১৩ ডিসেম্বর, শুক্রবার, ৩ টায়, ফার্মগেট, ঢাকায়

বার কাউন্সিল প্রস্তুতি বিষয়ক
উন্মুক্ত সেমিনার!

আসন বুকিং দিন : 01712-908561

বার কাউন্সিলের ফরম ফিলাপ রহস্য!



[ জরুরি জ্ঞাতব্য : নিচের মূল লেখাটি যারা আগে পড়েছেন তাদের পুরোটা না পড়লেও চলবে। বার কাউন্সিল ফরম ফিলাপ আনুষ্ঠানিকভাবে স্থগিত করলেও কেন ফরম ফিলাপ চলছে বা ফরম ফিলাপ করা যাচ্ছে সেই বিষয়ে কনফিউশন ‍দূর করা ও পরীক্ষার সম্ভাব্য সময় সম্পর্কে আমার মূল্যায়ন দেবার জন্য লেখাটি লিখেছিলাম। মূল লেখার সারবস্তু এটাই ছিলো যে, আপনি চাইলে ফরম ফিলাপ এখুনি করে রাখতে পারেন অথবা আবারো বার কাউন্সিল যখন নতুনভাবে নোটিশ দেবে পরীক্ষার ফরম ফিলাপের, তখনও করতে পারেন। সম্পূর্ণই আপনার নিজের সুবিধার ওপর!

অনেকেই যারা ফরম ফিলাপ সেরে রাখছেন তাদের জন্য কিছু নির্দেশনা লেখার শুরুতেই যুক্ত করে দেওয়া হলো। আশা করি সকলের কাজে দেবে। তালুকদার রাসেল এবং রানা হাওলাদার – তারা দুজনেই শিক্ষানবিশ আইনজীবী। তাদের দেওয়া পোস্ট থেকে এই আপডেটটি এখানে দেওয়া হলো। আমাদের ওয়েবসাইটের পক্ষ থেকে তাদেরকে অনেক অনেক শুভেচ্ছা। ফরম ফিলাপ অথবা প্রস্তুতি সংক্রান্ত যেকোনো সমস্যায় নি:সঙ্কোচে ফোন দিতে পারেন আমাদেরকে 01712-908561। ধন্যবাদ।]



যারা প্রথমবার বার কাউন্সিল এ পরীক্ষা দিবেন তাদের জন্য ফরম ফিলাপের সাধারণ নির্দেশনা
=======
শুরুতে বাংলামটর নামবেন। তারপর রুপায়ন ট্রেড সেন্টার এ প্রবেশ করে লিফট এর →৪র্থ ফ্লোর নেমে, সেইখান থেকে একটা হলুদ (১০০০ টাকার) এবং একটা নীল (৩৭০০ টাকার) স্লিপ নিয়ে ফিলাপ করে →পঞ্চম ফ্লোর উঠে বাংকে টাকা জমা দিয়ে আবার →৪র্থ ফ্লোর গিয়ে সেইখান থেকে Enrollment Form (Application for enrollment as Advocate, Form A) নিয়ে এবং সাথে আপনার S.S.C, H.S.C এবং Law এর সার্টিফিকেট এবং মার্কসিট (এক কপি করে), তারপর ৪ কপি ছবি (Passport size) এবং একটা এফিডেবিট (এফিডেবিট আপনে চাইলে বার কাউন্সিল অফিস থেকে ও নিতে পারবেন এবং মনে রাখবেন এফিডেবিট নোটারি করতে হয়) নিয়ে আপনার সিনিয়রের কাছে যাবেন এইগুলো সত্যায়িত এবং Enrollment Form এ সিগনেচার করার জন্য (Enrollment Form আগে ফটোকপি করে তার উপর ড্রাফট করবেন যাতে মূল ফরমে ভুল না হয়) । তারপর ভালো ভাবে ফিলাপ করে এক কপি ফটোকপি করে নিবেন। তারপর ফরমের ২ টা কপি ( ১ টা মেইনকপি এবং আরেকটা ফটোকপি) নিয়ে বোরাক টাওয়ার এর তৃতীয় ফ্লোর এ যাবেন সেইখানে অফিস মেইনকপি রেখে দিবে এবং ফটোকপিতে সিল মেরে আপনাকে দিয়ে দিবে।



যারা দ্বিতীয়বার বার কাউন্সিল এ পরীক্ষা দিবেন তাদের জন্য ফরম ফিলাপের সাধারণ নির্দেশনা
========
শুরুতে বাংলামটর নামবেন। তারপর রুপায়ন ট্রেড সেন্টার এ প্রবেশ করে লিফট এর →৪র্থ ফ্লোর নেমে, সেইখান থেকে একটা হলুদ (৫০০ টাকার) এবং একটা নীল (১৫০০ টাকার) স্লিপ নিয়ে ফিলাপ করে →পঞ্চম ফ্লোর উঠে বাংকে টাকা জমা দিয়ে আবার →৪র্থ ফ্লোর গিয়ে সেইখান থেকে Re-Appear Form নিয়ে ফিলাপ করে এবং সাথে গতবারের এডমিট কার্ড এর ফটোকপি এবং সত্যায়িত (নিজের সিনিয়র দ্বারা) ৩ কপি ছবি দিয়ে বোরাক টাওয়ার এর তৃতীয় ফ্লোর এ জমা দিতে হবে।



রেজিস্ট্রেশন কার্ড যারা পাননি, তাদের সম্পর্কে কিছু আপডেট
========

রেজিস্ট্রেশন কার্ড নেওয়ার সিরিয়াল বেশ লম্বা। সকাল সকাল গেলে অল্প সময় কাজ সেরে নেওয়া সম্ভব হবে।

পাবলিক এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যারা পাশ করেছেন এবং ইনটিমিশন জমা যাদের ৬ মাসের বেশি তাদেরকে দিয়ে দিচ্ছে তবে কয়েকজনকে দেখলাম কার্ড না দিয়ে পরবর্তীতে উনাকে কবে দিবে সেই ডেট ও দিয়ে দিচ্ছে।

প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যারা পাশ করেছেন তাদের মধ্য থেকে যারা ইনটিমিশন ১৬ বা ১৭ সালে প্রথম দিকে জমা দিয়েছেন তাদের রেজিস্ট্রেশন কার্ড রেডি হয়ে আছে বিধায় দিয়ে দিচ্ছে, তবে ১৭ সালের শেষের দিকে বা ১৮ সালে যারা জমা দিয়েছেন তাদের কার্ড বিশ্ববিদ্যালয় অনুযায়ী নোটিশ দিয়ে আলাদা আলাদা ডেট দিয়ে তাদেরকে একসাথে রেজিস্ট্রেশন কার্ড দেওয়া হবে। এসব নিয়ে বার কাউন্সিল সাধারণত আলাদাভাবে নোটিশ দিয়ে থাকে। আপনারা নোটিশ অথবা স্ব স্ব বিশ্ববিদ্যালয়ে ভালোভাবে খোঁজ নিয়ে রাখবেন। আমাদের ওয়েবসাইটেও এগুলোর নিয়মিত আপডেট পাবেন বলে আশা রাখি।



রেজিস্ট্রেশন কার্ড না পাওয়ার ক্ষেত্রে সাধারণ করণীয় ও সতর্কতা [প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য]

এরকম অনেক পরিচিত শিক্ষানবিশ আছেন, যারা কিনা বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করে প্রায় দেড় বছর হতে চললো, তারা ইন্টিমেশন জমা দিয়েছেন। কিন্তু তারা এখনো রেজিস্ট্রেশন কার্ড পাননি। তারা বার কাউন্সিলের সর্বশেষ নোটিশে কনফিউজ হয়ে পড়েছেন – তবে কি তারা পরীক্ষা দিতে পারবেন না?

তাদের দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই। এটাই বার কাউন্সিলের শেষবারের মতো ফরম ফিলআপ হচ্ছে না। তবে একটি ছোট্ট কিন্তু আছে! বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আপনারা একবার অবশ্যই নিজ নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগাযোগ করবেন যে, আপনাদের নামের তালিকা বার কাউন্সিলে পাঠিয়েছে কিনা আপনার বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্তৃপক্ষ। আপনারা জানেন যে, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আইন বিভাগকে একটি তালিকা পাঠিয়ে দিতে হয় বার কাউন্সিলে, যে তালিকার ভিত্তিতেই আপনার রেজিস্ট্রেশন কার্ড প্রাপ্তি নিশ্চিত হবে। নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে আগে যোগাযোগ করে এ বিষয়ে যথেষ্ট্ প্রমাণ যোগাড় করুন যে, তাদের পাঠানো তালিকায় আপনার নাম ঠিকমতো গেছে কিনা। তাদেরকে খানিকটা চাপের ওপর রাখুন। নইলে শেষমুহূর্তে পরীক্ষার প্রস্তুতি নেবেন নাকি রেজিস্ট্রেশন কার্ড সংক্রান্ত দৌড়াদৌড়ি করতে থাকবেন? রেজিস্ট্রেশন কার্ড প্রাপ্তির বিষয়ে ‘শুভস্য শীঘ্রম’ হবেন দয়া করে!



বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের পরীক্ষার ফরম ফিলাপ চলছে কিনা এই প্রশ্নে ফেসবুক ভরপুর! শিক্ষার্থীগণও ফোন দিচ্ছেন রাত-দিন খেয়াল না রেখেই। উপায়ন্তর না দেখে এই পোস্টটি লিখতে হলো।

শুরুতেই একটা কথা জেনে রাখুন যে, যে বা যারাই হাতে রেজিস্ট্রেশন কার্ড পেয়ে থাকেন, তারাই বার কাউন্সিলের আনুষ্ঠানিক নোটিশ ছাড়াই যেকোনো সময় পরীক্ষার ফরম ফিলাপ সেরে রাখতে পারেন। ফরম ফিলাপ করে সংশ্লিষ্ট টাকা জমা দিয়ে দিলে বার কাউন্সিল তা রিসিভ করতে বাধ্য থাকে। তবে ঘটনাচক্রে যদি দেখা যায় যে পরবর্তীতে আনুষ্ঠানিক ফরম ফিলাপ এর সময় ফরম ফিলাপের কোনো নতুন মূল্য নির্ধারণ বা পুণ:নির্ধারণ করা হয়, সেক্ষেত্রে অবশিষ্ট ঘাটতি টাকাও জমা দিতে হবে!

এইবার বিস্তারিত করি!
বার কাউন্সিল সদ্য বিগত পরীক্ষার্থীদের ভাইভার সময়েই ঘোষণা দিয়েছিলো যে, যারা রেজি. কার্ড হাতে পেয়েছেন, তারা নভেম্বর 20 থেকে ডিসেম্বর 20 এর মধ্যে ফরম ফিলাপ করে রাখতে পারেন। তখন অনেকেই যারা রেজি. কার্ড হাতে পাননি, অথচ 6 মাস অতিবাহিত হয়ে গেছে, তারা ভীষণ দুশ্চিন্তায় ছিলেন যে তাদের কী হবে! আমি তখন আরেকটি লেখায় জানিয়েছিলাম যে, এ নিয়ে দুশ্চিন্তা করবেন না! কেননা, বার কাউন্সিল যাদের রেজি. কার্ড ইস্যু করেনি, তাদেরও রেজি. কার্ড ইস্যু করে তাদেরকে ফরম ফিলাপের প্রয়োজনীয় সময় প্রদান করেই ফরম ফিলাপের আরো পর্যাপ্ত সময় দেবে। বার কাউন্সিল থেকে খোঁজ নিয়েও সেটাই জানতে পারলাম।

তো, এই ফরম ফিলাপের চলমান সময়ের ভেতরেই বার কাউন্সিলের ভবন স্থানান্তর, কাগজপত্র বা ফাইলসমূহ যথাযথভাবে সংরক্ষণের ঝুকি এবং অন্যান্য বিবিধ কারণে ফরম ফিলাপের কার্যক্রম স্থগিত করা হয় আরেকটি নোটিশে!

সেই নোটিশে বলা হয়েছে যে, পরবর্তীতে যথাসময়ে আবারো ফরম ফিলাপের নোটিশ দেওয়া হবে এবং বিশেষভাবে উল্লেখ ছিলো যে, ‘‘পরীক্ষায় অংশগ্রহণের উপযুক্ত সকল প্রার্থীকেই ফরম ফিলাপের জন্য পর্যাপ্ত সময় দেওয়া হইবে মর্মে আশ্বস্ত করা যাইতেছে।” এর মানে হলো আপনাদের দুশ্চিন্তার কোনোই কারণ নেই! নিচে ফেসবুকে দেওয়া নোটিশটি আপনাদের জন্য তুলে দিলাম। অথবা বার কাউন্সিলের নোটিশটি সরাসরি তাদের ওয়েবসাইট থেকেই আবারো দেখে নিন : http://www.barcouncil.gov.bd/enrolment-mcq-form-fill-up-temporarily-stopped/

তার মানে আনুষ্ঠানিকভাবে এটি স্থগিত আছে। কিন্তু ঐ যে শুরুতেই বললাম যে, যারা অলরেডি রেজি কার্ড হাতে পেয়েছেন তারা যদি ফরম ফিলাপ করে রাখেন তাতে কোনোই অসুবিধা নাই। বার কাউন্সিল তা গ্রহণ করে নেবে। অর্থাৎ, আপনি চাইলে আপনার ফরম ফিলাপের কাজ এগিয়ে রাখতে পারেন, এতে কোনোই অসুবিধা নাই।

আবার ঝামেলা বোধ করলে, যখন ফরম ফিলাপের আনুষ্ঠানিক তারিখ ঘোষণা করবে তখনও ফরম ফিলাপ নিশ্চিন্তে করতে পারবেন, যেটা আপনার নিজের জন্য সুবিধাজনক মনে হয়।

পরীক্ষার সম্ভাব্য সময়ের বিষয়ে আমার ব্যক্তিগত অনুমান
পরীক্ষা এবার বার কাউন্সিল যথাদ্রুতই নিতে চায়। বার কাউন্সিলের বর্তমান যে পরিস্থিতি তাতে করে খুব সম্ভবত আগামী এপ্রিল মাসের ভেতরেই পরীক্ষা নিয়ে নিতে পারে বলে আমার ব্যক্তিগত অনুমান। আপনারা সে অনুযায়ীই প্রস্তুতি নিতে থাকুন। পরীক্ষার অনুমান বিষয়ে আমার বিস্তারিত যৌক্তিক ব্যাখ্যা পাবেন পুরনো এই লেখাটিতে

আরো কোনো জিজ্ঞাসা থাকলে ফোন দিয়েন [01712-908561] নি:সঙ্কোচে! আমরা যেমন আপনার বার কাউন্সিল প্রস্তুতিতে অনলাইনে সার্বক্ষণিক সহায়তা করছি, আশা করছি এই সমস্ত খুঁটিনাটি বিষয়েও যথাসাধ্য তথ্য দিয়ে সহায়তা করবো।

সবাই ভালো থাকবেন। নিজের যত্ন নেবেন। ঠান্ডা লাগাবেন না। 🙂


এডভোকেট মুরাদ মোর্শেদ
সিইও, জ্যুসি ল।
15 ডিসেম্বর, 2018। [সর্বশেষ আপডেট : 19 ডিসেম্বর।]