ঘরে বসেই লাইভ ভিডিওতে
প্রতি মাসে মাত্র ৮০০/- টাকায়

MCQ পরীক্ষার প্রস্তুতি!

ভর্তি হতে কল করুন : 01712-908561

Penal Code Lecture 006 [Sec. 76-95]

দণ্ডবিধি অনুসারে কোনো কোনো কাজ ‘অপরাধ’ হয়েও অপরাধ হিসেবে গণ্য হয় না বিশেষ কিছু শর্তে বা পরিস্থিতিতে এবং এগুলো দণ্ডবিধির ব্যতিক্রম হিসেবে গণ্য হয়। দণ্ডবিধির ‘সাধারণ ব্যতিক্রম’ শিরোনামে মূলত ৭৬-১০৬ পর্যন্ত ধারাসমূহে আলোচনা থাকলেও আলোচনার সুবিধার্থে এটিকে দুইভাবে ভাগ করে ৭৬-৯৫ পর্যন্ত আলোচনা বর্তমান লেকচারে আছে। এই ব্যতিক্রমগুলো ভালোভাবে আত্মস্থ করে নিতে প্রতিটি শিক্ষার্থীর। এখান থেকে অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন থাকে পরীক্ষায়।

Penal Code : Lecture 006

General Exceptions : সাধারণ ব্যতিক্রম

ম্যাপিং : আমাদের এবারের আলোচনার বিষয় সাধারণ ব্যতিক্রম বা General Exceptions। এটা দণ্ডবিধির চতুর্থ অধ্যায়। এর টপিকের বিস্তৃতি ৭৬ থেকে ১০৬ নং ধারা পর্যন্ত হলেও এর আরেকটা আলাদা অংশ আছে ব্যক্তিগত আত্মরক্ষার অধিকার বা Right to private defence এই শিরোনামে। এই অংশটুকু ৯৬ থেকে ১০৬ পর্যন্ত। ‘ব্যক্তিগত আত্মরক্ষার অধিকার’ – এই বিষয়টিও সাধারণ ব্যতিক্রমের মধ্যেই পড়ে এবং এই বিষয় নিয়ে এর পরের লেকচারে আলোচনা করা হবে; একই লেকচারে আলোচনা করা হলে তা দীর্ঘ ও ক্লান্তিকর হবে। ফলে সাধারণ ব্যতিক্রম বা General Exceptions এই শিরোনামের অধীনে ধারা ৭৬ থেকে ৯৫ পর্যন্ত আলোচনা থাকছে

দণ্ডবিধি মূলত শাস্তি ও অপরাধ সংক্রান্ত আলোচনা ও ব্যাখ্যা করেছে। কিন্তু কিছুকিছু ক্ষেত্রে সাধারণ নিয়মের ব্যতয় ঘটিয়ে কিছু ব্যতিক্রমের ধারণাও এখানে ডেভেলপ করেছে। যে সকল কাজ আইনের দৃষ্টিতে প্রাথমিকভাবে অপরাধ বা শাস্তিযোগ্য / দণ্ডনীয় বলে মনে হয়, কিন্তু তা অনেকগুলো বিশেষ ক্ষেত্রে, বিশেষ শর্তে যখন দণ্ডনীয় হয়না সেই বিষয়গুলোই আলোচনা করা আছে সাধারণ ব্যতিক্রমের মধ্যে।

বিগত এমসিকিউ পরীক্ষাগুলোতে মাত্র একবার ১ টি প্রশ্ন এসেছিলো। তাই বলে হেলাফেলা করবেন না একদম।

মূল আলোচনা
দণ্ডবিধিতে শাস্তি নিয়ে আলোচনা আছে, আলোচনা আছে অপরাধের সংজ্ঞা ও প্রকৃতি নিয়েও। সাধারণ ব্যতিক্রম অংশে শাস্তি নিয়ে কিন্তু কোনো আলোচনা করা হয়নি; আলোচনা হয়েছে অপরাধের ব্যতিক্রম সম্পর্কে। আমরা নিজেদের বোঝার সুবিধার্থে এই সাধারণ ব্যতিক্রমকে বলতে পারি অপরাধ ও অপরাধকারী সম্পর্কে সাধারণ ব্যতিক্রম। কিছুদুর আলোচনা পড়লেই স্পষ্ট হয়ে উঠবে।

দণ্ডবিধির ব্যতিক্রম কেমনতর? একটা উদাহরণ দিয়ে শুরু করি। ধরুন, ক এর বন্দুক দিয়ে করা গুলিতে ক এর হাতেই খ খুন হয়েছে। এখানে ক নি:সন্দেহে একজন অপরাধী সাব্যস্ত হবে। কিন্তু ঘটনার আরো বিশ্লেষণে দেখা গেলো – ক প্রকৃতপক্ষে একটি আক্রমণরত বাঘকে মারার জন্য গুলি চালিয়েছিলো। কিন্তু ঝোপের আড়ালে লুকিয়ে থাকা খ কে গিয়ে গুলিটি লাগে ও সাথে সাথেই খ এর মৃত্যু ঘটে। ক জানতো না যে, উক্ত স্থানে কেউ লুকিয়ে আছে বা লুকিয়ে থাকতে পারে। অর্থাৎ তার অজান্তে এবং অসাবধানতাবশত নিছক দূর্ঘটনা আকারে ঘটনাটি ঘটেছে। খ কে খুন করার জন্য ক এর কোনো পূর্ব পরিকল্পনা, কোনো অভিপ্রায় (guilty intent) ছিলো না। ফলে ক এখানে ক্ষমা পেতে পারে। আপাতদৃষ্টিতে একটি খুন ক এর দ্বারা সংঘটিত হলেও সে দোষী নাও হতে পারে। এই ব্যাপারটাই দণ্ডবিধির অপরাধ সংক্রান্ত ব্যতিক্রম। ক কে ক্ষমা বা এই খুনের দায় হতে অব্যহতি পেতে চাইলে ক কেই প্রমাণ করতে হবে যে, তার কোনো অভিপ্রায় ছিলো না বা ঘটনাটি নিছক দূর্ঘটনাবশত ঘটেছে। সাধারণভাবে যখন যে পক্ষের বিশেষ দাবি বা বক্তব্য থাকে, সেই পক্ষকেই তা প্রমাণ করতে হয় আদালতে। ধরুন খ এর স্ত্রী একটি খুনের মামলা করলো ক এর বিরুদ্ধে। উক্ত স্ত্রীকে প্রমাণ করতে হবে ক খুন করেছে খ কে। অন্যদিকে ক যদি দাবি করে তার কোনো দোষী মন ছিলো না, বা কোনো অভিপ্রায় ছিলো না তবে তা ক কেই প্রমাণ করতে হবে। বিশেষ করে সাধারণ ব্যতিক্রমের অন্তর্ভূক্ত বিষয়গুলো অবশ্যই আসামীপক্ষকে প্রমাণ করতে হবে।

উপরোক্ত উদাহরণটি একটি আদর্শ উদাহরণ হলো। কিন্তু আরো অনেক বিচিত্র বিষয়বস্তু আছে। ধারাগুলো একে একে পড়তে থাকলে বিষয়গুলো পরিষ্কার হয়ে উঠবে।

ধারা ৬ এর কথা মনে আছে? ধারাটি এই লেকচারের প্রাণভোমরা। বিস্তারিত বলবোনা, মনে না থাকলে দেখে আসুন ২ নং লেকচার থেকে।

ধারা শুরু করি। ধারা ৭৬।

“ধারা ৭৬ : আইনত বাধ্য বা ভুল ধারণাবশত নিজেকে আইনবলে বাধ্য বলে বিশ্বাসকারী ব্যক্তিবিশেষ কর্তৃক সম্পাদিত কার্য : যে ব্যক্তি কোন কিছু সম্পাদন করার জন্য আইনবলে বাধ্য বা তথ্যের ভুল ধারণাবশত, আইনের ভুল ধারণাবশত নয়, সরল বিশ্বাসে নিজেকে কোন কিছু সম্পাদন করার নিমিত্তে আইনবলে বাধ্য বলে বিশ্বাস করে, সে ব্যক্তি উক্ত কাজ সম্পাদন করলে তা অপরাধ নয়।

উদাহরণহসমূহ:
ক) সৈনিক ‘ক’ তার উর্ধ্বতন অফিসারের আদেশ অনুযায়ী আইনের নির্দেশ মোতাবেক কোন জনতার উপর গুলি চালায়। ‘ক’ কোন অপরাধ করে না।

খ) বিচারালয়ের কোন এক কর্মকর্তা ‘ক’ উক্ত বিচারালয় কর্তৃক ‘ম’ কে গ্রেফতার করার জন্য আদিষ্ট হয় এবং যথাযথ তদন্তের পর ‘খ’ কে ‘ম’ মনে করে ‘খ’ কে গ্রেফতার করেন। ‘ক’ কোন অপরাধ সংঘটিত করেনি।

উদাহরণ দুইটিই যথেষ্ট আমাদের উপলব্ধির জন্য। উদাহরণ ক এর মূলকথা হচ্ছে – একজন ব্যক্তি যখন আইনত বা আইনবলে কোনো কাজ করতে বাধ্য থাকেন তখন উক্ত কাজের জন্য তিনি নিজে ব্যক্তিগতভাবে দায়ী হবেন না।

উদাহরণ খ এর মূলকথা হচ্ছে – যখন কোনো কাজ তথ্যের ভুলবশত এবং সদবিশ্বাসে কোনো লোক আইনত বা আইনবলে কোনো কাজ করতে বাধ্য থাকেন তখন সেটা ভুল হলেও তার অপরাধ হবে না।

বলাই বাহুল্য, ওপরে দেয়া দুইটি উদাহরণেই দেখা যাবে সরকারী কর্মকর্তা / কর্মচারীদের বা নিরাপত্তায় নিয়োজিত লোকেদেরকেই ইঙ্গিত করা হয়েছে।

ধারা ৭৭ ও ৭৮ একসাথে আলাপ করলেই ভালো হবে। এই দুইটি ধারা পরস্পর সম্পর্কিত অল্পবিস্তর। ধারা ৭৭ এ বলা হচ্ছে – কোনো বিচারক যখন কোনো বিচার করতে গিয়ে তার প্রতি ন্যস্ত ক্ষমতা অনুযায়ী যা যা করেন, তার কোনো কিছুই অপরাধ হয় না। অন্যদিকে ধারা ৭৮ এ বলা হচ্ছে – বিচারক বা আদালত যে রায় বা নির্দেশ দেন তার অনুসরণে সম্পাদন হওয়া কোনো কাজও অপরাধ বলে বিবেচিত হবে না। ধারা দুটো পড়ে নেন।

“ধারা ৭৭ : বিচার বিষয়ক কার্য পরিচালনাকালে বিচারকের কার্য : বিচারকের দ্বারা বিচার সম্পর্কিত কার্য পরিচালনাকালে আইনবলে তৎপ্রতি প্রদত্ত হয়েছে বলে তিনি বিশ্বাস করেন, এরূপ যে কোন ক্ষমতা প্রয়োগ করার ক্ষেত্রে সম্পাদিত কোন কিছুই অপরাধ হবে না।

“ধারা ৭৮ : আদালতের রায় কিংবা আদেশের অনুসরণে সম্পাদিত কার্য : বিচারালয়ের রায় কিংবা আদেশের অনুসরণে অথবা দাবিক্রমে সম্পাদিত কোন কার্যই, ঐ রায় বা আদেশ বলবৎ থাকাকালে সম্পাদিত হলে অপরাধ নয়, যদিও উক্ত আদালতের অনুরূপ রায় বা আদেশ প্রদান করার কোন অধিক্ষেত্র না থাকে অবশ্য এ শর্তে যে, উক্ত কার্য সম্পাদনকারী ব্যক্তি সদবিশ্বাসে বিশ্বাস করেন যে, উক্ত কার্য সম্পাদনে আদালতের অনুরূপ অধিক্ষেত্র ছিল।

ধারা দুটোর ব্যাপার-স্যাপার বুঝে নেই আরেকটু। কেউ কারো নির্দেশে কাউকে জোরপূর্বক আটক করে রাখলে তা হবে অপরাধ। কিন্তু ভাবেন তো, কোনো জেল কর্তৃপক্ষ আদালতের নির্দেশে কাউকে আটক করে রাখলে কি অপরাধ? আমরা অভ্যস্ততার খাতিরেই জানি বা এটা ধরে নেই যে, এটা কোনো অপরাধ নয়; বরং আইন মেনে চলা হচ্ছে, অপরাধী যথাযথ শাস্তি পাচ্ছে বা আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে ইত্যাদি ইত্যাদি। কিন্তু এর পেছনের যুক্তিটা কি? বলাই বাহুল্য, আইনের মাধ্যমে এই ক্ষমতা দেয়া হয়েছে আদালত ও জেল কর্তৃপক্ষকে। আদালত ও জেল কর্তৃপক্ষের ক্ষমতার উৎস আইন। আইনের মাধ্যমে প্রাপ্ত ক্ষমতা প্রয়োগ করেই সমাজে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা হয়, সমাজে আইনের শাসনের প্রতিষ্ঠা করা হয়। বিচার নিস্পত্তি হলে কোনো না কোনো পক্ষ পরাজিত হয়; পরাজিত পক্ষ ক্ষুব্ধ হয়ে উঠতে পারে। কিন্তু তার কোনো ব্যক্তিগত আক্রোশ থাকতে পারে না বিচারকের প্রতি, থাকাটা যুক্তিসঙ্গত বা ন্যায়সঙ্গত নয় কোনোভাবেই। কেননা, বিচারক কোনো ব্যক্তি হিসেবে বা ব্যক্তিগত কোনো কারণে রায় দেন না। তিনি রায় দেন বা বিচার করেন আইন অনুযায়ী।

একজন বিচারক যেন নিশ্চিন্তে তার বিচার কাজ পরিচালনা করতে পারেন তার নিরাপত্তা ও নিশ্চয়তা বিধান করাই আসলে ৭৭ ধারাটির লক্ষ্য। বিচারক রায় দিলেই তো আর অপরাধীর শাস্তি নিশ্চিত হয় না। তাকে কার্যকর করার ব্যবস্থা রাখতে হয়। ৭৭ ধারাটি অর্থহীন হয়ে পড়তো যদি ৭৮ ধারাটি না থাকে। কেননা শুধু বিচারকের কাজের নিরাপত্তা বিধানই যথেষ্ট নয়; এটি যারা কার্যকর করবেন তাদের নিরাপত্তাও আইনে উল্লেখ থাকা আবশ্যক। ৭৮ ধারায় ঠিক তাই-ই করা হয়েছে। ৭৮ ধারায় বলা হচ্ছে, আদালতের নির্দেশক্রমে বা আদালতের রায় অনুসারে সম্পাদিত কোনো কাজ অপরাধ নয়। আর এ কাজটি প্রধানত জেল কর্তৃপক্ষ বা পুলিশ বাহিনী করে থাকে। যেমন পুলিশ আদালতের নির্দেশে কাউকে গ্রেফতার করতে পারে অথবা সম্পত্তির দখল কাউকে বুঝিয়ে দিতে পারে অথবা জেলখানার মাধ্যমে আদালত কর্তৃক দেয়া শাস্তি বাস্তবায়ন করতে পারে ইত্যাদি ইত্যাদি।

এবার ধারা ৭৯। কোনো বিস্তারিত আলোচনার প্রয়োজন নেই। উদাহরণটি বুঝে রাখুন।

“ধারা ৭৯ : আইন সমর্থিত কিংবা ভুল ধারণাবশত নিজেকে আইন সমর্থিত বলে বিশ্বাসকারী ব্যক্তি কর্তৃক সম্পাদিত কার্য : আইন সমর্থিত ব্যক্তি, কোন কিছু সম্পাদনের নিমিত্তে বা যে ব্যক্তি ভুল ধারণাবশত সদবিশ্বাসে নিজেকে আইন সমর্থিত বলে বিশ্বাস করে, এরূপ ব্যক্তি দ্বারা সম্পাদিত কোন কিছু অপরাধ নয়।

উদাহরণ: ‘ক’, ‘খ’ কে এমন একটি কার্য সংঘটন করতে দেখে যা ‘ক’ এর নিকট খুন বলে প্রতীয়মান হয়। ‘ক’ সদবিশ্বাসে তার স্বীয় সর্বোচ্চ বিবেচনায় উক্ত কাজে খুনিগণকে গ্রেফতার করার জন্য আইনবলে সকল লোকের প্রতি অর্পণীয় ক্ষমতা প্রয়োগ করে ‘খ’ কে যথাযথ কর্তৃপক্ষের নিকট উপস্থিত করার উদ্দেশ্যে ‘খ’ কে আটক করে। ‘ক’ কোন অপরাধ সংঘটিত করেনি, যদিও ফলস্বরূপ এরূপ প্রমাণিত হতে পারে যে, ‘খ’ আত্মরক্ষার উদ্দেশ্যে কাজটি করেছিল।

এবার ধারা ৮০ ও ৮১ নং ধারা নিজেরা পড়ে নেন।

“ধারা ৮০ : কোন আইনানুগ কার্য সম্পাদনকালে দুর্ঘটনা : দুর্ঘটনা বা দুর্ভাগ্যক্রমে এবং কোন প্রকার অপরাধমূলক উদ্দেশ্য কিংবা অবগতি ব্যতিরেকে আইনানুগ পদ্ধতি আইনানুগ মাধ্যমের সাহায্যে এবং যথাযথ যত্ন ও সতর্কতার সাথে সম্পাদিত কোন আইনানুগ কার্যই অপরাধ নয়

উদাহরণ : ‘ক’ একটি কুঠার নিয়ে কাজ করছে, হঠাৎ তা কুঠারের মাথাটি খুলে গিয়ে উড়ে যায় এবং সন্নিকটে দণ্ডায়মান এক ব্যক্তিকে নিহত করে। এক্ষেত্রে যদি ‘ক’ এর পক্ষে যথাযথ সতর্কতার অভাব না থেকে থাকে, তাহলে তার কাজ মার্জনীয় হবে এবং অপরাধ হবে না।”

“ধারা ৮১ : সম্ভাব্য ক্ষতিকর কার্য, কিন্তু অপরাধমূলক উদ্দেশ্য ব্যতীত এবং ক্ষতি নিবারণকল্পে সম্পাদিত : ক্ষতিসাধন করতে পারে এরূপ সম্ভাবনা রয়েছে জেনে কোন কিছু করা অপরাধ নয়, যদি তা কোন ক্ষতিসাধনের উদ্দেশ্য ব্যতিরেকে এবং মনুষ্য বা সম্পত্তির প্রতি অন্য কোন ক্ষতি নিবারণ এড়ানোর উদ্দেশ্যে করা হয়।

ব্যাখ্যা : যে ক্ষতিটি নিবারণ বা এড়াতে হবে, তা এতই আসন্ন বা প্রকট ছিল কিনা এবং তা এমন প্রকৃতির ছিল কিনা যার ফলে সম্পাদিত কার্যটি ক্ষতি করতে পারে জানা সত্ত্বেও তা করা বা করার মাধ্যমে ঝুঁকি গ্রহণ ক্ষমার্হ্য হবে; বাস্তব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতেই এই প্রশ্নটি মীমাংসা করতে হবে

উদাহরণসমূহ:
ক) একটি জাহাজের কাপ্তান ‘ক’ নিজের কোন দোষ বা ত্রুটি ব্যতিরেকে নিজেকে এরূপ অবস্থায় আপাতত দেখতে পান যে, তিনি তদীয় জাহাজের গতি পরিবর্তন না করলে বিশ বা ত্রিশজন আরোহীসহ একটি নৌকা ‘খ’ কে অনিবার্যভাবে ডুবিয়ে ফেলবেন এবং গতিপথ পরিবর্তন করলে তিনি দুইজন যাত্রীসহ একটি নৌকা ‘গ’ কে যা তিনি সম্ভবত বাঁচাতে পারেন অবশ্যই ডুবিয়ে ফেলবেন। এক্ষেত্রে যদি ‘ক’ নৌকার ‘খ’ এর যাত্রীদের বিপদ মুক্তির জন্য সদবিশ্বাসে এবং নৌকা ‘গ’ কে ডুবিয়ে ফেলার কোন অভিপ্রায় ব্যতিরেকে তার গতিপথ পরিবর্তন করেন তাহলে তিনি কোন অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হবেন না, যদিও তিনি ‘গ’ নৌকাটি ডুবিয়ে ফেলেন, যে কার্যের অনুরূপ পরিণতির সম্ভাবনা আছে বলেই তিনি জানতেন। যদি বস্তুত এটা প্রমাণিত হয় যে, তিনি যে বিপদ এড়ানোর ইচ্ছা করেছিলেন তা এরূপ ছিল যার ফলে তৎকর্তৃক ‘গ’ নৌকাটি ডুবিয়ে ফেলার ঝুঁকি নেয়া ক্ষমার যোগ্য।

খ) একটি প্রচণ্ড অগ্নিকাণ্ডের সময় আগুন যাতে ছড়িয়ে না পড়ে, সেই কারণে ক সন্নিহিত বাড়িঘর ভেঙ্গে ফেলে। মানুষের জীবন ও সম্পত্তি রক্ষার আন্তরিক সদুদ্দেশ্য প্রণোদিত হয়েই সে এই ব্যবস্থা অবলম্বন করে। এই ক্ষেত্রে প্রকৃত পরিস্থিতি বিবেচনায় যদি এরূপ প্রতিপন্ন হয় যে, সম্ভাব্য বা আসন্ন ক্ষতি নিবারণ করার উদ্দেশ্যে সে এই ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিলো, সেই সম্ভাব্য বিপদের দিক হতে তার গৃহীত ব্যবস্থা ক্ষমাযোগ্য, ত হলে ক সংশ্লিষ্ট কাজের জন্য অপরাধী হবে না।

৮২ নং ধারা থেকে বেশ কিছু খুব গুরুত্বপূর্ণ ধারা আছে যেগুলো আইনের একজন শিক্ষার্থীর জানাটা অতিআবশ্যক। সরাসরি ধারাগুলো পড়ে নেন আগে।

“ধারা ৮২ : নয় বছরের কম বয়স্ক শিশুর কার্য : নয় বছরের কম বয়স্ক শিশুর কৃত কোন কর্ম অপরাধ নয়।

“ধারা ৮৩ : নয় বছরের বেশি বয়স্ক ও বার বছরের কম বয়স্ক অপরিণত বোধশক্তি সম্পন্ন শিশুর কার্য : নয় বছরের বেশি বয়স্ক ও বার বছরের কম বয়স্ক এমন শিশু কর্তৃক কৃত কিছুই অপরাধ হবে না। উক্ত অপরাধের ব্যাপারে যে শিশুর বোধশক্তি এতদুর পরিপক্কতা লাভ করেনি যে, সে স্বীয় আচরণের প্রকৃতি ও ফলাফল বিবেচনা করতে পারে [who has not attained sufficient maturity of understanding to judge of the nature and consequences of his conduct on that occasion.]।

“ধারা ৮৪ : অপ্রকৃতিস্থ ব্যক্তির কার্য : এমন কোন ব্যক্তি কর্তৃক কৃত কোন কিছুই অপরাধ নয়, যে ব্যক্তি অনুরূপ অপরাধ সংঘটনকালে মানসিক অসুস্থতার [unsoundness of mind] কারণে কার্যটির ধরণ সম্পর্কে অবহিত হতে অপারগ বা সে আইনের দৃষ্টিতে ভুল বা আইনের পরিপন্থী কার্য করছে বলে জানার অযোগ্য।

৮২ ধারায় সরাসরি বলেই দিচ্ছে ৯ বছরের নিচে কোনো শিশুর কোনো কর্ম অপরাধ নয়। সিম্পল এ্যন্ড ডিরেক্ট। ৮৩ ধারাতে ৮২ ধারার বয়স সীমাটা আরেকটু বাড়িয়ে বলা হচ্ছে – ৯ থেকে ১২ বছর বয়সী শিশুদের নিজের কাজের প্রকৃতি ও পরিণতি সম্পর্কে পরিপক্কতা যেহেতু নেই, তাই তাদের করা কাজও কোনো অপরাধ হবে না। ৮২ ধারার সাথে ৮৩ ধারার মূল পার্থক্য হলো – কোনো শিশুর বুদ্ধির বিকাশ অথবা পরিপক্কতার বিষয়ে। ৮৪ ধারার মোদ্দা কথা হলো – পাগল কোনো ব্যক্তির, যার নিজের কাজ এর আইনী ফলাফল জানা নেই তার কাজও কোনো অপরাধ বলে বিবেচিত হবে না! ৮৪ ধারাটি অনেক বিস্তর আলাপ করার আছে। বিশেষ করে আপনি যখন আইন প্র্যাকটিস করবেন একজন আইনজীবী হিসেবে তখন এর অনেক বিস্তারিত উপলব্ধির প্রয়োজন পড়বে। পরীক্ষার জন্য আপনি আপাতত শুধু এটুকুই জেনে রাখুন। তবে কিছু সেন্স ডেভেলপ হয়ে থাকলে অনেক কমনসেন্স বাড়ে আইন বিষয়ে যা আপনাকে যেকোনো প্রশ্ন বিশ্লেষণ সাপেক্ষে উত্তর বের করে ফেলতে সহায়তা করবে।

কথাপ্রসঙ্গে বলে রাখি। মনে রাখবেন – এই টপিকের অধীনে যতো ধারা আছে তার সবগুলোই আদালতে প্রমাণের ওপর নির্ভরশীল। সাধারণভাবে একজন ১১ বছর বয়সী বালকের করা চুরি কোনো অপরাধ নয়। কিন্তু সে যদি চুরি করে এবং ৮৩ ধারা মোতাবেক তার আইনজীবী যদি তাকে বাঁচাতে চায়, তবে উক্ত আইনজীবীকে সেই বালকের অপরপিক্কতা প্রমাণ করতে হবে আদালতে। এটা অভিযুক্ত বা আসামী পক্ষেরই দায়িত্ব। অন্যদিকে বাদী পক্ষ বা রাষ্ট্রপক্ষের দায়িত্ব হলো এটা প্রমাণ করা যে, তার বয়স ১২ এর নিচে হলেও যে যথেষ্ট পরিপক্ক।

এবার ধারা ৮৫।

“ধারা ৮৫ : অনিচ্ছাকৃত নেশাগ্রস্থতার কারণে বিচারশক্তি রহিত লোকের কার্য : এমন কোন ব্যক্তি কার্য সম্পাদনকালে প্রমত্ততাবশত [by reason of intoxication] কার্যটির প্রকৃতি বা সে যে কার্য করছে তা ভুল বা আইনের পরিপন্থী বলে চিনতে / বুঝতে পারার অযোগ্য হলে তৎকর্তৃক কৃত কোন কিছুই অপরাধ নয়। তবে শর্ত থাকে যে, প্রমত্ততা সৃষ্টিকারী বস্তু তার অগোচরে বা ইচ্ছার বিরুদ্ধে তার উপরে প্রয়োগ করা হয়েছিল।

ধারায় ব্যবহৃত প্রমত্ততা শব্দটি দিয়ে নেশাগ্রস্থতা বোঝানো হয়েছে। কাউকে কোনো কিছু / বা নেশাজাতীয় দ্রব্য তার অগোচরে বা অজ্ঞাতে খাওয়ানো হলো এবং তারপরে তার দ্বারা সংঘটিত হওয়া কোনো কাজ অপরাধ বলে বিবেচিত হবে না, যদি ঐ নেশাগ্রস্থতার কারণে সে স্বাভাবিক না থাকে। যেই কারণে একজন অপ্রকৃতিস্থ লোক বা পাগলের কোনো কাজ অপরাধ বলে বিবেচিত হয় না, তেমনিভাবে এই ধারা অনুযায়ী নেশাগ্রস্থ লোকের যিনি তার নিজের অনিচ্ছায় বা অজ্ঞাতে নেশাগ্রস্থ হয়ে কোনো কাজ করেন – তারও কোনো কাজ অপরাধ বলে বিবেচিত হবে না। ধারা ৮৬ এর সারবস্তুও প্রায় একই। দেখুন।

“ধারা ৮৬ : যে অপরাধের ক্ষেত্রে বিশেষ জ্ঞানের প্রয়োজন রয়েছে, নেশাগ্রস্ত ব্যক্তি কর্তৃক সে অপরাধ সংঘটন : যেসব ক্ষেত্রে কোন বিশেষ জ্ঞান বা উদ্দেশ্য সহকারে করা না হলে কোন কার্য অপরাধ হয় না, সেসব ক্ষেত্রে কোন ব্যক্তি উন্মত্ত অবস্থায় কোন কার্য করলে তার এরূপ ব্যবস্থা করা হবে যেন উন্মত্ত না হলে তার যেরূপ জ্ঞান থাকত; তদ্রুপ একই জ্ঞান রয়েছে যদি না তার উন্মাদনা সৃষ্টিকারী বস্তুটি তার অজ্ঞাতে বা ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাকে পরিবেশন করা হয়।

এবার ধারা ৮৭, ৮৮ ও ৮৯। একসঙ্গে। এই তিনটি ধারাতে উদাহরণগুলোই ভরসা। ভালভাবে উদাহরণগুলো দেখুন তিনটি ধারাতেই। যথেষ্ট। আন্ডারস্টান্ডিংটা রাখুন শুধু।

“ধারা ৮৭ : বিনা উদ্দেশ্যে এবং মৃত্যু বা গুরুতর আঘাত ঘটাইতে পারে বলিয়া না জানিয়া সম্মতিক্রমে সম্পাদিত কার্য : মৃত্যু ঘটানোর অথবা গুরুতর আঘাত করার উদ্দেশ্যে সম্পাদিত নয়, অথবা মৃত্যু ঘটাইতে পারে বা গুরুতর আঘাত করতে পারে এইরূপ না জানিয়া সম্পাদিত কোনো কার্য করার পর তাতে কোনো ক্ষতি হবার ফলে অপরাধ হবে না; অথবা আঠার বছরের অধিক বয়স্ক কোনো লোক প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে অনুরূপ কার্যের ফল হতে উদ্ভূত ক্ষতি স্বীকার করার সম্মতিদানের পর, তার সম্মতি নিয়ে উক্তরূপ ক্ষতি সাধনের ইচ্ছা করিয়া কার্যটি করার পর তাতে কোনোরূপ ক্ষতি হবার ফলে কার্যটি অপরাধ হবে না; অথবা যে লোক কার্যটি করছে, সেই লোক কার্যটি করবার ফলে ক্ষতি সংঘটিত হতে পারে জানা সত্ত্বেও যে লোকের ক্ষতি হতে পারে, সেই লোকের ক্ষতির ঝুঁকি স্বীকারে সম্মতিক্রমে কার্যটি করার পর তাতে কোনোরূপ ক্ষতি হবার ফলে কার্যটি অপরাধ হবে না।

উদাহরণ : ‘ক’ ও ‘খ’ আনন্দ উপভোগের উদ্দেশ্যে পরস্পরের সাথে তরবারি খেলা খেলতে সম্মত হয়। এ চুক্তিতে অসাধুতার ক্ষেত্র ব্যতিরেকে, অনুরূপ তরবারি খেলা খেলার সময় ঘটতে পারে এরূপ সম্ভাব্য যে কোন ক্ষতি বহনে প্রত্যেকের সম্মতি রয়েছে বলে বুঝায় এবং যদি ‘ক’ সাধুভাবে উক্ত ক্রীড়া অনুষ্ঠানকালে ‘খ’ কে আঘাত করে, তাহলে ‘ক’ কোন অপরাধ করেনি।

“ধারা ৮৮ : মৃত্যু ঘটানোর জন্য অভিপ্রেত নয় এমন কার্য ব্যক্তি বিশেষের উপকারার্থে সদবিশ্বাসে সম্মতি সহকারে সম্পাদন : মৃত্যু ঘটানোর জন্য উদ্দিষ্ট নয় এমন কোন কিছুই, যে ব্যক্তির উপকারার্থে কোন ক্ষতিসাধন করা হয় এবং যে ব্যক্তি কোন ক্ষতিসাধনের কারণে বা বহনের নিমিত্ত বা কোন ক্ষতির ঝুঁকি গ্রহণের জন্য প্রকাশ্যে বা পরোক্ষভাবে সম্মতি দান করেছে, সে ব্যক্তির প্রতি কোন ক্ষতি সংঘটনের সম্ভাবনা রয়েছে বলে সংঘটকের জানা থাকে সে ক্ষতির কারণে অপরাধ হবে না।

উদাহরণ : সার্জন ‘ক’ একটি বিশেষ অস্ত্রোপচারের ফলে কঠিন রোগে আক্রান্ত রোগী ‘খ’ এর মৃত্যুরও সম্ভাবনা রয়েছে জেনে, তবে ‘খ’ এর মৃত্যু কামনা না করে এবং সদবিশ্বাসে ‘খ’ এর মঙ্গল কামনা করে ‘খ’ এর সম্মতিক্রমে ‘খ’ এর উপর অস্ত্রোপচার সংঘটন করেন। ‘ক’ কোন অপরাধ করেনি।

“ধারা ৮৯ : অভিভাবক কর্তৃক বা অভিভাবকের সম্মতিক্রমে শিশু বা মস্তিষ্ক বিকৃত ব্যক্তির মঙ্গলার্থে সদবিশ্বাসে কৃত কার্য : বার বছরের কম বয়স্ক বা মস্তিষ্ক বিকৃত ব্যক্তির অভিভাবক বা আইনানুগ তত্ত্বাবধানকারী অন্য কোন ব্যক্তি কর্তৃক বা তার প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সম্মতিক্রমে সদবিশ্বাসে কৃত কোন কিছুই উক্ত ব্যক্তির প্রতি যে ক্ষতিসাধন করতে পারে তার জন্য বা সংঘটক কর্তৃক তৎপ্রতি যে ক্ষতি অভীষ্ট হয় সে ক্ষতির কারণে বা তৎপ্রতি যে ক্ষতি সাধিত হওয়ার সম্ভাবনা বলে সংঘটকের জানা থাকে সে ক্ষতির কারণে অপরাধ হবে না। শর্ত থাকে যে,

প্রথমত: এ ব্যতিক্রম ইচ্ছাকৃতভাবে মৃত্যু ঘটানোর প্রচেষ্টার প্রতি প্রযোজ্য হবে না।

দ্বিতীয়ত: এ ব্যতিক্রম এমন কোন কিছুই সম্পাদনের প্রতি প্রযোজ্য হবে না, যা মৃত্যু বা গুরুতর আঘাত এড়ানোর বা কোন মারাত্মক রোগ পঙ্গুত্ব নিরাময় করার কার্য ব্যতীত অন্য কোন উদ্দেশ্যে মৃত্যু ঘটাতে পারে বলে উক্ত কার্য সম্পাদনকারী ব্যক্তি জানে।

তৃতীয়ত: এ ব্যতিক্রম ইচ্ছাকৃতভাবে গুরুতর আঘাত প্রদান বা গুরুতর আঘাত প্রদানের উদ্যোগের প্রতি প্রযোজ্য হবে না, যদি না তার মৃত্যু বা গুরুতর আঘাত নিবারণ করা কিংবা কোন মারাত্মক রোগ পঙ্গুত্ব নিরাময় করার উদ্দেশ্যে সম্পাদিত হয়।

চতুর্থত: এ ব্যতিক্রম এমন কোন অপরাধ সংঘটনের সহায়তার প্রতি প্রযোজ্য হবে না, যে অপরাধ সংঘটনের প্রতি উক্ত ব্যতিক্রম প্রযোজ্য নয়।

উদাহরণ : ‘ক’ তার শিশুর মঙ্গলার্থে তার শিশুর সম্মতি ব্যতিরেকে, একজন চিকিৎসক দ্বারা পাথর বের করানোর উদ্দেশ্যে তার শিশুকে অস্ত্রপচার করায়। ‘ক’ এর জানা ছিল যে, উক্ত অস্ত্রপচারের ফলে শিশুটির মৃত্যু ঘটতে পারে, কিন্তু শিশুকে মারার অভিপ্রায়ে কার্যটি করা হয়নি। যেহেতু শিশুটির রোগ নিরাময় করাই ছিল তার উদ্দেশ্য। সেহেতু ‘ক’ এক্ষেত্রে ব্যতিক্রমের আওতাধীন হবে।

এই ৮৯ পর্যন্তই আমাদের আলোচনা। এরপরে আর বিস্তারিত প্রয়োজন নেই। পরের ধারাগুলো শুধু একবার করে চোখ বুলিয়ে যান।

“ধারা ৯০ : ভীতি অথবা ভ্রান্ত ধারণার অধীনে প্রদত্তবলে বিদিত সম্মতি : যদি ক্ষতির ভয়ে বা তথ্যের ভ্রান্ত বর্ণনার কারণে কোন ব্যক্তি কর্তৃক সম্মতি প্রদান করা হয় এবং যদি উক্ত কার্য সম্পাদনকারী ব্যক্তি জানে বা তার বিশ্বাস করার কারণ থাকে যে, উক্ত সম্মতি অনুরূপ ভীতি কিংবা ভ্রান্ত ধারণার ফলে প্রদত্ত হয়েছিল তাহলে; অথবা

অপ্রকৃতিস্থ ব্যক্তির সম্মতি : যদি সম্মতি এরূপ কোন ব্যক্তি কর্তৃক প্রদত্ত হয় যে, ব্যক্তি তার মনে অসুস্থতাহেতু বা নেশাগ্রস্থভাবে সে যাতে সম্মতি দান করে তার প্রকৃতি বা পরিণতি হৃদয়ঙ্গম করতে অক্ষম; অথবা

শিশুর সম্মতি : প্রসঙ্গ অনুরূপ না বুঝালে যদি উক্ত সম্মতি বার বছর অপেক্ষা কম বয়স্ক কোন ব্যক্তি কর্তৃক প্রদত্ত হয়, তাহলে কোন সম্মতি এ বিধির যে কোন ধারায় অভীষ্ট কোন সম্মতি বলে গণ্য হবে না।

“ধারা ৯১ : যেসব কার্য সাধিত ক্ষতি হতে স্বতন্ত্র্যভাবে অপরাধ বলে গণ্য সেসব কার্য বর্জন : যেসব কার্য সম্মতিদানকারী ব্যক্তি বা যার পক্ষে সম্মতি দান করা হয় তার প্রতি যে ক্ষতি সংঘটন করতে পারে বা যে ক্ষতি সংঘটনের জন্য অভীষ্ট হয় বা ক্ষতি সংঘটন করার সম্ভাবনা থাকে তা হতে স্বতন্ত্র্যভাবে অপরাধ বলে বিবেচিত হয়, সেসব কার্যের ক্ষেত্রে ৮৭, ৮৮ এবং ৮৯ ধারা তিনটিতে ব্যতিক্রমসমূহ প্রযোজ্য নয়।

উদাহরণ : গর্ভপাত ঘটানো (নারীর জীবন রক্ষার উদ্দেশ্যে সরল বিশ্বাসে ঘটানোর ক্ষেত্র ব্যতীত) এটা নারীটির প্রতি যে ক্ষতিসাধন করতে পারে বা ক্ষতিসাধনের জন্য অভীষ্ট হতে পারে তা হতে স্বতন্ত্র্যভাবে একটি অপরাধ গণ্য হবে। অতএব, “এটা অনুরূপ ক্ষতির অজুহাতেই” অপরাধ বলে গণ্য হবে না এবং অনুরূপ গর্ভপাত ঘটানোর ব্যাপারে নারীটি বা তার অভিভাবকের সম্মতি উক্ত কার্য ন্যায়সঙ্গত প্রতিপন্ন করতে পারে না।

“ধারা ৯২  : সম্মতি ব্যতিরেকে কোন ব্যক্তির মঙ্গলার্থে সরল বিশ্বাসের বশবর্তী হয়ে কৃত কার্য : যদি এরূপ পরিস্থিতি এরূপ হয় যে, কোন ব্যক্তির পক্ষে সম্মতি দান করা অসম্ভব বা যদি উক্ত ব্যক্তি সম্মতি দান করতে অপারগ হয় এবং তার এরূপ কোন অভিভাবক বা আইনানুগ দায়িত্বসম্পন্ন অন্য কোন ব্যক্তি না থাকে, যার নিকট থেকে সফলতার সাথে করণীয় বস্তুর জন্য যথাসময়ে সম্মতি অর্জন করা সম্ভব হয়, তাহলে উক্ত ব্যক্তির সম্মতি ব্যতিরেকেই তার মঙ্গলার্থে সরল বিশ্বাসে কোন কার্য করার কারণে উক্ত ব্যক্তির ক্ষতি সাধিত হতে পারে বিধায় উক্ত কার্য অপরাধ নয়। তবে শর্ত থাকে যে,

প্রথমত: ইচ্ছাকৃতভাবে মৃত্যু ঘটালে সেক্ষেত্রে বা ইচ্ছাকৃতভাবে মৃত্যু সংঘটনের প্রচেষ্টা করলে সেক্ষেত্রে এ ব্যতিক্রম প্রযোজ্য হবে না।

দ্বিতীয়ত: এ ব্যতিক্রম এমন কিছুই সম্পাদনের প্রতি প্রযোজ্য হবে না, যা মৃত্যু নিরোধের বা গুরুতর আঘাত এড়ানোর বা কোন মারাত্মক ব্যাধি নিরাময় বা পঙ্গুত্ব নিরাময় করার কার্য ব্যতীত অন্য কোন উদ্দেশ্যে মৃত্যু ঘটাতে পারে বলে উক্ত কার্য সম্পাদনকারী ব্যক্তি জানে।

তৃতীয়ত: এ ব্যতিক্রম মৃত্যু নিরোধের বা আঘাত এড়ানোর উদ্দেশ্য ব্যতীত অন্য কোন উদ্দেশ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে আঘাত প্রদান বা আঘাত প্রদানের উদ্যোগের প্রতি প্রযোজ্য হবে না।
চতুর্থত: এ ব্যতিক্রম এমন কোন অপরাধ সংঘটনের সহায়তার বা যোগসাজশের প্রতি প্রযোজ্য হবে না, যে অপরাধ সংঘটনের প্রতি এটা প্রযোজ্য হবে না।

উদাহরণসমূহ:
ক) ‘ঙ’ তদীয় ঘোড়া হতে পড়ে যায় এবং অজ্ঞান হয়ে পড়ে। ‘ক’ একজন চিকিৎসক। তিনি ‘ঙ’ কে পরীক্ষা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন যে, তার মাথার খুলিতে অস্ত্রোপচার করে চিকিৎসা করা আশু প্রয়োজন। সে অনুযায়ী ‘ক’, ‘ঙ’ এর মৃত্যু ঘটানোর উদ্দেশ্যে নয়, বরং তার উপকার হবে এরূপ আন্তরিক সদিচ্ছায় বা সরল বিশ্বাসে ‘ঙ’ এর স্বয়ং বিচার করার ক্ষমতা পুনরুদ্ধারের পূর্বেই তার মাথার খুলিতে অস্ত্রপচার করেন। ‘ক’ এর কার্যটি অপরাধ বলে গণ্য হবে না।

খ) গুলির ফলে ‘ঙ’ নিহত হবে জেনে বাঘের কবলে পতিত ‘ঙ’ কে নিহত করার উদ্দেশ্যে নয়, বরং তাকে বাঘর কবল থেকে বাঁচানোর বা উদ্ধার করার আন্তরিক সদিচ্ছা থেকে ‘ক’ বাঘটির প্রতি গুলি ছোড়ে। গুলির ফলে ‘ঙ’ মারাত্মকভাবে আহত ও নিহত হয়। ‘ক’ এর এরূপ গুলিবর্ষণ অপরাধমূলক হবে না

গ) সার্জন ‘ক’ একটি শিশুকে এমনি একটি দুর্ঘটনায় আপতিত দেখতে পান যে, অবিলম্বে অস্ত্রোপচার সংঘটন না করলে উক্ত দুর্ঘটনা মারাত্মক আকার ধারণ করার সম্ভাবনা রয়েছে। পরিস্থিতিটি এমন যে, শিশুর অভিভাবকের নিকট আবেদন করারও সময় নেই। ‘ক’ সদ্বিশ্বাসে শিশুর মঙ্গল কামনা করে শিশুটির অনুরোধ সত্ত্বেও অস্ত্রোপচার সংঘটন করে। ‘ক’ কোন অপরাধ করেনি

ঘ) ‘ক’ শিশু ‘য’ এর সাথে একটি জ্বলন্ত ঘরে রয়েছে। নীচে লোকজন কম্বল ধরে রেখেছে। ‘ক’ শিশুটিকে গৃহচূড়া হতে নিক্ষেপ করে। ‘ক’ জানত যে উক্ত পতন শিশুটির মৃত্যু ঘটাতে পারে। তবে শিশুটির মৃত্যু কামনা করে এবং সরল বিশ্বাসে শিশুর মঙ্গল কামনা করে সে উক্ত কার্য করে। এক্ষেত্রে যদি এমনও হয় যে, উক্ত পতনের ফলে শিশুটি মৃত্যুমুখে পতিত হয়, তথাপিও ‘ক’ কোন অপরাধ করে নি।

ব্যাখ্যা : শুধু ৮৮, ৮৯ ও ৯২ ধারা তিনটির তাৎপর্যাধীনে, শুধুমাত্র আর্থিক উপকার কোন উপকার হবে না।

“ধারা ৯৩ : সদবিশ্বাসে কৃত যোগাযোগ : যদি কোন ব্যক্তির উপকারার্থে কোন সংবাদ পরিবাহিত হয় তাহলে যে ব্যক্তির নিকট উক্ত সংবাদ পরিবাহিত হয় সে ব্যক্তির কোন ক্ষতি সাধিত হতে পারে বিধায় সদবিশ্বাসে সম্পাদিত কোন সংবাদ প্রদান অপরাধ নয়।

উদাহরণ : সার্জন ‘ক’ সদবিশ্বাসে একটি রোগীকে তার মত জানায় যে, সে বাঁচবে না। এতে মর্মান্তিক আঘাত প্রাপ্তির ফলে রোগীটির মৃত্যু হয়। ‘ক’ কোন অপরাধ করেনি। যদিও তিনি জানতেন যে, উক্ত যোগাযোগের ফলে রোগীটি মৃত্যুমুখে পতিত হওয়ার সম্ভাবনা ছিল।

“ধারা ৯৪ : হুমকির ফলে বাধ্য হয়ে কোন ব্যক্তি কর্তৃক কৃতকার্য : খুন ও রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে দণ্ডনীয় অপরাধসমূহ ব্যতিরেকে এরূপ কোন কিছুই অপরাধ নয় যা এমন কোন ব্যক্তি কর্তৃক করা হয় যে ব্যক্তিকে এরূপ ভীতি প্রদর্শন করে উক্ত কার্য করতে বাধ্য করা হয় যে, উক্ত কার্য সংঘটনের সময় অনুরূপ ভীতি প্রদর্শন এ মর্মে যৌক্তিকভাবে আশংকা সৃষ্টি করে যে, প্রকারান্তরে মৃত্যুই হবে অনুরূপ পরিণতি। তবে শর্ত থাকে যে, উক্ত কার্য সম্পাদনকারী ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে বা তার তাৎক্ষণিক মৃত্যু হতে স্বল্পতর ক্ষতির ন্যায়সঙ্গত আশঙ্কার কারণে নিজেকে এরূপ পরিস্থিতিতে আপতিত করে যে কারণে সে অনুরূপ হুমকির অধীনে হয়েছিল।

ব্যাখ্যা ১ : যে ব্যক্তি নিজের ইচ্ছায় বা প্রহৃত হওয়ার ভয়ে একদল ডাকাতের চরিত্র সম্পর্কে অবহিত থাকা সত্ত্বেও উক্ত ডাকাত দলের সাথে যোগদান করে, সে তার সহচরগণ কর্তৃক আইনত অপরাধ বলে গণ্য কোন কিছু করার জন্য বাধ্য হওয়ার অজুহাতেই এ ব্যতিক্রমটির সুযোগ গ্রহণের অধিকারী হবে না।

ব্যাখ্যা ২ : যে ব্যক্তিকে একদল ডাকাত আইনত অপরাধ বলে গণ্য কোন কিছু সম্পাদনের জন্য অবরোধ ও তাৎক্ষণিক মৃত্যুর ভীতি প্রদর্শন করে বাধ্য করে। দৃষ্টান্তস্বরূপ একজন কর্মকারকে তার যন্ত্রপাতি নিয়ে ডাকাতগণ কর্তৃক কোন গৃহে প্রবেশ ও তা লুটতরাজ করার জন্য উক্ত গৃহের দরজা জোরপূর্বক ভাঙ্গার জন্য বাধ্য করা হয়, সে ব্যক্তি এ ব্যতিক্রমটির আশ্রয় লাভের অধিকারী হবে

“ধারা ৯৫ : সামান্য ক্ষতিকারক কার্য : কোন কিছুই এ কারণে অপরাধ নয় যে, তা ক্ষতিসাধন করে বা সাধন করার জন্য প্রণোদিত হয় বা সাধন করার সম্ভাবনা থাকে, যদি উক্ত ক্ষতি এরূপ সামান্য হয় যে, সাধারণ বুদ্ধিমত্তা ও মেজাজসম্পন্ন কোন ব্যক্তিই অনুরূপ ক্ষতি সম্পর্কে অভিযোগ করবে না



/15
72

9 minutes


Penal Code [76-95]

এখানে দণ্ডবিধির ৭৬-৯৫ ধারাসমূহ নিয়ে এমসিকিউ টেস্ট আছে। সংশ্লিষ্ট ধারাগুলো পড়ে নিয়ে এটি অনুশীলন করুন।

এখানে আপনার নাম ও ফোন নাম্বার লিখুন। ইমেইলটি লেখা বাধ্যতামূলক নয়; তবে, ইমেইল এড্রেস দিলে আপনার ইমেইলে বিস্তারিত ফলাফল চলে যাবে।

1 / 15

আদালতের নির্দেশে পুলিশ ক কে গ্রেফতার করতে গিয়ে ভুলবশত চ কে গ্রেফতার করলে পুলিশের বিরুদ্ধে আপনি দণ্ডবিধির কোন ধারায় অভিযোগ আনতে পারবেন?

2 / 15

আদালতের রায় অনুসরণে করা কোনো কাজ দণ্ডবিধির কোন ধারা অনুযায়ী কোনো অপরাধ নয়?

3 / 15

একজন শৈল্য চিকিৎসক সরল বিশ্বাসে একজন রোগীকে বলেন “আপনি আর বাঁচবেন না”। এতে উক্ত রোগী মানসিক আঘাত পেয়ে মারা যায়। এক্ষেত্রে শৈল্য চিকিৎসক নিম্নের কোন ধারার অপরাধ করেছেন? [জুডি. : ২০১৩]

4 / 15

দণ্ডবিধির চতুর্থ অধ্যায়ের বিষয়বস্তু হিসেবে নিচের কোনটি সর্বাধিক সঠিক?

5 / 15

দণ্ডবিধি অনুসারে কত বছরের কম বয়স্ক শিশুর কর্মকা- শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে না? [বার : ২০১২]

6 / 15

দণ্ডবিধির ৯৩ ধারার বিষয়বস্তু কী?

7 / 15

অপ্রকৃতিস্থ ব্যক্তির কাজ দণ্ডবিধির কোন ধারাবলে কোনো অপরাধ নয়?

8 / 15

কেবল অপরপক্ষকে হয়রানীর লক্ষ্যে কোনো পক্ষ একটি দেওয়ানি মামলা করতে ইচ্ছুক। এক্ষেত্রে একজন এডভোকেট-

9 / 15

একটি জাহাজের কাপ্তান ‘ক’ নিজের কোনো দোষ বা ত্রুটি ব্যতিরেকে নিজেকে এরূপ অবস্থায় আপাতত দেখতে পান যে, তিনি তদীয় জাহাজের গতি পরিবর্তন না করলে বিশ বা ত্রিশজন আরোহীসহ একটি নৌকা ‘খ’ কে অনিবার্যভাবে ডুবিয়ে ফেলবেন এবং গতিপথ পরিবর্তন করলে তিনি দুইজন যাত্রীসহ একটি নৌকা ‘গ’ কে যা তিনি অবশ্যই ডুবিয়ে ফেলবেন। এক্ষেত্রে যদি ‘ক’ নৌকার ‘খ’ এর যাত্রীদের বিপদ মুক্তির জন্য সদবিশ্বাসে এবং নৌকা ‘গ’ কে ডুবিয়ে ফেলেন তাহলে ক এর অপরাধ নিচের কোনটি?

10 / 15

‘ক’ একটি কুঠার নিয়ে কাঠ কাটার কাজ করছে। কুঠারটির মাথা উঠে যাওয়ায় কাছে দণ্ডায়মান এক ব্যক্তিকে আঘাত করে ও তিনি নিহত হন। এখানে ‘ক’ এর অপরাধ-

11 / 15

করিম রফিককে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে মদ খাইয়ে প্রচণ্ড নেশাগ্রস্থ করে ফেলে। এমতাবস্থায় নেশাগ্রস্থতায় বিচারশক্তি রহিত হয় রফিকের। এমতাবস্থায় নিজের লাইসেন্স করা বৈধ অস্ত্র উচিয়ে রাস্তায় দুইজন পথচারীকে হত্যা করার পরিণতি নিচের কোনটি হতে পারে?

12 / 15

Doctrine of alternative danger এর ধারণা দণ্ডবিধির ব্যতিক্রমের কোন ধারার সাথে সম্পর্কিত?

13 / 15

দণ্ডবিধির কত নং অধ্যায়ে সাধারণ ব্যতিক্রমসমূহের বিষয় উল্লিখিত আছে? [বার : ২০১৭]

14 / 15

কত বছর বয়সের শিশু কোনো অপরাধ করলে তা অপরাধ বলে গণ্য হয় না? [জুডি. : ২০০৮]

15 / 15

একজন ১১ বছর বয়স্ক শিশুর কোনো কাজ অপরাধ বলে কখন বিবেচিত হবে না?

Your score is

0%



 

বিগত এমসিকিউ সাফল্য

Registered [2017 & 2020 MCQ]

Passed Students [2017 & 2020 MCQ]

Registered [MCQ Exam of 2021]