ঘরে বসেই লাইভ ভিডিওতে
প্রতি মাসে মাত্র ৮০০/- টাকায়

MCQ পরীক্ষার প্রস্তুতি!

ভর্তি হতে কল করুন : 01712-908561

Penal Code Lecture 14 [Sec. 230-263]

এখানে দণ্ডবিধির ‘মুদ্রা ও সরকারী স্ট্যাম্পসমূহ সংক্রান্ত অপরাধসমূহ প্রসঙ্গে’ বা Offences relating to coin and government stamps শিরোনামে আলোচনা আছে। এটি দণ্ডবিধির ১২ অধ্যায়। ২৩০ ধারা থেকে ২৬৩ ক ধারা পর্যন্ত এই অধ্যায়ের আলোচনা। এখান থেকে খুব কমই প্রশ্ন আসে। তবুও গুরুত্বভেদে রিডিং দিয়ে রাখা দরকার।

Penal Code : Lecture 14

Offences relating to coin and government stamps : মুদ্রা ও সরকারী স্ট্যাম্পসমূহ সংক্রান্ত অপরাধসমূহ প্রসঙ্গে


ফাঁকিবাজি : প্রধানত ২৩০-২৩৫ ধারা, আরেকটু সম্ভব হলে ২৪২, ২৫৫, ২৫৬, ২৫৭ ধারা।


ম্যাপিং : আমাদের এবারের আলোচনার বিষয় মুদ্রা ও সরকারী স্ট্যাম্পসমূহ সংক্রান্ত অপরাধসমূহ প্রসঙ্গে বা Offences relating to coin and government stamps। এটা দণ্ডবিধির ১২ অধ্যায়। ২৩০ ধারা থেকে ২৬৩ ক ধারা পর্যন্ত এই অধ্যায়ের আলোচনা। যথেষ্ট বিস্তৃত অধ্যায় হলেও এই অধ্যায় থেকে কখনো কোনো প্রশ্ন আসেনি। আমরাও সংক্ষিপ্ত আকারে এটার আলোচনা করবো ধারাগুলোর গুরুত্ব সাপেক্ষে। সাধারণ জ্ঞান আকারে হলেও এই অধ্যায়ের বেসিক ধারণাটা রাখতে হবে।

পত্র-পত্রিকায় এরকম খবর প্রায়ই আসে – জাল টাকার মেশিনসহ একজন গ্রেফতার। যখন ছোটবেলায় বা কৈশোরে এরকম খবর চোখে পড়তো, তখন মনে হতো আমার কাছে যদি মেশিনটা থাকতো তাহলে কত কিছুই না করতাম। অনেক টাকার মালিক হতাম, বিলিয়ে দিতাম তাদের কাছে যাদের টাকার সমস্যা আছে। কত না মহৎ স্বপ্ন! কিংবা মানুষের টাকার অভাব দেখে ভাবতাম টাকা ছাপিয়ে ঐসব মানুষকে বিলিয়ে দিলেইতো সমস্যার সমাধান হয়ে যায়! আমাদের সকলেরই এরকম ভাবনার কখনো না কখনো উদয় হয়েছে সম্ভবত।

যাই হোক। এখন আমরা অর্থনীতির সাধারণ জ্ঞান থেকে বলতে পারি, বুঝতে পারি – ব্যাপারটা ঠিক ওরকম নয়। সরকারের উদ্যোগে বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে টাকা বা মুদ্রা ছাপানো / তৈরি করা হয় ও বাজারের সাথে সম্পর্ক রেখে সেটা ছাপানো হয় পরিমাণমতো বা প্রয়োজনমতো। চাহিদা, যোগান, বাজার ইত্যাদি অনেক কিছু বিবেচনায় নিয়ে এক অত্যন্ত জটিল প্রক্রিয়ায় এটা সম্পন্ন করা হয়। কিন্তু এই টাকা বা মুদ্রা যদি মানুষ গোপণে কোনো প্রযুক্তি দিয়ে ছাপিয়ে বাজারে ব্যবহার করে তবে তা অর্থনীতিতে বিদ্যমান ব্যবস্থায় জটিলতা তৈরি করবে। ফলে এই বিষয়ে দণ্ডবিধিতে প্রয়োজন পড়েছে মুদ্রা জাল সংক্রান্ত আলোচনার। শুধু সরকারী মুদ্রা নয়, সরকারী বিভিন্ন স্ট্যাম্পও নকল হবার সম্ভাবনা থাকে। এটাও এই অধ্যায়ের আলোচনা।

মূল আলোচনা
প্রথম ধারাটি ২৩০। এখানে মুদ্রার সংজ্ঞা দেয়া আছে। সংজ্ঞাটা একনজর দেখে রাখুন। কমনসেন্স থেকে টাকা বা মুদ্রা বলতে যা বোঝেন সেটাই যথেষ্ট।

“ধারা ২৩০ : ‘মুদ্রার’ সংজ্ঞা : বর্তমানে অর্থরূপে ব্যবহৃত এবং অনুরূপে ব্যবহৃত হওয়ার জন্য কোন রাষ্ট্রে বা সার্বভৌম শক্তির ক্ষমতাধীনে স্ট্যাম্পযুক্ত ও ইস্যুকৃত ধাতব দ্রব্যকে মুদ্রা বলে।

বাংলাদেশী মুদ্রা : বাংলাদেশী মুদ্রা বলতে বাংলাদেশের সরকারের ক্ষমতাধীন অর্থরূপে ব্যবহারের জন্য স্ট্যাম্পযুক্ত ও ইস্যুকৃত ধাতবদ্রব্য বুঝাবে, এবং অর্থরূপে, ব্যবহার রহিত হওয়া সত্ত্বেও এই অধ্যায়ের উদ্দেশ্যাবলীর দিক হতে অনুরূপভাবে স্ট্যাম্পযুক্ত ও ইস্যুকৃত ধাতবদ্রব্য বাংলাদেশী মুদ্রা বলে পরিচিত হবে।

উদাহরণসমূহ :
(ক) কড়িগুলো মুদ্রা নয়।
(খ) স্ট্যাম্পবিহীন তাম্রখণ্ড অর্থরূপে ব্যবহৃত হয়ে থাকলেও মুদ্রা নয়।
(গ) পদকগুলো মুদ্রা নয়, যেহেতু উহা অর্থরূপে ব্যবহারের জন্য নির্মিত হয় নাই।
(ঘ) কোম্পানির টাকা বলে অঙ্কিত মুদ্রা রানীর মুদ্রা বলে পরিগণিত হবে।
(ঙ) ‘ফারূখাবাদ’ টাকা যা পূর্বে ভারত সরকারের ক্ষমতাধীনে অর্থরূপে ব্যবহৃত হতো – তবুও বাংলাদেশী মুদ্রা, যদিও এটা আজ অনুরূপভাবে ব্যবহৃত হয় না।

এবার ২৩১ ধারা ও ২৩২ ধারা পরপর পড়ে নিন। একসাথে আলোচনা করবো। মুদ্রা জাল বা নকল করার শাস্তির বিধান বর্ণিত আছে এই দুইটি ধারায়। পড়ুন।

“ধারা ২৩১ : মুদ্রা জালকরণ : কোন ব্যক্তি মুদ্রা জাল করলে অথবা জ্ঞাতসারে মুদ্রা জালকরণ প্রক্রিয়ার অংশ বিশেষ সম্পাদন করলে, সে ব্যক্তি সাত বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

ব্যাখ্যা : কোন ব্যক্তি প্রতারণা করার অভিপ্রায়ে, অথবা তার কাজের ফলে প্রতারণা সংঘটিত হবে জানা সত্ত্বেও, কোন খাঁটি মুদ্রাকে দেখতে অপর কোন মুদ্রার মতো করলে, সে অপরাধ করেছে বলে পরিগণিত হবে।

“ধারা ২৩২ : বাংলাদেশের মুদ্রা জালকরণ : কোন ব্যক্তি বাংলাদেশের মুদ্রা জাল করলে কিংবা জ্ঞাতসারে বাংলাদেশের মুদ্রা জাল করার কোন প্রক্রিয়ার অংশবিশেষ অনুষ্ঠান করলে সে ব্যক্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে অথবা দশ বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে এবং তদুপরি অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত হবে ।

ওপরের দুটো ধারাতেই মুদ্রা জাল বা নকল করার শাস্তির বিধান আছে। কিন্তু একটা ধারার শিরোনাম ‘মুদ্রা জালকরণ’, আর অন্যটার শিরোনাম বাংলাদেশের মুদ্রা জালকরণ’। একটু কনফিউজিং ঠেকতে পারে। আসলে স্পেসিফিকভাবে বাংলাদেশী মুদ্রা জাল করলে তার জন্য শাস্তির বিধান আছে ২৩২ ধারাতে। আর আগেরটাতে, মানে ২৩১ ধারায় বলা আছে – সাধারণভাবে কোনো মুদ্রা জাল করলে কি শাস্তি হবে তার বিধান। বাংলাদেশী মুদ্রা জাল করলে তার শাস্তি তুলনায় কঠোরতর; যাবজ্জীবন বা ১০ বছর পর্যন্ত জেল। আর বাংলাদেশী মুদ্রা ব্যতীত যদি অন্য কোনো মুদ্রা (বিদেশী মুদ্রার কথাই বলা হচ্ছে সম্ভবত) জাল বা নকল করলে ৭ বছর পর্যন্ত জেল।

এবার পরের দুইটি ধারা। ২৩৩ ও ২৩৪ ধারা। এখানেও শাস্তির বর্ণনা আছে, তবে অপরাধ সামান্য ভিন্নতর ধরনের। আগের দুইটি ধারার মতো একটাতে মুদ্রা জাল করার যন্ত্র প্রস্তুত বা বিক্রি করা প্রসঙ্গে আর অন্যটাতে বাংলাদেশের মুদ্রা জাল করার যন্ত্র প্রস্তুত বা বিক্রি সংক্রান্ত অপরাধ। আগের দুইটি ধারার সাথে মিল আছে। পড়ুন।

“ধারা ২৩৩ : মুদ্রা জাল করার যন্ত্র প্রস্তুত বা বিক্রয় করা : কোন ছাঁচ বা যন্ত্র-মুদ্রা জাল করার জন্যে ব্যবহারকল্পে, অথবা উহা মুদ্রা জাল করার জন্য ব্যবহৃত হবে বলে জানা সত্ত্বেও, অথবা উহা মুদ্রা জাল করার উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হবে বলে বিশ্বাস করার কারণ থাকা সত্ত্বেও কোন ব্যক্তি অনুরূপ কোন ছাঁচ বা যন্ত্র প্রস্তুত বা মেরামত করলে অথবা প্রস্তুত বা মেরামত প্রক্রিয়ার অংশবিশেষ সম্পাদন করলে, অথবা ক্রয়, বিক্রয় বা হস্তান্তর করলে, সে ব্যক্তি তিন বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

“ধারা ২৩৪ : বাংলাদেশের মুদ্রা জাল করার যন্ত্র প্রস্তুত বা বিক্রয় করা : বাংলাদেশের মুদ্রা জাল করার জন্য কোন ছাঁচ বা যন্ত্র ব্যবহারকল্পে অথবা বাংলাদেশের মুদ্রা জাল করার জন্য উহা ব্যবহৃত হবে বলে জানা সত্ত্বেও, অথবা উহা বাংলাদেশের মুদ্রা জাল করার উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হবে বলে বিশ্বাস করার কারণ থাকা সত্ত্বেও কোন ব্যক্তি অনুরূপ কোন ছাঁচ বা যন্ত্র প্রস্তুত বা মেরামত করলে, অথবা প্রস্তুত বা মেরামত প্রক্রিয়ার অংশ বিশেষ সম্পাদন করলে, অথবা ক্রয়, বিক্রয় বা হস্তান্তর করলে সে ব্যক্তি সাত বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

এবার ২৩৫ ধারা। আগের ৪ টি ধারা মাথায় রেখে সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে পড়ুন; মিল পাবেন।

“ধারা ২৩৫ : মুদ্রা জাল করার জন্য ব্যবহারের উদ্দেশ্যে যন্ত্র বা দ্রব্য দখলে রাখা : মুদ্রা জাল করার উদ্দেশ্যে অথবা তজ্জন্য ব্যবহৃত হবে বলে জানা সত্ত্বেও বা বিশ্বাস করার কারণ থাকা সত্ত্বেও কোন ব্যক্তি যদি কোন যন্ত্র বা দ্রব্য দখলে রাখে, তবে সে লোক তিন বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে তদুপরি অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত হবে;

বাংলাদেশী মুদ্রার ক্ষেত্রে : যে মুদ্রা জাল করার চেষ্টা করা হয়েছে, যদি তা বাংলাদেশী মুদ্রা হয়, তবে সে ব্যক্তি দশ বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

২৩৬ ধারা থেকে খুব জরুরি নয়। এই অধ্যায় থেকে যদি প্রশ্ন আসে তবে এই ২৩৫ পর্যন্ত থেকেই আসবে বা আসা উচিত হবে! :)। আর যদি ঘটনাক্রমে যদি এর পরের ধারাগুলো থেকে প্রশ্ন দিয়েই ফেলে, তবে তা পরীক্ষক বা প্রশ্নকর্তাকেই সঠিক উত্তর দিয়ে আসার জন্য রেখে আসতে পারেন! আপনি সব প্রশ্নের উত্তর পেরে গেলেতো তার আর প্রয়োজনই থাকবে না [এখানে অট্টহাসির ইমো হবে, :)]।

২৩৬ ধারা থেকে ২৫৪ ধারা পর্যন্ত সবই মুদ্রা সংক্রান্ত। এই অধ্যায়ের অপর আরেকটি বিষয় ‘সরকারি স্ট্যাম্প’ বিষয়ে ২৫৫ ধারা থেকে আলোচনা আছে। সমস্ত ধারাগুলোই এখানে তুলে দিয়ে রাখলাম। ২৫৫, ২৫৬ ও ২৫৭ খানিকটা পড়ে রাখুন, চোখ বুলিয়ে রাখুন। মুদ্রা সংক্রান্ত অপরাধের যা শাস্তি সেটার নিরিখেই স্ট্যাম্প সংক্রান্ত অপরাধের শাস্তির কথা মনে রাখুন। তাহলেই চলবে।

“ধারা ২৩৬ : বাংলাদেশের বাইরে মুদ্রা জাল করার কার্যে বাংলাদেশের মধ্যে থেকে সহায়তা করা : কোন ব্যক্তি যদি বাংলাদেশের মধ্যে থেকে বাংলাদেশের বাইরে মুদ্রা জাল করার কাজে সহায়তা বা প্ররোচনা দান করে তবে, সে ব্যক্তি বাংলাদেশের মধ্যে অনুরূপ মুদ্রা জাল করার কার্যে সহায়তা বা প্ররোচনা দান করলে যেরূপে দণ্ডিত হতো সেরূপে দণ্ডিত হবে।

“ধারা ২৩৭ : জাল মুদ্রা আমদানি কিংবা রপ্তানি : মুদ্রা জাল বলে জানা সত্ত্বেও, অথবা উহা জাল বলে তার বিশ্বাস করার কারণ থাকা সত্ত্বেও কোন ব্যক্তি যদি বাংলাদেশের মধ্যে উহা আমদানি করে অথবা তথা হতে উহা রপ্তানি করে, তবে সে ব্যক্তি তিন বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

“ধারা ২৩৮ : বাংলাদেশের জাল মুদ্রা আমদানি বা রপ্তানি : কোন জাল মুদ্রা বাংলাদেশের মুদ্রার জাল বলে জানা সত্ত্বেও, অথবা উহা বাংলাদেশের মুদ্রার জাল বলে তার বিশ্বাস করার কারণ থাকা সত্ত্বেও কোন ব্যক্তি যদি বাংলাদেশের মধ্যে উহা আমদানি করে অথবা তথা হতে উহা রপ্তানি করে, তবে সে ব্যক্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে, অথবা দশ বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে, এবং তদুপরি অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

“ধারা ২৩৯ : কোন মুদ্রা জাল বলে জানা সত্ত্বেও উহা হস্তান্তর করা : কোন ব্যক্তি যদি তার কাছে যে জাল মুদ্রা রয়েছে, তা লাভের পর উহা যে জাল তা জানা সত্ত্বেও, প্রতারণামূলকভাবে বা তা কর্তৃক প্রতারণা করার উদ্দেশ্যে উহা কোন ব্যক্তিকে হস্তান্তর করে অথবা কোন ব্যক্তিকে উহা গ্রহণে বাধ্য করার চেষ্টা করে, তবে সে ব্যক্তি পাঁচ বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে, এবং তদুপরি অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

“ধারা ২৪০ : বাংলাদেশের মুদ্রা জাল বলে জানা সত্ত্বেও দখলের পর উহা হস্তান্তর করা : কোন ব্যক্তি যদি তার কাছে বাংলাদেশের যে জাল মুদ্রা রয়েছে, তা লাভের পর উহা যে বাংলাদেশের মুদ্রার জাল তা জানা সত্ত্বেও, প্রতারণামূলকভাবে বা তদ্বারা প্রতারণা করার উদ্দেশ্যে উহা কোন ব্যক্তিকে হস্তান্তর করে বা কোন ব্যক্তিকে উহা গ্রহণে বাধ্য করার চেষ্টা করে, তবে সে ব্যক্তি দশ বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

“ধারা ২৪১ : হস্তান্তরকারী প্রথম যখন মুদ্রাটি পায়, তখন উহা জাল বলে জানে না, এমন অবস্থায় উক্ত জাল মুদ্রাকে খাঁটি মুদ্রা বলে হস্তান্তর করা : কোন ব্যক্তি যদি অন্য কোন ব্যক্তিকে এমন কোন জাল মুদ্রা খাঁটি মুদ্রা হিসেবে হস্তান্তর করে অথবা তার কোন ব্যক্তিকে খাঁটি মুদ্রা হিসেবে গ্রহণ করতে বাধ্য করার চেষ্টা করে, যা জাল বলে সে জানে, কিন্তু প্রথম যখন সে উহা পায় তখন উহাকে জাল বলে জানত না, তবে সে ব্যক্তি দুই বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা জাল মুদ্রার মূল্যের দশগুণ পর্যন্ত যেকোন পরিমাণ অর্থদণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

উদাহরণ : ক জনৈক মুদ্রা প্রস্তুতকারক। সে তার সহায়তাকারী খ-কে প্রচলন করার জন্য কোম্পানির জাল টাকা দেয়। খ টাকাগুলি অপর একজন প্রচলনকারী গ-এর কাছে বিক্রয় করে। গ টাকাগুলি যে জাল, তা জেনে শুনেই সেগুলি ক্রয় করে। গ, ঘ-এর নিকট থেকে ক্রয়কৃত পণ্যের মূল্যস্বরূপ ঘ-কে সে টাকাগুলি দেয়। টাকাগুলি যে জাল, তা না জেনেই ঘ সেগুলি গ্রহণ করে। কিন্তু গ্রহণ করার পর সে জানতে পারে যে, টাকাগুলি জাল। তথাপি টাকাগুলি যেন খাঁটি মুদ্রা, সেভাবে সে ঐগুলি হস্তান্তর করে। এই ক্ষেত্রে ঘ কেবলমাত্র এই ধারানুসারে দণ্ডিত হবে, কিন্তু খ ও গ দণ্ডিত হবে ২৩৯ বা ২৪০ ধারানুসারে – যার ক্ষেত্রে যে ধারা প্রয়োগযোগ্য।

“ধারা ২৪২ : জাল মুদ্রা পাওয়ার পর উহা জাল বলে জানা সত্ত্বেও সে ব্যক্তির কর্তৃক উহা দখলে রাখা : কোন ব্যক্তি জাল মুদ্রা পাওয়ার পর উহা মুদ্রার জাল বলে জানা সত্ত্বেও প্রতারণামূলকভাবে বা তা কর্তৃক প্রতারণা করার উদ্দেশ্যে [Whoever, fraudulently or with intent that fraud may be committed] উক্ত জাল মুদ্রা দখলে রাখলে, সে ব্যক্তি তিন বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম অথবা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

“ধারা ২৪৩ : কোন ব্যক্তি বাংলাদেশী মুদ্রা পাওয়ার পর মুদ্রাটি জাল বলে জানা সত্ত্বেও সে ব্যক্তির কর্তৃক উহা দখলে রাখা : কোন ব্যক্তি জাল মুদ্রা পাওয়ার পর উহা বাংলাদেশী মুদ্রার জাল বলে জানা সত্ত্বেও প্রতারণামূলক ভাবে বা তা কর্তৃক প্রতারণা করিবার উদ্দেশ্যে উক্ত জাল মুদ্রা দখলে রাখলে, সে ব্যক্তি সাত বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে, এবং তদুপরি অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

“ধারা ২৪৪ : টাকশালে নিযুক্ত ব্যক্তির কর্তৃক আইনে নির্দিষ্ট ওজন বা গঠন প্রণালী হতে ভিন্ন ধরনের মুদ্রা তৈরী করা বা সরবরাহ করানো : কোন ব্যক্তি যদি আইনানুগভাবে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশের টাকশালে কার্যরত থেকে উক্ত টাকশাল হতে ইস্যুকৃত মুদ্রার ওজন বা গঠন প্রণালী আইনে নির্দিষ্ট ওজন বা গঠন প্রণালী হতে ভিন্নতর করার উদ্দেশ্যে কোন কাজ করে অথবা যা সে করতে আইনানুসারে বাধ্য তা না করে, তবে সে ব্যক্তি সাত বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

“ধারা ২৪৫ : টাকশাল হতে বেআইনীভাবে মুদ্রা তৈরী করার যন্ত্র নিয়ে যাওয়া : কোন ব্যক্তি যদি আইনানুগভাবে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশের কোন টাকশাল হতে আইনে প্রদত্ত ক্ষমতা ছাড়া কোন মুদ্রা তৈরী করার হাতিয়ার বা যন্ত্র নিয়ে যায়, তবে সে ব্যক্তি সাত বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম কিংবা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

“ধারা ২৪৬ : প্রতারণামূলক ভাবে বা অসাধুভাবে মুদ্রার ওজনহ্রাস করা অথবা গঠন প্রণালী পরিবর্তন করা : কোন ব্যক্তি যদি প্রতারণামূলকভাবে বা অসাধুভাবে কোন মুদ্রার উপর এমন কোন প্রক্রিয়া সম্পাদন করে, যার দরূণ সে মুদ্রার ওজন হ্রাস পায় বা উহার গঠন প্রণালী পরিবর্তিত হয়, তবে সে ব্যক্তি তিন বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম কিংবা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবে।

ব্যাখ্যা : কোন ব্যক্তি কোন মুদ্রার অংশবিশেষ খোদাই করে এইভাবে সৃষ্ট গহ্বরে অপর কোন বস্তু স্থাপন করলে সে ব্যক্তি সে মুদ্রার গঠন প্রণালী পরিবর্তন করেছে বলে পরিগণিত হবে।

“ধারা ২৪৭ : প্রতারণামূলকভাবে বা অসাধুভাবে বাংলাদেশী মুদ্রার ওজন হ্রাস করা অথবা গঠন প্রণালী পরিবর্তন করা : কোন ব্যক্তি যদি প্রতারণামূলকভাবে বা অসাধুভাবে বাংলাদেশের কোন মুদ্রার উপর এমন কোন প্রক্রিয়া সম্পাদন করে, যার ফলে সে মুদ্রার ওজন হ্রাস পায় বা উহার গঠন প্রণালী পরিবর্তন হয়, তবে সে ব্যক্তি সাত বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম কিংবা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

“ধারা ২৪৮ : মুদ্রাটিকে যাতে ভিন্ন ধরনের মুদ্রা হিসেবে চালানো যায়, সে অভিপ্রায় উহার উহার রূপ পরিবর্তন করা : কোন ব্যক্তি যদি কোন মুদ্রার উপর কোনরূপ প্রক্রিয়া সম্পাদন কর্তৃক উহার আকার বা দৃশ্যরূপের পরিবর্তন করে এবং মুদ্রাটিকে ভিন্ন ধরনের মুদ্রা হিসেবে চালাবার অভিপ্রায়েই তা করে, তবে সে ব্যক্তি তিন বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

“ধারা ২৪৯ : বাংলাদেশী কোন মুদ্রাকে যাতে ভিন্ন ধরনের মুদ্রা হিসেবে চালানো যায়, সে অভিপ্রায়ে উহার রূপ পরিবর্তন করা : কোন ব্যক্তি যদি বাংলাদেশী কোন মুদ্রার উপর কোনরূপ প্রক্রিয়া সম্পাদন কর্তৃক উহার আকার বা দৃশ্যরূপের পরিবর্তন সাধন করে এবং মুদ্রাটিকে ভিন্ন ধরনের মুদ্রা হিসেবে চালাবার অভিপ্রায়েই তা করে, তবে সে ব্যক্তি সাত বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

“ধারা ২৫০ : মুদ্রাটি পরিবর্তন করা হয়েছে জানা থাকা সত্ত্বেও উহা হস্তান্তর : যদি কোন ব্যক্তি, যে মুদ্রা সম্পর্কে ২৪৬ বা ২৪৮ ধারায় বর্ণিত অপরাধ অনুষ্ঠিত হয়েছে, সে মুদ্রা রাখার পর, এবং যেক্ষেত্রে সে সে মুদ্রাটি পায়, সেক্ষেত্রে সে মুদ্রাটি সম্পর্কে অনুরূপ অপরাধ অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে জানা সত্ত্বেও উহা রাখার পর প্রতারণামূলকভাবে কিংবা যাতে তদ্বারা প্রতারণা সংঘটিত হতে পারে তদুদ্দেশ্যে, অনুরূপ মুদ্রা অপর কোন ব্যক্তিকে হস্তান্তর করে বা অপর কোন ব্যক্তিকে উহা গ্রহণে বাধ্য করে, তবে উক্ত ব্যক্তি পাঁচ বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

“ধারা ২৫১ : বাংলাদেশ এর কোন মুদ্রা পরিবর্তন করা হয়েছে বলে জানা সত্ত্বেও উহা হস্তান্তর : কোন ব্যক্তি যদি যে মুদ্রা সম্পর্কে ২৪৭ বা ২৪৯ ধারায় বর্ণিত অপরাধ অনুষ্ঠিত হয়েছে, সে মুদ্রা রাখার পর এবং যেক্ষেত্রে সে যে মুদ্রাটি পায়, সেক্ষেত্রে উহা রাখার পর প্রতারণামূলকভাবে অথবা যাতে তদ্বারা প্রতারণা সংঘটিত হতে পারে তদুদ্দেশ্যে, অনুরূপ মুদ্রা অপর কোন ব্যক্তিকে হস্তান্তর করে বা কোন ব্যক্তিকে উহা গ্রহণে বাধ্য করে, তবে উক্ত ব্যক্তি দশ বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

“ধারা ২৫২ : মুদ্রাটি পাওয়ার পর উহা পরিবর্তিত হয়েছে জানা সত্ত্বেও কোন ব্যক্তি দ্বারা উক্ত মুদ্রা দখলে রাখা : কোন ব্যক্তি যদি প্রতারণামূলকভাবে অথবা যাতে প্রতারণা সংঘটিত হতে পারে তদুদ্দেশ্যে, এমন কোন মুদ্রা দখলে রাখে, যা সম্পর্কে ২৪৬ কিংবা ২৪৮ ধারা দুইটির যেকোন একটিতে উল্লেখিত অপরাধ অনুষ্ঠিত হয়েছে, এবং যেক্ষেত্রে সে, সে মুদ্রাটি পায় সেক্ষেত্রে সে মুদ্রাটি সম্পর্কে অনুরূপ অপরাধ অনুষ্ঠিত হয়েছে জানা সত্ত্বেও উহা রাখে, তবে সে ব্যক্তি তিন বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থদেণ্ডও দণ্ডিত হবে।

“ধারা ২৫৩ : বাংলাদেশ এর কোন মুদ্রা পাওয়ার পর, উহা পরিবর্তিত হয়েছে বলে জানা কোন ব্যক্তি কর্তৃক উক্ত মুদ্রা দখলে রাখা : কোন ব্যক্তি যদি প্রতারণামূলকভাবে অথবা যাতে প্রতারণা সংঘটিত হতে পারে তদুদ্দেশ্যে, এমন কোন মুদ্রা রাখে, যা সম্পর্কে ২৪৭ অথবা ২৪৯ ধারা দুইটির যেকোন একটিতে উল্লেখিত অপরাধ অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং যেক্ষেত্রে সে সে মুদ্রাটি পায়, সেক্ষেত্রে সে মুদ্রাটি সম্পর্কে অনুরূপ অপরাধ অনুষ্ঠিত হয়েছে জানা সত্ত্বেও উহা রাখে, তবে সে ব্যক্তি পাঁচ বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে।

“ধারা ২৫৪ : হস্তান্তরকারী বা প্রদানকারী প্রথম যখন মুদ্রাটি পেয়েছিল তখন উহা পরিবর্তিত বলে জানত না এমতাবস্থায় তৎকর্তৃক খাঁটি মুদ্রারূপে উক্ত মুদ্রা হস্তান্তর করা : যে মুদ্রার উপর ২৪৬, ২৪৭, ২৪৮ বা ২৪৯ ধারায় বর্ণিত কোন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে, কিন্তু কোন ব্যক্তি সে মুদ্রাটি যখন প্রথম লাভ করে তখন সে মুদ্রার উপর যে উক্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে তা সে জানত না, এমন অবস্থায় সে মুদ্রাটি পাওয়ার পর যদি সে ব্যক্তি উক্ত মুদ্রাটি অপর কোন ব্যক্তিকে খাঁটি মুদ্রারূপে বা সে মুদ্রার মূল্য যা, তার চেয়ে ভিন্ন মূল্যের মুদ্রারূপে প্রদান করে অথবা অপর কোন ব্যক্তিকে সে মুদ্রাটি খাঁটি মুদ্রারূপে বা সে মুদ্রার মূল্য যা তার চেয়ে ভিন্ন মূল্যের মুদ্রারূপে গ্রহণ করতে বাধ্য করে, তবে উক্ত ব্যক্তি দুই বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা যে মুদ্রারূপে পরিবর্তিত মুদ্রাটি চালানো হয় বা চালাবার চেষ্টা করা হয়, সে মুদ্রার দশগুণের সমান মূল্য পর্যন্ত যেকোন পরিমাণ অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবে।

“ধারা ২৫৫ : সরকারি স্ট্যাম্প জাল করণ : কোন ব্যক্তি যদি সরকার দ্বারা রাজস্বের উদ্দেশ্যে প্রবর্তিত কোন স্ট্যাম্প জাল করে বা জ্ঞাতসারে অনুরূপ কোন স্ট্যাম্প জাল করার প্রক্রিয়ার অংশ বিশেষ সম্পাদন করে, তবে সে ব্যক্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে অথবা দশ বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তাকে অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

ব্যাখ্যা : এক মূল্যের খাঁটি স্ট্যাম্পকে কোন ব্যক্তি যদি দেখতে অপর মূল্যের খাঁটি স্ট্যাম্পের মত করে নেয়, তবে সে ব্যক্তি এই অপরাধ অনুষ্ঠান করে বলে পরিগণিত হবে।

“ধারা ২৫৫ ক : যেক্ষেত্রে অনুরূপ বিধান নাই সে ক্ষেত্রে সরকারি কর্মচারী কর্তৃক গ্রেফতার না করা অথবা পলায়নে সম্মতি দেওয়া : কোন সরকারি কর্মচারী যদি সরকারি কর্মচারী হিসেবে আইনত কোন ব্যক্তিকে এমন কোন ব্যাপারে গ্রেফতার করতে বা আটক করতে বাধ্য হওয়া সত্ত্বেও সে ব্যক্তিকে গ্রেফতার না করে বা তাকে আটক হতে পলায়ন করতে দেয়, যে ব্যাপারটি সম্পর্কে ২২১ ধারায়, ২২২ ধারায় বা ২২৩ ধারায় অথবা হাজির সময়ে বলবৎ অপর কোন আইনে কোন বিধান করা হয় নাই, তবে উক্ত সরকারি কর্মচারী নিম্নোক্তরূপে দণ্ডিত হবে:

(ক) যদি সে ইচ্ছাকৃতভাবে অপরাধটি করে তবে তাকে তিন বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা অর্থদণ্ডে অথবা উভয়বিদ দণ্ডেই দণ্ডিত করা হবে, এবং

(খ) যদি সে অবহেলাক্রমে অপরাধটি করে, তবে তাকে দুই বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত করা হবে।

“ধারা ২৫৬ : সরকারি স্ট্যাম্প জাল করার জন্য যন্ত্রপাতি বা সামগ্রী দখলে রাখা : সরকার দ্বারা রাজস্বের উদ্দেশ্যে প্রবর্তিত কোন স্ট্যাম্প জাল করার উদ্দেশ্যে ব্যবহার করার জন্য, অথবা অনুরূপ স্ট্যাম্প জাল করার উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হবে বলে জানা সত্ত্বেও বা বিশ্বাস করার কারণ থাকা সত্ত্বেও কোন ব্যক্তি কোন যন্ত্রপাতি বা দ্রব্যসামগ্রী তার দখলে রাখে, তবে সে ব্যক্তি সাত বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

“ধারা ২৫৭ : সরকারি স্ট্যাম্প জাল কবিবার জন্য যন্ত্রপাতি প্রস্তুত করা অথবা বিক্রয় করা : সরকার দ্বারা রাজস্বের উদ্দেশ্যে প্রবর্তিত কোন স্ট্যাম্প জাল করার উদ্দেশ্যে ব্যবহার করার জন্য, অথবা অনুরূপ কোন স্ট্যাম্প জাল করার উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হবে বলে জানা সত্ত্বেও বা বিশ্বাস করার কারণ থাকা সত্ত্বেও, কোন ব্যক্তি যদি কোন যন্ত্রপাতি প্রস্তুত করে বা প্রস্তুত প্রণালীর যেকোন অংশ সম্পাদন করে অথবা অনুরূপ কোন যন্ত্রপাতি ক্রয়ে, বিক্রয় বা বিলি ব্যবস্থা করে, তবে সে ব্যক্তি সাত বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

“ধারা ২৫৮ : জাল সরকারি স্ট্যাম্প বিক্রয় করা : কোন ব্যক্তি যদি সরকার দ্বারা রাজস্বের উদ্দেশ্যে প্রবর্তিত কোন স্ট্যাম্প জাল করে বিক্রয় করে বা বিক্রয়ার্থে বাজারে ছাড়ে, যা জাল বলে সে জানে বা তাহার বিশ্বাস করার কারণ রয়েছে, তবে সে ব্যক্তি সাত বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

“ধারা ২৫৯ : জাল সরকারি স্ট্যাম্প দখলে রাখা : কোন ব্যক্তি যদি এমন কোন স্ট্যাম্প দখলে রাখে, যা সরকার দ্বারা রাজস্বের উদ্দেশ্যে প্রবর্তিত স্ট্যাম্পের জাল বলে সে জানে এবং সে ব্যক্তি উহাকে একটি খাঁটি স্ট্যাম্প হিসেবে ব্যবহারের জন্য বা বিলি ব্যবস্থার জন্য রাখে অথবা যাতে উহা খাঁটি স্ট্যাম্পরূপে ব্যবহৃত হতে পারে তদুদ্দেশ্যেই দখলে রাখে, তবে সে ব্যক্তি সাত বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

“ধারা ২৬০ : কোন সরকারি স্ট্যাম্প জাল বলে জানা সত্ত্বেও উহা প্রকৃত বলে ব্যবহার করা : কোন ব্যক্তি যদি কোন স্ট্যাম্প সরকার দ্বারা রজস্বের উদ্দেশ্যে প্রবর্তিত স্ট্যাম্পের জাল বলে জানা সত্ত্বেও উহাকে প্রকৃত স্ট্যাম্পরূপে ব্যবহার করে, তবে সে ব্যক্তি সাত বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম কিংবা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা অর্থদণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

“ধারা ২৬১ : সরকারের ক্ষতিসাধনকল্পে সরকারি স্ট্যাম্পযুক্ত বস্তু হতে লেখা মুছে ফেলা, কিংবা কোন দলিল হতে দলিলটির জন্য ব্যবহৃত স্ট্যাম্প অপসারণ করা : কোন ব্যক্তি যদি প্রতারণামূলকভাবে বা সরকারের ক্ষতিসাধনকল্পে সরকার দ্বারা রাজস্বের উদ্দেশ্যে প্রবর্তিত স্ট্যাম্পযুক্ত কোন বস্তু হতে যে লেখা বা দলিলের জন্য স্ট্যাম্পটি ব্যবহৃত হয়েছে তা মুছে ফেলে, অথবা কোন লেখা বা দলিল হতে সে লেখা বা দলিলের জন্য ব্যবহৃত কোন স্ট্যাম্প অপসারণ করে, যাতে সে স্ট্যাম্পটি ভিন্ন কোন লেখা বা দলিলের জন্য ব্যবহার করা যায়, তবে উক্ত ব্যক্তি তিন বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা অর্থদণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

“ধারা ২৬২ : কোন স্ট্যাম্প পূর্বে ব্যবহৃত হয়েছে জানা সত্ত্বেও উহা ব্যবহার করা : কোন ব্যক্তি যদি সরকার দ্বারা রাজস্বের উদ্দেশ্যে প্রবর্তিত কোন স্ট্যাম্প ইতোপূর্বে ব্যবহৃত হয়েছে বলে জানা সত্ত্বেও প্রতারণামূলকভাবে বা সরকারের ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে কোন অভিপ্রায়ে সে স্ট্যাম্প ব্যবহার করে, তবে সে ব্যক্তি দুই বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা অর্থদণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

“ধারা ২৬৩ : স্ট্যাম্প ব্যবহৃত হওয়ার প্রমাণস্বরূপ প্রদত্ত চিহ্ন মুছে ফেলা : কোন ব্যক্তি যদি প্রতারণামূলকভাবে বা সরকারের ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে, সরকার দ্বারা রাজস্বের জন্য প্রবর্তিত কোন স্ট্যাম্প হতে সে স্ট্যাম্পটি যে ব্যবহৃত হয়েছে তার প্রমাণস্বরূপ প্রদত্ত অনুরূপ চিহ্ন মুছে বা অপসারণ করে ফেলে, অপসারণ করে, অথবা অনুরূপ যে স্ট্যাম্প হতে অনুরূপ চিহ্ন মুছে বা অপসারণ করে ফেলা হয়েছে জ্ঞাতসারে তা রাখে বা বিক্রয় করে বা বিলি-ব্যবস্থা করে, তবে সে ব্যক্তি তিন বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা অর্থদণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

“ধারা ২৬৩ ক : ভুয়া স্ট্যাম্পসমূহ নিষিদ্ধকরণ : (১) যদি কোন ব্যক্তি-

(ক) কোন জাল স্ট্যাম্প তৈরি করে, বা জ্ঞাতসারে প্রস্তুত করে বা অনুরূপ স্ট্যাম্পের ব্যবসা করে বা উহা বিক্রয় করে, অথবা কোন ডাক ব্যবস্থার উদ্দেশ্যে কোন জাল স্ট্যাম্প

(খ) কোন আইনসম্মত কারণ ব্যতীত তার কাছে কোন জাল স্ট্যাম্প রাখে, অথবা

(গ) কোন জাল স্ট্যাম্প প্রস্তুত করার জন্য কোন ছাঁচ, প্লেট, যন্ত্রপাতি বা দ্রব্যসামগ্রী প্রস্তুত করে, বা আইনসম্মত অজুহাত ব্যতীত তার কাছে অনুরূপ কোন ছাঁচ, প্লেট, যন্ত্রপাতি বা দ্রব্যসামগ্রী রাখে, তবে সে ব্যক্তি দুইশত টাকা পর্যন্ত যেকোন পরিমাণ অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবে।

(২) কোন ব্যক্তির কাছে অনুরূপ কোন স্ট্যাম্প বা জাল স্ট্যাম্প প্রস্তুত করার জন্য রক্ষিত কোন ছাঁচ, প্লেট, যন্ত্রপ্রাতি বা দ্রব্যসামগ্রী পাওয়া গেলে তা আটক ও বাজেয়াপ্ত করা যাবে।

(৩) এই ধারায় ‘ভূয়া স্ট্যাম্প’ বলতে, মিথ্যাভাবে সরকার দ্বারা কোন ডাক মাশুলের হার নির্দেশের উদ্দেশ্যে প্রবর্তিত বলে ব্যবহৃত স্ট্যাম্প, অথবা কাগজ বা অপর কিছুর উপর সরকার দ্বারা তদুদ্দেশ্যে প্রবর্তিত কোন স্ট্যাম্পের অবিকল প্রতিলিপি অনুকরণ বা প্রতিকৃতি বুঝাবে।

(৪) এই ধারায় এবং ২৫৫ হতে ২৬৩ পর্যন্ত ধারাসমূহে (উভয় ধারা অন্তর্ভূক্ত) ডাক মাশুলের হার নির্দেশের উদ্দেশ্যে প্রবর্তিত স্ট্যাম্প প্রসঙ্গে বা অনুরূপ স্ট্যাম্পের আনুষঙ্গিক বিষয় প্রসঙ্গে ব্যবহৃত ‘সরকার’ কথাটি কর্তৃক ১৭ ধারায় যা কিছুই বর্ণিত হয়ে থাকুক না কেন, তা সত্ত্বেও বাংলাদেশের কোন অংশ এবং মহারাণীর ডমিনিয়ন সমূহের কোন অংশে বা বৈদেশিক রাষ্ট্রের কোন অংশের শাসনকার্য পরিচালনার জন্য আইনানুসারে ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে বা ব্যক্তিদিগকেও বুঝাবে।



/9
24

5 minutes 24 seconds


Penal Code [230-263]

এখানে দণ্ডবিধির ২৩০-২৬৩ ধারাসমূহ নিয়ে এমসিকিউ টেস্ট আছে। সংশ্লিষ্ট ধারাগুলো পড়ে নিয়ে এটি অনুশীলন করুন।

এখানে আপনার নাম ও ফোন নাম্বার লিখুন। ইমেইলটি লেখা বাধ্যতামূলক নয়; তবে, ইমেইল এড্রেস দিলে আপনার ইমেইলে বিস্তারিত ফলাফল চলে যাবে।

1 / 9

প্রতারণার উদ্দেশ্যে নিজের দখলে কোনো জাল মুদ্রা রাখলে তার সর্বোচ্চ শাস্তি কী?

2 / 9

বাংলাদেশের কোনো মুদ্রা জাল করণের অংশবিশেষ সম্পাদন করলে তার সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে নিচের কোনটি সঠিক?

3 / 9

সরকারি স্ট্যাম্প জালকরণের শাস্তি নিচের কোনটি হতে পারে?

4 / 9

সরকারি স্ট্যাম্প জালকরণের শাস্তি বিষয়ক ধারা নিচের কোনটি?

5 / 9

দণ্ডবিধি অনুযায়ী সাধারণভাবে মুদ্রা জাল করার শাস্তি নিচের কোনটি?

6 / 9

দণ্ডবিধিতে বর্ণিত কোন অপরাধটি বিশেষ ক্ষমতা আইনেও বর্ণিত আছে?

7 / 9

সরকারি স্ট্যাম্প জালকরণের অপরাধ সম্পর্কে দণ্ডবিধির কোন ধারায় বলা আছে?

8 / 9

আপনি কোনো একটি লেনদেনের পর তার ভেতরে একটি জাল মুদ্রা দেখতে পেলেন। আপনি সেটি প্রতারণামূলকভাবে অন্য কোনো লেনদেনে ব্যবহার করার জন্য সেটি রেখে দিলেন। আপনার অপরাধটি দণ্ডবিধির কত ধারায় দণ্ডনীয়?

9 / 9

মুদ্রার সংজ্ঞা দণ্ডবিধির কত ধারার বিষয়বস্তু?

Your score is

0%



বিগত এমসিকিউ সাফল্য

Registered [2017 & 2020 MCQ]

Passed Students [2017 & 2020 MCQ]

Registered [MCQ Exam of 2021]