ঘরে বসেই লাইভ ভিডিওতে
প্রতি মাসে মাত্র ৮০০/- টাকায়

MCQ পরীক্ষার প্রস্তুতি!

ভর্তি হতে কল করুন : 01712-908561

Penal Code Lecture 007 [Sec. 96-106]

‘সাধারণ ব্যতিক্রম’ শিরোনামে থাকা দণ্ডবিধির চতুর্থ অধ্যায়ের ৯৬-১০৬ ধারার অংশটিতে একটি আলাদা উপশিরোনামে – ‘আত্মরক্ষার ব্যক্তিগত অধিকার’ শীর্ষক ধারাসমূহ বিন্যস্ত আছে। প্রত্যেক মানুষেরই যেকোনো অপরাধের শিকার বা ভিকটিম হবার সম্ভাবনা থাকলে তার ব্যক্তিগত আত্মরক্ষার সুযোগ আছে। দণ্ডবিধির এই অংশটি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে পড়তে হবে। 

Penal Code : Lecture 007

Right to private defense : ব্যক্তিগত প্রতিরক্ষার / আত্মরক্ষার অধিকার

ম্যাপিং : আগের লেকচারেই ৭৬ থেকে ৯৫ পর্যন্ত সাধারণ ব্যতিক্রমসমূহ নিয়ে আলোচনা করেছি। এবার উক্ত একই চতুর্থ অধ্যায়েরই দ্বিতীয় অংশ ধারা ৯৬ থেকে ১০৬ পর্যন্ত পড়বো। ‘আত্মরক্ষার ব্যক্তিগত অধিকার প্রসঙ্গে’ বিষয়টিও দণ্ডবিধির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যতিক্রম।

বারের পরীক্ষায় এই টপিক থেকে দুইবার ১ টি করে প্রশ্ন এসেছিলো। একটু গুরুত্ব দিয়ে পড়ুন। প্রতিটি ধারায় কি কি বলা হচ্ছে সে সম্পর্কে ধারণা থাকা দরকার পুরোপুরি। কঠিন কোনো বিষয় নয়। ৯৬ থেকে ১০৬ পর্যন্ত সবগুলো একই বিষয়ের নানা দিক নিয়ে আলোচনা করেছে। আমরা একে একে এর বিভিন্ন ধারার সহজ আলোচনা করি।

মূল আলোচনা
৯৬ ধারাটি মাত্র এক লাইনেই শেষ করে দেয়া হয়েছে, যার মূল কথা হচ্ছে – আত্মরক্ষার প্রয়োজনে যেকোনো কাজ বা কার্যই কোনো অপরাধ নয়।

”ধারা ৯৬ : আত্মরক্ষার ক্ষেত্রে সম্পাদিত কাজ : আত্মরক্ষার ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত অধিকার প্রয়োগজনিত কোনো কার্যই অপরাধ নহে।

৯৭ ধারায় মূল কথা হচ্ছে – ৯৯ ধারায় আলোচিত একটি ব্যতিক্রম ছাড়া প্রত্যেক লোকেরই প্রথমত নিজের দেহ এবং এমনকি অন্য যেকোনো লোকের দেহ রক্ষার ব্যক্তিগত অধিকার আছে। দ্বিতীয়ত, প্রত্যেক লোকের তার নিজের বা অন্য যে কোনো কারো স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি রক্ষারও ব্যক্তিগত অধিকার আছে। আগে ৯৭ ধারাটি সরাসরি দেখুন। তারপরেই ৯৯ ধারা নিয়ে আলোচনা আছে বোঝার সুবিধার্থে।

“ধারা ৯৭ : দেহ ও সম্পত্তি রক্ষার ব্যক্তিগত অধিকার : ৯৯ ধারার আরোপিত নিয়ন্ত্রণ সাপেক্ষে প্রত্যেক লোকেরই –

প্রথমত : মানবদেহ সংক্রান্ত কোনো অপরাধের বিরুদ্ধে তাহার নিজের দেহ এবং অন্য যেকোনো লোকের দেহ রক্ষা [His own body, and the body of any other person] করিবার ব্যক্তিগত অধিকার আছে;

দ্বিতীয়ত : এমন কোনো অপরাধজনক কার্যের বিরুদ্ধে তাহার নিজের বা অন্য যে কোনো লোকের স্থাবর অথবা অস্থাবর সম্পত্তি রক্ষার [the property, whether moveable or immovable, of himself or of any other person] ব্যক্তিগত অধিকার আছে, যে কার্যটি চুরি, দস্যুতা, অনিষ্টকারিতা কিংবা অপরাধমূলক অনধিকার প্রবেশের সংজ্ঞানুসারে একটি অপরাধ, অথবা যে কার্যটি চুরি, দস্যুতা, অনিষ্টকারিতা কিংবা অপরাধমূলক অনধিকার প্রবেশের প্রয়াসস্বরূপ।”

কিন্তু ৯৯ ধারার ব্যতিক্রমটি কি? এই ব্যতিক্রমটা হলো – সরকারী কোনো কর্মচারী ( যেমন, পুলিশ ) এর দ্বারা যদি কোনো কারণে ন্যায়সঙ্গতভাবে বা অনিবার্যভাবে মৃত্যু বা গুরুতর আঘাতের আশঙ্কা না থাকে তবে কোনো লোকের আত্মরক্ষামূলক ব্যক্তিগত অধিকার থাকবে না। অর্থাৎ সাধারণভাবে ব্যক্তিগত প্রতিরক্ষা বা আত্মরক্ষার সুযোগ সরকারী কর্মচারীর ক্ষেত্রে ( বা সরকারী কর্মচারীর বিরুদ্ধে ) কেউ প্রয়োগ করতে পারবে না। এটা প্রকৃতপক্ষে ব্যতিক্রমের একটি ব্যতিক্রম। মানুষের ব্যক্তিগত প্রতিরক্ষার সুযোগ আছে কিন্তু পুলিশের সাথে বা সরকারী কর্মচারীর সাথে তা নেই। তবে যদি তাতে মৃত্যুর কারণ বা গুরুতর আঘাতের যথেষ্ট সম্ভাবনা থাকে বলে মনে হয়, সেক্ষেত্রে কিন্তু আবারো ব্যক্তিগত আত্মরক্ষার প্রয়োজনে একজন উপযুক্ত পদক্ষেপ নিতে পারে। সরকারী কর্মচারীর আচরণে ব্যক্তিগত আত্মরক্ষার প্রয়োজনটি আদালতের কাছে স্পষ্টভাবে প্রমাণ করতে পারলে আত্মরক্ষার চেষ্টাটি আইনসম্মত বলে ধরে নেয়া হবে। আগের লেকচারেই আমরা আলোচনা করেছিলাম, এই ব্যতিক্রমসমূহের ধারাগুলোর সুযোগ বা অজুহাত আসামী বা অভিযুক্ত পক্ষ ব্যবহার করতে চাইলে তাকেই প্রমাণ করতে হবে। ধারাটি দেখুন।

“ধারা ৯৯ : যে সমস্ত কার্যের বিরুদ্ধে আত্মরক্ষামূলক ব্যক্তিগত অধিকার নাই : সুক্ষ্মবিচারে আইনসম্মত না হইলেও কোনো সরকারী কর্মচারী তাহার সরকারী পদমর্যাদাবলে সদুদ্দেশ্যে প্রণোদিত হইয়া কোনো কাজ করিলে বা করিবার চেষ্টা করিলে তাহার বিরুদ্ধে কোনোরূপ আত্মরক্ষার ব্যক্তিগত অধিকার প্রযোজ্য হইবে না, যদি সরকারী কর্মচারীর উক্ত কাজে বা কাজের প্রচেষ্টায় ন্যায়সঙ্গতভাবে মৃত্যু বা গুরুতর আঘাতের আশঙ্কা দেখা না দেয়।

সুক্ষ্মবিচারে আইনসম্মত না হইলেও কোনো সরকারী কর্মচারীর সরকারী পদমর্যাদাবলে ও আন্তরিক সদিচ্ছা প্রণোদিতভাবে প্রদত্ত নির্দেশ অনুসারে সম্পাদিত কার্য বা কার্য করিবার প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে কোনোরূপ আত্মরক্ষার ব্যক্তিগত অধিকার প্রযোজ্য হইবে না, যদি সরকারী কর্মচারীর নির্দেশ অনুসারে সম্পাদিত কার্যটিতে বা কার্যটি করিবার প্রচেষ্টায় ন্যায়সঙ্গতভাবে মৃত্যু বা গুরুতর আঘাতের আশঙ্কা দেখা না দেয়।

যেসব ক্ষেত্রে সরকারী কর্তৃপক্ষের আশ্রয় নেবার সময় থাকে, সেইসব ক্ষেত্রে কোনোরূপ আত্মরক্ষার ব্যক্তিগত অধিকার প্রযোজ্য হইবে না

অধিকার প্রয়োগের সীমা : আত্মরক্ষার জন্য যতদুর পর্যন্ত ক্ষতি সাধন করা প্রয়োজনীয়, আত্মরক্ষার ব্যক্তিগত অধিকারটি তাহার চাইতে অধিক ক্ষতিসাধনে প্রযোজ্য নহে।

ব্যাখ্যা ১ : কোনো সরকারী কর্মচারী স্বীয় পদমর্যাদাবলে কোনো কার্য নির্বাহকালে বা কার্যনির্বাহের চেষ্টাকালে যদি কোনো লোক তাহাকে সরকারী কর্মচারী বলিয়া না জানে অথবা তিনি যে সরকারী কর্মচারী উক্ত লোকের এইরূপ বিশ্বাস করিবার কারণ না থাকে তবে উক্ত লোক অত্মরক্ষার ব্যক্তিগত অধিকার থেকে বঞ্চিত হবেন না।

ব্যাখ্যা ২ : কোনো সরকারী কর্মচারীর নির্দেশক্রমে কোনো কার্য সম্পাদনকালে বা কার্যটি সম্পাদনের চেষ্টাকালে যদি কোনো লোক না জানে যে, যে লোক কার্যটি করিতেছে সেই লোক যেকোনো সরকারী কর্মচারীর নির্দেশক্রমেই কার্যটি করিতেছে – এইরূপ বিশ্বাস করিবার কারণ না থাকে কিংবা যে লোক কার্যটি করিতেছে সেই লোক কোনো ক্ষমতাবলে সেই কার্যটি করিতেছে তাহা না জানায় অথবা লিখিতভাবে সে কোনো ক্ষমতা লাভ করিয়া থাকিলে দেখিতে চাওয়া সত্ত্বেও তাহা না দেখায়, তবে তাহার বিরুদ্ধে প্রথমোক্ত লোক আত্মরক্ষার ব্যক্তিগত হইতে বঞ্চিত হইবে না।

১০০ ধারায় ব্যক্তিগত আত্মরক্ষা সম্পর্কে আরো সুনির্দিষ্টভাবে বলা হচ্ছে – একজন তার নিজ দেহ রক্ষার জন্য এমনকি কারো মৃত্যু পর্যন্ত ঘটাতে পারে! এই ধারায় ৬ টি অপরাধ বা অপরাধের প্রয়াস সম্পর্কে নির্দিষ্ট করে বলা হয়েছে; শুধুমাত্র এই ৬ টি নির্দিষ্ট ক্ষেত্রেই ব্যক্তিগত আত্মরক্ষার প্রয়োজনে অন্যের বা আক্রমনকারীর মৃত্যু ঘটানো আইনসম্মত। যেমন, ধর্ষণের চেষ্টাকালে ধর্ষকামী পুরুষটিকে উক্ত নারী খুন করলেও তা অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে না। এরকম শিশু অপহরণ বা ব্যক্তি হরণের উদ্দেশ্যে আক্রমণ বা আঘাতের ক্ষেত্রেও কারো মৃত্যু ঘটানো অপরাধ নয়।

“ধারা ১০০ : যখন নিজ দেহ রক্ষার জন্য আত্মরক্ষার ব্যক্তিগত অধিকার প্রয়োগ করিয়া মৃত্যু ঘটানো যায় : উপরে উল্লিখিত সর্বশেষ ধারণাটিতে আরোপিত নিয়ন্ত্রণ সাপেক্ষে দেহ রক্ষার প্রয়োজনে আত্মরক্ষার ব্যক্তিগত অধিকার প্রয়োগ করিয়া স্বেচ্ছাক্রমে আক্রমণকারী প্রতিপক্ষের মৃত্যু সংঘটন বা অন্য যে কোনো প্রকার ক্ষতি সাধন করা যাইতে পারে, যদি সে অপরাধটির বিরুদ্ধে আত্মরক্ষার ব্যক্তিগত অধিকার প্রয়োগ করিবার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে সেই অপরাধটি নিম্নোক্ত বিভিন্ন প্রকৃতির মধ্যে যে কোনো একধরনের হয়। যথা :

প্রথমত : এইরূপ আক্রমণ যাহার ফলে ন্যায়সঙ্গতভাবেই এমন আশঙ্কার সৃষ্টি হয় যে, ব্যক্তিগত আত্মরক্ষামূলক অধিকারের অবাধ প্রয়োগ না করিলে সেই আঘাতে মৃত্যু অনিবার্য;

দ্বিতীয়ত : এইরূপ আক্রমণ যাহার ফলে ন্যায়সঙ্গতভাবেই এমন আশঙ্কার সৃষ্টি হয় যে, প্রতিরোধ না করিলে সেই আঘাতের বা আক্রমণের ফলে আসন্ন মৃত্যু অনিবার্য;

তৃতীয়ত : ধর্ষণের উদ্দেশ্যে আঘাত বা আক্রমণ [An assault with the intention of committing rape];

চতুর্থত : অস্বাভাবিক কামনা চরিতার্থ করিবার উদ্দেশ্যে আঘাত বা আক্রমণ [An assault with the intention of gratifying unnatural lust];

পঞ্চমত : শিশু অপহরণ বা ব্যক্তি হরণের [intention of kidnapping or abducting] উদ্দেশ্যে আক্রমণ বা আঘাত;

ষষ্ঠত : কোনো লোককে অন্যায় বা বেআইনীভাবে আটক করিবার উদ্দেশ্যে [intention of wrongfully confining a person] এমন পরিস্থিতিতে তাহার ওপর হামলা, যে পরিস্থিতিতে ন্যায়সঙ্গতভাবেই [may reasonably cause] সেই লোকের মনে এই আশঙ্কার সৃষ্টি হয় যে, সে মুক্তির জন্য সরকারী কর্তৃপক্ষের আশ্রয় লইতে সমর্থন হইবে না।

৯৭ ধারায় বর্ণিত ৯৯ ধারার ব্যতিক্রমের ঠেলায় আমরা ৯৮ ধারাটি আমরা ছেড়ে আসলাম! নেশার ঘোরে বা অপরিণত বুদ্ধিতে বা পাগল কোনো লোক যদি খুন করে তবে তা সাধারণভাবে অপরাধ নয় [৮৫ ধারা অনুযায়ী; আগের লেকচারেই আলোচনা ছিলো]। কিন্তু এরকম লোকের খুনের শিকার হবার সম্ভাবনায় যে লোকটি পতিত হয় তার তো আত্মরক্ষার অধিকার আছে, তাইনা? পাগল যদি কাউকে হত্যা করার চেষ্টা করে তাহলে উক্ত ব্যক্তির আত্মরক্ষার অধিকার কতখানি থাকবে? সেই অধিকারটিই এই ৯৮ ধারায় দেয়া হয়েছে। আইনের ব্যাখ্যাস্বরূপ একটা উদাহরণ দেয়া আছে খোদ মূল আইনে। উদাহরণটি জলবৎ তরলং! পড়েই দেখুন না!

“(ক) চ তাহার মস্তিষ্ক বিকৃতির ফলে ক কে হত্যা করিবার চেষ্টা করে। এইরূপ হত্যার চেষ্টার জন্য চ অপরাধীও হবে না। কিন্তু চ সুস্থ্য মস্তিষ্ক হইলে তাহার বিরুদ্ধে ক এর যেইরূপ আত্মরক্ষার ব্যক্তিগত অধিকার থাকিত, এইক্ষেত্রেও ক এর সেইরূপই আত্মরক্ষার ব্যক্তিগত অধিকার থাকিবে।

অর্থাৎ পরিপূর্ণভাবে একজন ব্যক্তির আত্মরক্ষার ব্যক্তিগত অধিকার আছে, এমনকি একজন পাগলের আক্রমণ থেকেও, যার অপরাধ কোনো অপরাধ বলে বিবেচিত হয় না। এবার ধারাটি পড়ুন।

“ধারা ৯৮ : অপ্রকৃতিস্থ ইত্যাদি লোকের কার্যের বিরুদ্ধে আত্মরক্ষার ব্যক্তিগত অধিকার : কোনো লোক অল্পবয়স্কতা, বুদ্ধির অপরিণতি, মনে অপ্রকৃতিস্থতা বা নেশার ঘোরে যে কাজটি করিতেছে বা তাহার কোনোরূপ ভ্রান্ত ধারণার ফলে যে কাজটি করিতেছে [by reason of the youth, the want of maturity of understanding, the unsoundness of mind or the intoxication of the person doing that act] সেই কাজটি যদি অন্যথায় অপরাধমূলক হয়, কিন্তু উক্ত অবস্থায় করিতেছে বলিয়া অথবা উক্তরূপ ভ্রান্ত ধারণার বশবর্তী হইয়া করিতেছে বলিয়া কাজটি সেইরূপ অপরাধমূলক নহে – এইরূপ ক্ষেত্রে উক্ত কাজটি যথার্থই অপরাধমূলক হইলে যেইরূপ আত্মরক্ষার ব্যক্তিগত অধিকার থাকিত প্রত্যেক লোকেরই সেইরূপ আত্মরক্ষার ব্যক্তিগত অধিকার থাকিবে।

(ক) চ তাহার মস্তিষ্ক বিকৃতির [under the influence of madness] ফলে ক কে হত্যা করিবার চেষ্টা করে। এইরূপ হত্যার চেষ্টার জন্য চ অপরাধীও হবে না। কিন্তু চ সুস্থ্য মস্তিষ্ক হইলে তাহার বিরুদ্ধে ক এর যেইরূপ আত্মরক্ষার ব্যক্তিগত অধিকার থাকিত, এইক্ষেত্রেও ক এর সেইরূপই আত্মরক্ষার ব্যক্তিগত অধিকার থাকিবে।

(খ) ক রাত্রিবেলা একটি গৃহে প্রবেশ করে। গৃহটিতে প্রবেশে তাহার আইনসম্মত অধিকার রহিয়াছে। চ সরল বিশ্বাসে ক কে চোর ভাবিয়া তাহাকে আক্রমণ করে। এই ক্ষেত্রে চ এই ভ্রান্ত ধারণার বশবর্তী হইয়া ক কে আক্রমণ করিয়া কোনো অপরাধ সম্পাদন করে নাই। কিন্তু চ এইরূপ ভ্রান্ত ধারণার বশবর্তী না হইয়া তাহাকে আক্রমণ করিলে ক এর যেরূপ আত্মরক্ষার ব্যক্তিগত অধিকার থাকিত, এই ক্ষেত্রে তাহার ঠিক সেইরূপই আত্মরক্ষার ব্যক্তিগত অধিকার থাকিবে।

🙂 খেল খতম! পয়সা হজম! আত্মরক্ষার ব্যক্তিগত অধিকার প্রসঙ্গে বেসিক জানা হয়ে গেছে। আর সামান্য কিছু ধারণা নিলেই পুরাই উসুল হবে! ১০২, ১০৩ ও ১০৫ মনোযোগের সাথে দেখুন। ঠিক কোন সময় থেকে একজনের ব্যক্তিগত আত্মরক্ষার অধিকার জন্মায় বা তার শুরু হয় এবং কোন সময় পর্যন্ত তা বলবৎ থাকে সেই আলোচনা করেছে ১০২ ধারা। জরুরি আলোচনা। ১০২ দেহ রক্ষা সংক্রান্ত। ৯৭ ধারায় আমরা শুরুতেই জেনেছিলাম, মানুষের আত্মরক্ষার অধিকার মূলত দুইটি ক্ষেত্রে। দেহ রক্ষা ও সম্পত্তি রক্ষা। সেই দেহ রক্ষা ও সম্পত্তি রক্ষা নিজেরও হতে পারে, অন্যেরও হতে পারে কিন্তু! মনে রাখবেন। তো, সেই দেহরক্ষায় ব্যক্তিগত আত্মরক্ষার অধিকার কত সময় বলবৎ থাকবে তা বলা হচ্ছে ১০২ ধারায় এসে। আর ১০৫ ধারায় বলা হচ্ছে সম্পত্তি রক্ষায় ব্যক্তিগত আত্মরক্ষার অধিকার কতক্ষণ বলবৎ থাকবে তা। আর ১০৩? উপরের আলোচনা তো পড়ে আসলেন এতক্ষণ, তাইনা? ১০০ ধারায় কি বলেছিলো? চোখ বন্ধ করুন। মনে করুন একবার।

মনে পড়লো না? সেখানে বলেছিলো – কখন নিজ দেহরক্ষায় একজনের মৃত্যু পর্যন্ত ঘটানো যায় সে সম্পর্কে। সেখানে ৬ টি সুনির্দিষ্ট স্পষ্ট কারণ উল্লেখ ছিলো। ৬ টি কারণ সবই দেহরক্ষাকে ঘিরে। আর এই আলোচ্য ১০৩ ধারায় ঐ একই বিষয়বস্তু আলাপ হয়েছে, তবে এবার সম্পত্তি রক্ষাকে ঘিরে। অর্থাৎ সম্পত্তি রক্ষায় যখন একজনের মৃত্যু পর্যন্ত ঘটানো যায় সে সম্পর্কে। দেহ রক্ষায় যেমন ৬ টি কারণ নির্দিষ্ট করা ছিলো তেমনি সম্পত্তি রক্ষায় ৪ টি কারণ নির্দিষ্ট করা আছে

আর নয় আলোচনা! বাকী মূল ধারাগুলো পড়ার জন্য আমন্ত্রণ!

“ধারা ১০১ : যেক্ষেত্রে অনুরূপ অধিকার মৃত্যু সংঘটন ব্যতিরেকে অন্য যে কোনো ক্ষতির প্রতি প্রযোজ্য হয় : অপরাধটি যদি উপযুক্ত সর্বশেষ ধারাটিতে উল্লেখিত কোন প্রকারের না হয় তবে শরীর রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় আত্মরক্ষার ব্যক্তিগত অধিকার স্বেচ্ছাক্রমে আক্রমণকারীর মৃত্যু সংঘটন পর্যন্ত প্রযোজ্য নহে, ৯৯ ধারায় আরোপিত নিয়ন্ত্রণ সাপেক্ষে আক্রমণকারীর মৃত্যু সংঘটন ব্যতিরেকে অন্য যে কোন প্রকারের ক্ষতিসাধন পর্যন্ত প্রযোজ্য।

“ধারা ১০২ : দেহ রক্ষার জন্য আত্মরক্ষার ব্যক্তিগত অধিকার প্রয়োগের প্রারম্ভ ও উহার প্রয়োগকাল : দেহের প্রতি বিপদের চেষ্টার বা ভীতি প্রদর্শনের ফলে ন্যায়সঙ্গতভাবে দেহের প্রতি বিপদের আশঙ্কা দেখা দেবার সাথে সাথেই দেহ রক্ষার জন্য আত্মরক্ষার ব্যক্তিগত অধিকারের সূচনা হয়, যদিও অপরাধটি প্রকৃতই সম্পাদিত না হয়ে থাকে, এবং দেহের প্রতি বিপদের উক্তরূপ ন্যায়সঙ্গত আশঙ্কা যতক্ষণ পর্যন্ত বিদ্যমান থাকে ততক্ষণ পর্যন্ত অধিকারটি বলবৎ থাকে।

“ধারা ১০৩ : যেক্ষেত্রে সম্পত্তি রক্ষার ব্যক্তিগত অধিকার মৃত্যু ঘটানোর ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হয় : সম্পত্তির ব্যক্তিগত প্রতিরক্ষার অধিকার ৯৯ ধারায় উল্লিখিত বিধিনিষেধ সাপেক্ষে ইচ্ছাকৃতভাবে অপরাধকারীর মৃত্যু বা তৎপ্রতি অন্য কোনো ক্ষতিসাধনের প্রতি প্রযোজ্য হবে, যদি যে অপরাধ সংঘটন বা যে অপরাধ অনুষ্ঠানের উদ্যোগের জন্য উক্ত অধিকার প্রয়োগ প্রয়োজনীয় হয়ে পড়ে সেই অপরাধ অত:পর উল্লিখিত বর্ণনাসমূহের যেকোনো একটি অপরাধরূপে গণ্য হয়। যথা :

প্রথমত : দস্যুতা;

দ্বিতীয়ত : রাত্রি বেলায় অপথে গৃহপ্রবেশ;

তৃতীয়ত : বাসগৃহ বা সম্পত্তি সংরক্ষণের স্থানরূপে ব্যবহৃত হয় এমন ইমারত বা জাহাজে অগ্নিকাণ্ডের সাহায্যে অনুষ্ঠিত ক্ষতি;

চতুর্থত : এইরূপ অবস্থায় চুরি, ক্ষতি বা গৃহপ্রবেশ যাহা যুক্তিযুক্তভাবে এইরূপ ভয়ের সৃষ্টি করিতে পারে যে, অনুরূপ ব্যক্তিগত প্রতিরক্ষা অধিকার প্রয়োগ করা না হইেলে মৃত্যু বা গুরুতর জখমই হইবে উহার পরিণতি।

“ধারা ১০৪ : যেক্ষেত্রে অনুরূপ অধিকার মৃত্যু ব্যতিরেকে অন্য কোনো ক্ষতিসাধনের প্রতি প্রযোজ্য হয় : যে অপরাধটি করিবার বিরুদ্ধে বা যে অপরাধটি করিবার চেষ্টার বিরুদ্ধে আত্মরক্ষার ব্যক্তিগত অধিকারটি প্রয়োগ প্রয়োজনীয় হইয়া পড়িয়াছে সেই অপরাধটি যদি উপরে উল্লেখিত সর্বশেষ ধারায় বর্ণিত কোন প্রকারের চুরি, ক্ষতিকর কার্য বা অপরাধমূলক অনধিকার প্রবেশ না হয়, তবে অনুরূপ অপরাধের বিরুদ্ধে আত্মরক্ষার ব্যক্তিগত অধিকারটি স্বেচ্ছাক্রমে মৃত্যু সংঘটন পর্যন্ত প্রযোজ্য হইবেনা, তবে ৯৯ ধারায় উল্লেখিত নিয়ন্ত্রণ সাপেক্ষে স্বেচ্ছাক্রমে অপরাধকারীর মৃত্যু সংঘটন ব্যতিরেকে অন্য যে কোন ক্ষতিসাধন পর্যন্ত প্রযোজ্য হইবে। “

“ধারা ১০৫ : সম্পত্তি রক্ষার জন্য ব্যক্তিগত অধিকার প্রয়োগের প্রারম্ভ ও উহার প্রয়োগকাল : কোন সম্পত্তির প্রতি ন্যায়সঙ্গতভাবেই বিপদের আশঙ্কার সূচনার সাথে সাথেই সম্পত্তি রক্ষার ব্যক্তিগত অধিকারের সূচনা হয়

চুরির ক্ষেত্রে অপরাধটি করিবার সূচনা হইতে অপরাধকারীর অপহৃত সম্পত্তি লইয়া উধাও না হওয়া পর্যন্ত অথবা সরকারী কর্তৃপক্ষের সহায়তা লাভ না করা পর্যন্ত, কিংবা সম্পত্তি উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত চুরির বিরুদ্ধে সম্পত্তি রক্ষার ব্যক্তিগত অধিকার প্রযোজ্য হইবে

অপরাধকারী যতক্ষণ পর্যন্ত কোন লোকের মৃত্যু বা জখম বা অন্যায় আটক সংঘটন করিতে থাকে বা সংঘটন করিবার চেষ্টা করিতে থাকে অথবা যতক্ষণ পর্যন্ত আসন্ন মৃত্যু, আসন্ন জখম বা আসন্ন আটকের আশঙ্কা থাকে ততক্ষণ পর্যন্ত দস্যুতার বিরুদ্ধে সম্পত্তি রক্ষার ব্যক্তিগত অধিকার বলবৎ থাকে

অপরাধকারী যতক্ষণ পর্যন্ত অপরাধমূলক প্রবেশ বা অনিষ্টকর কার্য সম্পাদন করিতে থাকে ততক্ষণ পর্যন্ত অপরাধমূলক অনধিকার প্রবেশের বা অনিষ্টকর কার্যের বিরুদ্ধে সম্পত্তি রক্ষার ব্যক্তিগত অধিকার বলবৎ থাকে।

রাত্রিবেলা ঘর ভাঙিয়া প্রবেশের বিরুদ্ধে সম্পত্তি রক্ষার ব্যক্তিগত অধিকার ততক্ষণ পর্যন্ত বলবৎ থাকে যতক্ষণ পর্যন্ত অনুরূপ ঘর ভাঙিয়া যে গৃহে অনধিকার প্রবেশ কার্য আরম্ভ হইল তাহা চলিতে থাকে।

“ধারা ১০৬ : নিরপরাধ লোকের ক্ষতিসাধনের সম্ভাবনার পরিপ্রেক্ষিতে গুরুতর আঘাত বা আক্রমণের বিরুদ্ধে আত্মরক্ষার ব্যক্তিগত অধিকার : যদি এমন একটি আঘাতের বা আক্রমণের বিরুদ্ধে আত্মরক্ষার ব্যক্তিগত অধিকার প্রয়োগ প্রয়োজনীয় হয়ে পড়ে, যে আঘাত বা আক্রমণটি প্রতিরোধ না করিলে তাহার ফলে আসন্ন মৃত্যু অনিবার্য বলিয়া ন্যায়সঙ্গতভাবেই আশঙ্কার সৃষ্টি হয় এবং যদি এই অধিকার প্রয়োগ করতে গিয়ে অধিকারটি প্রয়োগ প্রত্যাশী লোক এমন অবস্থার সম্মুখীন হয় যে, কোন নিরপরাধ লোকের ক্ষতিসাধনের ঝুঁকি না লইয়া সেই অধিকারটি কার্যকরভাবে প্রয়োগ করিতে পারিতেছেনা, তবে সেই লোকের আত্মরক্ষার ব্যক্তিগত অধিকারটি অনুরূপ ঝুকি গ্রহণ পর্যন্ত সম্প্রসারিত হইবে।

উদাহারণ: ক কে একদল লোক খুন করিবার জন্য তাড়া করে। ক তাদের প্রতি গুলিবর্ষণ না করিলে কার্যকরভাবে তাহার আত্মরক্ষার ব্যক্তিগত অধিকার প্রয়োগ করিতে পারে না। কিন্তু গুলিবর্ষণ করিলে কয়েকটি নির্দোষ শিশুর ক্ষতিসাধনের ঝুঁকি গ্রহণ ব্যতীত গত্যন্তর নাই কারণ, কয়েকটি নির্দোষ শিশুও হত্যাপ্রয়াসী লোকগুলির দলের সহিত মিশিয়া আছে। এই পরিস্থিতিতে ক যদি গুলিবর্ষণ করে এবং তাহার ফলে কোন শিশু ক্ষতিগ্রস্থও হয় তবুও ক এর অপরাধ হইবে না।



/17
70

10 minutes 12 seconds


Penal Code [96-106]

এখানে দণ্ডবিধির ৯৬-১০৬ ধারাসমূহ নিয়ে এমসিকিউ টেস্ট আছে। সংশ্লিষ্ট ধারাগুলো পড়ে নিয়ে এটি অনুশীলন করুন।

এখানে আপনার নাম ও ফোন নাম্বার লিখুন। ইমেইলটি লেখা বাধ্যতামূলক নয়; তবে, ইমেইল এড্রেস দিলে আপনার ইমেইলে বিস্তারিত ফলাফল চলে যাবে।

1 / 17

অপরের মৃত্যু ঘটানো ব্যতীত নিজ দেহের আত্মরক্ষায় অন্যের ক্ষতিসাধন করা দণ্ডবিধির কোন ধারায় বর্ণিত আছে?

2 / 17

আত্মরক্ষার্থে কয়েকজন লোকের হামলা থেকে বাঁচতে গিয়ে কোনো নিরপরাধ একজন পথচারী যদি খুন হয়ে যায় সেক্ষেত্রে এই অপরাধটি কী নামে অভিহিত হবে দণ্ডবিধি অনুযায়ী?

3 / 17

কয়টি ক্ষেত্রে সম্পত্তি সম্পর্কিত ব্যক্তিগত প্রতিরক্ষার অধিকার মৃত্যু ঘটানোর ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হতে পারে?

4 / 17

দণ্ডবিধির ১০৪ ধারাটি দণ্ডবিধির কত ধারার ব্যতিক্রমসাপেক্ষে বিবেচনা করতে হবে?

5 / 17

সম্পত্তি রক্ষার জন্য আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগের সময়কাল সম্পর্কে দণ্ডবিধির কোন ধারায় বলা আছে?

6 / 17

অপরের মৃত্যু ঘটানো ব্যতীত নিজ সম্পত্তি রক্ষায় অন্যের ক্ষতিসাধন করা দণ্ডবিধির কোন ধারায় বর্ণিত আছে?

7 / 17

দণ্ডবিধির ৯৮ ধারার বিষয়বস্তু কী?

8 / 17

দেহ রক্ষার জন্য আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগের সময়কাল সম্পর্কে দণ্ডবিধির কোন ধারায় বলা আছে?

9 / 17

আত্মরক্ষার জন্য আক্রমণকারীকে হত্যা বা গুরুতর জখম করার জন্য নিম্নের কোন কারণটি গ্রহণযোগ্য হবে না? [জুডি. : ২০১২]

10 / 17

দণ্ডবিধির ৯৯ ধারার শিরোনাম নিচের কোনটি?

11 / 17

ব্যক্তিগত আত্মরক্ষার অধিকার দণ্ডবিধির কোন ধারার ব্যতিক্রমসাপেক্ষে বিবেচনা করতে হয়?

12 / 17

নিচের কোনটি অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে না? [বার : ২০১৩]

13 / 17

অন্যের দেহ রক্ষার ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত অধিকারের কথা দণ্ডবিধির কোন ধারায় বলা আছে?

14 / 17

দণ্ডবিধি অনুযায়ী আত্মরক্ষামূলক অধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে অপরাধীর মৃত্যু ঘটানো যায় কোন ক্ষেত্রে?

15 / 17

কয়টি ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত আত্মরক্ষার অধিকার হিসেবে অপরের মৃত্যু পর্যন্ত ঘটানো যায়?

16 / 17

দণ্ডবিধি অনুযায়ী আত্মরক্ষামূলক অধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে অপরাধীর মৃত্যু ঘটানো যায় কোন ক্ষেত্রে? [বার : ২০১২]

17 / 17

আত্মরক্ষার ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত অধিকার প্রয়োগজনিত কোনো কার্যই অপরাধ নয়- এটা দণ্ডবিধির কোন ধারার মূল কথা?

Your score is

0%



 

বিগত এমসিকিউ সাফল্য

Registered [2017 & 2020 MCQ]

Passed Students [2017 & 2020 MCQ]

Registered [MCQ Exam of 2021]