ঘরে বসেই লাইভ ভিডিওতে
প্রতি মাসে মাত্র ৮০০/- টাকায়

MCQ পরীক্ষার প্রস্তুতি!

ভর্তি হতে কল করুন : 01712-908561

Penal Code Lecture 18 [Sec. 463-498]

এখানে দণ্ডবিধিতে বর্ণিত ট্রেডমার্ক, বিবাহ ইত্যাদি সম্পর্কিত অপরধসমূহ নিয়ে আলোচনা আছে। উক্ত আলোচনা ৪৬৩ থেকে ৪৯৮ ধারা পর্যন্ত বিস্তৃত। 

Penal Code : Lecture 18

Of Offences Relating to Documents and to Trade or Property Marks : দলিলপত্র এবং ট্রেডমার্ক বা সম্পত্তির প্রতীকচিহ্ন সম্পর্কিত অপরাধসমূহ প্রসঙ্গে

ম্যাপিং : আমাদের এবারের আলোচনা ১৮ নং অধ্যায় যার শিরোনাম দলিলপত্র এবং ট্রেডমার্ক বা সম্পত্তির প্রতীকচিহ্ন সম্পর্কিত অপরাধসমূহ প্রসঙ্গে বা Of Offences Relating to Documents and to Trade or Property Marks। এই অধ্যায়ের বিস্তৃতি মূলত ৪৬৩ থেকে ৪৮৯ ঙ পর্যন্ত। এই অধ্যায়ের মূল ফোকাস জালিয়াতি বিষয়ে। এর সাথে আমরা দণ্ডবিধির ২০ অধ্যায় যার বিস্তৃতি ৪৯৩ থেকে ৪৯৮ ধারা – এটাও একই সঙ্গে পড়ে নেবো। ২০ অধ্যায়ের শিরোনাম বিবাহ সংক্রান্ত অপরাধসমূহ প্রসঙ্গে বা Of Offences Relating to Marriage। এই দুইটি অংশ থেকেই ১টি করে প্রশ্ন এসেছিলো।

মূল আলোচনা :

প্রথমেই ৪৬৩ ধারা, যা সরাসরি জালিয়াতি’র সংজ্ঞা আলোচনা করেছে। মিথ্যা দলিল বা দলিলের অংশবিশেষ প্রণয়ন এর কাজই হলো জালিয়াতি; তবে এর উদ্দেশ্য থাকা বাঞ্ছনীয়কারো ক্ষতিসাধন, কারো সম্পত্তি দাবি করা, প্রতারণা করা ইত্যাদি উদ্দেশ্য থাকতে পারে। সংজ্ঞাটা ভেঙ্গে ভেঙ্গে পড়ুন। পরিচ্ছন্ন, বোধগম্য সংজ্ঞা। এর পরের ধারাটি [৪৬৪ ধারা] মিথ্যা দলিল তৈরি করা বিষয়ে। মিথ্যা দলিল তৈরি করাটা জালিয়াতিরই সবচে গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ৪৬৪ ধারাটি অনেক বিস্তৃত পরিসরে আলোচনা করা আছে। এই ধারাটি মনোযোগ দিয়ে পড়ার অনুরোধ রইলো। মাথায় গেঁথে নিন ধারণাগুলো।

“ধারা ৪৬৩ : জালিয়াতি : কোন ব্যক্তি যদি জনসাধারণের কিংবা কোন ব্যক্তিবিশেষের ক্ষতিসাধনের জন্য অথবা কোন দাবি বা স্বত্ব প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে অথবা কোন ব্যক্তিকে তার সম্পত্তি ত্যাগে বাধ্য করার উদ্দেশ্যে অথবা কোন প্রকাশ্য বা অনুক্ত চুক্তি সম্পাদনের উদ্দেশ্যে অথবা কোন প্রতারণা করার উদ্দেশ্যে বা যাতে প্রতারণা সংঘটিত হতে পারে এইরূপ অভিপ্রায়ে, কোন মিথ্যা দলিল কিংবা দলিলের অংশবিশেষ প্রণয়ন করে [Whoever makes any false document or part of a document], তবে উক্ত ব্যক্তি জালিয়াতি করেছে বলে পরিগণিত হবে।

“ধারা ৪৬৪ : মিথ্যা দলিল তৈয়ার করা : নিম্নোক্ত ক্ষেত্রে কোন ব্যক্তি মিথ্যা দলিল তৈয়ার করেছে বলে পরিগণিত হয়-

প্রথমত : যদি কোন ব্যক্তি, যে ব্যক্তি দ্বারা যার প্রদত্ত ক্ষমতা বলে কোন দলিল কিংবা উহার অংশবিশেষ প্রণীত, স্বাক্ষরিত, সীলমোহরযুক্ত বা সম্পাদিত হয় নাই বা যে সময়ে উক্ত দলিল বা উহার অংশবিশেষ প্রণীত, স্বাক্ষরিত, সীলমোহরযুক্ত বা সম্পাদিত হয় নাই বলে সে জানে, অথবা সে দলিলটি বা উহার অংশবিশেষ সে ব্যক্তি দ্বারা বা তৎপ্রদত্ত ক্ষমতা বলে কিংবা সে সময়ে প্রণীত স্বাক্ষরিত, সীলমোহরযুক্ত কিংবা সম্পাদিত হয়েছে বলে বিশ্বাস জন্মাইবার উদ্দেশ্যে অসাধুভাবে বা প্রতারণামূলকভাবে এইরূপ দলিল বা অংশবিশেষ প্রণয়ন, স্বাক্ষর, সীলমোহরযুক্ত বা সম্পাদন করে অথবা দলিলটি সম্পাদিত হয়েছে বলে বুঝাবার জন্য কোন চিহ্ন বা প্রতীক স্থাপন করে; অথবা

দ্বিতীয়ত : কোন দলিল তৎকর্তৃক বা অন্য কোন ব্যক্তি দ্বারা সম্পাদিত হওয়ার পরে কোনরূপ আইনসম্মত ছাড়াই অসাধুভাবে অথবা প্রতারণামূলক ভাবে, বাতিলকরণের মাধ্যমে বা অপর কোন উপায়ে দলিলের কোন গুরুত্বপূর্ণ অংশে পরিবর্তন করে; দলিলটি যদি অপরাধী দ্বারা সম্পাদিত না হয়ে অপর কোন ব্যক্তি দ্বারা সম্পাদিত হয়ে থাকে, তবে এইরূপ পরিবর্তনের সময়ে সে ব্যক্তি জীবিত থাকুক অথবা পরলোকগত হোক তাতে অপরাধের কোনরূপ তারতম্য হবে না; অথবা

তৃতীয়ত : কোন ব্যক্তি যদি অসাধুভাবে বা প্রতারণামূলকভাবে এমন কোন ব্যক্তিকে দিয়ে কোন দলিল স্বাক্ষরিত, সীলমোহরযুক্ত সম্পাদিত কিংবা পরিবর্তিত করায় যে ব্যক্তি মানসিক অপ্রকৃতিস্থতা কিংবা প্রমত্ততার কারণে অথবা তাকে যেভাবে প্রতারণা করা হয়েছে তার ফলে উক্ত দলিলটির বিষয়বস্তু বা পরিবর্তনের প্রকৃতি সম্পর্কে অবহিত নয় বলে সে জানে।

উদাহরণসমূহ :
(ক) ক চ-কে দিয়ে খ-এর প্রতিপক্ষে ১০,০০০ টাকার জন্য একটি লেটার অব ক্রেডিট লিখে নিয়ে পরে ক খ-কে ঠকাবার উদ্দেশ্যে, ১০,০০০-টাকার সাথে একটি শূন্য যোগ করে উহাকে ১,০০,০০০ টাকা করে নেয়, এই অভিপ্রায়ে যে, খ বিশ্বাস করবে যে, চ ঐরূপ লিখেছে। ক জালিয়াতি করেছে।

(খ) ক চ-এর অনুমতি ব্যতীত একটি দলিলে চ-এর সীলমোহর অঙ্কিত করে। দলিলটি-এর কোন সম্পত্তি ক-এর কাছে হস্তান্তর সম্পর্কিত। ক-এর উদ্দেশ্য, এইভাবে চ এর অনুমতি ব্যতীত দলিলটিতে চ-সীলমোহর অঙ্কিত করে সম্পত্তিটি সে খ-এর কাছে বিক্রয় করে অর্থলাভ করবে। ক জালিয়াতি করেছে।

(গ) ক জনৈক ব্যাঙ্কারের নামে খ দ্বারা স্বাক্ষরিত একটি বাহককে প্রদেয় চেক পায়। চেকটিতে কোন পরিমাণ উল্লেখ নাই। ক প্রবঞ্চনামূলক ভাবে চেকটিতে দশ হাজার টাকা লিখে উহা পূরণ করে নেয়। ক জালিয়াতি করেছে।

(ঘ) ক জনৈক ব্যাঙ্কারের নামে একটি চেক স্বাক্ষর করে উহা তার এজেন্ট খ-এর কাছে রেখে যায়। চেকটিতে টাকার পরিমাণ উল্লেখ নাই। ক – ঋণ পরিশোধের উদ্দেশ্যে খ-কে চেকটিতে অনধিক দশ হাজার টাকা লিখে উহা পূরণ করার ক্ষমতা দেয়। খ প্রতারণামূলকভাবে চেকটিতে বিশ হাজার টাকা লিখে উহা পূরণ করে নেয়। খ জালিয়াতি করেছে

(ঙ) ক খ-এর সম্মতি ব্যতীত খ-এর নামে নিজের বরাবরে একটি বিল অব একচেঞ্জ সম্পাদনা করে। ক-এর উদ্দেশ্য, সে উহাকে একটি প্রকৃত বিল হিসাবে ব্যাঙ্কারের কাছে উপস্থাপন করবে এবং উহা পরিণত হওয়ার পর অর্থ গ্রহণ করবে। এখানে যেহেতু ব্যাঙ্কারকে খ-এর জামানত পেয়েছে বলে বিশ্বাস করা বা প্রতারিত করার উদ্দেশ্যে ক বিলটি সম্পাদন করেছে সেহেত ক-জালিয়াতির দায়ে অপরাধী হবে। 

(চ) চ-এর দানপত্রে এই কথাগুলি লিপিবদ্ধ রয়েছে- আমি নির্দেশ করছি যে আমার সমুদয় অবশিষ্ট সম্পত্তি ক খ ও গ-এর মধ্যে সমান ভাগে ভাগ করে দিতে হবে। ক অসাধুভাবে খ-এর নাম কেটে দেয়। তার উদ্দেশ্য সমুদয় সম্পত্তি কেবল তার ও গ-এর প্রাপ্য বলে বিশ্বাস সৃষ্টি করা। ক জালিয়াতি করেছে।

(ছ) ক একটি গভর্নমেন্ট প্রমিসর নোট অনুমোদন করে বিলটির উপর চ কিংবা তার আদিষ্ট ব্যক্তিকে দেওয়া হোক লিখে উহা চ-কে কিংবা তার আদেশ মতে প্রদেয় বলে উল্লেখ করে ও তার পৃষ্ঠাঙ্কন স্বাক্ষর করে। খ অসাধুভাবে চ কিংবা তার আদিষ্ট ব্যক্তিকে দেওয়া হোক কথাগুলি মুছে দিয়ে বিশেষ পৃষ্ঠাঙ্কনকে একটি অনির্দিষ্ট পৃষ্ঠাঙ্কনে রূপান্তরিত করে। খ জালিয়াতি করেছে।

(জ) ক একটি সম্পত্তি বিক্রয় করে উহা চ-কে অর্পণ করে । ক পরে চ-কে তার সম্পত্তি হতে বঞ্চিত করার উদ্দেশ্যে সে একই সম্পত্তি খ-এর কাছে হস্তান্তর সম্পর্কে একটি দলিল প্রণয়ন করে। তার উদ্দেশ্য চ-কে প্রদানের ছয় মাস আগেই সম্পত্তিটি খ-কে প্রদান করা হয়েছে এইরূপ বিশ্বাস সৃষ্টি করা। ক জালিয়াতি করেছে।

(ঝ) চ-একটি দানপত্র ক-কে লিখতে বলে। চ যে উত্তরাধিকারীর নাম করে ক ইচ্ছাকৃতভাবে তার নাম না লিখে অপর কোন উত্তরাধিকারীর নাম লিখে এবং সে চ-এর নির্দেশমত দানপত্রটি লিখেছে বলে চ-কে বিশ্বাস করে চ-কে দানপত্রে স্বাক্ষন দান করতে প্রবৃত্ত করে। ক জালিয়াতি করেছে।

(ঞ) ক একটি পত্র লিখে উহাতে খ-এর অনুমোদন ব্যতীত খ-এর নাম স্বাক্ষর করে। পত্রটিতে সাফাই দেওয়া হয়েছে যে, ক একজন চরিত্রবান ব্যক্তি এবং বর্তমানে দুরবস্থায় পড়েছে। ক-এর এইরূপ সাফাইপত্রের উদ্দেশ্য চ ও অন্যান্যের নিকট থেকে ভিক্ষা লাভ । এখানে যেহেতু ক চ-কে সম্পত্তি ত্যাগে প্রবৃত্ত করার উদ্দেশ্যে একটি মিথ্যা দলিল সম্পাদনা করেছে সেহেত ক জালিয়াতি করেছে।

(ট) ক খ-এর অনুমোদন ব্যতীত একটি পত্র লিখে উহাতে খ-এর নাম স্বাক্ষর করে। পত্রটিতে ক-এর সচ্চরিত্রের সাফাই দেওয়া হয়েছে। ক-এর এইরূপ সাফাই পত্রের উদ্দেশ্য চ-এর আওতায় চাকুরি লাভ। এখানে ক জাল প্রশংসাপত্র কর্তৃক চ-কে প্রতারিত করার ও তার সাথে নিয়োগচুক্তি সম্পাদনে প্রবৃত্ত করার অভিসন্ধি করেছে; সুতরাং ক জালিয়াতি করেছে।

ব্যাখ্যা ১ : কোন ব্যক্তির নিজের নাম, স্বাক্ষরও জালিয়াতির সামিল হতে পারে।

উদাহরণসমূহ :
(ক) ক একটি বিল অব এক্সচেঞ্জে নিজের নাম স্বাক্ষর করে। তার উদ্দেশ্য, বিলটিতে নিজের নাম স্বাক্ষর করে উহা একই নামের অপর একজন ব্যক্তি কর্তৃক সম্পাদিত হয়েছে বলে বিশ্বাস সৃষ্টি করবে। ক জালিয়াতি করেছে।

(খ) ক একটি কাগজের উপর গ্রহণ করলাম কথাটি লিখে উহাতে চ-এর নাম স্বাক্ষর করে। তার উদ্দেশ্য খ পরে উহাতে চ-এর বরাবর খ দ্বারা সম্পাদিত একটি বিল অব এক্সচেঞ্জ লিখবে এবং চ বিলটি গ্রহণ করেছে এই ভিত্তিতে বিলটি নিয়ে কাজ পরিচালনা জানা সত্ত্বেও ক-এর অভিসন্ধি অনুসারে কাগজটির উপরে বিল সম্পাদন করে তবে খ-ও জালিয়াতির অপরাধে দোষী হবে।

(গ) ক তার নামের অপর কোন ব্যক্তির আদেশ মতে প্রদেয় একটি বিল অব এক্সচেঞ্জ পায়। ক বিলটি তার নিজের নামে পৃষ্ঠাঙ্কন করে। বিলটি যে ব্যক্তির আদেশ মতে প্রদেয়, উহা সে ব্যক্তি দ্বারা পৃষ্ঠাঙ্কিত হয়েছে বলে বিশ্বাস সৃষ্টি করাই তার উদ্দেশ্য। এক্ষেত্রে ক জালিয়াতি করেছে।

(ঘ) খ-এর বিরুদ্ধে একটি ডিক্রি জারীর দরুণ বিক্রিত একটি সম্পত্তি ক নিলামে ক্রয় করে। সম্পত্তিটি আটক হওয়ার পর, খ চ-এর সহযোগে ষড়যন্ত্র করে সম্পত্তিটি নামমাত্র খাজনায় চ-কে দীর্ঘ মেয়াদের জন্য ইজারা দানমূলে একটি ইজারা বন্দোবস্ত সম্পাদন করে এবং ইহার তারিখ নির্দেশ করে সম্পত্তিটি আটকের ছয় মাস পূর্বে। সম্পত্তিটি আটকের ছয় মাস আগেই ইজারা সম্পাদিত হয়েছিল বলে বিশ্বাস সৃষ্টি করে ক-কে বঞ্চিত করাই খ-এর উদ্দেশ্য। খ নিজের নামে ইজারা বন্দোবস্তটি সম্পাদিত করলেও ছয় মাস পূর্বে তারিখ নির্দেশ করে জালিয়াতি করেছে।

(ঙ) ক একজন ব্যবসায়ী। দেউলিয়া সাব্যস্ত হবে অনুমান করে ক-এর নিজের স্বার্থে ও পাওনাদারদের পাওনা বঞ্চিত করার উদ্দেশ্যে, খ-এর কাছে নিজের মালপত্র গচ্ছিত রাখে। একটি লেনদেনের বাস্তব ভিত্তি প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে ক খ-কে মূল্য প্রাপ্তির বিনিময়ে অর্থদানের অঙ্গীকারমূলে একটি প্রমিসর নোট লিখে এবং ক দেউলিয়া অবস্থায় পৌছার পূর্বে নোটটি লিখেছে বলে বিশ্বাস সৃষ্টির উদ্দেশ্যে নোটটিতে লিখার পূর্ববর্তী তারিখ নির্দেশ করা হয়। ক সংজ্ঞায় উল্লেখিত প্রথম দফা মোতাবেক জালিয়াতি করেছে।

ব্যাখ্যা : কোন প্রকৃত ব্যক্তি দ্বারা সম্পাদিত হয়েছে বলে বিশ্বাস জন্মাবার অভিপ্রায়ে কাল্পনিক কোন ব্যক্তির নামে দলিল সম্পাদন অথবা কোন মৃত ব্যক্তি জীবদ্দশায় সম্পাদিত করেছিল বলে বিশ্বাস জন্মাবার অভিপ্রায়ে সে মৃত ব্যক্তির নামে দলিল সম্পাদন জালিয়াতি বলে গণ্য হবে।

উদাহরণ :
ক কাল্পনিক কোন ব্যক্তির নামে একটি বিল অব এক্সচেঞ্জ প্রণয়ন করে প্রতারণামূলকভাবে অনুরূপ কাল্পনিক ব্যক্তির নামে বিলটির ভিত্তিতে কাজ সম্পাদনের উদ্দেশ্যে উহা গ্রহণ করে। ক জালিয়াতি করেছে।

এবার ধারা ৪৬৫। এখানে জালিয়াতির সাজা। সাধারণভাবে জালিয়াতির সাজা সর্বোচ্চ ২ বছরের কারাদণ্ড। আর এর পরের ধারাগুলোতে বিস্তারিতভাবে অন্যান্য বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে জালিয়াতিতে কি ধরনের শাস্তি হবে তার বর্ণনা আছে। প্রতারণা করার উদ্দেশ্যে জালিয়াতি [৪৬৮ ধারা], মানহানি করার উদ্দেশ্যে জালিয়াতি [৪৬৯ ধারা], জাল দলিলের সংজ্ঞা [৪৭০ ধারা] এবং জাল দলিলকে আসল হিসেবে ব্যবহার করার শাস্তি [৪৭১ ধারা] – এই কয়টি ধারা মনোযোগের সাথে পড়ুন। মুখস্থ রাখুন। ৪৮৯ পর্যন্ত আর কিছু পড়ার দরকার নেই। এরপরে চলে যাবো বিবাহ সংক্রান্ত অপরাধসমূহ প্রসঙ্গে অর্থাৎ ৪৯৩ ধারায়।

“ধারা ৪৬৫ : জালিয়াতির সাজা : কোন ব্যক্তি যদি জালিয়াতি করে, তবে উক্ত ব্যক্তি দুই বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা অর্থদণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

“ধারা ৪৬৬ : আদালতের নথি বা সরকারি রেজিস্টার ইত্যাদি জালকরণ : কোন ব্যক্তি যদি এমন একটি দলিল জাল করে যা কোন বিচারালয়ের নথি অথবা প্রসিডিং কিংবা কোন বিচারালয়ে উত্থাপিত নথি বা প্রসিডিং বলে অথবা কোন জন্ম, খ্রিস্টানদের ধর্মীয় অনুষ্ঠান, বিবাহ কিংবা সমাধিকরণের রেজিস্টার বলে অথবা কোন সরকারি কর্মচারী কর্তক সরকারি কর্মচারী হিসেবে রক্ষিত রেজিস্টার বলে অথবা কোন সরকারি কর্মচারী দ্বারা তার সরকারি পদ মর্যাদা বলে কৃত সার্টিফিকেট বা দলিল বলে, অথবা কোন মামলা দায়ের করার বা উহাতে পক্ষ সমর্থনের কিংবা উহাতে কোন কার্যক্রম গ্রহণের রায় মানার কিংবা পাওয়ার অব এটর্নী বলে প্রতিভাত হয়, তবে উক্ত ব্যক্তি সাত বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম কিংবা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

“ধারা ৪৬৭ : মূল্যবান জামানত, উইল ইত্যাদি জালকরণ : কোন ব্যক্তি যদি এমন দলিল জাল করে যা একটি মূল্যবান জামানত কিংবা একটি উইল কিংবা কোন পোষ্যপুত্র গ্রহণের ক্ষমতাপত্র বলে প্রতিভাত হয়, অথবা যাতে কোন ব্যক্তিকে কোন মূল্যবান জামানত সম্পাদনের অথবা হস্তান্তরের কিংবা উহার উপরে আসল, সুদ বা লভ্যাংশ গ্রহণের, কিংবা কোন অর্থ, অস্থাবর সম্পত্তি, বা মূল্যবান জামানত গ্রহণের বা প্রদানের ক্ষমতা অর্পণ করা হয়েছে বলে প্রতিভাত হয়, অথবা তা এমন একটি দলিল বলে প্রতিভাত হয়, যা অর্থ পরিশোধের পূর্ণপ্রাপ্ত রসিদ বা স্বীকৃতি রসিদ কিংবা অস্থাবর সম্পত্তি বা মূল্যবান জামানতের পূর্ণপ্রাপ্তি রসিদ বা হস্তান্তর রসিদ বলে পরিগণিত দলিল, তবে উক্ত ব্যক্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে, অথবা দশ বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে, এবং তদুপরি অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

“ধারা ৪৬৮ : প্রতারণা করার উদ্দেশ্যে জালিয়াতি : কোন ব্যক্তি যদি প্রতারণা করার উদ্দেশ্যে জাল দলিল ব্যবহারকল্পে জালিয়াতি করে, তবে উক্ত ব্যক্তি সাত বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

“ধারা ৪৬৯ : মানহানি করার উদ্দেশ্যে জালিয়াতি : কোন ব্যক্তি যদি জাল দলিল কর্তৃক কারো মানহানি করার উদ্দেশ্যে জালিয়াতি করে, অথবা জাল দলিলটি তদুদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হতে পারে বলে জানা সত্ত্বেও জালিয়াতি করে, তবে উক্ত ব্যক্তি তিন বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে।

“ধারা ৪৭০ : জাল দলিল : সম্পূর্ণ কিংবা আংশিক জালিয়াতির কর্তৃক কৃত যে কোন মিথ্যা দলিলকে জাল দলিল বলে পরিগণিত করা হয়।

“ধারা ৪৭১ : কোন জাল দলিলকে খাঁটি হিসাবে ব্যবহার করা : কোন ব্যক্তি যদি প্রতারণামূলক ভাবে বা অসাধুভাবে এমন একটি দলিলকে খাঁটি দলিল হিসাবে ব্যবহার করে, যে দলিলটি একটি জাল দলিল বলে সে জানে বা তার বিশ্বাস করার কারণ রয়েছে, তবে সে ব্যক্তি যেন সে নিজে দলিলটি জাল করেছে, এমনভাবে দণ্ডিত হবে।

অন্যান্য ধারাগুলো যেগুলো পড়ার দরকার নেই, সেগুলো এই লেকচারের শেষে তুলে দেয়া থাকলো।



বিবাহ সংক্রান্ত অপরাধসমূহ প্রসঙ্গে [Of Offences Relating to Marriage]

সমাজে বিয়ে সম্পর্কিত নানা ধরনের অপরাধ হতে দেখা যায়। এটা দণ্ডবিধির ২০ তম অধ্যায়ের আলোচনা যা ৪৯৩ থেকে ৪৯৮ ধারা পর্যন্ত বিস্তৃত। শুরুতেই ৪৯৩ ধারা। সরাসরি ধারাটি পড়ি।

“ধারা ৪৯৩ : কোন ব্যক্তি দ্বারা প্রতারণামূলকভাবে আইনসম্মত বিবাহের বিশ্বাসে প্ররোচিত করে স্বামী-স্ত্রীরূপে সহবাস করা : কোন ব্যক্তি যদি যে নারী তার সাথে আইন সম্মত ভাবে বিবাহিত নয় সে নারীকে প্রতারণামূলকভাবে বিশ্বাস করায় যে, সে নারী তার সাথে আইনসম্মতভাবে বিবাহিত এবং সে নারীকে এই বিশ্বাসের বশবর্তী হয়ে তার সাথে সহবাসে বা যৌন সঙ্গমে প্রবৃত্ত করে, তবে উক্ত ব্যক্তি দশ বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

অর্থাৎ প্রতারণামূলকভাবে কাউকে স্ত্রী হিসেবে বিশ্বাস করিয়ে তার সাথে যৌন সঙ্গম করলে উক্ত ব্যক্তির শাস্তি হবে ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড। এরপরের ৪৯৪ ধারায় বলা হচ্ছে – স্বামী বা স্ত্রীর জীবদ্দশায় অন্য কোনো বিয়ে করলে এবং তা অবৈধ হলে (অনেক সময় স্বামী বেঁচে আছে, কিন্তু ৭ বছরের অধিককাল যদি বাড়ীতে ফিরে না এসে থাকে, তবে উক্ত স্ত্রী স্বামী বেঁচে থাকলেও অন্য বিয়ে করতে পারে – এটা বৈধ) তা অপরাধ হবে, যার শাস্তি সর্বোচ্চ ৭ বছর। এতো গেলো ৪৯৪ ধারার বিষয়বস্তু। ৪৯৫ ধারায় এর আরো দিক নিয়ে আলোকপাত করা আছে! যদি দ্বিতীয় বিয়ে করার সময় নতুন স্বামী বা স্ত্রীকে পূর্ববর্তী বিয়ের কথা না বলা হয় তাহলেও তা অপরাধ। এর শাস্তি আরেকটু বেশি; সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত হতে পারে। ৪৯৪ ও ৪৯৫ ধারা দুইটি পড়ে নিন। এরপর ৪৯৭ ধারাটি গুরুত্বপূর্ণ।

“ধারা ৪৯৪ : স্বামী বা স্ত্রীর জীবদ্দশায় পুনরায় বিবাহ করা : কোন ব্যক্তি যদি এক স্বামী বা এক স্ত্রী জীবিত থাকা সত্ত্বেও এমন কোন পরিস্থতিতে বিবাহ করে, যে পরিস্থিতিতে স্বামী বা স্ত্রী জীবিত থাকা অবস্থায় সংঘটিত বলে অনুরূপ বিষয়টি অবৈধ হয়েছে, তবে উক্ত ব্যক্তি সাত বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

ব্যতিক্রম : অনুরূপ স্বামী বা স্ত্রীর সাথে যে ব্যক্তির বিবাহ কোন উপযুক্ত আদালত দ্বারা নাকচ বলে ঘোষণা করা হয়েছে, সে ব্যক্তির ক্ষেত্রে এই ধারাটি প্রয়োগযোগ্য হবে না। কিংবা যে প্রাক্তন স্বামী বা স্ত্রীর জীবদ্দশায় বিবাহ সংঘটিত হচ্ছে, বিবাহের সময় পর্যন্ত যে প্রাক্তন স্বামী বা স্ত্রী যদি পূর্ববর্তী সাত বৎসর পর্যন্ত ক্রমাগত পরবর্তী বিবাহ অনুষ্ঠানকারীর নিকট থেকে অনুপস্থিত থেকে থাকে এবং সে সাত বৎসর যাবৎ অনুরূপ প্রাক্তন স্বামী বা স্ত্রী জীবিত রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি না শুনে থাকে তবে তার ক্ষেত্রে এই ধারা প্রয়োগযোগ্য হবে না; তবে পরবর্তী বিবাহকালে বিবাহ অনুষ্ঠানকারী ব্যক্তি যার সাথে তার বিবাহ হচ্ছে তাকে বিবাহ সংঘটিত হওয়ার পূর্বে তার জ্ঞাত সকল ঘটনা সংক্রান্ত প্রকৃত পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত করতে হবে।

“ধারা ৪৯৫ : যে ব্যক্তির সঙ্গে পরবর্তী বিবাহের চুক্তি সম্পাদিত হয় তার কাছে পূর্ববর্তী বিবাহের তথ্য গোপন রেখে উক্ত অপরাধ সংঘটন : কোন ব্যক্তি যদি পরবর্তী বিবাহের চুক্তি যার সাথে সম্পাদিত করা হল তার নিকট থেকে পূর্ববর্তী বিবাহ সম্পর্কিত তথ্য গোপন রেখে পূর্ববর্তী সর্বশেষ ধারায় উল্লেখিত অপরাধ সংঘটন করে, তবে উক্ত ব্যক্তি দশ বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

“ধারা ৪৯৬ : আইনসম্মত বিবাহ সম্পাদন ছাড়াই প্রতারণামূলকভাবে বিবাহ অনুষ্ঠান সম্পন্ন করা : কোন ব্যক্তি যদি অসাধুভাবে বা প্রতারণামূলক উদ্দেশ্য নিয়ে সে আইনত বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হচ্ছে না জানা সত্ত্বেও বিবাহের অনুষ্ঠান সম্পন্ন করে, তবে উক্ত ব্যক্তি সাত বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

ব্যভিচার নিয়ে ৪৯৭ ধারাটি পড়ে নেন ভেঙ্গে ভেঙ্গে।

“ধারা ৪৯৭ : ব্যভিচার : কোন ব্যক্তি যদি অপর কোন ব্যক্তির স্ত্রী অথবা যাকে সে অন্য কোন ব্যক্তির স্ত্রী বলে জানে বা তার অনুরূপ বিশ্বাস করার কারণ আছে এমন কোন ব্যক্তির সাথে উক্ত অন্য ব্যক্তির সম্মতি ও সমর্থন ছাড়া এইরূপ যৌন সঙ্গম করে যা নারী ধর্ষণের সামিল নয় [such sexual intercourse not amounting to the offence of rape], তবে সে ব্যক্তি ব্যভিচারের অপরাধের জন্য দোষী হবে এবং তাকে পাঁচ বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা অর্থদণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত করা যাবে। অনুরূপ ক্ষেত্রে স্ত্রী ব্যক্তিটি দুষ্কর্মের সহায়তাকারী হিসেবে দণ্ডিত হবে না।

মনে রাখবেন – এমন ধরনের যৌন সঙ্গম যা ধর্ষণের সামিল নয়। অর্থাৎ তাতে নারীটির সম্মতি থাকতে পারে। তবে নারীটি দুষ্কর্মের সহায়তাকারী হিসেবে দণ্ডিত হবেন না। অর্থাৎ এটার দ্বারা শুধুমাত্র পুরুষটিই অপরাধী হবেন। আর আরেকটা ইন্টারেস্টিং ব্যাপার খেয়াল করে দেখুন, আইনে লেখা আছে – ‘ … উক্ত অন্য ব্যক্তির সম্মতি ও সমর্থন ছাড়া এইরূপ যৌন সঙ্গম … ’। তার মানে কি এই যে, উক্ত অন্য ব্যক্তি অর্থাৎ যিনি কিনা ঐ নারীর স্বামী, তার ‘সম্মতি ও সমর্থন’ মাঝে মাঝে থাকতেও পারে?!! মজার কিন্তু! আর কোনো আলোচনা নেই। বিদায় বেলায় ব্যভিচারের ৫ বছরের সর্বোচ্চ শাস্তির কথা ভুলবেন না।

“ধারা ৪৯৮ : কোন বিবাহিত নারীকে অপরাধমূলক উদ্দেশ্যে প্রলুব্ধ করা বা অপহরণ বা আটক করা : কোন ব্যক্তি যদি যে নারী অপর পুরুষের সাথে বিবাহিত এবং তা সে জানে বা তার অনুরূপ বিশ্বাস করার কারণ রয়েছে, এইরূপ নারীকে কোন ব্যক্তির সাথে অবৈধ যৌনসঙ্গম করার উদ্দেশ্যে বিবাহিত পুরুষের নিকট থেকে বা সে পুরুষের স্বপক্ষে অপর যে ব্যক্তি সে নারীর তত্ত্বাবধায়ক সে ব্যক্তির নিকট থেকে অপহরণ বা প্রলুব্ধ করে নিয়ে যায়, বা অনুরূপ কোন নারীকে উপযুক্ত উদ্দেশ্যে গোপন বা আটক করে, তবে সে ব্যক্তি দুই বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা অর্থদণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।



অবশিষ্ট ধারাসমূহ :

“ধারা ৪৭২ : ৪৬৭ ধারার আওতায় দণ্ডনীয় জালিয়াতি করার উদ্দেশ্যে মেকি মোহর ইত্যাদি নির্মাণ বা দখল : কোন ব্যক্তি যদি ছাপ অঙ্কন করার জন্য কোন সীলমোহর, ফলক বা অপর কোন যন্ত্র এইরূপ অভিপ্রায়ে প্রস্তুত বা নকল করে যে, উহা এই বিধির ৪৬৭ ধারার আওতায় দণ্ডনীয় যেকোন জালিয়াতি করার জন্য ব্যবহার করা হবে কিংবা অনুরূপ কোন সীলমোহর, ফলক বা অপর কোন যন্ত্র মেকি বলে জেনে অনুরূপ উদ্দেশ্যে নিজের দখলে রাখে, তবে সে ব্যক্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে বা যেকোন বর্ণনার কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হবে, যার মেয়াদ সাত বৎসর পর্যন্ত হতে পারে এবং তদুপরি অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হবে।

“ধারা ৪৭৩ : প্রকারান্তরে দণ্ডনীয় জালিয়াতি সংঘটনের উদ্দেশ্যে জাল সীলমোহর ইত্যাদি নির্মাণ বা দখল : কোন ব্যক্তি যদি ছাপ অঙ্কন করার জন্য কোন সীলমোহর, ফলক বা অন্যবিধ যন্ত্র এইরূপ অভিপ্রায়ে প্রস্তুত বা নকল করে যে উহা ৪৬৭ ধারা ছাড়া এই অধ্যায়ের যেকোন ধারার আওতায় দণ্ডনীয় কোন জালিয়াতি অনুষ্ঠানের জন্য ব্যবহৃত হবে অথবা অনুরূপ উদ্দেশ্যে অনুরূপ যেকোন সীলমোহর ফলক বা অন্যবিধ যন্ত্র, উহা জাল বলে জেনেও দখলে রাখে, তবে সে ব্যক্তি সাত বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

“ধারা ৪৭৪ : ৪৬৬ বা ৪৬৭ ধারায় উল্লেখিত একটি দলিল জাল জেনেও উহাকে খাঁটি বলে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে নিজের দখলে : কোন ব্যক্তি যদি দলিল জাল করা হয়েছে বলে জানা সত্ত্বেও, এবং কোন ব্যক্তি যদি কোন দলিলকে খাঁটি দলিল হিসাবে প্রতারণামূলকভাবে বা অসাধুভাবে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে উহা নিজের দখলে রাখে, তবে দলিলটি যদি এই বিধির ৪৬৬ ধারায় বর্ণিত বর্ণনারূপ হয়, তবে উক্ত ব্যক্তি সাত বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত হবে। এবং দলিলটি যদি ৪৬৭ ধারায় বর্ণিত বর্ণনানুরূপ একটি দলিল হয়, তবে উক্ত ব্যক্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে অথবা সাত বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

“ধারা ৪৭৫ : ৪৬৭ ধারায় উল্লেখিত দলিলপত্র সঠিক বলে প্রতিপাদনের জন্য ব্যবহৃত নকশা বা চিহ্ন নকল করা বা মেকি চিহ্নবিশিষ্ট দ্রব্য নিজের দখলে রাখা : কোন ব্যক্তি যদি এই বিধির ৪৬৭ ধারায় উল্লেখিত কোন দলিল সঠিক বলে প্রতিপাদনের উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত কোন দ্রব্য, নকশা বা চিহ্নকে বা উহার উপাদান মেকী করে এবং তখন অনুরূপ দ্রব্যের উপরে নকলকৃত বা তার পরে অনুরূপ দ্রব্যের উপরে নকলকৃত কোন দলিলকে প্রমাণিকৃত বলে প্রতীয়মান করার উদ্দেশ্যে অনুরূপ নকশা বা চিহ্ন ব্যবহার করার অভিপ্রায়ে যদি তা করে, অথবা কোন ব্যক্তি যদি অনুরূপ অভিপ্রায়ে যে দ্রব্যের উপরে বা যে দ্রব্যের উপাদানে অনুরূপ কোন নকশা বা চিহ্ন নকল করা হয়েছে, সে দ্রব্য তার দখলে রাখে, তবে সে ব্যক্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে অথবা সাত বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

“ধারা ৪৭৬ : ৪৬৭ ধারায় উল্লেখিত দলিলপত্র ছাড়া অপর দলিলপত্র সঠিক বলে প্রতিপাদনের উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত নকশা বা চিহ্ন নকল করা বা মেকি চিহ্নবিশিষ্ট দ্রব্য নিজের দখলে রাখা : কোন ব্যক্তি যদি এই বিধির ৪৬৭ ধারায় উল্লেখিত দলিল ছাড়া অপর কোন দলিল সঠিক বলে প্রতিপাদনের উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত কোন দ্রব্য, নকশা বা চিহ্নকে বা উহার উপাদন মেকী করে এবং তখন অনুরূপ দ্রব্যের উপরে নকলকৃত বা তার পরে অনুরূপ দ্রব্যের উপরে নকলকৃত কোন দলিলকে প্রমাণিকৃত বলে প্রতীয়মান করার উদ্দেশ্যে অনুরূপ নকশা বা চিহ্ন ব্যবহার করার অভিপ্রায়েই তা করে, অথবা কোন ব্যক্তি যদি অনুরূপ অভিপ্রায়ে যে দ্রব্যের বা যে দ্রব্যের উপাদানে অনুরূপ কোন নকশা বা চিহ্ন নকল করা হয়েছে, সে দ্রব্য তার দখলে রাখে, তবে উক্ত ব্যক্তি সাত বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

“ধারা ৪৭৭ : উইল, দত্তক গ্রহণের অনুমতিপত্র বা কোন মূল্যবান জামানত প্রতারণামূলক ভাবে বাতিল বা বিনষ্ট করা : কোন ব্যক্তি যদি প্রতারণামূলক ভাবে বা অসাধুভাবে অথবা জনসাধারণের বা কোন ব্যক্তিবিশেষের ক্ষতি বা অনিষ্ট সাধন করার উদ্দেশ্যে এমন কোন দলিল বিনষ্ট বা বিকৃত করার চেষ্টা করে অথবা গোপন করে বা গোপন করার চেষ্টা করে, যে দলিল একটি উইল বা দত্তকপুত্র গ্রহণের অনুমতিপত্র বা মূল্যবান জামানতরুপে পরিগণিত অথবা কোন ব্যক্তি যদি অনুরূপ কোন দলিলের ব্যাপারে অনিষ্টসাধন করে, তবে উক্ত ব্যক্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে অথবা সাত বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

“ধারা ৪৭৭ ক : হিসাবপত্র সমূহে মিথ্যা বর্ণনা প্রদান : কোন ব্যক্তি যদি কর্মচারী, কর্মকর্তা বা চাকর হয়ে অথবা কর্মচারী, কর্মকর্তা বা চাকরের পদে নিযুক্ত বা কাজ নির্বাহক হয়ে নিয়োগকর্তার স্বত্বাধীন বা তার নিয়োগকর্তার দখলভূক্তবা নিয়োগ কর্তার স্বপক্ষে তৎকর্তৃক প্রাপ্ত কোন বহি, কাগজ, লেখা, মূল্যবান জামানত বা হিসাবপত্র ইচ্ছাকৃতভাবে ও প্রবঞ্চনার উদ্দেশ্যে বিনষ্ট করে, পরিবর্তন করে, বিকৃত করে বা মিথ্যা বিবরণ সম্বলিত করে, অথবা ইচ্ছাকৃতভাবে ও প্রবঞ্চনার উদ্দেশ্যে, অনুরূপ কোন বহি, কাগজ, লেখা মূল্যবান জামানত বা হিসাবপত্রে কোন মিথ্যা কথা লিপিবদ্ধ করে বা তা করার ব্যাপারে সাহায্য করে কিংবা অনুরূপ বহি, কাগজ লেখা, মূল্যবান জামানত বা হিসাবপত্র বা তৎসমৃদয় হতে কোন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বাদ দেয় বা পরিবর্তন করে কিংবা বাদ দেওয়ার বা পরিবর্তন করার কার্যে সাহায্য করে, তবে উক্ত ব্যক্তি সাত বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা অর্থদণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

ব্যাখ্যা : এই ধারা বলে কোন অভিযোগ প্রবঞ্চনার সাধারণ অভিপ্রায় আরোপ যথেষ্ট হবে; যে ব্যক্তিকে প্রবঞ্চনা করার অভিসন্ধি করা হয়েছিল, তার নামলেখ বা যে পরিমাণ অর্থের ব্যাপারে প্রবঞ্চনা করার অভিসন্ধি করা হয়েছিল, তার পরিমাণ নির্দেশ, অথবা যে বিশেষ দিনে অপরাধটি করা হয়, সে বিশেষ দিনের উল্লেখ না করলেও চলবে।

বাণিজ্য, সম্পত্তি ও অন্যান্য চিহ্ন সম্পর্কিত [Of Trade, Property and Other Marks]

“ধারা ৪৭৮ : পণ্য-প্রতীক : কোন পণ্যদ্রব্য, কোন বিশেষ ব্যক্তির প্রস্তুত পণ্যদ্রব্য বা ব্যবসায়ের পণ্য বলে নির্দেশ করার জন্য ব্যবহৃত চিহ্ন বা মার্কাকে পণ্য-প্রতীক বলে। এবং এই বিধির উদ্দেশ্যে ‘পণ্য-প্রতীক’ কথাটির কর্তৃক ১৮৮৩ সালের পেটেন্টস, ডিজাইনস ও ট্রেড মার্কস আইন মোতাবেক রক্ষিত পণ্য-প্রতীক রেজিস্টারে রেজিষ্ট্রিকৃত যে কোন পণ্য-প্রতীক বুঝাবে এবং রেজিষ্ট্রেশনসহ বা রেজিষ্ট্রেশন ব্যতীত বর্তমানে রাষ্ট্র প্রধানের আদেশ বলে ব্রিটিশ সাম্রাজের কোন অংশে বা বৈদেশিক রাষ্ট্রে যেখানে ১৮৮৩ সালের পেটেন্টস, ডিজাইনস ও ট্রেড মার্কস আইনের ১০৩ ধারা প্রয়োগযোগ্য, সেখানে আইনে সংরক্ষিত যে কোন পণ্য-প্রতীকও বুঝাবে।

“ধারা ৪৭৯ : সম্পত্তি চিহ্ন : কোন অস্থাবর সম্পত্তি কোন বিশেষ ব্যক্তির স্বত্বাধীন বলে বুঝাবার জন্য ব্যবহৃত চিহ্নকে সম্পত্তি চিহ্ন বলে।

“ধারা ৪৮০ : মিথ্যা পণ্য-প্রতীক ব্যবহার করা : কোন ব্যক্তি যদি কোন দ্রব্যের কিংবা কোন দ্রব্যসম্বলিত বাক্সে, প্যাকেজ বা অন্যরূপ আধারে এমনভাবে চিহ্ন অঙ্কন করে, অথবা চিহ্নিত কোন দ্রব্যসম্বলিত বাক্স, প্যাকেজ বা অনুরূপ আধারে ব্যবহার করে, যাতে অনুরূপভাবে চিহ্নিত দ্রব্য বা অনুরূপভাবে চিহ্নিত আধারের দ্রব্য এমন কোন ব্যক্তির প্রস্তুত দ্রব্য বা ব্যবসায় পণ্য বলে ন্যায়সংগতভাবে বিশ্বাস সৃষ্টি হয়, অনুরূপ দ্রব্য প্রকৃত প্রস্তাবে যার দ্রব্য বা ব্যবসায় পণ্য নয়, তবে উক্ত ব্যক্তি মিথ্যা পণ্য-প্রতীক ব্যবহার করেছে বলে পরিগণিত হয় ।

“ধারা ৪৮১ : মিথ্যা সম্পত্তি চিহ্ন ব্যবহার করা : কোন ব্যক্তি যদি কোন অস্থাবর সম্পত্তিতে বা দ্রব্যে কিংবা কোন অস্থাবর সম্পত্তি সম্বলিত বা দ্রব্যসম্বলিত বাক্সে, প্যাকেজে বা অন্যরূপ আধারে এমনভাবে চিহ্ন অঙ্কন করে অথবা এমনভাবে চিহ্নিত কোন অস্থাবর সম্পত্তি সম্বলিত বা দ্রব্য সম্বলিত কোন বাক্স, প্যাকেজ বা অন্যরূপ আধার ব্যবহার করে যাতে অনুরূপে চিহ্নিত অস্থাবর সম্পত্তি বা দ্রব্য কিংবা অনুরূপ চিহ্নিত আধারে অস্থাবর সম্পত্তি বা দ্রব্য এমন কোন ব্যক্তির অস্থাবর সম্পত্তি বা দ্রব্য বলে ন্যায়সংগতভাবে বিশ্বাস সৃষ্টি হয়, অস্থাবর সম্পত্তিটি বা দ্রব্যটি প্রকৃত প্রস্তাবে যার নয়, তবে উক্ত ব্যক্তি মিথ্যা সম্পত্তি চিহ্ন ব্যবহার করেছে বলে পরিগণিত হয়।

“ধারা ৪৮২ : মিথ্যা পণ্য-প্রতীক বা সম্পত্তি চিহ্ন ব্যবহার করার সাজা : কোন ব্যক্তি যদি মিথ্যা পণ্য-প্রতীক বা কোন মিথ্যা সম্পত্তি চিহ্ন ব্যবহার করে, তবে যদি না সে প্রমাণ করতে পারে যে, প্রবঞ্চনার উদ্দেশ্য ছাড়া সে অনুরূপ কাজ করেছে, তবে উক্ত ব্যক্তি এক বৎসর গড়ে যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা অর্থদণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

“ধারা ৪৮৩ : অপর কোন ব্যক্তি দ্বারা ব্যবহৃত পণ্য-প্রতীক বা সম্পত্তির চিহ্ন নকল করা : কোন ব্যক্তি যদি অন্য কোন ব্যক্তি কর্তৃক ব্যবহৃত কোন পণ্য-প্রতীক বা সম্পত্তির চিহ্ন নকল করে, তবে উক্ত ব্যক্তি দুই বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা অর্থদণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

“ধারা ৪৮৪ : কোন সরকারি কর্মচারী দ্বারা ব্যবহৃত মার্ক বা চিহ্ন নকল করা : কোন ব্যক্তি যদি কোন সরকারি কর্মচারী দ্বারা ব্যবহৃত সম্পত্তির চিহ্ন নকল করে, বা কোন সরকারি কর্মচারী দ্বারা ব্যবহৃত এমন কোন চিহ্ন নকল করে যা কোন বিশেষ সম্পত্তি কোন বিশেষ ব্যক্তি কর্তৃক বা কোন বিশেষ স্থানে বা কোন বিশেষ সময়ে প্রস্তুত হয়েছে জেনে, কিংবা সম্পত্তিটি কোন বিশেষ গুণসম্পন্ন বলে বা কোন বিশেষ দফতর হতে পাস হয়ে এসেছে বলে কিংবা সম্পত্তিটি কোন অব্যহতির অধিকারী বলে বুঝার জন্য ব্যবহার করা হয়, অথবা অনুরূপ কোন চিহ্ন নকল করে জানা সত্ত্বেও উহা খাঁটি বলে ব্যবহার করে, তবে উক্ত ব্যক্তি তিন বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

“ধারা ৪৮৫ : পণ্য-প্রতীক বা সম্পত্তির চিহ্ন নকল করার যন্ত্র প্রস্তুত করা বা দখলে রাখা : কোন ব্যক্তি যদি কোন পণ্য-প্রতীক বা সম্পত্তির চিহ্ন নকল করার উদ্দেশ্যে কোন ছাঁচ, পাত বা অন্যকোন যন্ত্র প্রস্তুত করে বা দখলে রাখে, অথবা কোন দ্রব্য যে ব্যক্তির প্রস্তুত দ্রব্য বা ব্যবসায় পণ্য নয়, সে দ্রব্য সে ব্যক্তির প্রস্তুত দ্রব্য বা ব্যবসায় পণ্য বলে নির্দেশ করার কিংবা কোন দ্রব্য যে ব্যক্তির নয়, ইহা সে ব্যক্তির বলে নির্দেশ করার উদ্দেশ্যে তার দখলে কোন পণ্য-প্রতীক বা সম্পত্তির চিহ্ন রাখে, তবে উক্ত ব্যক্তি তিন বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা অর্থদণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

“ধারা ৪৮৬ : নকল পণ্য-প্রতীক বা সম্পত্তির চিহ্নযুক্ত পণ্য বিক্রয় করা : কোন ব্যক্তি যদি কোন নকল পণ্য-প্রতীক বা সম্পত্তির চিহ্নযুক্ত কোন পণ্য বা দ্রব্য অথবা অনুরূপ দ্রব্য সম্বলিত নকল পণ্য-প্রতীক বা সম্পত্তির চিহ্নযুক্ত কোন বাক্স, প্যাকেট বা অন্যকোন আধার বিক্রয় করে, উন্মুক্ত করে বা বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে বা অপর কোনরূপ ব্যবসায়ের বা প্রস্তুত করণের উদ্দেশ্যে নিজের দখলে রাখে, তবে যদি না সে প্রমাণ করতে পারে যে-

(ক) এই ধারায় উল্লেখিত অপরাধ অনুষ্ঠানের বিরুদ্ধে সর্বপ্রকার ন্যায়সঙ্গত অফিসার সে অবলম্বন করেছিল এবং অভিযুক্ত অপরাধটি অনুষ্ঠানের সময় মাকাটির বা চিহ্নটির সত্যতা সম্বন্ধে তার সন্দেহ করার কোন কারণ ছিল না, এবং

(খ) প্রসিকিউটর দ্বারা বা তার স্বপক্ষে উত্থাপিত দাবিক্রমে সে যে ব্যক্তিদের নিকট থেকে অনুরূপ পণ্য বা দ্রব্য লাভ করেছে, তার সাধ্যমত সে ব্যক্তিদের সম্বন্ধে জ্ঞাত সকল তথ্য প্রদান করেছে, অথবা

(গ) সে কাজটি নির্দোষভাবে সম্পাদন করেছে, তবে উক্ত ব্যক্তি এক বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা অর্থদণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

“ধারা ৪৮৭ : পণ্য সম্বলিত কোন পাত্রের চিহ্ন অঙ্কন : যদি কোন ব্যক্তি কোন দ্রব্য বা পণ্য সম্বলিত বাক্সে, প্যাকেজে বা অন্য কোন পাত্রের উপর এমন ভাবে কোন মিথ্যা চিহ্ন অঙ্কন করে, যার ফলে কোন সরকারি কর্মচারী বা অপর কোন ব্যক্তি ন্যায়সঙ্গতভাবে উহাতে যে দ্রব্য নাই, সে দ্রব্য রয়েছে বলে অথবা উহাতে যে দ্রব্য রয়েছে, সে দ্রব্য নাই বলে অথবা উক্ত পাত্রে অবস্থিত দ্রব্যটি বস্তুত যে গুণবিশিষ্ট বা প্রকৃতিবিশিষ্ট, উহাকে তা হতে ভিন্ন গুণবিশিষ্ট বা প্রকৃতি- বিশিষ্ট বলে বিশ্বাস করতে প্রবৃত্ত হয়, তবে যদি না সে প্রমাণ করতে পারে যে, কোনরূপ প্রবঞ্চনার উদ্দেশ্য ছাড়া সে কাজটি করেছে, তবে উক্ত ব্যক্তি তিন বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা অর্থদণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

“ধারা ৪৮৮ : অনুরূপ যেকোন মিথ্যা চিহ্ন ব্যবহারের সাজা : কোন ব্যক্তি যদি অনুরূপ কোন মার্ক বা চিহ্ন উপযুক্ত ধারার নিষিদ্ধ কোন পদ্ধতিতে ব্যবহার করে, তবে-যদি না সে প্রমাণ করতে পারে যে, কোনরূপ প্রবঞ্চনার উদ্দেশ্য ছাড়া কাজটি করেছে, তবে উক্ত ব্যক্তি যেন উপযুক্ত ধারাটি অনুসারে অপরাধ করেছে এমনভাবে দণ্ডিত হবে।

“ধারা ৪৮৯ : ক্ষতি সাধন করার উদ্দেশ্যে সম্পত্তির চিহ্নে হস্তক্ষেপ করা : কোন ব্যক্তি যদি কারো ক্ষতি সাধন করার উদ্দেশ্যে, অথবা কারো ক্ষতি সাধিত হতে পারে বলে জানা সত্ত্বেও কোন সম্পত্তির চিহ্ন অপসারণ করে, বিনষ্ট করে, বিকৃত করে বা উহাতে কিছু যোগ করে, তবে উক্ত ব্যক্তি এক বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা অর্থদণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

পত্রমুদ্রা এবং ব্যাংক নোট প্রসঙ্গে [Of Currency-Notes and Bank-Notes]

“ধারা ৪৮৯ ক : পত্রমুদ্রা বা ব্যাংক নোট নকল করা : কোন ব্যক্তি যদি কোন পত্রমুদ্রা বা ব্যাংক নোট নকল করে বা উহা নকল করার প্রক্রিয়ার যে কোন অংশ সম্পাদন করে, তবে উক্ত ব্যক্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে, অথবা দশ বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

ব্যাখ্যা : এই ধারার এবং ৪৮৯ খ, ৪৮৯ গ ও ৪৮৯ ঘ ধারার উদ্দেশ্যে ব্যাংক নোট বলতে বিশ্বের যেকোন অংশে ব্যাংকিং ব্যবসায়রত কোন ব্যক্তি দ্বারা প্রবর্তিত এবং দাবিমাত্র বাহককে অর্থ প্রদানের প্রতিশ্র“তি যুক্ত কোন প্রমিসর নোট বা অঙ্গীকার পত্র অথবা কোন রাষ্ট্র বা সার্বভৌম শক্তি দ্বারা কিংবা তৎপ্রদত্ত ক্ষমতাবলে প্রবর্তিত এবং অর্থের সমতুল্য বা অর্থের বিকল্প হিসাবে ব্যবহারের জন্য উদ্দীষ্ট কোন প্রমিসর নোট বা অঙ্গীকারপত্র বুঝাবে।

“ধারা ৪৮৯ খ : নকল বা মেকী পত্রমুদ্রা বা ব্যাংক নোট খাঁটি বলে ব্যবহার করা : কোন ব্যক্তি যদি কোন পত্রমুদ্রা বা ব্যাংক নোট নকল বা মেকী বলে জানা সত্ত্বেও বা উহা তদ্রুপ বলে তার বিশ্বাস করার কারণ থাকা সত্ত্বেও, কোন নকল বা মেকী পত্রমুদ্রা বা ব্যাংক নোট অপর কোন ব্যক্তির কাছে বিক্রয় করে বা অপর কোন ব্যক্তির নিকট থেকে ক্রয় বা গ্রহণ করে কিংবা অপর কোনভাবে উহাকে খাঁটি বলে ব্যবহার করে বা লেনদেন করে, তবে-উক্ত ব্যক্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে অথবা দশ বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

“ধারা ৪৮৯ গ : নকল বা মেকী পত্রমুদ্রা বা ব্যাংক নোট দখলে রাখা : কোন ব্যক্তি যদি কোন পত্রমুদ্রা বা ব্যাংক নোট জাল বা মেকী বলে জানা সত্ত্বেও বা উহা তদ্রপ বলে তার বিশ্বাস করার কারণ থাকা সত্ত্বেও এবং উহা খাঁটি বলে চালানোর উদ্দেশ্যে বা উহা যাতে খাঁটি বলে চালানো যায়, সে উদ্দেশ্যে তার দখলে অনুরূপ কোন নকল বা মেকী পত্রমুদ্রা বা ব্যাংক নোট রাখে, তবে উক্ত লোক সাত বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা অর্থদণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

“ধারা ৪৮৯ ঘ : পত্রমুদ্রা বা ব্যাংক নোট নকল বা মেকী করার যন্ত্র বা সামগ্রী প্রস্তুত করা বা দখলে রাখা : কোন ব্যক্তি যদি পত্রমুদ্রা বা ব্যাংক নোট নকল বা মেকী করার জন্য ব্যবহার করার উদ্দেশ্যে অথবা অনুরূপ নকল বা মেকী করার জন্য ব্যবহার করা হবে বলে জানা সত্ত্বেও বা তার বিশ্বাস করার কারণ থাকা সত্ত্বেও, কোন যন্ত্র, হাতিয়ার বা সামগৰী প্রস্তুত-প্রক্রিয়ার কোন অংশ সম্পাদন করে, বা ক্রয় করে বা বিক্রয় করে বা বিলি ব্যবস্থা করে বা তার নিজের দখলে রাখে, তবে উক্ত ব্যক্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে, অথবা দশ বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

“ধারা ৪৮৯ ঙ : পত্রমুদ্রা বা ব্যাংক নোটের সদৃশ বস্তু প্রস্তুত করা বা ব্যবহার করা : (১) কোন ব্যক্তি যদি কোন পত্রমুদ্রা বা ব্যাংক নোট বলে বুঝাবার জন্য, কোনদিক হতে কোন পত্রমুদ্রা বা ব্যাংক নোটের এতখানি সদৃশ যে, তার কর্তৃক প্রতারণা করা যেতে পারে এইরূপ কোন বস্তু প্রস্তুত করে বা প্রস্তুত করায় বা যে উদ্দেশ্যে হোক ব্যবহার করে বা কোন ব্যক্তিকে প্রদান করে, তবে উক্ত ব্যক্তি একশত টাকা পর্যন্ত যে কোন পরিমাণ অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবে।

(২) উপধারা (১) অনুসারে যে বস্তু বা দলিল প্রস্তুত করা একটি অপরাধ, সেরূপ দলিলে যার নাম রয়েছে, সে ব্যক্তি যদি কোন পুলিশ কর্মকর্তা দ্বারা জিজ্ঞাসিত হয়ে কোন আইনসম্মত কারণ ব্যতীত যে উহা মুদ্রণ বা অন্যভাবে প্রস্তুত করেছে, তার নাম ও ঠিকানা প্রকাশ করতে অস্বীকার করে, তবে উক্ত ব্যক্তি দুইশত টাকা পর্যন্ত যে কোন পরিমাণ অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবে।



/14
73

8 minutes 24 seconds


Penal Code [463-498]

এখানে দণ্ডবিধির ৪৬৩-৪৯৮ ধারাসমূহ নিয়ে এমসিকিউ টেস্ট আছে। সংশ্লিষ্ট ধারাগুলো পড়ে নিয়ে এটি অনুশীলন করুন।

এখানে আপনার নাম ও ফোন নাম্বার লিখুন। ইমেইলটি লেখা বাধ্যতামূলক নয়; তবে, ইমেইল এড্রেস দিলে আপনার ইমেইলে বিস্তারিত ফলাফল চলে যাবে।

1 / 14

দণ্ডবিধি অনুযায়ী একজন স্বামী বা স্ত্রী নিচের কোন শর্তের কারণে স্বামী বা স্ত্রী’র জীবদ্দশাতেও পুনরায় বিবাহ করতে পারবে?

2 / 14

জালিয়াতির সংজ্ঞা দণ্ডবিধির কত ধারার বিষয়বস্তু?

3 / 14

স্বামী বা স্ত্রী’র জীবদ্দশায় পুনরায় বিবাহ করার সর্বোচ্চ শাস্তি নিচের কোনটি হতে পারে?

4 / 14

ব্যভিচার এক প্রকার-

5 / 14

জাল দলিলের সংজ্ঞা দণ্ডবিধির কোন ধারার বিষয়বস্তু?

6 / 14

দণ্ডবিধিতে ব্যভিচার সম্পর্কিত ধারা কোনটি?

7 / 14

‘ক’ থানায় অভিযোগ করে যে, তার ভাই ‘খ’ একটি সাদা কাগজে তাদের পিতার সই নকল করেছে। দণ্ডবিধি অনুসারে এটা কোন অপরাধ? [বার : ২০১৫]

8 / 14

জালিয়াতির শাস্তি নিচের কোনটি?

9 / 14

আদালতের নথি বা সরকারি রেজিস্টার জাল করলে সর্বোচ্চ কত বছরের কারাদণ্ড হতে পারে?

10 / 14

ব্যভিচারের শাস্তি দণ্ডবিধি অনুযায়ী নিচের কোনটি?

11 / 14

জালিয়াতির সাজা দণ্ডবিধির কোন ধারায় দেওয়া আছে?

12 / 14

মিথ্য দলিল তৈরি করার সংজ্ঞা দণ্ডবিধির কত ধারার বিষয়বস্তু?

13 / 14

ব্যভিচারের জন্য কাকে অভিযুক্ত করা যায়? [বার : ২০১৫]

14 / 14

আপনি জানেন একটি দলিল জাল এবং সেটি আপনি তৈরি করেননি। কিন্তু, তা জানা সত্ত্বেও উক্ত দলিলটি খাঁটি দলিল হিসেবে ব্যবহার করলেন। এক্ষেত্রে আপনার অপরাধটি নিচে বর্ণিত কোনটির আওতায় পড়বে?

Your score is

0%



বিগত এমসিকিউ সাফল্য

Registered [2017 & 2020 MCQ]

Passed Students [2017 & 2020 MCQ]

Registered [MCQ Exam of 2021]