, তবে সহায়তাকারী অপরাধগুলির প্রত্যেকটির জন্য দণ্ডিত হবে।

উদাহরণ : ক জোরপূর্বক একজন সরকারি কর্মচারীকে তার পরোয়ানা কার্যকরীকরণে প্রতিরোধ করার জন্য খ-কে প্ররোচিত করে। প্ররোচনার ফলে খ সরকারি কর্মচারীকে তার পরোয়ানা কার্যকরীকরণে বাধাদান করে। বাধাদান করতে গিয়ে খ ইচ্ছাপূর্বক সরকারি কর্মচারীকে গুরুতররূপে আঘাত করে। খ সরকারি কর্মচারীকে তার পরোয়ানা কার্যকরীকরণে বাধাদান এবং তাকে ইচ্ছাপূর্বক গুরুতর আঘাত করা – উভয়বিধ অপরাধই করেছে বলে উভয় অপরাধের জন্য বিহিত দণ্ডে দণ্ডিত হবে কিন্তু প্ররোচনাদানকালে ক-এর যদি এটা জানা থেকে থাকে যে, খ সরকারি কর্মচারীকে তার পরোয়ানা কার্যকরীকরণে বাধাদান করতে গিয়ে তাকে ইচ্ছাকৃতভাবে গুরুতর আঘাত করতে পারে তবে কও উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবে।

“ধারা ১১৩ : সহায়তাকৃত কাজ সম্পাদিত হওয়ায় সহায়তাকারী ব্যক্তির উদ্দীষ্ট ফল ছাড়াই অপর কোন ফলোদয় হলে সেক্ষেত্রে সহায়তাকারী ব্যক্তির দায়িত্ব (Liability of abettor for an effect caused by the act abetted different from that intended by the abettor) : একটি কাজের জন্য সহায়তা করার ফলে এবং সে কাজটি যদি এমন হয় যে, তাতে সহায়তা করলে সহায়তাকারী সহায়তার জন্য দায়ী হবে, সহায়তাকারী কাজটি সম্পাদনে যে ফল সৃষ্ট হবে বলে প্রত্যাশা বা উদ্দেশ্য করেছিল, সৃষ্ট ফল যদি তার সে উদ্দীষ্ট বিশেষ ফল হতে ভিন্ন হয়, তবে সৃষ্ট ফল প্রত্যাশা বা উদ্দেশ্য পর্যন্ত দণ্ডিত হতো, এই ক্ষেত্রেও সে সেভাবে ততদূর পর্যন্তই দণ্ডিত হবে। তবে শর্ত থাকে যে, যে কার্যটিতে সহায়তাকারী সহায়তা করেছে তার কর্তৃক যে ফল সৃষ্ট হয়েছে সহায়তাকৃত কাজটি সম্পাদনে সে ফল সৃষ্টি হতে পারে বলে সহায়তাকারীর জানা ছিল।

উদাহরণ : চ-কে গুরুতররূপে আঘাত করার জন্য ক খ-কে প্ররোচনা দেয়। তার প্ররোচনায় প্ররোচিত হয়ে খ চ-কে গুরুতর আঘাত করে এবং ফলে চ-এর মৃত্যু ঘটে। এই ক্ষেত্রে খ কে প্ররোচনা দেওয়ার সময় ক-এর যদি জানা থেকে থাকে যে, গুরুতররূপে আঘাত করার জন্য প্ররোচিত কাজটি সম্পাদনের ফলে চ-এর মৃত্যু হতে পারে, তবে ক খুনের অপরাধের জন্য বিহিত দণ্ডে দণ্ডিত হবে।

“ধারা ১১৪ : অপরাধ সংঘটনকালে সহায়তাকারীর উপস্থিতি (Abettor present when offence is committed) : কোন কাজ বা অপরাধ সংঘটনের সময় বা স্থলে অনুপস্থিতি সত্ত্বেও যে ব্যক্তি উক্ত কাজ বা অপরাধ সংঘটনে সহায়তা বা প্ররোচনাদানের জন্য সহায়তাকারী বা প্ররোচনাদানকারী হিসেবে দণ্ডিত হতো, সে কাজ বা অপরাধ সংঘটনের সময় বা স্থলে যদি সে ব্যক্তি হাজির থাকে, তবে সে ব্যক্তি উক্ত কাজ বা অপরাধ করেছে বলে পরিগণিত হবে।

“ধারা ১১৫ : মৃত্যুদণ্ডে বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় অপরাধে সহায়তাকরণ বা প্ররোচনা প্রদানের ফলে অপরাধ অনুষ্ঠিত না হলে, সহায়তার ফলে অপরাধ অনুষ্ঠিত হলে (Abetment of offence punishable with death or imprisonment for life if offence not committed if act causing harm be done in consequence) : কোন ব্যক্তি যদি মৃত্যুদণ্ডে অথবা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় অপরাধ সংঘটনে সহায়তা করে কিন্তু সহায়তা করার ফলে উক্ত অপরাধটি অনুষ্ঠিত না হয় এবং অনুরূপ সহায়তার দণ্ডদানের জন্য এই বিধিতে কোন স্পষ্ট বিধান না থেকে থাকে, তবে উক্ত ব্যক্তি সাত বৎসর পর্যন্ত সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে, এবং তাকে অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত করা যাবে।

সহায়তার ফলে অপরাধ অনুষ্ঠিত হলে (act causing harm be done in consequence) : এবং যদি এমন কোন কাজ সম্পাদিত হয় যাতে সহায়তার জন্য সহায়তাকারী দায়ী হয় এবং যাতে কোন ব্যক্তি আঘাতপ্রাপ্ত হয়, তবে যোগসাজশকারী সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং এই কারাদণ্ডের মেয়াদ চৌদ্দ বৎসর পর্যন্ত হতে পারবে, এবং সহায়তাকারীকে অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত করা যাবে।

উদাহরণ : চ-কে হত্যা করার জন্য ক খ – কে প্ররোচনা দেয়। কিন্তু অপরাধটি অনুষ্ঠিত হয় না। খ যদি চ-কে হত্যা করত, তবে খ মৃত্যুদণ্ডে অথবা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত হতো। সুতরাং এইক্ষেত্রে ক কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে ও এই কারাদণ্ডের মেয়াদ সাত বৎসর পর্যন্ত হতে পারবে এতদ্ব্যতীত তাকে অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত করা যাবে; এবং ক-এর সহায়তার ফলে যদি চ কোনরূপ আঘাতপ্রাপ্ত হয় তবে ক কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে ও এই কারাদণ্ডের মেয়াদ চৌদ্দ বৎসর পর্যন্ত হতে পারবে; এতদ্ব্যতীত তাকে অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত করা যাবে।

“ধারা ১১৬ : কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় অপরাধে সহায়তা, অপরাধটি অনুষ্ঠিত না হওয়ার ক্ষেত্রে (Abetment of offence punishable with imprisonment-if offence be not committed) : কোন ব্যক্তি যদি কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় অপরাধ সংঘটনে সহায়তা করে, কিন্তু সহায়তা করার ফলে উক্ত অপরাধটি অনুষ্ঠিত না হয় এবং অনুরূপ সহায়তার সাজাদানের জন্য এই বিধিতে কোন স্পষ্ট বিধান না থেকে থাকে, তবে উক্ত ব্যক্তিকে উক্ত অপরাধের জন্য বিহিত সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা যাবে এবং এই কারাদণ্ডের মেয়াদ উক্ত অপরাধের জন্য বিহিত দীর্ঘতম মেয়াদের এক চতুর্থাংশ পর্যন্ত হতে পারবে, কিংবা তাকে উক্ত অপরাধটির জন্য বিহিত অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করা হবে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত করা হবে;

যদি দুষ্কর্মে সহায়তাকারী বা সহায়তাকৃত ব্যক্তি এমন একজন সরকারি কর্মচারী হন, যার কর্তব্য হচ্ছে অপরাধ প্রতিরোধ করা (If abettor or person abetted be a public servant whose duty it is to prevent offences) : এবং সহায়তাকারী অথবা সহায়তাপ্রাপ্ত ব্যক্তি যদি এমন একজন সরকারি কর্মচারী হন, সরকারি কর্মচারী হিসেবে অনুরূপ অপরাধ দমন বা নিরোধ করাই তার কর্তব্য, তবে সহায়তাকারীকে উক্ত অপরাধের জন্য বিহিত সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হবে এবং এই কারাদণ্ড উক্ত অপরাধটির জন্য বিহিত দীর্ঘতম মেয়াদের অর্ধাংশ পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের হতে পারবে, অথবা তাকে উক্ত অপরাধটির জন্য যেরূপ অর্থদণ্ডের বিধান করা হয়েছে সেরূপ অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করা হবে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত করা হবে।

উদাহরণসমূহ :

(ক) খ একজন সরকারি কর্মচারী। তার সরকারি দায়িত্ব সম্পাদনকালে ক-কে কিঞ্চিত অনুগ্রহ প্রদর্শন করার জন্য ক তাকে উৎকোচ প্রদানের প্রস্তাব করে। খ উৎকোচ গ্রহণে অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করে। ক এই ধারামতে দণ্ডিত হবে।

(খ) ক খ-কে মিথ্যা সাক্ষ্যদানের জন্য প্ররোচনা দেয়। খ যদি এই প্ররোচনার ফলে মিথ্য সাক্ষ্যদান নাও করে, তবুও ক এই ধারায় বর্ণিত অপরাধ সংঘটনের জন্য অপরাধী হবে এবং তদানুসারে দণ্ডিত হবে।

(গ) ক জনৈক পুলিশ কর্মকর্তা। পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে দস্যুতা নিবারণ বা নিরোধ করাই তার কর্তব্য। কিন্তু তিনি একটি দস্যুতার অপরাধ সংঘটনের সাহায্য করেন। সাহায্যের ফলে যদি দস্যুতার অপরাধটি অনুষ্ঠিত নাও হয়, তবুও ক এই অপরাধটির জন্য বিহিত দীর্ঘতম মেয়াদের অর্ধাংশ পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং এতদ্ব্যতীত অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত করা হবে।

(ঘ) খ জনৈক পুলিশ কর্মকর্তা ক কর্তৃক একটি দস্যুতা অনুষ্ঠানে সহায়তা করে। উক্ত পুলিশ অফিসারের কর্তব্য হচ্ছে, ঐ অপরাধ নিবারণ করাই তার কর্তব্য। এক্ষেত্রে উক্ত দস্যুতা অনুষ্ঠিত না হলেও ক দস্যুতার অপরাধের জন্য ব্যবস্থিত কারাদণ্ডের দীর্ঘতম মেয়াদের অর্ধেক পর্যন্ত কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হবে এবং তদুপরি অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হবে।

“ধারা ১১৭ : জনসাধারণ বা দশজনের অধিকসংখ্যক ব্যক্তি দ্বারা অপরাধ সংঘটনে সাহায্যকরণ (Abetting commission of offence by the public or by more than ten persons) : জনসাধারণ দ্বারা অথবা দশজনের অধিক সংখ্যক ব্যক্তি বা ব্যক্তিগোষ্ঠী দ্বারা অপরাধ সংঘটনে কেউ সাহায্য করলে তাকে তিন বৎসর পর্যন্ত কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হবে অথবা জরিমানা দণ্ডে দণ্ডিত করা হবে অথবা উভয়বিধ দণ্ডে দণ্ডিত করা হবে।

উদাহরণ : একটি সম্প্রদায়ের শোভাযাত্রা যাবার সময় উহার ব্যক্তিজনদের উপর আক্রমণ করার উদ্দেশ্যে ক দশজনের অধিকসংখ্যক ব্যক্তিবিশিষ্ট অন্য একটি বিরোধী সম্প্রদায়ের ব্যক্তিদের একটি বিশেষ সময়ে ও স্থানে মিলিত হওয়ার প্ররোচনা দিয়ে একটি বিজ্ঞপ্তি লটকিয়ে দেয় । ক এই ধারায় বর্ণিত অপরাধ সংঘটন করেছে।

“ধারা ১১৮ : মৃত্যুদণ্ডে বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় অপরাধ সংঘটনের ষড়যন্ত্র গোপন করা (Concealing design to commit offence punishable with death or imprisonment for life) : কোন ব্যক্তি যদি মৃত্যুদণ্ডে অথবা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় অপরাধ সংঘটনের সুবিধা বিধানের উদ্দেশ্যে, অথবা তার কার্যের কর্তৃক অনুরূপ কোন অপরাধ সংঘটনের সুবিধা হবে জানা সত্ত্বেও,

যদি অপরাধটি অনুষ্ঠিত হয় (If offence be committed) : কোন কাজ কর্তৃক অথবা কোন কাজ করা হতে বেআইনীভাবে বিরত থেকে ইচ্ছাকৃতভাবে অনুরূপ ষড়যন্ত্র সম্পর্কে এমন কোন বিবরণ দান করে যে ষড়যন্ত্রটি সম্পর্কে মিথ্যা বলে সে জানে,

যদি অপরাধটি অনুষ্ঠিত না হয়  (If offence be not committed) : অপরাধটি যদি অনুষ্ঠিত হয় তবে তাকে সাত বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হবে অথবা উক্ত অপরাধটি অনুষ্ঠিত না হলে – তিন বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি উভয় ক্ষেত্রেই তাকে অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত করা হবে।

উদাহরণ : ক খ স্থানে ডাকাতি অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে জেনে মজিস্ট্রেটকে এই মর্মে মিথ্যা সংবাদ দান করে যে, গ স্থানে ডাকাতি অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। উক্ত গ স্থান বিপরীত দিকে অবস্থিত এবং তদ্বারা অপরাধ অনুষ্ঠান সুগম করার মতলবে সে ম্যাজিস্ট্রেটকে বিপথে চালিত করে। ষড়যন্ত্রের অনুসরণে খ স্থানে ডাকাতি অনুষ্ঠিত হয়। ক এই ধারার বর্ণিত অপরাধের জন্য দণ্ডিত হবে।

”ধারা ১১৯ : অপরাধ সংঘটন নিরোধ করার কর্তব্যে আবদ্ধ সরকারি কর্মচারী দ্বারা ষড়যন্ত্র গোপন করা (Public servant concealing design to commit offence which it is his duty to prevent) : যদি এমন কোন ব্যক্তি, যিনি একজন সরকারি কর্মচারী, যে অপরাধ দমন করাই সরকারি কর্মচারী হিসেবে তার কর্তব্য এমন একটি অপরাধ সংঘটনের সুবিধা বিধানের উদ্দেশ্যে, অথবা তার কার্যের কর্তৃক অনুরূপ একটি অপরাধ সংঘটনের সুবিধা বিহিত হবে জানা সত্ত্বেও কোন কার্য কর্তৃক অথবা কোন কার্য করা হতে বেআইনীভাবে বিরত থেকে ইচ্ছাকৃতভাবে অনুরূপ অপরাধ সংঘটনের ষড়যন্ত্রের অস্তিত্ব গোপন করে অথবা অনুরূপ ষড়যন্ত্র সম্পর্কে এমন কোন বিবরণ দান করে যে, ষড়যন্ত্রটি সম্পর্কে মিথ্যা বলে সে জানে।

অপরাধ অনুষ্ঠিত হওয়ার ক্ষেত্রে (If offence be committed) : যদি অপরাধ অনুষ্ঠিত হয় তবে সে ব্যক্তি অনুরূপ অপরাধের জন্য বিহিত সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং এই কারাদণ্ড অনুরূপ অপরাধের জন্য বিহিত কারাদণ্ডের দীর্ঘতম মেয়াদের অর্ধাংশ পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের হবে, অথবা সে ব্যক্তি অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে;

অপরাধটি মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডনীয় অপরাধ হয় (If offence be punishable with death, etc) : অথবা অপরাধটি যদি মৃত্যুদণ্ডে বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হয়, তবে সে ব্যক্তি দশ বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে;

অপরাধ অনুষ্ঠিত না হওয়ার ক্ষেত্রে (If offence be not committed) : যদি অপরাধটি অনুষ্ঠিত না হয় তবে সে ব্যক্তি অনুরূপ অপরাধের জন্য বিহিত সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং এই কারাদণ্ড অনুরূপ অপরাধের জন্য বিহিত দীর্ঘতম মেয়াদের এক-চতুর্থাংশ পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের হবে, অথবা অনুরূপ অপরাধের জন্য বিহিত অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

উদাহরণ : ক একজন পুলিশ কর্মকর্তা। পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে তিনি দস্যুতা সংঘটনের যত ষড়যন্ত্র সম্পর্কে জানতে পারেন উহার তথ্যদান করাই তার কর্তব্য। খ একটি দস্যুতা সংঘটনের মতলব করেছে বলে তিনি জানতে পান; এই ষড়যন্ত্র সম্পকে তথ্যদান করতে তিনি আইনত বাধ্য। কিন্তু দস্যুতার অপরাধ সংঘটনের সুবিধা বিধানের উদ্দেশ্যে তিনি এই তথ্যদান করা হতে বিরত থাকেন। এখানে ক একটি কার্য করা হতে বেআইনীভাবে বিরত থেকে খ-এর ষড়যন্ত্রটি গোপন করেছেন। সেহেত ক এই ধারার বিধানমতে দণ্ডিত হবেন।

“ধারা ১২০ : কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় অপরাধ সংঘটনের ষড়যন্ত্র গোপন করা (Concealing design to commit offence punishable with imprisonment) : কোন ব্যক্তি যদি কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় কোন অপরাধ সংঘটনের সুবিধা বিধানের উদ্দেশ্যে অথবা তার কর্তৃক অনুরূপ অপরাধের সুবিধা হবে জেনেও

অপরাধটি অনুষ্ঠিত হওয়ার ক্ষেত্রে (If offence be committed) : কোন কার্য কর্তৃক অথবা কোন কার্য করা হতে বেআইনীভাবে বিরত থেকে ইচ্ছাপূর্বক অনুরূপ অপরাধ সংঘটনের ষড়যন্ত্রের অস্তিত্ব গোপন করে, অথবা অনুরূপ ষড়যন্ত্র সম্পর্কে এমন কোন বিবরণ দান করে যে, ষড়যন্ত্রটি সম্পর্কে মিথ্যা বলে সে জানে,

অপরাধটি অনুষ্ঠিত না হওয়ার ক্ষেত্রে (If offence be not committed) : অপরাধটি যদি অনুষ্ঠিত হয় তবে সে ব্যক্তি অনুরূপ অপরাধের জন্য বিহিত সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং এই কারাদণ্ডের মেয়াদ অপরাধটির জন্য বিহিত দীর্ঘতম মেয়াদের এক-চতুর্থাংশ পর্যন্ত অথবা অপরাধটি অনুষ্ঠিত না হলে, এক-অষ্টমাংশ পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের হবে, অথবা সে ব্যক্তি অপরাধটির জন্য যেরূপ অর্থদণ্ডের বিধান করা হয়েছে সেরূপ অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।



/24
50

14 minutes 24 seconds


Penal Code [107-120]

এখানে দণ্ডবিধির ১০৭-১২০ ধারাসমূহ নিয়ে এমসিকিউ টেস্ট আছে। সংশ্লিষ্ট ধারাগুলো পড়ে নিয়ে এটি অনুশীলন করুন।

এখানে আপনার নাম ও ফোন নাম্বার লিখুন। ইমেইলটি লেখা বাধ্যতামূলক নয়; তবে, ইমেইল এড্রেস দিলে আপনার ইমেইলে বিস্তারিত ফলাফল চলে যাবে।

1 / 24

কোনো ব্যাপারে অপসহায়তা করার সংজ্ঞা দণ্ডবিধির কোন ধারায় বর্ণিত আছে?

2 / 24

সর্বনিম্ন কত জন সদস্য থাকতে হয় একটি অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের ক্ষেত্রে?

3 / 24

কোনো ব্যক্তি যদি ২ বছর কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় কোনো অপরাধ সংঘটনের জন্য কোনো অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রে অংশগ্রহণ করে এবং উক্ত অপরাধের ক্ষেত্রে ষড়যন্ত্রের শাস্তি উল্লেখ না থাকে, তাহলে উক্ত অপরাধের জন্য উক্ত ব্যক্তি দায়ী হবে-

4 / 24

যে ব্যক্তি ১ বছরের কম দণ্ডে দণ্ডনীয় অপরাধের অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রে অংশগ্রহণ করে তার কী শাস্তি হতে পারে?

5 / 24

অপরাধে সহায়তা বা প্ররোচনার জন্য শাস্তি বিষয়ক ধারাটি নিচের কোনটি?

6 / 24

‘ক’, ‘গ’ কে খুন করার জন্য ‘খ’ কে প্ররোচিত করে। ‘খ’ কার্যটি করতে অস্বীকৃতি জানায়। এখানে ক দণ্ডবিধি অনুযায়ী কী নামে অভিহিত হবে?

7 / 24

Abetment শব্দের অর্থ কী?

8 / 24

ক’ এর প্ররোচনায় সরকারি কর্মচারী ‘খ’ তার জিম্মায় থাকা সরকারি টাকা আত্মসাত করেছে। ক এর কী শাস্তি হতে পারে?

9 / 24

Qui facit per alium facit per se লিগ্যাল ম্যাক্সিমটির সাথে দণ্ডবিধির কোন ধারাটি সম্পর্কিত?

10 / 24

মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন দণ্ডে শাস্তিযোগ্য অপরাধে সহায়তাকরণের শাস্তি কী, যদি অপরাধটি প্রকৃতপক্ষে সংঘটিত না হয়?

11 / 24

এবেটরের সংজ্ঞা দণ্ডবিধির কোন ধারার বিষয়বস্তু?

12 / 24

মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন দণ্ডে শাস্তিযোগ্য অপরাধে সহায়তাকরণের শাস্তি কী, যদি অপরাধটি প্রকৃতপক্ষে সংঘটিত হয়?

13 / 24

দণ্ডবিধির ১০৭ ধারা অনুযায়ী অপরাধে সহায়তা কয়টি উপায়ে করা যায়?

14 / 24

কোনো অপরাধ সংঘটনের প্ররোচনার জন্য কোনো শাস্তির উল্লেখ না থাকলে অপরাধমূলক কাজে সহায়তাকারীর শাস্তি হবে - [বার : ২০১৭]

15 / 24

‘ক’, ‘খ’ কে মিথ্যা সাক্ষ্যদানে প্ররোচিত করে। ‘খ’ উক্ত প্ররোচনার ফলে উক্ত অপরাধ সংঘটন করলে ক কোন অপরাধের শাস্তিতে দণ্ডিত হবে?

16 / 24

সাধারণভাবে কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় অপরাধে সহায়তাকরণের শাস্তি কী, যদি অপরাধটি প্রকৃতপক্ষে সংঘটিত না হয়?

17 / 24

‘ক’ এর প্ররোচনায় ‘খ’ খুন করার উদ্দেশ্য ‘গ’ কে ছুরিকাঘাত করে। ‘গ’ চিকিৎসান্তে সুস্থ হয়ে ওঠে। ‘ক’ নিম্নের কোন অপরাধ করেছে? [জুডি. : ২০১২]

18 / 24

দণ্ডবিধির কত ধারায় অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে?

19 / 24

জনসাধারণ বা দশের অধিক ব্যক্তি কর্তৃক অপরাধ সংঘটনে সহায়তাকরণের শাস্তি কী?

20 / 24

দণ্ডবিধির কত ধারায় অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের শাস্তির বিষয়ে বর্ণনা দেওয়া হয়েছে?

21 / 24

কোনো ব্যক্তি যদি ১৪ বছর কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় কোনো অপরাধ সংঘটনের জন্য কোনো অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রে অংশগ্রহণ করে এবং উক্ত অপরাধের ক্ষেত্রে ষড়যন্ত্রের শাস্তি উল্লেখ না থাকে, তাহলে উক্ত অপরাধের জন্য উক্ত ব্যক্তি দায়ী হবে-

22 / 24

যে ব্যক্তি দুই বছরের কম দণ্ডে দণ্ডনীয় অপরাধের অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রে অংশগ্রহণ করে তার কী শাস্তি হতে পারে?

23 / 24

‘ক’, ‘গ’ কে খুন করার জন্য ‘খ’ কে প্ররোচিত করে। উক্ত প্ররোচনা অনুসরণে ‘খ’, ‘গ’ কে ছুরিকাঘাত করে। ‘গ’ জখম হতে আরোগ্য লাভ করলে এখানে ক এর অপরাধ কোন অপরাধের সমান?

24 / 24

‘ক’ এর প্ররোচনায় সরকারি কর্মচারী ‘খ’ তার জিম্মায় থাকা সরকারি টাকা আত্মসাত করেছে। ক এর কী শাস্তি হতে পারে? [বার : ২০১২]

Your score is

0%



বিগত এমসিকিউ সাফল্য

Registered [2017 & 2020 MCQ]

Passed Students [2017 & 2020 MCQ]

Registered [MCQ Exam of 2021]