ঘরে বসেই লাইভ ভিডিওতে
প্রতি মাসে মাত্র ৮০০/- টাকায়

MCQ পরীক্ষার প্রস্তুতি!

ভর্তি হতে কল করুন : 01712-908561

Penal Code Lecture 10 [Sec. 141-160]

এখানে দণ্ডবিধির অষ্টম অধ্যায় [ধারা ১৪১-১৬০] যেখানে ‘জনশৃঙ্খলা বিরোধী অপরাধসমূহ’ শিরোনামে আলোচনা রয়েছে। এই অধ্যায়ের ১৪১-১৪৯ পর্যন্ত এবং ১৫৯-১৬০ ধারাসমূহ বিশেষভাবে মনে রাখতে হবে। এই অধ্যায় থেকে এমসিকিউ নিয়মিতভাবে পরীক্ষায় আসে।

Penal Code : Lecture 10

Offences against the public tranquility : জনশৃঙ্খলা বিরোধী অপরাধসমূহ

ম্যাপিং : আমাদের এবারের আলোচনার বিষয় জনশৃঙ্খলা বিরোধী অপরাধসমূহ বা Offences against the public tranquility। মানে জনগণের জীবনের বা একটি সমাজের মানুষের শান্তিপূর্ণ জীবনযাপনের বিঘ্ন ঘটায় এমন সব অপরাধ এই অধ্যায়ের আলোচনার বিষয়। এই টপিকটি দণ্ডবিধির ৮ম অধ্যায়। ধারা ১৪১ থেকে ১৬০ পর্যন্ত। অনেকগুলো ধারা। গুরুত্বের দিক থেকে অগ্রগণ্য। বিশেষ করে এই সমস্ত ধারায় আদালতে হরহামেশাই মামলা দায়ের হয়। জমির দখল, বলপূর্বকভাবে ফসল বা গাছ কেটে নেয়া ইত্যাদিকে ঘিরে নানারকম অপরাধের ঘটনা বেশি দেখা যায়।

জনশৃঙ্খলাকে বিশেষ গুরুত্বের সাথে দেখা হয় আইনে। কেননা, একজায়গায় জনশৃঙ্খলা বা জনশান্তি বিঘ্নিত হলে স্বাভাবিকভাবেই সেখানে আইনের শাসন হুমকির মুখে পড়ে যেতে পারে। একটি জনশৃঙ্খলা বিরোধী ঘটনা বিপুল আকারে আরো মানুষকে যুক্ত করে ফেলতে পারে ঘটনার ধারাবাহিকতায়। ফলে রাষ্ট্রের বা সমাজের শৃঙ্খলা বা ডিসিপ্লিন ভেঙ্গে পড়তে পারে। সঙ্গত কারণেই এর অপরাধ সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট আইন থাকা ও তার প্রয়োগ জরুরি। এই জনশান্তি বা জনশৃঙ্খলা নানাভাবেই বিঘ্ন  হতে পারে। এর সবগুলোই এই অধ্যায়ে আলোচনা করা আছে।

এই অধ্যায়ের সমগ্র আলোচনা মূলত ১৪১ ধারায় বর্ণিত বেআইনী সমাবেশের (Unlawful assembly) বিষয় নিয়ে। এটারই নানা প্রকার-ধরন নিয়ে আলোচনা বিস্তারিতভাবে আছে।

[বিশেষ দ্রষ্টব্য : এর আগের লেকচারে ১৩০ পর্যন্ত আলোচনা হয়ে ১৩১ থেকে ১৪০ পর্যন্ত বাদ দিয়ে এখানে ১৪১ থেকে আলোচনা করা হচ্ছে। কেননা, উক্ত ১৩১ থেকে ১৪০ [দণ্ডবিধির ৭ম অধ্যায়]পর্যন্ত ধারাগুলোর বিষয়বস্তু বার কাউন্সিলের সিলেবাসে নেই।]

মূল আলোচনা
১৪১ ধারাটি জরুরি ভীষণ। বেআইনী সমাবেশের (Unlawful assembly) সংজ্ঞা দেয়া আছে এটাতে। কোনো শাস্তি বা দণ্ডের কথা এখানে উল্লেখ করা নেই। কমপক্ষে ৫ জন লোকের যদি সাধারণ বা কমন উদ্দেশ্য থাকে এবং তা ১৪১ ধারায় বর্ণিত ৫ প্রকারের অপরাধমূলক কাজের আওতাধীন হয় তবে তা বেআইনী সমাবেশ বলে গণ্য হবে। ধারাটি পড়ে নিন।

“ধারা ১৪১ : বেআইনী সমাবেশ : পাঁচ বা ততোধিক সমাবেশকে ‘বেআইনী সমাবেশ’ [‘unlawful assembly’] সেক্ষেত্রেই বলা হয়, যেক্ষেত্রে উক্ত সমাবেশের ব্যক্তিদের সাধারণ লক্ষ্য [common object] হয়-

প্রথমত : বাংলাদেশের সরকার বা আইনসভাকে অথবা কোন সরকারি কর্মচারীকে অনুরূপ কর্মচারীর আইনসম্মত ক্ষমতা প্রয়োগের সময় অপরাধমূলক বলপ্রয়োগ অথবা অপরাধমূলক বলপ্রয়োগের হুমকি কর্তৃক ভীতি প্রদর্শন করা; কিংবা

দ্বিতীয়ত : কোন আইনের অথবা কোন আইনগত ব্যবস্থার কার্যকরীকরণে বাধা সৃষ্টি করা; কিংবা

তৃতীয়ত : কোন ব্যক্তির দুষ্কর্ম বা অপরাধমূলক অনধিকার প্রবেশ অথবা অন্যবিধ অপরাধ অনুষ্ঠিত করা; কিংবা

চতুর্থত : কোন ব্যক্তির প্রতি অপরাধমূলক বলপ্রয়োগ করে বা অপরাধমূলক বলপ্রয়োগের হুমকি প্রদর্শন করে কোন সম্পত্তির দখল গ্রহণ করা, অথবা কোন ব্যক্তিকে পথের অধিকার ভোগ হতে বঞ্চিত করা অথবা জল ব্যবহারের অধিকার হতে বঞ্চিত করা অথবা তাকে তার দখলে অবস্থিত অপর কোন অশরীর অধিকার থেকে বঞ্চিত করা অথবা কোন অধিকার বা কল্পিত অধিকার প্রতিষ্ঠা করা; কিংবা

পঞ্চমত : অপরাধমূলক বলপ্রয়োগ করে বা অপরাধমূলক বলপ্রয়োগের হুমকি প্রদর্শন করে কোন ব্যক্তিকে সে আইনত বাধ্য নয় এমন একটি কার্য সম্পাদনে বাধ্য করা অথবা যে কার্যটি করতে সে আইনত বাধ্য বা অধিকারী তা সম্পাদন হতে বিরত করা

ব্যাখ্যা : যে সমাবেশ, সমাবিষ্ট হওয়াকালে বেআইনী ছিল না তা পরে বেআইনী সমাবেশ হতে পারে

মানে কমপক্ষে ৫ জন লোক১ টি সাধারন উদ্দেশ্য৫ প্রকারের অপরাধের যেকোনো একটির সংঘটিত হওয়া। সমাবিষ্ট হওয়াকালে যা বেআইনী ছিলনা কিন্তু তা পরে বেআইনী সমাবেশ হতে পারে। আর ধারাটি ১৪১। ব্যস!

এবার ধারা ১৪২। এই ধারাটি ১৪১ এর ধারাবাহিকতা। এখানে কেউ যদি শুধুমাত্র বেআইনী সমাবেশে উপস্থিত থাকে, সেই কারণে কেউ অপরাধী হবে না। উপস্থিত ব্যক্তির অভিপ্রায় ও উদ্দেশ্য প্রমাণসাপেক্ষে তার অপরাধ নির্ধারিত হবে। উপস্থিত ব্যক্তি যদি বেআইনী সমাবেশে ইচ্ছাপূর্বক যোগ দেয় বা সেখানে বেআইনী কাজ হবে বা হচ্ছে জেনেও তার উপস্থিতি জারি রাখে তবে সে অপরাধী হবে বা বেআইনী সমাবেশে যোগদানকারী ব্যক্তি হিসেবে গণ্য হবে। ম্যাটার অফ প্রুফ! ধারাটি দেখুন।

“ধারা ১৪২ : বেআইনী সমাবেশে অংশগ্রহণ করা : কোন ব্যক্তি যদি কি কি অবস্থায় কোন সমাবেশ বেআইনী সমাবেশে পরিণত হয়, তৎসম্পর্কে জ্ঞাত থাকা সত্ত্বেও ইচ্ছাপূর্বক সে সমাবেশে যোগদান করে বা সে সমাবেশে মিলিত থাকে, তবে সে ব্যক্তি একটি বেআইনী সমাবেশে যোগদানকারী ব্যক্তি বলে পরিগণিত হয়।

১৪১ ও ১৪২ ধারায় অপরাধটির সংজ্ঞা বিষয়ে আরো অধিকতর নির্দেশনা সম্পন্ন দেয়া হয়েছে বা আরো সুনির্দিষ্ট করা হয়েছে। এবার ১৪৩ ধারায় অপরাধটির শাস্তির বর্ণনা।

“ধারা ১৪৩ : সাজা : কোন ব্যক্তি যদি বেআইনী সমাবেশে যোগদান করে, তবে তাকে ছয় মাস পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা অর্থদণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত করা যাবে।

শাস্তি খুব বেশি না। সর্বোচ্চ ছয় মাস। মাত্র। কিন্তু খেয়াল রাখবেন, এটা শুধুমাত্র বেআইনী সমাবেশে যোগদানের বা অংশগ্রহণের জন্য। যে উদ্দেশ্যে তারা যোগ দিয়েছে, সেই অপরাধটি সংঘটিত হলে সেই অপরাধের শাস্তি কিন্তু আলাদা। যেমন, ৫ বা ততোধিক লোকের সমাবেশ একত্রিত হয়ে কোনো সম্পত্তির ক্ষতিসাধন করলে প্রথমত তারা সম্পত্তির ক্ষতিসাধনের অপরাধে অপরাধী হবে, পাশাপাশি তারা বেআইনী সমাবেশে অংশগ্রহণের দায়ে দায়ী হবে। আবার, উক্ত সমাবেশটি যদি কোনো ডাকাতি বা চুরি সংঘটিত করে তবে সেক্ষেত্রে প্রথমত তারা ডাকাতি বা চুরির অপরাধে অপরাধী হবার পাশাপাশি বেআইনী সমাবেশের জন্য অপরাধী হবে। অর্থাৎ বেআইনী সমাবেশে অংশগ্রহণকারীর সম্ভাবনা আছে উভয় অপরাধের দণ্ডে দণ্ডিত হবার।

১৪৪ ধারায় বেআইনী সমাবেশের একজন অপরাধীর ধরন অনুযায়ী শাস্তি বিষয়ে আরো সুনির্দিষ্ট করে বলা আছে। বেআইনী সমাবেশের অপরাধীরা খালি হাতেও থাকতে পারে, আবার অস্ত্রশস্ত্রেও সজ্জিত থাকতে পারে। ১৪৪ ধারায় মারাত্মক অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে বেআইনী সমাবেশে যোগদান করলে কি হবে তার বর্ণনা করা আছে। অর্থাৎ সাধারণভাবে কোনো বেআইনী সমাবেশের অপরাধীর শাস্তি মাত্র ৬ মাস [১৪৩ ধারা মোতাবেক], কিন্তু মারাত্মক অস্ত্রে সজ্জিত থাকলে তার শাস্তি ২ বছর। মারাত্মক অস্ত্রে সজ্জিত থাকার ফলে সংগত কারণেই তা বেশি। কিন্তু মারাত্মক অস্ত্র কোনটা? এর কোনো সংজ্ঞা আইনে নেই। এটা ঘটনার বর্ণনা ও পরিণতি বা ফলাফল দ্বারা প্রমাণসাপেক্ষ। ধরুন, কোদাল মাটি কাটা বা মাটি কোপানোর কাজে ব্যবহার হয়। কিন্তু এটা দিয়ে মানুষকেও কোপানো সম্ভব! অর্থাৎ কোদালও মারাত্মক অস্ত্র বলে পরিগণিত হতে পারে ক্ষেত্রবিশেষে। এমনকি আপনি জানলে অবাক হবেন যে, মাটির ঢেলাও কারো জন্য ভালো অস্ত্র হতে পারে যদি তার হাতের টার্গেট ভালো থাকে। শক্ত মাটির ঢেলাও মানুষের মৃত্যুর জন্য বা মারাত্মক জখমের জন্য যথেষ্ট। অর্থাৎ কিছু লোক খালি হাতে জমিতে মারামারি করতে আসলো কিন্তু পরে মাটির ঢেলা ব্যবহার করে প্রতিপক্ষের ওপর তীব্র আক্রমণ করলো। এটাও কিন্তু এই ১৪৪ ধারায় পড়বে। অর্থাৎ অবস্থাসাপেক্ষে বা ঘটনা সাপেক্ষে মারাত্মক অস্ত্র শব্দটি ব্যবহার হয় যা প্রমাণের ওপর নির্ভর করে। ধারাটি পড়ুন।

“ধারা ১৪৪ : মারাত্মক অন্ত্রে সজ্জিত হয়ে বে-আইনী সমাবেশে যোগদান করা : কোন ব্যক্তি যদি মারাত্মক অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে অথবা যে বস্তু অপরাধের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করলে মৃত্যু ঘটতে পারে [armed with any deadly weapon, or with anything which, used as a weapon of offence, is likely to cause death] তা কর্তৃক সজ্জিত হয়ে কোন বেআইনী সমাবেশে যোগদান করে, তবে সে ব্যক্তি দুই বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা অর্থদণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

এবার ধারা ১৪৫। এই যে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের হল আন্দোলন চলছিলো কিছুদিন আগেই (অগাস্ট, ২০১৬ তে)। মিছিল বা প্রতিবাদ করা আপনার সাংবিধানিক অধিকার। ভালো কথা। ধরে নিন, শান্তিপূর্ণভাবেই একটা সমাবেশ করছিলেন তারা। কিন্তু পুলিশ জনশান্তি ভঙ্গের সম্ভাবনায় বা অজুহাতে ঐ সমাবেশকে বেআইনী ঘোষণা দিলো। অর্থাৎ শুরুতে বেআইনী না থাকলেও পরে বেআইনী ঘোষণা করা হলো [১৪১ ধারার ‘ব্যাখ্যা’ অংশটি স্মরণ করুন] এবং সমাবেশে উপস্থিত শিক্ষার্থীদেরকে সরে যেতে বলা হলো। কিন্তু শিক্ষার্থীরা সেখান থেকে সরলো না। সমাবেশ চালিয়ে যেতে থাকলো বা সেখানে অবস্থান করতে থাকলো। তাহলে এইক্ষেত্রে তারা ১৪৫ ধারা মোতাবেক অপরাধ করলো আইনের দৃষ্টিতে। এই ধারায় কোনো অপরাধের শাস্তি আগের ধারাটির মতোই। অর্থাৎ শাস্তির পরিমাণ বিবেচনা ও তুলনা করলে মারাত্মক অস্ত্রে সজ্জিত ব্যক্তির অপরাধের সমান অপরাধে দোষী হবে। ধারা পড়ুন।

“ধারা ১৪৫ : বেআইনী সমাবেশকে ছত্রভঙ্গ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে জানা সত্ত্বেও উহাতে যোগদান করা অথবা উহাতে থেকে যাওয়া : কোন বেআইনী সমাবেশকে আইন-নির্দেশিত পদ্ধতিতে ছত্রভঙ্গ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা সত্ত্বেও কোন ব্যক্তি উক্ত বেআইনী সমাবেশে যোগদান করলে বা উক্ত বেআইনী সমাবেশে থাকলে তাকে দুই বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত করা যাবে।

এবার ধারা ১৪৬। এটা মূলত একটি সংজ্ঞামূলক ধারা। দাঙ্গা বা Riot / Rioting এর সংজ্ঞা দেয়া হয়েছে। সংজ্ঞাটার সারবস্তু খুব সোজা। বেআইনী সমাবেশ যখন কোনো হিংস্র বা উগ্র পদ্ধতিতে বল প্রয়োগ করে [Whenever force or violence is used by an unlawful assembly] তখন তাকে দাঙ্গা বলে। আরেকটু ছোট করে বলা যায় – সহিংস বেআইনী সমাবেশের নামই দাঙ্গা। কোনো বেআইনী সমাবেশের যদি একজনও দাঙ্গা ঘটায় তবে সকলেই সেই দোষে দোষী হবে। দাঙ্গা কিন্তু জড়বস্তুর ওপর বলপ্রয়োগের মাধ্যমেও হতে পারে। যেমন, বাড়ি বা গাড়ি ভেঙ্গে ফেলা। মনে রাখবেন, কোনো অপরাধ দাঙ্গা হিসেবে ধর্তব্য হবার আগে অবশ্যই তাকে বেআইনী সমাবেশ হতে হবে! ধারা পড়ি আসেন।

“ধারা ১৪৬ : দাঙ্গা : কোন বেআইনী সমাবেশের সাধারণ উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে উক্ত বেআইনী সমাবেশ দ্বারা বা উক্ত বেআইনী সমাবেশে যোগদানকারী কোন ব্যক্তি কর্তৃক [by any member thereof] বল বা উগ্রতা প্রয়োগ করা হলে [Whenever force or violence is used by an unlawful assembly], উক্ত বেআইনী সমাবেশে যোগদানকারী প্রত্যেক ব্যক্তি দাঙ্গার অপরাধে অপরাধী সাব্যস্ত হবে।

এইবার দাঙ্গার শাস্তি। ধারা ১৪৭।

“ধারা ১৪৭ : দাঙ্গা করার সাজা : কোন ব্যক্তি দাঙ্গার অপরাধে অপরাধী সাব্যস্ত হলে, তাকে দুই বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম কিংবা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা অর্থদণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত করা যাবে।

ধারা ১৪৮। এটাও দাঙ্গা নিয়ে। তবে, মারাত্মক অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে দাঙ্গা হলে কি হবে তার আলোচনা এবার। আলোচনার কিছু নেই। ১৪৬, ১৪৭, ১৪৮ এই ধারা ৩টি ধারাবাহিকভাবে মনে রাখবেন। ১৪৮ ধারাটি পড়েন।

“ধারা ১৪৮ : মারাত্মক অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে দাঙ্গা করা : মারাত্মক অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে অথবা যে বস্তু অপরাধের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করলে মৃত্যু ঘটাতে পারে তা কর্তৃক সজ্জিত হয়ে কোন ব্যক্তি দাঙ্গা করার অপরাধে অপরাধী সাব্যস্ত হলে, সে ব্যক্তি তিন বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

এবার ১৪৯ ধারা। এতক্ষণ বেআইনী সমাবেশের সংজ্ঞা ও শাস্তি এবং দাঙ্গা ও তার শাস্তি আলোচনা পড়লাম। এবার বেআইনী সমাবেশের দ্বারা সংঘটিত অপরাধ সম্পর্কে আলোচনা। বেআইনী সমাবেশ যে উদ্দেশ্যে সংগঠিত হয়েছিলো, সেই অপরাধ যদি সংঘটিত হয় তবে উক্ত প্রত্যেক লোকই যারা বেআইনী সমাবেশে যোগ দিয়েছিলো, তারা প্রত্যেকেই উক্ত অপরাধে দোষী হবে; যদিও ঘটনা এমন হতে পারে যে, তাদের কেউ কেউ সরাসরি উক্ত অপরাধটি করেনি।

১৪৯ ধারাটি একটা পপুলার টার্ম দিয়ে বহুল পরিচিত। টার্মটি হচ্ছে ‘সাধারণ উদ্দেশ্য’ [Common object]। এই সাধারণ উদ্দেশ্য সম্পর্কিত আরো কিছু ধারা / সমজাতীয় ধারা সম্পর্কে আমরা কিন্তু আগেই পড়ে এসেছি। আপনাদের মনে আছে নিশ্চয় ৩৪ ধারা, যার মূল বিষয়বস্তু যৌথ দায়বদ্ধতা বা Joint liability। কয়েকজন মিলে একই অভিপ্রায় নিয়ে কাজ করলে একজন অপরাধটিতে সরাসরি যুক্ত না থাকলেও তিনিও দোষী সাব্যস্ত হবেন। অন্যদিকে ১২০ ক ধারায় অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের সংজ্ঞা দেয়া আছে। এই ধারা অনুযায়ী অপরাধের ষড়যন্ত্রে অংশগ্রহণ করলেই একজন দোষী সাব্যস্ত হবেন, ষড়যন্ত্র অনুসারে অপরাধটি সংঘটিত না হলেও । কিন্তু এই ১৪৯ ধারার প্রয়োজন কি তাহলে? ১৪৯ ধারাটি আসলে কোনো নতুন মৌলিক বিষয় আলোচনা করেনি। আগের ঐ সমস্ত ধারাকেই শক্তিশালী করেছে এবং অবৈধ বা বেআইনী সমাবেশের ক্ষেত্রে উক্ত সমাবেশে যোগদানকারী / অংশগ্রহণকারীর ভূমিকা ও অপরাধকে আরো সুনির্দিষ্ট করে বর্ণনা করেছে মাত্র। ধারাটি পড়ে নিন।

“ধারা ১৪৯ : সাধারণ উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে অনুষ্ঠিত অপরাধের জন্য বেআইনী সমাবেশে যোগদানকারী প্রত্যেক ব্যক্তিই অপরাধী সাব্যস্ত হবে : যদি কোন বেআইনী সমাবেশে যোগদানকারী ব্যক্তি দ্বারা উক্ত বেআইনী উদ্দেশ্য পূরণকল্পে কোন অপরাধ অনুষ্ঠিত হয়, অথবা উক্ত সাধারণ উদ্দেশ্য পূরণকল্পে যে অপরাধটি অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে উক্ত বেআইনী সমাবেশের ব্যক্তিগণ জানতো তা অনুষ্ঠিত হয়, তবে উক্ত অপরাধটি অনুষ্ঠিত হওয়ার সময়ে উক্ত বেআইনী সমাবেশে যোগদানকারী প্রত্যেক ব্যক্তি উক্ত অপরাধে অপরাধী হবে।

ধরুন, আপনারা ৬ জন বন্ধু একটি বেআইনী সমাবেশে যোগ দিলেন এবং বেআইনী সমাবেশের উদ্দেশ্য ছিলো একটি গাড়ী ভাংচুর করা। আপনাদের ৬ জনের মধ্যে কেউ একজন তা সম্পন্ন করলো। বেআইনী সমাবেশ একটি অপরাধ। আবার, উক্ত বেআইনী সমাবেশ থেকে একটি গাড়ী ভাংচুর করা হবে সেটা আরেকটা অপরাধ। গাড়ী ভাংচুর করার অপরাধে যোগদানকারী আপনারা প্রত্যেকেই উক্ত দুইটি অপরাধে দোষী হবেন। ক্লিয়ার?

১৫০ থেকে ১৫৮ পর্যন্ত ধারাগুলোর আর কোনো আলোচনা আমরা করবো না। খুব বেশি জরুরি না। শুধু ধারাগুলো তুলে দিলাম। মাথায় জ্যাম বাধিয়ে লাভ কি? তবে একটা রিডিং অন্তত দেন। ১৫৩ক, ১৫৩খ ও ১৫৮ ধারা তিনটি মনে রাখার চেষ্টা করুন। আর ১৫৯ এবং ১৬০ পড়াটা বিশেষ জরুরি।

“ধারা ১৫০ : বেআইনী সমাবেশে যোগদানের জন্য ব্যক্তি ভাড়া করা অথবা ব্যক্তি ভাড়া করার ব্যাপারে সহায়তা করা : যদি কেউ কোন ব্যক্তিকে কোন বেআইনী সমাবেশে যোগদানের জন্য ভাড়া করে বা নিরত করে বা নিযুক্ত করে বা উৎসাহিত করে বা অনুরূপ ভাড়া করার বা নিরত করার বা নিযুক্ত করার ব্যাপারে সহায়তা করে, তবে সে বেআইনী সমাবেশে যোগদানকারীর মত দণ্ডিত হবে, এবং অনুরূপ ভাড়া করার বা নিরত করার বা নিযুক্ত করার ফলে বেআইনী সমাবেশে যোগদানকারীর মত দণ্ডিত হবে, এবং অনুরূপ ভাড়া করার বা নিরত করার বা নিযুক্ত করার ফলে বেআইনী সমাবেশে যোগদানকারী উক্ত ব্যক্তি কোন অপরাধ সংঘটন করলে তজ্জন্য সে নিজে বেআইনী সমাবেশে যোগদান করলে বা নিজে অপরাধটি করলে সেভাবে দণ্ডিত হতো, সেভাবেই দণ্ডিত হবে।

“ধারা ১৫১ : পাঁচ বা ততোধিক সংখ্যক ব্যক্তির সমাবেশকে ছত্রভঙ্গ করার নির্দেশ প্রদত্ত হওয়ার পর জ্ঞাতসারে উহাতে যোগদান করা বা অবস্থান করা : পাঁচ বা ততোধিক সংখ্যক ব্যক্তির যে সমাবেশ শান্তি ভঙ্গ করতে পারে বলে সম্ভাবনা থাকে, তাকে ছত্রভঙ্গ করার নির্দেশ প্রদত্ত হওয়ার পর কোন ব্যক্তি জ্ঞাতসারে উহাতে যোগদান করলে বা শরীক হয়ে থাকলে ছয় মাস পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে বা অর্থদণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

ব্যাখ্যা : যদি সমাবেশটি ১৪১ ধারার অর্থ অনুযায়ী একটি বেআইনী সমাবেশ হয়, তবে অপরাধী ১৪৫ ধারা মতে দণ্ডিত হবে।

“ধারা ১৫২ : দাঙ্গা ইত্যাদি দমনকালে সরকারি কর্মচারীকে আক্রমণ বা বাধাদান করা : কোন সরকারি কর্মচারী অনুরূপ সরকারি কর্মচারী হিসেবে তার কর্তব্য সম্পাদন উদ্দেশ্যে একটি অবৈধ সমাবেশ ছত্রভঙ্গ করার অথবা দাঙ্গা দমন করার প্রচেষ্টাকালে কোন ব্যক্তি যদি তাকে আক্রমণ করে অথবা আক্রমণ করার হুমকি প্রদর্শন করে, অথবা বাধাদান করে বা বাধাদান করার চেষ্টা করে, অথবা অনুরূপ সরকারি কর্মচারীর প্রতি অপরাধমূলক বলপ্রয়োগ করে বা করার হুমকি প্রদর্শন করে বা চেষ্টা করে, তবে সে ব্যক্তি তিন বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা অর্থদণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

“ধারা ১৫৩ : দাঙ্গা সংঘটনের উদ্দেশ্যে বেপরোয়াভাবে উস্কানি দান করা – দাঙ্গা অনুষ্ঠিত হওয়ার ক্ষেত্রে; দাঙ্গা অনুষ্ঠিত না হওয়ার ক্ষেত্রে : কোন ব্যক্তি যদি দুরভিসন্ধিমূলকভাবে, বা বেপরোয়াভাবে কোন বেআইনী কার্য করে কাউকে উস্কানি দেয় এবং এইরূপ উস্কানি দিয়ে দাঙ্গার অপরাধ সংঘটনই কাজটির উদ্দেশ্য হয় অথবা এইরূপ প্ররোচনা দানের ফলে দাঙ্গার অপরাধ অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে উক্ত ব্যক্তির জানা থাকে, তবে অনুরূপ উস্কানির ফলে দাঙ্গার অপরাধটি অনুষ্ঠিত হলে, উক্ত ব্যক্তি এক বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা অর্থদণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে এবং এইরূপ প্ররোচনাদানের ফলে দাঙ্গার অপরাধটি অনুষ্ঠিত না হলে, সে ব্যক্তি ছয় মাস পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা অর্থদণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

“ধারা ১৫৩ ক : বিভিন্ন শ্রেণীর মধ্যে শত্রুতা সৃষ্টি করা : কোন ব্যক্তি যদি কোন উচ্চারিত বা লিখিত কথা কর্তৃক অথবা চিহ্ন কর্তৃক অথবা দৃশ্যমান প্রতীক কর্তৃক অথবা অপর কোনভাবে বাংলাদেশের জনসাধারণের বিভিন্ন শ্রেণীর মধ্যে [between different classes of the citizens of Bangladesh] শক্রতার মনোভাব বা বিদ্বেষ সৃষ্টি করে বা সৃষ্টি করার চেষ্টা করে, তবে সে ব্যক্তি দুই বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের কারাদণ্ডে অথবা অর্থদণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

ব্যাখ্যা : বাংলাদেশের জনসাধারণের বিভিন্ন শ্রেণীর মধ্যে বৈরীতা বা বিদ্বেষের মনোভাবপ্রসূত, বিষয়াবলী বা যেসব বিষয় অনুরূপ বৈরীতা বা বিদ্বেষের মনোভাব সৃষ্টি করতে পারে বলে মনে হয়, সেসব বিষয় দূরীকরণের সৎ উদ্দেশ্য প্রণোদিত হয়ে এবং কোনরূপ দুরভিসন্ধিমূলক উদ্দেশ্য ছাড়া [without malicious intention] তৎসমূহের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তা এই ধারার অর্থ অনুযায়ী অপরাধ বলে পরিগণিত হবে না।

“ধারা ১৫৩ খ : রাজনৈতিক কার্যকলাপে অংশগ্রহণের জন্য ছাত্র প্রভৃতিকে প্ররোচনা দান : কোন ব্যক্তি যদি উচ্চারিত বা লিখিত কোন কথা কর্তৃক কিংবা কোন দৃশ্যমান প্রতীক কর্তৃক বা অপর কোনভাবে কোন ছাত্রকে বা ছাত্র গোষ্ঠীকে কিংবা ছাত্রদের সাথে সম্পর্কযুক্ত বা ছাত্রদের ব্যাপারে আগ্রহান্বিত কোন প্রতিষ্ঠানকে কোনরূপ রাজনৈতিক কার্যকলাপে অংশগ্রহণ করতে প্ররোচনা দান করলে, সে ব্যক্তি দুই বৎসর পর্যন্ত মেয়াদের কারাদণ্ডে, বা অর্থদণ্ডে বা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

“ধারা ১৫৪ : যে ভূমির উপর বেআইনী সমাবেশ সংঘটিত হয় সে ভূমির মালিক বা দখলদার : কোন বেআইনী সমাবেশ বা দাঙ্গা সংঘটিত হলে যে ভূমি বা জমির উপর অনুরূপ বেআইনী সমাবেশ বা দাঙ্গা অনুষ্ঠিত হয় উহার মালিক বা দখলকার এবং উহাতে কোন স্বত্বের অধিকারী বা দাবিদার যেকোন ব্যক্তি নিম্নোক্ত অবস্থায় অনধিক এক হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবে – যদি সে বা তার প্রতিনিধি বা তার ম্যানেজার অনুরূপ অপরাধ অনুষ্ঠিত হয়েছে বা হচ্ছে জানা সত্ত্বেও অথবা অনুরূপ অপরাধ অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে বিশ্বাস করার কারণ থাকা সত্ত্বেও তার বা তাদের সাধ্যমত যথাশীঘ্র নিকটতম থানার প্রধান অফিসারকে অবহিত না করে; এবং অপরাধটি অচিরেই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বলে তার বা তাদের বিশ্বাস করার কারণ থাকা সত্ত্বেও উহা প্রতিরোধ করার জন্য তার বা তাদের আয়ত্তাধীন সকল আইনসম্মত উপায় অবলম্বন না করে; এবং অপরাধটি অনুষ্ঠিত হওয়ার সময় বেআইনী সমাবেশ বা দাঙ্গা ছত্রভঙ্গ করার বা দমন করার জন্য তার বা তাদের আয়ত্তাধীন সকল আইনসম্মত উপায় অবলম্বন না করে।

“ধারা ১৫৫ : যে ব্যক্তির স্বার্থে দাঙ্গা অনুষ্ঠিত হয় তার দায়দায়িত্ব : যে ভূমি সম্পর্কে দাঙ্গা অনুষ্ঠিত হয়েছে, দাঙ্গাটি যদি ভূমির মালিক বা দখলদারের অথবা উক্ত স্বার্থ বা স্বত্বের দাবিদার কোন ব্যক্তির অথবা যে বিরোধীয় বিষয়টি নিয়ে দাঙ্গার সূত্রপাত হয়েছে উহাতে কোন স্বার্থ বা স্বত্বের দাবিদার কোন ব্যক্তির স্বার্থে বা স্বপক্ষে অথবা যে ব্যক্তি উহ্য হতে কোনভাবে উপকৃত হয়েছে তার স্বার্থে বা স্বপক্ষে অনুষ্ঠিত হয়, তবে অনুরূপ ব্যক্তি অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবে – যদি উক্ত ব্যক্তি বা তার প্রতিনিধি বা তার ম্যানেজার অনুরূপ দাঙ্গা অনুষ্ঠিত হতে পারে অথবা যে বেআইনী সমাবেশ দ্বারা অনুরূপ দাঙ্গা অনুষ্ঠিত হবে তা অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে তার বা তাদের বিশ্বাস করার কারণ থাকা সত্ত্বেও অনুরূপ দাঙ্গা বা সমাবেশ নিরোধ করার এবং উহা দমন ও ছত্রভঙ্গ করার জন্য যথাক্রমে তার বা তাদের আয়ত্তাধীন সকল আইনসম্মত উপায় অবলম্বন না করে।

“ধারা ১৫৬ : যে মালিক বা দখলকারীর স্বার্থে দাঙ্গা অনুষ্ঠিত হয়, তার প্রতিনিধির দায়দায়িত্ব : যে ভূমি সম্পর্কে দাঙ্গা অনুষ্ঠিত হয়েছে, দাঙ্গাটি যদি সে ভূমির মালিক বা দখলকারীর অথবা উক্ত ভূমিতে স্বার্থ বা স্বত্বের দাবিদার কোন ব্যক্তির স্বার্থে বা স্বপক্ষে অথবা যে বিরোধীয় বিষয়টি নিয়ে দাঙ্গার সূত্রপাত হয়েছে উহাতে কোন স্বার্থ বা স্বত্বের দাবিদার কোন ব্যক্তির স্বার্থে বা স্বপক্ষে অথবা যে ব্যক্তি উহা হতে কোনভাবে উপকৃত হয়েছে তার স্বার্থে বা স্বপক্ষে অনুষ্ঠিত হয়, তবে অনুরূপ ব্যক্তির প্রতিনিধি বা ম্যানেজার অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবে। যদি অনুরূপ প্রতিনিধি বা ম্যানেজার অনুরূপ দাঙ্গা অনুষ্ঠিত হবে বা তা অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে তার বিশ্বাস করার এবং উহা দমন ও ছত্রভঙ্গ করার জন্য যথাক্রমে তার আয়ত্তাধীন সকল আইনসম্মত উপায় অবলম্বন না করে।

“ধারা ১৫৭ : বেআইনী সমাবেশের জন্য ভাড়া করা ব্যক্তিদের আশ্রয়দান করা : কোন ব্যক্তি যদি কোন বেআইনী সমাবেশে যোগদান করার জন্য কোন ব্যক্তিকে ভাড়া করা হয়েছে বা নিযুক্ত করা হয়েছে অথবা অনুরূপ কোন ব্যক্তি অনুরূপ উদ্দেশ্যে ভাড়াটিয়া হতে বা নিযুক্ত হতে যাচ্ছে জানা সত্ত্বেও অনুরূপ ব্যক্তিকে বা অনুরূপ ব্যক্তিদের তার দখলাধীন বা তত্ত্বাবধানাধীন বা নিয়ন্ত্রণাধীন কোন গৃহে বা বাড়িতে বা স্থানে আশ্রয়দান করে, গ্রহণ করে বা সমাবিষ্ট করে, তবে তাকে ছয় মাস পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা অর্থদণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত করা হবে।

“ধারা ১৫৮ : কোন বেআইনী সমাবেশে বা দাঙ্গায় যোগদানের জন্য ভাড়াটিয়া হওয়া : কোন ব্যক্তি যদি ১৪১ ধারায় বর্ণিত কার্যসমূহের যে কোন একটি সম্পাদিত করার বা সম্পাদিত করতে সাহায্য করার উদ্দেশ্যে নিযুক্ত হয় বা ভাড়াটিয়া হয় অথবা নিযুক্ত জুড়ে। ভাড়াটিয়া হতে প্রস্তাব করে বা চেষ্টা করে, তবে সে ব্যক্তি ছয় মাস পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা অর্থদণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডে দণ্ডিত হবে।

এবং কোন ব্যক্তি যদি উপযুক্তভাবে নিযুক্ত হয়ে বা ভাড়াটিয়া হয়ে মারাত্মক অস্ত্রে অথবা যে বস্তু অপরাধের দ্বারা সজ্জিত হয়ে যায় বা সজ্জিত হয়ে কার্যে ব্যাপৃত হয় বা সজ্জিত হয়ে যেতে প্রস্তাব করে, তবে সে ব্যক্তি দুই বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা অর্থদণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

এবার ধারা ১৫৯। এটাতে মারামারির সংজ্ঞা দেয়া আছে। ধারাটি পড়ুন। একটু বোঝার ব্যাপার আছে।

“ধারা ১৫৯ : মারামারি : যদি দুই বা ততোধিক ব্যক্তি কোন প্রকাশ্য স্থানে মারামারি করে শান্তিভঙ্গ করে, তবে তারা ‘মারামারি’ করেছে বলে পরিগণিত হয়।” [Section 159 : Affray : When two or more persons, by fighting in a public place, disturb the public peace, they are said to ‘commit an affray’.]

এই ধারাটিতে মারামারি বা কলহের সংজ্ঞা দেয়া আছে। যেকোনো ধরনের ঝগড়া বিবাদকেও কলহ বলা যায়। আমরা এতক্ষণ এই অধ্যায়ের যে সমস্ত ধারা পড়লাম তা প্রধানত অবৈধ সমাবেশ সংক্রান্ত যা জনশান্তিতে বিঘ্ন ঘটাতে পারে। এই অবৈধ সমাবেশ হবার জন্য কমপক্ষে ৫ জন হতে হয়। দাঙ্গা অনুষ্ঠিত হতে গেলেও তাই। এটা প্রাথমিক শর্ত। কিন্তু মারামারিতে ২ জন থাকলেই যথেষ্ট। অর্থাৎ যেকোনো ২ জন ব্যক্তি যদি প্রকাশ্য স্থানে মারামারি করে এবং তা মানুষের শান্তিপূর্ণ অবস্থানকে বিঘ্নিত করে তবে তা আইনের দৃষ্টিতে অপরাধ। আরেকটা বিষয় মাথায় রাখবেন। অবৈধ সমাবেশ বা দাঙ্গায় পূর্ব পরিকল্পনা থাকে কিন্তু মারামারি বা কলহ বা ঝগড়াবিবাদ হঠাৎ করেই ঘটতে পারে। আপনি কোনো চায়ের দোকানে চা খাচ্ছেন, হঠাৎ দেখলেন দুই জন মারামারিতে লিপ্ত হয়ে গেছে! তখন আপনিও ক্লেইম করতে পারবেন যে তারা অপরাধ করছে, কেননা তাদের মারামারি আপনার বা আরো কারো শান্তি বিঘ্নিত করছে।

আচ্ছা, শান্তিতে বিঘ্ন ঘটায় এমন মারামারি বা কলহ বা ঝগড়া-বিবাদের জন্য ঐ অপরাধীদের কি শাস্তি হবে? এটা বলা আছে এই অধ্যায়ের শেষ ধারায়। ধারা ১৬০। পড়ুন।

“ধারা ১৬০ : কলহ কিংবা মারামারির জন্য সাজা : কোন ব্যক্তি যদি মারামারির অপরাধ সংঘটন করে, তবে সে ব্যক্তি এক মাস পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা একশত টাকা পর্যন্ত যে কোন পরিমাণ অর্থদণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।



/23
57

13 minutes 48 seconds


Penal Code [141-160]

এখানে দণ্ডবিধির ১৪১-১৬০ ধারাসমূহ নিয়ে এমসিকিউ টেস্ট আছে। সংশ্লিষ্ট ধারাগুলো পড়ে নিয়ে এটি অনুশীলন করুন।

এখানে আপনার নাম ও ফোন নাম্বার লিখুন। ইমেইলটি লেখা বাধ্যতামূলক নয়; তবে, ইমেইল এড্রেস দিলে আপনার ইমেইলে বিস্তারিত ফলাফল চলে যাবে।

1 / 23

মারাত্মক অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে বেআইনি সমাবেশে যোগদান করলে সর্বোচ্চ কত সময়ের কারাদণ্ড হতে পারে?

2 / 23

দাঙ্গা করার সাজা দণ্ডবিধির কত ধারার বিষয়বস্তু?

3 / 23

বেআইনি সমাবেশ থেকে হিংস্র বা উগ্র পদ্ধতিতে বলপ্রয়োগ করা হলে সেটাকে কী নামে অভিহিত করা যায়?

4 / 23

দণ্ডবিধির কত ধারায় মারামারির সংজ্ঞা প্রদান করা আছে?

5 / 23

দণ্ডবিধি অনুযায়ী ‘জনশৃঙ্খলা বিরোধী অপরাধ’ নিচের কোনটি?

6 / 23

মারাত্মক অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে একটি বেআইনি সমাবেশ থেকে হিংস্র বা উগ্র পদ্ধতিতে বলপ্রয়োগ করা হলে তার শাস্তি কী?

7 / 23

সাধারণ উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে যোগদানকারী ব্যক্তিবর্গ নিম্নোক্ত কোন মতে দোষী সাব্যস্ত হবে?

8 / 23

‘জনশৃঙ্খলা বিরোধী অপরাধ’ দণ্ডবিধির কোন অধ্যায়ে বর্ণিত আছে?

9 / 23

বেআইনী সমাবেশের জন্য ন্যূনতম কত জনের উপস্থিতি প্রয়োজন? [জুডি. : ২০০৭]

10 / 23

দাঙ্গার সংজ্ঞা পেনাল কোডের কত ধারার বিষয়বস্তু?

11 / 23

দণ্ডবিধি অনুযায়ী দাঙ্গার শাস্তি সাধারণভাবে নিচের কোনটি?

12 / 23

বেআইনি সমাবেশে যোগদান করার জন্য একজনের সর্বোচ্চ কত সময়ের কারাদণ্ড হতে পারে?

13 / 23

দণ্ডবিধি মোতাবেক মারামারির শাস্তি কী?

14 / 23

দণ্ডবিধি অনুযায়ী ‘জনশৃঙ্খলা বিরোধী অপরাধ’ নিচের কোনটি?

15 / 23

দণ্ডবিধির ১৪১ ধারায় বেআইনি সমাবেশ সংঘটিত হওয়া নিয়ে কয়টি সাধারণ উদ্দেশ্যের কথা উল্লেখ রয়েছে?

16 / 23

মারাত্মক অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে বেআইনি সমাবেশে যোগদান করার সাজা দণ্ডবিধির কত ধারায় বলা আছে?

17 / 23

কলহ বা মারামারির সাজা দণ্ডবিধির কোন ধারায় বর্ণিত আছে?

18 / 23

সাধারণ উদ্দেশ্য’ বা Common Objectকোন ধারার বিষয়বস্তু?

19 / 23

দণ্ডবিধির ১৪৯ ধারার বিষয়বস্তু হিসেবে নিচের কোনটি সঠিক?

20 / 23

বেআইনি সমাবেশের সদস্য হওয়া বলতে কী বোঝাবে সে সম্পর্কে দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারা নিচের কোনটি?

21 / 23

দণ্ডবিধি অনুযায়ী ‘জনশৃঙ্খলা বিরোধী অপরাধ’ নিচের কোনটি?

22 / 23

দাঙ্গায় ন্যূনতম কতজনের উপস্থিতি প্রয়োজন হয়?

23 / 23

বেআইনি সমাবেশে যোগদান করার সাজা দণ্ডবিধির কত ধারায় বলা আছে?

Your score is

0%



বিগত এমসিকিউ সাফল্য

Registered [2017 & 2020 MCQ]

Passed Students [2017 & 2020 MCQ]

Registered [MCQ Exam of 2021]