ঘরে বসেই লাইভ ভিডিওতে
প্রতি মাসে মাত্র ৮০০/- টাকায়

MCQ পরীক্ষার প্রস্তুতি!

ভর্তি হতে কল করুন : 01712-908561

Penal Code Lecture 005 [Sec. 53-75]

দণ্ডবিধিতে বিভিন্ন অপরাধের শাস্তি বর্ণিত আছে, ত সকলেই জানি আমরা। কিন্তু, এই শাস্তি প্রয়োগ এবং ক্ষেত্রবিশেষে তা নির্ধারণের কিছু পদ্ধতি বা নীতি আছে – যা কিনা নিম্নোক্ত লেকচারে আলোচনা করা আছে। এটি দণ্ডবিধির তৃতীয় অধ্যায়, যার বিস্তৃতি ৫৩-৭৫ ধারা পর্যন্ত। এটি এমসিকিউ পরীক্ষার জন্য অতি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এর কোনো ধারাই বাদ দিয়ে পড়া সম্ভব না, উচিতও না!

Penal Code : Lecture 005

Punishments : Its objectives and limits ::: শাস্তি : ইহার উদ্দেশ্য ও মাত্রা

ম্যাপিং : এলো বৃষ্টি ঝেপে … ! বৃষ্টি ঝেপে আসার মতো করে যদি কোনো এমসিকিউ পরীক্ষায় পেনাল কোডের ২৩ টি টপিকের মধ্যে মাত্র একটি টপিক থেকে ৮ টি প্রশ্ন আসে নির্ধারিত ২০ টি প্রশ্নের মধ্যে [পেনাল কোড থেকে ২০ টি প্রশ্ন নির্ধারিত করা আছে বারের পরীক্ষায়], তাহলে গণিত ও পরিসংখ্যানের সাধারন জ্ঞানও একজন আইন শিক্ষার্থীর জন্য অপরিহার্য হয়ে ওঠে! 🙂 বুঝুন অবস্থাটা – পেনাল কোডের ২৩ টি টপিকের মধ্যে ২০ টি প্রশ্ন আসলে প্রায় প্রতিটি টপিক থেকেই একটা করে প্রশ্ন করা সম্ভব এবং তা ভারসাম্যপূর্ণ হয়। কিন্তু সেটা না করে ভারসাম্যহীনভাবে বার কাউন্সিল ২০১৫ সালের পরীক্ষায় শুধুমাত্র শাস্তি সংক্রান্ত টপিক থেকেই ৮ টি প্রশ্ন করেছে, মানে শতকরা ৪০ ভাগ!! বিস্ময়কর হলেও সত্যি! রীতিমতো ঝুম বৃষ্টি। আমার নিজের দেখা অনেক শিক্ষার্থী বার কাউন্সিলের ২০১৫ সালের পরীক্ষার্থী এমসিকিউ পর্ব পাস করতে পারেনি, তার অন্যতম কারণ এটি। কেননা, পেনাল কোড বিষয়ে অনেকেই কনফিডেন্ট, সবকিছু পারবে, কোনো ব্যাপার না – শিক্ষার্থীদের এমনই মনোভাব! কিন্তু হঠাৎ করেই প্রশ্নের এরকম ঝুম বৃষ্টি শুধুমাত্র একটি টপিকের ওপর হলে কিন্তু গড় বা মাঝারি মানের শিক্ষার্থীদের জন্য বিরাট সমস্যা।

কাম অন ডিয়ার! সমস্যা থেকে মুক্তি পাই। জ্যুসি ল’ এর লেকচার খাই।

আমাদের এবারের টপিক এর শিরোনাম Punishments : Its objectives and limits বা শাস্তি : ইহার উদ্দেশ্য ও মাত্রা। এমসিকিউ পরীক্ষার জন্য পুরো বইটা থেকে যেকোনো জায়গা থেকেই প্রশ্ন করতে পারে। তাই আমরা একটা স্ট্যান্ডার্ড ধরার জন্য পরীক্ষার সিলেবাস অনুযায়ীই পড়াশোনা এগিয়ে নেবো। তাতেই চলবে। কিন্তু শিরোনামটা দেখলে পরিষ্কার বোঝা যায় এটা একটা গভীর তত্ত্বগত আলোচনা মূলত। লিখিত পরীক্ষাতেই শুধু এই টপিক মানায়। এখন সেই তত্ত্বগত আলোচনার পরিসর না হলেও কিছু কথা বলার আছে।

গত ৪ টি লেকচার অনেক বড় হওয়ায় অনেকেই ইতিমধ্যে [অনলাইন শিক্ষার্থীরা] আমাদেরকে অভিযোগ জানিয়েছেন যে, এসব আরেকটু ছোট করে এবং আরো সহজ ভাষায় বর্ণনা করা যায় কিনা। হু, সেটা করা যায়। কিন্তু যারা আইনের ডিগ্রি অর্জন করার সময় ফাঁকিবাজি করে পড়ে এসেছেন [ইনফ্যাক্ট সবাই ফাঁকিবাজি করেই পড়েন দু’একজন ব্যতিক্রম ছাড়া], তাদের জন্য বার কাউন্সিল পরীক্ষা একটি বিরাট সুযোগ যেখানে বিষয়গুলোর বিস্তারিত ব্যাখ্যা জেনে একটা সম্যক ধারণা নেয়া যায়। আপনারা জানেন যে, দিনে দিনে আইনপেশা ও বার কাউন্সিল পরীক্ষা কঠিন থেকে কঠিনতর হচ্ছে। সেখানে ভালোভাবে না জেনে বুঝে আইনপেশায় সাফল্য আনাও কিন্তু কঠিন হয়ে যাবে। সুতরাং, এই সামান্য কয়েকটি বেসিক সাবজেক্টের পড়াশোনাটা ভালো করে করলে সহজেই সাফল্য আনা যাবে। এই কষ্টটুকু আন্তরিকভাবেই করবেন এই আশা আমাদের শিক্ষার্থীদের কাছে করতেই পারি।

তবে, যারা কম করে পড়তে চান, অথবা সময় যাদের কম, তাদের জন্য এখন থেকে আশা করছি, লেকচারের ভেতরে ভেতরেই পড়াটাকে কমিয়ে দেবো। একটি চিহ্ন দিয়ে বলে দেবো যে, এইটুকু অতিরিক্ত পড়া। সেটুকু না পড়লেও চলবে! তবে আবারো বলবো, পুরোটাই পড়ার চেষ্টা করবেন। কেননা, এই পড়াই আপনার এমন শক্ত ভিত তৈরি করবে যাতে করে আপনি বার কাউন্সিল পার হয়ে একজন আত্মবিশ্বাসী আইনজীবী হিসেবেও দাঁড়াতে পারবেন।

জ্বি, আমরা এ বিষয়ে ওভার কনফিডেন্ট। বাকী ডিসিশন আপনার। তবে এই লেকচারে শাস্তি এবং তার উদ্দেশ্য নিয়ে আলোচনা আসলেই ক্লান্তিকর হবে আপনাদের জন্য!

ফলে শাস্তির ‘উদ্দেশ্য’-টুদ্দেশ্য বাদ দিয়ে সোজাসুজি ধারাগুলোর আলোচনা বুঝবো। এবং অতিঅবশ্যই মনোযোগের সাথে সারাজীবনের জন্য এ অধ্যায় মনে রাখার চেষ্টা করবেন। পেনাল কোডের শাস্তি সম্পর্কিত ধারাগুলো ৫৩ থেকে ৭৫ পর্যন্ত বিস্তৃত যা এই কোডের তৃতীয় অধ্যায়ের বিষয়বস্তু। এটার শিরোনাম হলো সাজা প্রসঙ্গে বা Of Punishments।

মূল আলোচনা
প্রথমেই ৫৩ ধারাটি পড়ুন।

“ধারা ৫৩ : দণ্ডসমূহ : এই ধারার বিধানসমূহ অনুযায়ী অপরাধীগণ যে যে দণ্ডে দণ্ডনীয় হবে তা হচ্ছে:-

প্রথমত: মৃত্যুদণ্ড;

দ্বিতীয়ত: যাবজ্জীবন কারাদণ্ড;

তৃতীয়ত: বাতিলকৃত;

চতুর্থত: কারাদণ্ড; যা দুই প্রকারের হতে পারে, যথা:

১) সশ্রম অর্থাৎ কঠোর শ্রম সহকারে;
২) বিনাশ্রম;

পঞ্চমত: সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত;

ষষ্ঠত: অর্থদণ্ড বা জরিমানা

ব্যাখ্যা : যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের ক্ষেত্রে, কারাবাস সশ্রম হবে।

এই ধারা স্রেফ দণ্ড বা শাস্তি বা সাজার নামগুলো তুলে ধরেছে। দেখা যাচ্ছে, ৩ নং দণ্ডটি বাতিল হয়েছে কোনো একটি সংশোধনী দ্বারা। একটি গাছে ৬ টি পাখি ছিলো, একটি উড়ে গেলো! তাহলে কয়টি পাখি থাকলো? ৫ টি পাখি থাকলো। 🙂 দণ্ডবিধি মোতাবেক শাস্তি বা সাজা বা দণ্ড ৫ প্রকারের। এরমধ্যে কারাবাস ২ রকমের, একটি সশ্রম [ মানে কাজের বিনিময়ে খাদ্য! 🙂 ] আরেকটা বিনাশ্রম। মানে খাও দাও ঘুমাও, সব সরকারী খরচে!

৫৩ এর ক ধারা নামে একটা ধারা আছে। অনেক দেশেই আগে নির্জন দ্বীপে দ্বীপান্তর নামে এক শাস্তি প্রচলিত ছিলো। এখনো কোনো কোনো দেশে থাকতে পারে, আমার জানা নাই। বাংলাদেশে দ্বীপান্তর নামে কোনো শাস্তি প্রচলিত নেই। কিন্তু ব্রিটিশ আমলের ব্রিটিশদের দ্বারা তৈরি হওয়া আইনে এটার প্রাসঙ্গিকতা ছিলো। ৫৩ ক ধারাটি যুক্ত করে সংশোধনী এনে এই দ্বীপান্তর সম্পর্কে ব্যাখ্যা স্পষ্ট করা হয়েছিলো ১৯৮৫ সালের ৪১ নং অধ্যাদেশের সংশোধনী দ্বারা। এর মূল কথা হচ্ছে আইনে যেখানে যেখানে ‘যাবজ্জীবন দ্বীপান্তর’ এর উল্লেখ আছে সেটাকে ‘যাবজ্জীবন কারাবাস’ আকারে ধরতে হবে এবং এটাই কার্যকর হবে। আর যদি স্বল্পমেয়াদের দ্বীপান্তর হয় তবে তা রদ বা বাতিল হিসেবে গণ্য হবে। ধারাটি পড়ে রাখুন।

“ধারা ৫৩ ক : কারাবাস উল্লেখের ব্যাখ্যা : (১) উপধারার (২) এর শর্তাবলী সাপেক্ষে সাময়িকভাবে প্রচলিত অন্য যে কোন আইনে যেখানে যাবজ্জীবন ‘দ্বীপান্তর’-এর উল্লেখ রয়েছে, সেখানে তা যাবজ্জীবন কারাবাস হিসেবে ধরতে হবে।

(২) বর্তমানে প্রচলিত যে কোন আইনে কোন মেয়াদের কিংবা স্বল্পকালীন মেয়াদের জন্য যে কোন ভাবে হোক না কেন, দ্বীপান্তরের উল্লেখ থাকলে তা রদ বলে গণ্য হবে।

(৩) বর্তমানে প্রচলিত অন্য যে কোন আইনে যেখানে দ্বীপান্তর উল্লেখ রয়েছে:
ক) সেখানে তা যদি যাবজ্জীবন দ্বীপান্তর বুঝায়, তাহলে তাকে যাবজ্জীবন কারাবাস ধরতে হবে;
খ) সেখানে তা যদি স্বল্পতর মেয়াদের দ্বীপান্তর বুঝায়, তাহলে তা রদ বলে গণ্য হবে।

এবার ধারা ৫৪।

“ধারা ৫৪ : মৃত্যুদণ্ড হ্রাসকরণ : যে সকল ক্ষেত্রে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা হয়, তার প্রত্যেক ক্ষেত্রে সরকার অপরাধীর সম্মতি ছাড়াই এ বিধিতে বিহিত অন্য যে কোন দণ্ডে রূপান্তরিত করতে পারবেন

আমরা জানি, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামী রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চাইতে পারে। সেটা আইনেই বলা আছে। সংবিধানেও উল্লেখ আছে। কিন্তু আলোচ্য ৫৪ ধারায় বলা হচ্ছে সরকার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির সাজা কমিয়ে দিতে পারে বা এই ধারা সরকারকে সে ক্ষমতা দিয়েছে। কিন্তু কেন? আইন-আদালত বিচার করে। আর সেটাতেই ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা পায়। কিন্তু সরকার যদি এই ৫৪ ধারামতে, কারো শাস্তি কমানোর এখতিয়ার রাখে তবে আইনের শাসন কিভাবে প্রতিষ্ঠিত হবে? এই প্রশ্ন জাগা স্বাভাবিক। আসলে অনেক সময় অনেক পরিস্থিতি থাকে বা থাকতে পারে যেখানে আদালত হয়তো আইন মোতাবেক যথার্থই সিদ্ধান্ত দিয়েছে, কিন্তু মৃত্যুদণ্ড অনেকগুলো মানবিক কারণে লঘু করে যাবজ্জীবন বা অন্য কোনো শাস্তি দেয়া যেতে পারে, যেমন গর্ভবতী মা যদি মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামী হয়! যাইহোক, আমরা জেনে রাখলাম ৫৪ ধারা মতে মৃত্যুদণ্ড কমানোর সুযোগ বা এখতিয়ার সরকারের আছে। এটা সরকারের বিবেচনাপ্রসূত বিষয়।

এবার ৫৫ ধারা।

“ধারা ৫৫ : যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হ্রাসকরণ : যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করা যেতে পারে এমন প্রত্যেক ক্ষেত্রে সরকার অপরাধীর সম্মতি ছাড়াই উক্ত দণ্ডকে যে কোন বর্ণনায় অনূর্ধ্ব ২০ বছর মেয়াদী সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ড দণ্ডিত করতে পারবেন

নতুন করে আলোচনার দরকার আছে কি? ৫৫ ধারামতে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডও সরকার হ্রাস করতে পারে, তবে তা ২০ বছরের কম এবং তা সশ্রম নাকি বিনাশ্রম হবে তাও সরকার নির্ধারণ করে দিতে পারবে।

“ধারা ৫৫ ক : রাষ্ট্রপতির বিশেষাধিকার সংরক্ষণ : ৫৪ ধারা অথবা ৫৫ ধারার কোন কিছুই রাষ্ট্রপতির ক্ষমা প্রদর্শন, দণ্ড লাঘব, দণ্ড বিলম্বন বা দণ্ড মওকুফকরণের অধিকার খর্বিত করবে না।

রাষ্ট্রপতি তার নিজ ক্ষমতাবলে দণ্ডপ্রাপ্ত যেকোনো ব্যক্তির দণ্ড মওকুফ বা স্থগিতকরণ ইত্যাদি করার অধিকারী হবে। এটা রাষ্ট্রপতির সাধারণ ক্ষমতার অংশ। সংবিধানেই এ বিষয়ে স্পষ্ট করে বলা আছে। খেয়াল করবেন যে, ৫৪ ও ৫৫ ধারায় সরকারকে ক্ষমতা দেয়া হয়েছে, রাষ্ট্রপতিকে নয়। আর ৫৫ ক তে এটাই বলা হচ্ছে যে, সরকারকে ৫৪ ও ৫৫ ধারায় যে ক্ষমতা দেয়া হয়েছে সেই ক্ষমতার কারণে রাষ্ট্রপতির কোনো ক্ষমতা খর্ব হবে না; অর্থাৎ রাষ্ট্রপতির যা ক্ষমতা ছিলো, তাইই বহাল থাকবে যথারীতি।

৫৬ ধারাটি বাতিল হয়েছে। এবার ৫৭ ধারা।

“ধারা ৫৭ : দণ্ডের মেয়াদসমূহের ভগ্নাংশসমূহ : দণ্ডের মেয়াদসমূহের ভগ্নাংশসমূহ হিসাব করার ক্ষেত্রে যাবজ্জীবন কারাবাসকে ৩০ (ত্রিশ) বছর মেয়াদী কারাবাসের সমতুল্য বলে গণনা করা হবে” [Section 57 : Fractions of terms of punishment : In calculating fractions of terms of punishment, imprisonment for life shall be reckoned as equivalent to rigorous imprisonment for thirty years. ]

যাবজ্জীবন কারাবাস বলতে কতদিনের কারাবাস বোঝায় এ নিয়ে মাঝে মাঝেই তর্ক শোনা যায়। যাবজ্জীবন মানে কিন্তু যাবজ্জীবন। মানে মৃত্যু পর্যন্ত কারাবাস। অতি সম্প্রতি উচ্চ আদালতের রায়েও বিষয়টি পরিষ্কার করা হয়েছে বিশদভাবে। সেখানে সমস্ত যুক্তিতর্ক হাজির করে বলা হয়েছে যে, যাবজ্জীবন মানে মৃত্যু হওয়া পর্যন্ত কারাবাসই বোঝাবে। কিন্তু অনেকেই এই ৫৭ ধারাটি দেখে ভুল বুঝে থাকেন। ভালো করে লক্ষ্য করুন এই ধারাটির শিরোনাম এবং ধারাটির মূল বক্তব্য। বলা হয়েছে – যদি কোনো কারণে কোনো দণ্ডের মেয়াদের ভগ্নাংশ হিসেব করার প্রয়োজন হয় তখনই শুধুমাত্র এটাকে ৩০ বছর ধরে গণ্য করে উক্ত ভগ্নাংশ হিসেব করতে হবে।

কিন্তু ভগ্নাংশ কি? কি প্রয়োজন এটার? এসব বিষয় নিয়ে বিস্তারিত এখন বোঝার দরকার নেই। এমসিকিউ পরীক্ষার জন্য শুধুমাত্র এটাই মনে রাখবেন যে, যাবজ্জীবন কারাবাসের ভগ্নাংশ হিসেব করার সময় যাবজ্জীবন কারাবাসকে ৩০ বছর মেয়াদ ধরতে হবে। 

ধারা ৫৮ ও ৫৯ বাতিল হয়েছে সেই ১৯৮৫ সালে ৪১ নং অধ্যাদেশবলে! খাটুনি কমলো, কি বলেন? এবার ৬০ ধারা।

“ধারা ৬০ : কারাবাসের কতিপয় ক্ষেত্রে দণ্ড সম্পূর্ণরূপে বা আংশিকভাবে সশ্রম বা বিনাশ্রম হতে পারবে : যে মামলায় কোন অপরাধকারী যে কোন বর্ণনার কারাবাসের উপযুক্ত হয়, অনুরূপ প্রত্যেক মামলায় অনুরূপ অপরাধকারীকে দণ্ড দানকারী আদালতের উক্ত দণ্ডাদেশের এ মর্মে আদেশ প্রদান করার ক্ষমতা থাকবে যে, অনুরূপ কারাবাস সম্পূর্ণরূপে সশ্রম হবে কিংবা অনুরূপ কারাবাস সম্পূর্ণরূপে বিনাশ্রম হবে বা অনুরূপ কারাবাসের যে কোন অংশ সশ্রম হবে এবং অবশিষ্ট অংশ বিনাশ্রম হবে।

একজন আসামীর কারাদণ্ড সশ্রম হবে নাকি বিনাশ্রম, তা নির্ধারণ আদালত করে থাকেন। রায় ঘোষণার সময়ই আদালত কারাদণ্ডের ঘোষণার পাশেই তা উল্লেখ করেন। এটা আদালতের বা বিচারকের সুবিবেচনার বিষয়। এ বিষয়ে আইনে কোনো নির্দিষ্ট নিয়ম নেই। ৬০ ধারায় আদালতের ক্ষমতার কথা বলা হয়েছে। আদালতের বা বিচারকের এই ক্ষমতা থাকবে যে, কোনো কারাবাস সশ্রম হবে নাকি বিনাশ্রম হবে; আর বলাই বাহুল্য – এটা আদালতের বিবেচনাপ্রসূত বিষয়। নাথিং এলস!

আবারো ৬১ এবং ৬২ ধারা বাতিল। ৬৩ ধারা এবার একটি বিশেষ কিছু।



এবার অর্থদণ্ড বা জরিমানা সম্পর্কিত বিভিন্ন ধারা শুরু হলো এই ৬৩ নং ধারা থেকে। ৬৩ থেকে ৭০ ধারা পর্যন্ত অর্থদণ্ড বা জরিমানা সম্পর্কিত।

অর্থদণ্ড শব্দটি পপুলারলি জরিমানা হিসেবে পরিচিত। কোনো জরিমানা অর্থ দিয়েই করা হয়। জরিমানা বিষয়ে পেনাল কোডের কোনো নির্দিষ্ট অংকের কথা বলা হয়নি। ফলে বিচারক কোথায় কত টাকা জরিমানা ধার্য্য করবেন তা কিছু বিবেচনাসাপেক্ষে করে থাকেন। যেমন, দণ্ডিত ব্যক্তির কৃত অপরাধের প্রকৃতি বা ধরণ, গুরুত্ব ইত্যাদি বিবেচনা করবেন। এর পাশাপাশি দণ্ডিত ব্যক্তির আর্থিক অবস্থা, তার সম্পদ ইত্যাদিও বিবেচনার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ধারাগুলো একে একে দেখে নেন। আগে ব্যাখ্যা, পরে মূল ধারা – এভাবে এগোনো হয়েছে।

আদালত তার নির্দিষ্ট এখতিয়ার বহির্ভূত ভাবে কোনো জরিমানা করতে পারেনা, আবার অসীম পরিমাণও নির্ধারণ করতে পারে না। ধারা ৬৩।

“ধারা ৬৩ : অর্থদণ্ডের পরিমাণ : যেক্ষেত্রে অর্থদণ্ডের পরিমাণ উল্লেখ করা হয় না সেক্ষেত্রে অপরাধকারী কর্তৃক প্রদেয় অর্থদণ্ডের পরিমাণের কোন সীমা থাকবে না, তবে এটা অতিরিক্ত হতে পারবে না।”

জরিমানা আদালত নির্ধারণ করলো কিন্তু আসামী জরিমানা পরিশোধ করলো না বা পরিশোধে অক্ষম। সেক্ষেত্রে কি হবে? এটাই বলা আছে এর পরের ধারা অর্থাৎ ৬৪ ধারায়। ৬৪ ধারার মূল কথা হলো অর্থদণ্ড বা জরিমানা পরিশোধ না করতে পারলে, অর্থাৎ জরিমানা অনাদায়ে আদালত তার কারাভোগ করার নির্দেশ দিতে পারে। আদালত সাধারণত মামলার রায়ের সময়ই পরিষ্কার করে উল্লেখ করে দেয় যে, অর্থদণ্ড আদায় না হলে উক্ত আসামীকে আরো কত দিনের কারাভোগ করতে হবে। ধারাটি পড়ে নেন একবার।

“ধারা ৬৪ : অর্থদণ্ড অনাদায়ের দরুন কারাদণ্ড দান : অর্থদণ্ডসহ কারাবাসে দণ্ডনীয় অপরাধে প্রত্যেক মামলায়, যে মামলায় কারাবাস সহকারে কিংবা ব্যতীত অপরাধকারীর অর্থদণ্ড বিধান করা হয়, অনুরূপ অপরাধকারীর দণ্ড দানকারী আদালতের দণ্ডের আদেশ বলে এ মর্মে নির্দেশ দান করার ক্ষমতা থাকবে যে, অর্থদণ্ড অনাদায়ে অপরাধকারী কোন কোন নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য কারাদণ্ড ভোগ করবে, যে কারাবাস তাকে দণ্ডিত করতে পারে এবং হ্রাসকরণের অধীনে সে দণ্ডনীয় হতে পারে এরূপ অপর যে কোন কারাবাসের অতিরিক্ত হবে।

এবার ধারা ৬৫। এটাও আগের ধারাটার ধারাবাহিকতায় বর্ধিত ব্যাখ্যা সংক্রান্ত। ৬৫ ধারায় বলে দেয়া হচ্ছে অর্থদণ্ড বা জরিমানা অনাদায়ে কারাবাসের পরিমাণ আসামীর কৃত অপরাধের, আইনে বর্ণিত সর্বোচ্চ দণ্ডের চার ভাগের এক ভাগের বেশি হবে না। ধারাটি দেখুন।

“ধারা ৬৫ : যেক্ষেত্রে কারাবাস ও অর্থদণ্ড বিধেয় সেক্ষেত্রে অর্থদণ্ড অনাদায়ে কারাবাসের পরিমাণ : অর্থদণ্ড অনাদায়ের দরুন আদালত অপরাধীকে যে মেয়াদের জন্য কারাবাস ভোগের আদেশ দেন সে মেয়াদ, উক্ত অপরাধ কারাদণ্ড ও তৎসহ অর্থদণ্ডে দণ্ডনীয় হলে, উক্ত অপরাধের জন্য নির্দিষ্ট সর্বোচ্চ কারাদণ্ড মেয়াদের এক-চতুর্থাংশের অধিক হবে না।

চার ভাগের এক ভাগের বেশি হবে না বা ‘সর্বোচ্চ কারাদণ্ড মেয়াদের এক-চতুর্থাংশের অধিক হবে না’ এই কথাটা একটা উদাহরণসহ বুঝে নিতে পারি। ধরা যাক কোনো অপরাধের জন্য শাস্তি হিসেবে কোনো আইনে বলা আছে সর্বোচ্চ এক বছর কারাদণ্ড ও ৫০০০ টাকা জরিমানা। এখন এই ৫০০০ টাকা জরিমানা পরিশোধ না করতে পারলে এই ৬৫ ধারা অনুযায়ী তা ‘সর্বোচ্চ কারাদণ্ড মেয়াদের এক-চতুর্থাংশের অধিক হবে না’ অর্থাৎ, ৩ মাসের [এক বছরের এক চতুর্থাংশ ৩ মাস হয় ] বেশি হতে পারবে না।

এবার ৬৬ ধারা। এখানে জরিমানা বা অর্থদণ্ড অনাদায়ে যে শাস্তির বা যে অতিরিক্ত কারাদণ্ডের কথা বলা হলো ৬৫ ধারায়, তা কি সশ্রম হবে নাকি বিনাশ্রম হবে, তারই উত্তর দিয়েছে ৬৬ ধারা। ৬৬ ধারা মোতাবেক আদালত যে অপরাধের জন্য শাস্তি দিচ্ছে, তার কারাদণ্ড যদি আইনে সশ্রম থাকে তবে অর্থ বা জরিমানা অনাদায়ে অতিরিক্ত কারাদণ্ডটাও সশ্রম হবে এবং তা যদি আইনে বিনাশ্রম লেখা থাকে তবে অর্থ বা জরিমানা অনাদায়ে অতিরিক্ত কারাদণ্ডটাও বিনাশ্রম হবে। ধারাটা পড়ে নিন।

“ধারা ৬৬ : অর্থদণ্ড অনাদায়ে কারাদণ্ডের বর্ণনা : আদালত অর্থদণ্ড অনাদায়ের জন্য যে কারাদণ্ড প্রদান করেন তা উক্ত অপরাধের জন্য অপরাধকারীর যে বর্ণনার দণ্ড বিধান করা যেত তার যে কোন বর্ণনায় হতে পারবে।[Section 66 : Description of imprisonment for non-payment of fine : The imprisonment which the Court imposes in default of payment of a fine may be of any description to which the offender might have been sentenced for the offence.]

এবার ধারা ৬৭। এতক্ষণ আমরা পড়লাম কিভাবে অর্থদণ্ড অনাদায়ে কারাদণ্ড হবে। কিন্তু প্রতিটি ক্ষেত্রেই কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দু’টোই একসাথে কার্যকর থাকার ক্ষেত্রে পদ্ধতিটা বর্ণনা করেছে। এবার এই ধারাটি যে সমস্ত অপরাধে শুধুমাত্র অর্থদণ্ড বা জরিমানা উল্লেখ করা আছে কিন্তু কোনো কারাদণ্ড নাই সেইসব ক্ষেত্রে অর্থদণ্ড বা জরিমানা অনাদায়ে কি পদ্ধতিতে কারাদণ্ড দেয়া হবে তার বর্ণনা করা হয়েছে। ধারাটি মনোযোগ দিয়ে দেখুন। 

“ধারা ৬৭ : শুধুমাত্র অর্থদণ্ডে দণ্ডনীয় অপরাধের ক্ষেত্রে অর্থদণ্ড অনাদায়ে কারাদণ্ড : অপরাধটি শুধুমাত্র অর্থদণ্ডে দণ্ডনীয় হলে, আদালত অর্থদণ্ড অনাদায়ের জন্য যে কারাদণ্ডারোপ করবেন তা হবে বিনাশ্রম এবং অর্থদণ্ড আদালত যে মেয়াদের জন্য অপরাধীকে কারাদণ্ড ভোগের নির্দেশ প্রদান করবেন তা নিম্নোক্ত হার অতিক্রম করবে না যেমন, অর্থদণ্ডের পরিমাণ পঞ্চাশ টাকার বেশি না হলে সর্বোচ্চ দুই মাসের যে কোন মেয়াদ এবং অর্থদণ্ডের পরিমাণ একশ টাকার বেশি না হলে সর্বোচ্চ চার মাসের যে কোন মেয়াদ এবং অপর যে কোন ক্ষেত্রে বা যে কোন মামলায় সর্বোচ্চ ছয় মাস কাল।

আর কোনো ব্যাখ্যার প্রয়োজন নেই আশা করি। বিনাশ্রম হবে এই কারাদণ্ডটি। নিচের তালিকাটি মনে রাখবেন।

  1. ১ থেকে ৫০ টাকা জরিমানা অনাদায়ে সর্বোচ্চ ২ মাসের বিনাশ্রমে জেল / কারাদণ্ড
  2. ৫১ থেকে ১০০ টাকা জরিমানা অনাদায়ে সর্বোচ্চ ৪ মাসের বিনাশ্রমে জেল / কারাদণ্ড
  3. ১০০ টাকার বেশি হলে বা অন্য যে কোনো মামলায় সর্বোচ্চ ৬ মাসের বিনাশ্রমে জেল / কারাদণ্ড

এবার ধারা ৬৮। ‘অর্থদণ্ড আদায় করলে কারাদণ্ডের সমাপ্তি হবে’ – এই হলো ধারাটির শিরোনাম। কথা পরিষ্কার। অর্থাৎ যেক্ষেত্রে জরিমানা বা অর্থদণ্ড আদায় না হবার কারণে কারাদণ্ড ঘোষণা হয়, জরিমানাটি আদায় করা হলে তখনই উক্ত কারাদণ্ডের সমাপ্তি ঘটবে। ধারাটি দেখুন।

“ধারা ৬৮ : অর্থদণ্ড আদায় করলে কারাদণ্ডের সমাপ্তি হবে : অর্থদণ্ড অনাদায়ে যে কারাদণ্ড আরোপ করা হয়, তা ঐ অর্থদণ্ড পরিশোধ করা কিংবা আইনের প্রক্রিয়াধীনে আদায় করার সঙ্গে সঙ্গে সমাপ্ত হয়ে যাবে

এবার ধারা ৬৯। ৬৮ ধারায় আমরা পড়লাম অর্থদণ্ড বা জরিমানা অনাদায়ে কারাদণ্ড হলেও যদি তা পরিশোধ করা হয় তবে সাথে সাথে কারাদণ্ডের সমাপ্তি হবে। কিন্তু ধরুন, অর্থদণ্ড বা জরিমানা অনাদায়ে কারাদণ্ড হলো ৪ মাসের। কিন্তু দুই মাস পরে উক্ত আসামী জরিমানার অর্থ জোগাড় করতে পারলো। তাহলে বাকী কারাদণ্ডের কি হবে? জরিমানাই বা কতো পরিশোধ করতে হবে? এই প্রশ্নগুলোরই সমাধান দিয়েছে এই ৬৯ ধারাটি। ধারাটি পড়ুন।

“ধারা ৬৯ : অর্থদণ্ডের অনুপাতিক অংশ আদায় করা হলে কারাদণ্ডের পরিসমাপ্তি হবে : যদি অর্থ অনাদায়ের কারণহেতু নির্দিষ্ট কারাদণ্ডের মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার পূর্বে অর্থদণ্ডের এমন একটি অনুপাত পরিশোধ কিংবা আইনবলে আদায় করা হয় যে, অর্থ অনাদায়ের কারণহেতু ভোগকৃত কারাদণ্ডের মেয়াদ অপরিশোধিত অর্থদণ্ডের অংশের অনুপাতে কম নয়, তাহলে কারাদণ্ডের পরিসমাপ্তি হবে।

উদাহরণ : ‘ক’ একশত টাকা অর্থদণ্ড এবং অর্থ অনাদায়ের কারণে চার মাসের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়। এক্ষেত্রে কারাদণ্ডের এক মাস উত্তীর্ণ হওয়ার পূর্বে অর্থদণ্ডের পঁচাত্তর টাকা পরিশোধ বা আদায় করা হলে প্রথম মাস উত্তীর্ণ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ‘ক’ কে মুক্ত করা হবে। পঁচাত্তর টাকা প্রথম মাস হওয়ার সময়ে বা ‘ক’ কারাবাসে থাকাকালে পরবর্তী কোন সময় পরিশোধ বা আদায় করা হলে, ‘ক’ কে অবিলম্বে মুক্তি দেয়া হবে। অর্থদণ্ডের পঞ্চাশ টাকা কারাদণ্ডের দুই মাস পূর্ণ হওয়ার পূর্বে পরিশোধ বা আদায় করা হলে দুই মাস পরিপূর্ণ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ‘ক’ কে মুক্তি দেয়া হবে। পঞ্চাশ টাকা উক্ত দুই মাস পূর্ণ হওয়ার কালে বা কারাবাসে থাকাকালে পরবর্তী কোন সময়ে পরিশোধ বা ধার্য করা হলে ‘ক’ কে অনতিবিলম্বে মুক্তি প্রদান করা হবে।

খোদ মূল আইনের একটা অংশেই অত্যন্ত স্পষ্ট একটা উদাহরণ দেয়া আছে। কমনসেন্স প্রয়োগই যথেষ্ট। কোনো আলোচনা করার কিছু নেই।

এবার ৭০ ধারা। মাথা নিশ্চয় এতক্ষণে ভারী হয়ে উঠেছে। এর মূল কথা জেনে রাখুন – অপরাধীর জরিমানা পরবর্তী ছয় বছরের মধ্যে আদায় করা যায় এবং জরিমানা না দিয়ে কোনো অপরাধীর মৃত্যু ঘটলে তাহার সম্পত্তি থেকেও উক্ত জরিমানাটি আদায় করা যাবে

“ধারা ৭০ : ছয় বছরের মধ্যে অথবা কারাবাসকালে আদায়যোগ্য অর্থদণ্ড মৃত্যুর ফলে সম্পত্তি দায়িত্ব মুক্ত হবে না : অর্থদণ্ড বা তার যে কোন অংশ, যা অপরিশোধিত থেকে যাবে তা দণ্ডের আদেশ প্রদানের পরবর্তী ছয় বছরের মধ্যে যে কোন সময় এবং দণ্ড অনুসারে অপরাধী ছয় বছরের অধিক কালের জন্য কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হলে উক্ত মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার পূর্বে যে কোন সময় আদায় করা যাবে এবং অপরাধীর মৃত্যুর পর, তার যে সম্পত্তি তার ঋণসমূহের জন্য আইনত দায়গ্রস্ত হত তা দায়িত্ব মুক্ত হবে না।

এই ধারাতে ৩ স্থানে আন্ডারলাইন করা আছে। এই অংশগুলো প্রত্যেকটি একেকটি ভিন্ন পরিস্থিতিতে কিভাবে কার্যকর তা আলোচনা করা আছে। এটা নিয়েও কোনো আলোচনা অগ্রসর করবো না। নিজের সক্ষমতার উপযুক্ত প্রয়োগ ঘটান।

অর্থদণ্ড সংক্রান্ত ধারাগুলো শেষ। এর একটা সারসংক্ষেপ করি। আপনিও নিজে নিজে মনে করার চেষ্টা করুন একবার।

৬৩ ধারায় অর্থদণ্ডের পরিমাণ নিয়ে ধারণা দেয়া হয়েছে যে, আদালত যেকোনো পরিমাণ অর্থদণ্ড বা জরিমানা নির্ধারণ করতে পারবে, তবে তা অতিরিক্ত হবে না। ৬৪ ধারার মূল কথা হলো ঐ ধার্যকৃত অর্থদণ্ড বা জরিমানা পরিশোধ করতে না পারলে আদালত কারাদণ্ডের আদেশ দিতে পারে, জরিমানার স্থলাভিষিক্ত আকারে। ৬৫ ধারায় জরিমানা অনাদায়ে কারাদণ্ডের পরিমাণ কি হবে সে সম্পর্কে বলা আছে। ৬৬ ধারায় উক্ত কারাদণ্ডটি (জরিমানা অনাদায়ে যে কারাদণ্ড) সশ্রম নাকি বিনাশ্রম হবে তার বর্ণনা দিয়েছে। ধারা ৬৭ আলোচনা করেছে – কোনো কারাদণ্ড নেই, শুধুমাত্র অর্থদণ্ড আছে বা শুধুমাত্র অর্থদণ্ডে দণ্ডনীয় কোনো অপরাধ, তাহলে কিভাবে তার কারাদণ্ড হবে। ৬৮ ধারায় বলা আছে, এরকম ক্ষেত্রে কারাদণ্ড দেয়া হলো, কিন্তু সাথে সাথেই সেই জরিমানাটি পরিশোধের উদ্যোগ নেয়া হলো বা পরিশোধ করা হলো, তাহলে কারাদণ্ডের সমাপ্তি ঘটবে সঙ্গে সঙ্গেই। ৬৯ ধারা বলছে কিছুদিন কারাভোগের পর যদি কেউ তার জরিমানার অর্থটি পরিশোধ করতে চায় তাহলে কিভাবে তার সমাধান হবে। আর এর সবশেষ ধারা ৭০ ধারায় বলা হচ্ছে – কেউ মারা গেলেও তার সম্পত্তি থেকে জরিমানার অর্থ আদায় করা যাবে এবং অপরাধীর জরিমানা পরবর্তী ছয় বছরের মধ্যে আদায় করা যায়।

এবার আমরা ৫৩ থেকে ৬২ পর্যন্ত ধারাগুলো স্মরণ করতে পারবো কি? একবার নিজে ট্রাই করুন। ধারা নির্দিষ্ট করে মনে না রাখতে পারলেও বিষয়বস্তুগুলো অন্তত মনে করার চেষ্টা করুন চোখ বন্ধ করে। আমরা এখানে একটা সারসংক্ষেপ করে রাখলাম।

ধারা ৫৩ তে শাস্তির ৫ রকম প্রকারভেদের কথা বলেছে। ৫৩ ক তে বাতিল হয়ে যাওয়া ‘দ্বীপান্তর’ নামে শাস্তি সম্পর্কে বলা হয়েছে। ৫৪ ধারায় বলা হচ্ছে – কোনো কোনো বিশেষ পরিস্থিতিতে সরকার কোনো আসামীর মৃত্যুদণ্ড হ্রাস করে অন্য শাস্তি দিতে পারে। ৫৫ ধারা বলছে সরকার কারো যাবজ্জীবন কারদণ্ডও হ্রাস করতে পারে। ৫৫ ক মূলত ধারা ৫৪ ও ৫৫ দণ্ড হ্রাস করার রাষ্ট্রপতির যে ক্ষমতা আছে তাকে কোনোভাবে প্রভাবিত করবে না, তা বলা আছে। ৫৬ ধারা বাতিলকৃত। ৫৭ ধারায় যাবজ্জীবন কারাবাসকে কয় বছর ধরা হবে তা বলা হচ্ছে। ৫৮ ও ৫৯ বাতিল। ৬০ ধারায় কোনো কারাদণ্ড সশ্রম নাকি বিনাশ্রম হবে সে বিষয়ে আদালতের ক্ষমতার কথা বলা হয়েছে। ৬১ ও ৬২ বাতিলকৃত।



শাস্তি বিষয়ে বাকী থাকলো ৭১ থেকে ৭৫ এই ধারাগুলো। এগুলো বাদ দিয়েও যেতে পারেন। তবু নিচে আমরা এই সবগুলো ধারা পুরোটাই আপনাদের জন্য তুলে রাখলাম। পড়ে নিন প্রয়োজন অনুযায়ী। নির্জন কারাবাস  [৭৩ ও ৭৪ ধারা] গুরুত্বপূর্ণ।

“ধারা ৭১ : কতিপয় অপরাধের সমবায়ে গঠিত অপরাধের শাস্তির সীমা : যেক্ষেত্রে অপরাধ হিসেবে গণ্য এমন কিছু এরূপ অংশসমূহের সমবায়ে গঠিত হয়, যে অংশসমূহের যে কোন একটি অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়, সেক্ষেত্রে অপরাধীকে অনুরূপ অপরাধসমূহের একাধিকের শাস্তি প্রদান করা যাবে না, যদি না অনুরূপ স্পষ্ট বিধান বিদ্যমান থাকে।

যেক্ষেত্রে কোন কিছু আপাতত প্রচলিত যে আইনবলে অপরাধসমূহের সংজ্ঞা কিংবা শাস্তি প্রদান করা হয়, সে আইনের দুই বা ততোধিক পৃথক সংজ্ঞাদান অপরাধ হয় বা যেক্ষেত্রে কিছু কার্য যার এক বা একাধিক স্বকীয়ভাবে অপরাধ সংঘটন করে, কিন্তু মিলিতভাবে ভিন্ন অপরাধ সংঘটন করে, সেক্ষেত্রে যে আদালত অপরাধীর বিচার করেন সে আদালত অনুরূপ অপরাধসমূহের যে কোনটির জন্য তার যে শাস্তি বিধান করতে পারেন তা হতে কঠোরতর শাস্তি প্রদান করা যাবে না।

উদাহরণসমূহ :
ক) ‘ক’, ‘খ’ কে পঞ্চাশটি লাঠির ঘা দেয়। এক্ষেত্রে ‘ক’ সম্পূর্ণ প্রহারের সাহায্যে এবং যে আঘাতসমূহ সমগ্র প্রহার সংঘটন করে তাদের প্রত্যেকটির সাহায্যে ও ইচ্ছাকৃতভাবে ‘খ’ কে আঘাত করার অপরাধ সংঘটিত করতে পারে। যদি ‘ক’ প্রতি আঘাতের জন্য দণ্ডনীয় হত, তাহলে তাকে প্রত্যেক আঘাতের জন্য এক বছর হিসেবে পঞ্চাশ বছর মেয়াদী কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হত। কিন্তু সে সমগ্র প্রহারের জন্য শুধু একটি দণ্ডে দণ্ডিত হবে।

খ) কিন্তু ‘ক’,‘খ’ কে আঘাত করার সময় যদি ‘ঘ’ বাধাদান করে এবং ইচ্ছাকৃতভাবে ‘ঘ’ কে আঘাত করে, তাহলে এক্ষেত্রে যেহেতু ‘ঘ’ কে দেয়া আঘাত ‘ক’ কর্তৃক ‘খ’ কে ইচ্ছাকৃত আঘাত করার অংশ নয় সেহেতু ‘ক’ ইচ্ছাকৃতভাবে ‘খ’ কে আঘাত করার জন্য একটি দণ্ডে এবং ‘ঘ’ কে আঘাত করার জন্য আরেকটি দণ্ডে দণ্ডনীয় হবে।

“ধারা ৭২ : কতিপয় অপরাধের একটির জন্য দোষী ব্যক্তির দণ্ড – এটা কি সম্পর্কে, রায়ে এর সন্দেহ প্রকাশকরণ : যে সকল মামলায় এরূপ রায় প্রদান করা হয় যে, কোন ব্যক্তি রায়ে বর্ণিত কতিপয় অপরাধের একটির জন্য দোষী তা সন্দেহপূর্ণ, সে সকল মামলায় সব অপরাধের জন্য একই ধরণের দণ্ডের ব্যবস্থা না থাকার ক্ষেত্রে অপরাধীকে যে অপরাধের জন্য সর্বনিম্ন শাস্তির ব্যবস্থা রয়েছে সে অপরাধের শাস্তি প্রদান করা হবে।

“ধারা ৭৩ : নির্জন কারাবাস : কোন ব্যক্তিকে যদি এমন অপরাধের জন্য দণ্ডিত করা হয় যে, অপরাধের জন্য আদালত বিধিবলে তাকে সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করতে পারেন তাহলে আদালত তার দণ্ডাজ্ঞার মাধ্যমে আদেশ করতে পারেন যে, অপরাধীকে তার বিরুদ্ধে প্রদত্ত কারাদণ্ডের মেয়াদের কোন অংশ বিশেষের বা কয়েকটি অংশের জন্য সর্বসাকুল্যে তিন মাসের বেশি হতে পারবে না, নির্জন কারাবাসে আবদ্ধ রাখা হবে, বিভিন্ন ক্ষেত্রে কতকালের জন্য অপরাধীকে নির্জন কারাবাসে আবদ্ধ রাখা হবে তা নিম্নে বর্ণিত হলো, যথা:

১. কারাদণ্ডের মেয়াদ ছয় মাসের অধিক না হলে অনধিক এক মাস পর্যন্ত;

২. কারাদণ্ডের মেয়াদ ছয় মাসের অধিক কিন্তু এক বছরের অধিক না হলে অনধিক দুই মাস পর্যন্ত;

৩. কারাদণ্ডের মেয়াদ এক বছরের অধিক হলে অনধিক তিন মাস পর্যন্ত।

“ধারা ৭৪ : নির্জন কারাবাসের সীমা : নির্জন কারাবাস দণ্ডাজ্ঞা কার্যকর করার ক্ষেত্রে অনুরূপ কারাবাস এককালীন চৌদ্দ দিনের অধিক হতে পারবে না, নির্জন কারাবাসের মেয়াদসমূহের মধ্যে অনুরূপ মেয়াদসমূহ নির্জন কারাবাস অপেক্ষা অন্যূন কালের বিরতিসমূহ থাকবে এবং কারাদণ্ড তিন মাসের বেশি হলে নির্জন কারাবাস প্রদত্ত সর্বমোট কারাদণ্ডের যে কোন এক মাসে সাত দিনের বেশি হতে পারবে না। নির্জন কারাবাসের মেয়াদসমূহের মধ্যে অনুরূপ মেয়াদসমূহ নির্জন কারাবাস অপেক্ষা অন্যূন কালের বিরতিসমূহ থাকবে

“ধারা ৭৫ : পূর্বতন দণ্ডের পরে দ্বাদশ অধ্যায়ের বা সপ্তদশ অধ্যায়ের অধীনে কতিপয় অপরাধের জন্য বর্ধিত দণ্ড : যদি কোন ব্যক্তি-
ক) বাংলাদেশের কোন আদালতের দ্বারা, তিন বছর বা তার অধিক মেয়াদের যে কোন বর্ণনার কারাবাস সহকারে অত্র বিধির দ্বাদশ অধ্যায়ের বা সপ্তদশ অধ্যায়ের অধীনে দণ্ডনীয় কোন অপরাধে দণ্ডিত হয়,
খ) বাতিল।

উক্ত অধ্যায়সমূহের যে কোনটির অধীনে সেই একই মেয়াদের জন্য অনুরূপ কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় যে কোন অপরাধের জন্য দোষী সাব্যস্ত হবে, সেই ব্যক্তি পরবর্তী প্রত্যেক অনুরূপ অপরাধের জন্য যাবজ্জীবন কারাবাসে দণ্ডাধীন বা যে কোন বর্ণনার সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে – যার মেয়াদ দশ বছর অবধি হতে পারে তদনুরূপ হবে।



/45
175

27 minutes


Penal Code [53-75]

এখানে দণ্ডবিধির ৫৩-৭৫ ধারাসমূহ নিয়ে এমসিকিউ টেস্ট আছে। সংশ্লিষ্ট ধারাগুলো পড়ে নিয়ে এটি অনুশীলন করুন।

এখানে আপনার নাম ও ফোন নাম্বার লিখুন। ইমেইলটি লেখা বাধ্যতামূলক নয়; তবে, ইমেইল এড্রেস দিলে আপনার ইমেইলে বিস্তারিত ফলাফল চলে যাবে।

1 / 45

পেনাল কোডে কয় ধরনের শাস্তির বিধান আছে? [জুডি. : ২০০৭]

2 / 45

১ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫০০০ টাকা অর্থদণ্ডে, তথা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় একজন আসামি যদি তার অর্থদণ্ড পরিশোধ করতে না পারে তবে নিচের কোন বাক্যটি সঠিক?

3 / 45

যে অপরাধের একমাত্র শাস্তি জরিমানা, সেক্ষেত্রে জরিমানা অনাদায়ে কারাদণ্ড হবে- [বার : ২০১৫]

4 / 45

নির্জন কারাবাস দণ্ডবিধির কোন ধারার বিষয়বস্তু?

5 / 45

যেক্ষেত্রে অপরাধের শাস্তি শুধুুমাত্র অর্থদণ্ড, সেক্ষেত্রে ১০০ টাকার অধিক অর্থদণ্ড প্রদানে ব্যর্থ হলে সর্বোচ্চ কত মেয়াদের জন্য কারাদণ্ড দেয়া যাবে?

6 / 45

মি. করিম সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় অপরাধে অপরাধী হবার কারণে, ৮ বছরের কারাদণ্ড এবং ১০,০০০ টাকার অর্থদণ্ডে দণ্ডনীয় হয়ে থাকলে এবং তার অর্থদণ্ড অনাদায়ে আদালত সর্বোচ্চ কোন দণ্ডটি প্রদান করতে পারবেন?

7 / 45

অর্থদণ্ড কত বছরের মধ্যে যেকোনো সময় আদায় করা যায়- [বার : ২০১৫]

8 / 45

দণ্ডবিধির কত ধারায় রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা প্রদর্শনের বিশেষাধিকার সংরক্ষণ করা হয়েছে? [বার : ২০১৭]

9 / 45

দণ্ডবিধি ব্যতীত অন্য কোনো আইনে যদি শাস্তি হিসেবে ‘দ্বীপান্তর’ উল্লেখ থাকে তবে তা নিচের কোনটি হিসেবে গণ্য করতে হবে?

10 / 45

অর্থদণ্ড অনাদায়ে কারাদণ্ডের বর্ণনা কিরূপ হবে?

11 / 45

করিম ২০০ টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে ৪ মাসের কারাভোগকালে এক মাসের মাথায় তার স্ত্রী উক্ত অর্থদণ্ডটি পরিশোধ করতে চাইলে আদালত তাকে কত টাকা পরিশোধসাপেক্ষে করিমকে মুক্তি দেবেন?

12 / 45

ফৌজদারি মামলায় জরিমানা প্রদান করা হলে উহা কত দিন পরে আর আদায় করা যাবে না? [জুডি. : ২০০৮]

13 / 45

দণ্ডপ্রাপ্ত আসামির মৃত্যু হলেও কোন ধরনের দণ্ডের কোনো অবসান হয় না?

14 / 45

পেনাল কোড- এ বর্ণিত ‘দ্বীপান্তর’-এর শাস্তি স্থলাভিষিক্ত করা হয় যে প্রকারের কারাদণ্ড দিয়ে তা হলো- [বার : ২০১৫]

15 / 45

পেনাল কোড- এ কত প্রকারের শাস্তি আছে? [বার : ২০১৫]

16 / 45

যেক্ষেত্রে অপরাধের শাস্তি শুধুুমাত্র অর্থদণ্ড, সেক্ষেত্রে ১০০ টাকার অধিক অর্থদণ্ড প্রদানে ব্যর্থ হলে সর্বোচ্চ কত মেয়াদের জন্য বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া যাবে?

17 / 45

সরকার মৃত্যুদণ্ড হ্রাস করে যেকোনো দণ্ডে রূপান্তর করতে পারে দণ্ডবিধির কত ধারা অনুযায়ী? [বার : ২০১৭]

18 / 45

অর্থদণ্ড অনাদায়ে আদালত যে কারাদণ্ড দিতে পারে, তা দণ্ডবিধির কোথায় বিধৃত আছে?

19 / 45

পেনাল কোড- এ বর্ণিত ‘দ্বীপান্তর’-এর শাস্তি স্থলাভিষিক্ত করা হয় যে প্রকারের কারাদণ্ড দিয়ে তা হলো-

20 / 45

যে ক্ষেত্রে পেনাল কোড অনুসারে অর্থদণ্ডের বিধান থাকে কিন্ত কত টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া যাবে সে বিষয়ে কোনো উল্লেখ থাকে না, সেক্ষেত্রে সর্বোচ্চ অর্থদণ্ডের পরিমাণ কত? [জুডি. : ২০১২]

21 / 45

২ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫০০০ টাকা অর্থদণ্ডে, তথা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় একজন আসামি যদি তার অর্থদণ্ড পরিশোধ করতে না পারে তবে নিচের কোন বাক্যটি সঠিক?

22 / 45

রাষ্ট্রপতির ক্ষমা প্রদর্শনের বিশেষ অধিকার বহাল থাকার বা সংরক্ষণ করা হয়েছে দণ্ডবিধির কোন ধারায়?

23 / 45

দণ্ডবিধির ৭০ ধারার বিষয়বস্তু হিসেবে নিচের কোনটি সঠিক নয়?

24 / 45

অর্থদণ্ড অনাদায়ে কারাদণ্ডের ক্ষেত্রে অর্থদণ্ড আনুপাতিক অংশ আদায় হলে কারাদণ্ডের সমাপ্তি হবে - এটি দণ্ডবিধির কোন ধারার বিষয়বস্তু?

25 / 45

সরকার যাবজ্জীবন কারাদণ্ডকে অনুর্ধ্ব ২০ বছর মেয়াদী কারাদণ্ডে পরিণত করতে পারে - এটি কোন আইনের কোন ধারায় বলা আছে?

26 / 45

যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ভোগের ক্ষেত্রে সাজার প্রকৃতি কিরূপ হবে? [জুডি. : ২০১৪]

27 / 45

আদালত অর্থদণ্ড অনাদায়ে কারাদণ্ড দিলে, তা ১/৪ অংশের বেশি হবে না- [বার : ২০১৫]

28 / 45

১০ বছর কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় ব্যক্তির অর্থদণ্ডটি অপরিশোধিত রেখে আসামিটি ৯ বছরের মাথায় কারাগারেই মারা গেলে অর্থদণ্ডের পরিণতি হিসেবে কোন কথাটি সত্য?

29 / 45

নির্জন কারাবাস সর্বোচ্চ কতদিনের হতে পারে?

30 / 45

যেক্ষেত্রে অপরাধের শাস্তি শুধুুমাত্র অর্থদণ্ড, সেক্ষেত্রে ৫০ টাকার কম অর্থদণ্ড প্রদানে ব্যর্থ হলে সর্বোচ্চ কত মেয়াদের জন্য কারাদণ্ড দেয়া যাবে?

31 / 45

দণ্ডবিধিতে কত ধরনের শাস্তির বিধান আছে? [বার : ২০১৭]

32 / 45

যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশের ক্ষেত্রে দণ্ডিত ব্যক্তির সম্মতি ব্যতিরেকেই উক্ত দণ্ডকে সরকার অনধিক কত বছরে হ্রাস করতে পারে? [জুডি. : ২০১৪]

33 / 45

নিম্নবর্ণিতকোন বক্তব্যটি সঠিক? [বার : ২০১৫]

34 / 45

শাস্তির মেয়াদের ভগ্নাংশ নিরূপণের ক্ষেত্রে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডকে যে মেয়াদের সশ্রম কারাদণ্ড হিসেবে গণনা করা হয় তা হলো- [বার : ২০১৫]

35 / 45

যে অপরাধের একমাত্র শাস্তি জরিমানা, সেক্ষেত্রে জরিমানা অনাদায়ে দণ্ড হবে - [বার : ২০১৭]

36 / 45

দণ্ডবিধিতে নিম্নের কোন শাস্তির বিধান নেই- [জুডি. : ২০১৪]

37 / 45

দণ্ডবিধিতে কোথাও ‘যাবজ্জীবন দ্বীপান্তর’ উল্লেখ থাকলে নিচের কোনটি হিসেবে তা প্রতিস্থাপিত হবে?

38 / 45

দণ্ডাদেশ প্রদানের পরবর্তী কত বছরের মধ্যে অর্থদণ্ড আদায়যোগ্য? [বার : ২০১৭]

39 / 45

নিচের কোন ক্ষেত্রটিতে নির্জন কারাবাস সর্বোচ্চ ৩ মাস মেয়াদের হতে পারে?

40 / 45

একজন পাবলিক প্রসিকিউটরের প্রাথমিক দায়িত্ব হলো-

41 / 45

মি. করিম ২ বছরের কারাদণ্ড এবং ১০,০০০ টাকার অর্থদণ্ডে দণ্ডনীয় হয়ে থাকলে এবং তার অর্থদণ্ড অনাদায়ে আদালত তাকে নিচের কোন দণ্ডটি প্রদান করতে পারবেন?

42 / 45

একজন অপরাধী জেল ও জরিমানা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হলো। কিন্তু জরিমানা পরিশোধে সে যখন ব্যর্থ হয়, তখন আদালত অপরাধীকে ঐ অপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তির মেয়াদের কত অংশ কারাদণ্ডে দণ্ডিত করতে পারে?

43 / 45

নির্জন কারাবাসের সীমা এককালীন কত সময়ের বেশি হতে পারে না?

44 / 45

দণ্ডবিধি অনুসারে নিচের কোন শাস্তিটি বৈধ নয়? [বার : ২০১৭]

45 / 45

পেনাল কোডের অধীনে কোনটি অনুমোদিত সাজা নয়? [বার : ২০১৩]

Your score is

0%



বিগত এমসিকিউ সাফল্য

Registered [2017 & 2020 MCQ]

Passed Students [2017 & 2020 MCQ]

Registered [MCQ Exam of 2021]