+8801712-908561 juicylawinfo@gmail.com




বার কাউন্সিল পরীক্ষার্থীদের জন্য এই অতীব জরুরি লেখাটিতে বেশ কিছু বিষয় বিস্তারিত আলোচনা করা আছে। আশা করি ইনফরমেশন জানতে অনেক সহায়ক হবে।



শুরুতে জরুরি কথা
প্রতিবছর পরীক্ষা নেবার বিধান থাকার পরেও বার কাউন্সিল ঠিকমতো পরীক্ষা না নেয়ায় অনেকেই বার কাউন্সিলের কর্মকাণ্ডকে হেয় চোখে দেখে থাকেন। আইনজীবীদের রক্ষকবচ হিসেবে এই প্রতিষ্ঠানের নানারকম সমালোচনা করে থাকেন। এটি একজন শিক্ষার্থীর জন্য স্বাভাবিক হলেও এবং এটির কারণে বার কাউন্সিলে দিনরাত অক্লান্ত পরিশ্রম করে যেতে থাকা কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের প্রতি রুষ্টতা অনেকেরেই থাকে। কিন্তু এটি পারতপক্ষে কখনোই করবেন না। কেননা, অল্প লোকবলের এই প্রতিষ্ঠানটির প্রতিটি অফিস কর্মকর্তা এবং কর্মচারীগণ অক্লান্ত পরিশ্রম করে চলেছেন। পরীক্ষা অনুষ্ঠিত করার ব্যাপারে তাদের সরাসরি কোনো হাত নেই। উপরন্তু, বার কাউন্সিলের কমিটির সদিচ্ছা থাকলেও পরীক্ষাটি গুছিয়ে [ বিশেষত ইন্টিমেশন জমাপ্রদানকারীদের সকল কাগজপত্রাদি পরীক্ষা সাপেক্ষে তাদেরকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করতে] নেবার জন্য খানিকটা সময় ব্যয় হচ্ছে। বার কাউন্সিল হয়তো এবছরেও খানিকটা অনিয়মিত থাকবে। কিন্তু, সামান্য গুছিয়ে উঠলেই পরবর্তী পরীক্ষাগুলো একটা সিস্টেমেটিক পদ্ধতিতে সহজে সময়মতো নিতে পারবে। সেজন্য ধৈর্য্য ধরুন এবং সকলের মঙ্গলের কথা বিবেচনায় রেখে যত্রতত্র বার কাউন্সিলকে গালিগালাজ করা বা রুষ্ট হওয়াটা এই সময়ে উচিত নয় একদমই। ১৩ ও ১৪ জানুয়ারিতে বার কাউন্সিল সফর করে আমার ব্যক্তিগত উপলব্ধি এটা।


যারা গত রিটেন পরীক্ষায় ফেল করেছেন তাদের শুধুই অপেক্ষার প্রহর!
একবার এমসিকিউ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে দ্বিতীয়বার এমসিকিউ পরীক্ষায় অংশ না নিয়ে সরাসরি লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণের বিধান একটি সংশোধনীর মাধ্যমে সাম্প্রতিককালে যুক্ত হলেও এটি নিয়ে সবারই একটি কনফিউশন আছে যে, তা আগামী এমসিকিউ পরীক্ষা থেকেই কার্যকর হবে নাকি সর্বশেষ লিখিত পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ফেল করা শিক্ষার্থীদের থেকেই কার্যকর হবে! আইনের নানাবিধ ব্যাখ্যায় প্রতীয়মান হয় যে, সাধারণভাবে এটি কার্যকর হবে আগামী পরীক্ষা থেকেই, আগেরবারের জন্য প্রযোজ্য নয়! কিন্তু বার কাউন্সিল এর বর্তমান কমিটি যেহেতু আন্দোলনের মুখে কথা দিয়েছিলো যে [প্রমাণ হিসেবে এই ভিডিওটি সংগ্রহে রাখতে পারেন : https://youtu.be/xlVU22DYQnc ], আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীগণ এই সুযোগ পাবে, সেহেতু এটি ধরে নেয়া যায় যে, বার কাউন্সিল তার নিজস্ব সভায় এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবে এবং তা ইতিবাচক হবে বলেই আমরা খোঁজ পেয়েছি। ফলে অপেক্ষার প্রহর আর অপেক্ষার প্রহর। আশা করা যায়, বার কাউন্সিল আসন্ন এমসিকিউ পরীক্ষার আনুষ্ঠানিক ফরম ফিলাপ ঘোষণা দেবার সময়েই গতবারের লিখিত পরীক্ষার্থী বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেবে। কেননা, লিখিত পরীক্ষাতে অংশগ্রহণ করার জন্য ফরম ফিলাপের প্রয়োজন পড়বে। লিখিত পরীক্ষার্থীদের জন্য ধৈর্য্যের পরীক্ষা দেয়া ছাড়া আর কোনো উপায় নেই।



আপনার রেজিস্ট্রেশন এর মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে করণীয়
বার কাউন্সিল কর্তৃক ইস্যুকৃত একটি রেজিস্ট্রেশন কার্ডের মেয়াদ থাকে ৫ বছর পর্যন্ত। এই ৫ বছরের ভেতরে আপনি যদি পরীক্ষায় পাশ করতে না পারেন তবে নিয়ম অনুসারে আবারো রেজিস্ট্রেশন করতে হয়। এটি নিয়ে অনেকেই নানারকম কনফিউশনে থাকেন বিধায় এ বিষয়ে স্পেসিফিক তথ্য দেবার জরুরত রয়েছে পরীক্ষার্খীদের উদ্দেশ্যে। কোনোরকম ভুল না বুঝে সঠিক বা ভালোভাবে নিচে বর্ণিত ব্যাপারটি বুঝে গেলেই আপনার করণীয় পেয়ে যাবেন। বিষয়টি খানিকটা জটিল।

যাদের রেজিস্ট্রেশন মেয়াদ ইতিমধ্যে শেষ হয়ে গেছে, তাদেরকে অবশ্যই পুনরায় রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। সেক্ষেত্রে নিয়মটি হলো – নতুন করে নতুন কোনো সিনিয়র অথবা প্রথম রেজিস্ট্রেশন এর সময় যে সিনিয়রের কাছে পিউপিলেজ সময় বা শিক্ষানবিশ সময় অতিবাহিত করেছেন, অর্থাৎ যেকোনো সিনিয়র এর কাছে নতুনভাবে ইন্টিমেশন এর কাগজপত্রাদি প্রস্তুত করে বার কাউন্সিলে পাঠিয়ে দিতে হবে এবং একটি দরখাস্তের মাধ্যমে পুরনো রেজিস্ট্রেশন কার্ডটি সারেন্ডার করে নতুন রেজিস্ট্রেশন হাতে নিতে হবে। এক্ষেত্রে বিশেষভাবে উল্লেখ্য যে, নতুন ইন্টিমেশন এর মেয়াদ আগেরবারের মতো করে ১৮০ দিন পূর্ণ হওয়া বাধ্যতামূলক নয়। অর্থাৎ নতুন ইন্টিমেশনের সাথে পরীক্ষা দিতে পারার জন্য দিন গণনার কোনো বিষয় নেই, আপনি খুব সন্নিকটে থাকা পরীক্ষাতে অংশগ্রহণ করতে পারবেন।

যাদের এখনো পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি মেয়াদ, যেমন আগামী ৩ বা ৪ মাসের মধ্যে শেষ হতে যাচ্ছে – এরূপ ক্ষেত্রে পদ্ধতিটি খানিকটা ভিন্ন। ধরা যাক, আপনার আগের রেজিস্ট্রেশন কার্ডের মেয়াদ আগামী ১২ মে, ২০১৯ এ শেষ হয়ে যাবে। এবং দেখা গেলো যে, ১২ মে তারিখের আগেই ১০ মে তারিখে আসন্ন এমসিকিউ পরীক্ষাটি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। তাহলে পুনরায় রেজিস্ট্রেশন করার কোনোই দরকার নেই। এমনকি উক্ত রেজিস্ট্রেশন কার্ড দিয়েই আপনি এমসিকিউ পাশ করে লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে পরপর ৩ বার ভাইভা পরীক্ষা দিয়ে আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্তিও হতে পারবেন। তার মানে, মেয়াদ উত্তীর্ণ হবার আগেই শুরু হওয়া কোনো পরীক্ষায় অংশগ্রহণে পাস করে গেলে তারপরের সমস্ত প্রসেস উক্ত পুরনো বা মেয়াদোত্তীর্ণ রেজিস্ট্রেশন কার্ড দিয়েই করতে পারবেন। তবে, ধরা যাক, উক্ত ১০ মে তারিখের পরীক্ষায় আপনি ফেইল করলেন। সেক্ষেত্রে তারও পরবর্তী পরীক্ষার আগেই আপনাকে নতুনভাবে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। নতুন রেজিস্ট্রেশন কার্ড খুব অল্প সময়ের ভেতরেই হাতে পাওয়া যায়।

উপরোক্ত জটিল বিষয়টি না বুঝে থাকলে বা করণীয় না বুঝলে অবশ্যই ফোন দেবেন নি:সঙ্কোচে : 01712-908561।



বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীগণ রেজিস্ট্রেশন কার্ড কবে পাবেন?
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীগণ রেজিস্ট্রেশন কার্ড হাতে না পাওয়ায় দুশ্চিন্তায় আছেন। তাদের দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই। বার কাউন্সিল আগামী ফেব্রুয়ারি মাসেই আপনাদের রেজিস্ট্রেশন বিষয়ে ঘোষণা দেবার জন্য দিনরাত অক্লান্ত পরিশ্রম করে চলেছেন। প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ভিন্ন ভিন্ন তারিখ দিয়ে উক্ত তারিখের ভেতরে সেগুলো সংগ্রহের জন্য বলা হবে [বিশেষত ২০১৭ সালের শেষের দিকে বা এর পরে যারা ইন্টিমেশন ফরম জমা দিয়েছেন তাদের জন্য]। ফলে নোটিশটির জন্য অপেক্ষা করতে থাকুন। আমরাও আপডেট দিতে থাকবো অনলাইনে। যারা আমাদের ওয়েবসাইটে ফ্রি অথবা পেইড একাউন্ট খুলেছেন তারাতো মোবাইলেই এসএমএস নোটিফিকেশন পেয়ে যাবেন।

তবে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশন কার্ড পাবার ব্যাপারে একটি বিশেষ সতর্কতার কথা বলেছিলাম অন্য আরেকটি লেখায়। অনেকের বিরক্তি ঘটালেও এখানে ছোট্ট অংশটি আবারো তুলে দিলাম।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আপনারা একবার অবশ্যই নিজ নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগাযোগ করবেন যে, আপনাদের নামের তালিকা বার কাউন্সিলে পাঠিয়েছে কিনা আপনার বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্তৃপক্ষ। আপনারা জানেন যে, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আইন বিভাগকে একটি তালিকা পাঠিয়ে দিতে হয় বার কাউন্সিলে, যে তালিকার ভিত্তিতেই আপনার রেজিস্ট্রেশন কার্ড প্রাপ্তি নিশ্চিত হবে। নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে আগে যোগাযোগ করে এ বিষয়ে যথেষ্ট্ প্রমাণ যোগাড় করুন যে, তাদের পাঠানো তালিকায় আপনার নাম ঠিকমতো গেছে কিনা। তাদেরকে খানিকটা চাপের ওপর রাখুন। নইলে শেষমুহূর্তে পরীক্ষার প্রস্তুতি নেবেন নাকি রেজিস্ট্রেশন কার্ড সংক্রান্ত দৌড়াদৌড়ি করতে থাকবেন? রেজিস্ট্রেশন কার্ড প্রাপ্তির বিষয়ে ‘শুভস্য শীঘ্রম’ হবেন দয়া করে!”



দ্বিতীয় ইন্টিমেশন বিতর্ক!! আরে পাগলা – এইডারে কয় ‘ফরম ফিলাপ’!
একটা কথা খুব প্রচলিত আছে, দ্বিতীয় ইন্টিমেশন বা সেকেন্ড ইন্টিমেশন। এই নামে কোনো বিষয়বস্তুর অস্তিত্ব নেই বার কাউন্সিলে। ইন্টিমেশন, যেটিকে বার কাউন্সিলের ফরমাল ভাষায় বলা হয় – ‘‘পিউপিলেজ রেজিস্ট্রেশন ফরম” – এর মানে হলো কোনো শিক্ষার্থী তার এলএলবি পড়াশোনা শেষ করেই কোনো সিনিয়র আইনজীবীর অধীনে ৬ মাসের শিক্ষানবিশ কাল অতিক্রম করে বার কাউন্সিল পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। উক্ত ৬ মাস অতিক্রম হলেই তিনি রেজিস্ট্রেশন কার্ড পাবেন বার কাউন্সিলের কাছ থেকে। আর এই রেজিস্ট্রেশন কার্ড  হাতে পেলেই একজন শিক্ষানবিশ নিকটবর্তী পরীক্ষায় অংশ নেবার জন্য ফরম ফিলাপ করে রাখতে পারেন। এই ফরম ফিলাপকে অনেকেই বলে থাকেন ‘দ্বিতীয় বা সেকেন্ড ইন্টিমেশন’ – যা কিনা একদমই ভুল একটি ধারণা বা তথ্য। এর আরেকটা অর্থ হলো – প্রথম ইন্টিমেশন বলেও কিছু নেই। আছে শুধু ‘ইন্টিমেশন’। 

যারা এই লেখাটি পড়লেন, আশা করবো এই ভুলটি একজন আইনের লোক হিসেবে আপনি আর কখনো করবেন না।



ইন্টিমেশন জমা বা পিউপিলেজ ফরম পূরণ করা প্রসঙ্গে
আমি প্রায় দুই বছর আগে একটি ইউটিউব ভিডিও বার্তায় [লিংক, যদি দেখতে চান আমার অল্প বয়সের পাগলামি : https://youtu.be/hXkwvyDP4Hw ] বলেছিলাম যে, অনার্স ফাইনাল বা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের এলএলবি ফাইনাল পরীক্ষা শেষ হবার পরের দিনই [রেজাল্ট প্রকাশিত হবার আগেই] চাইলে ইন্টিমেশন ফরম জমা দেওয়া যায়। এক্ষেত্রে আরেকটি হ্যাপা নিতে হতো – যখন পরীক্ষার রেজাল্ট প্রকাশিত হতো তখন মূল নম্বরপত্র ও সার্টিফিকেট নিয়ে সতায়িত করে আবারো জমা দিতে হয় বা আগের কাগজটির সাথে যুক্ত করে দিতে হয়। কিন্তু এটুকু হ্যাপা নিলেও সুবিধা যেটি হয় যে, নিকটবর্তী পরীক্ষাতেই অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়ে বা থাকে। এতে করে অনেকের মূল্যবান সময় নষ্ট হয় না। কিন্তু সেই সুযোগ আর থাকছে না, প্রিয় শিক্ষার্থীরা!

বার কাউন্সিল গত ১০ জানুয়ারি, ২০১৯ এ একটি নোটিশ দিয়ে স্পষ্ট করে বলেছে যে, এরকম কোনো সুযোগ আর দেওয়া হবে না। নোটিশটির ভাষা পরিষ্কারভাবে এখানে দেখে আসুন। বার কাউন্সিলের লিংকটিতে [http://www.barcouncil.gov.bd/special-notice-corresponding-to-pupilage-registration-form/] যেতে আলস্য লাগলে নিচেই তার মূল অংশটুকু পড়ে নিন।

“এতদ্বারা সংশ্লিষ্ট সকলের অবগতির জন্য জানানো যাইতেছে যে, বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের রেজিস্ট্রেশন কার্ড প্রাপ্তির লক্ষ্যে আবেদনকারীগণকে ‘পিউপিলেজ রেজিস্ট্রেশন ফরম [ইন্টিমেশন ফরম]” এর সহিত নিম্নলিখিত কাগজপত্রাদি অবশ্যই সংযুক্ত করিতে হইবে :

১. আবেদনকারীর শিক্ষাগত যোগ্যতার সকল প্রকার সার্টিফিকেটের সত্যায়িত কপি।
২. আবেদনকারীর শিক্ষাগত যোগ্যতার সকল প্রকার মার্কশিটের সত্যায়িত কপি।
৩. আবেদনকারীর সাম্প্রতিক কালের ৩ (তিন) কপি পাসপোর্ট সাইজের রঙ্গিন সত্যায়িত ছবি।
৪. এফিডেফিট [২০০ টাকা মূল্যমানের নন জুডিসিয়াল স্ট্যাম্পে প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট অথবা নোটারি পাবলিক কর্তৃক সত্যায়িত]।
৫. প্রয়োজনীয় ফি।
৬. উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রদত্ত ইকুইভ্যালেন্স সার্টিফিকেট [বিদেশি ডিগ্রির ক্ষেত্রে অথবা প্রযোজ্য ক্ষেত্রে]।
৭. সার্টিফিকেট, মার্কশিট, ছবিসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্রাদি সত্যায়নের ক্ষেত্রে বিজ্ঞ সিনিয়র আইনজীবী / সংশ্লিষ্ট বারের বিজ্ঞ সাধারণ সম্পাদক/নোটারি পাবলিক/ প্রথম শ্রেণীর গেজেটেড কর্মকর্তা কর্তৃক সত্যায়িত।

উল্লেখিত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছাড়া কোনো আবেদন বা অসম্পূর্ণ আবেদন গ্রহণ করা হইবে না। যদি কোনো আবেদনকারী অসত্য / জাল / অসঙ্গতিপূর্ণ তথ্য প্রদান করিয়া ফরম দাখিল করেন, নিরীক্ষান্তে তাহা বাতিল করা হবে।

ইহা অবিলম্বে কার্যকর হইবে।

[স্বাক্ষরিত]
মো: রফিকুল ইসলাম
সচিব
[জেলা ও দায়রা জজ]
বাংলাদেশ বার কাউন্সিল”

উপরোক্ত নোটিশটি যারা পড়িয়া বুঝিয়া কামেল হইলেন তাদের কোনো ব্যাখ্যা দেবার দরকার নেই :)। তবে যারা কামেল হোননি, তাদের জন্য বলি, এর সহজ মানে হলো – পূর্ণাঙ্গভাবে রেজাল্ট প্রকাশিত না হওয়া পর্যন্ত কোনোক্রমেই ইন্টিমেশন জমা দেবার আর কোনো সুযোগ নেই। এসব সুযোগ আগে ছিলো, এখন থেকে নো! নো মানে নো!! জাস্ট নো!!

কেন বার কাউন্সিল এই সিদ্ধান্ত নিলো – এমন প্রশ্ন যাদের মনে উঁকি দিচ্ছে তাদেরকে বলি – কার্যত এমন সুযোগ কখনোই ছিলোনা। বার কাউন্সিল অর্ডারেও এমন কথা স্পষ্ট করে বলাই ছিলো। তবুও ইনফর্মালি বার কাউন্সিল এই সমস্ত বিষয় দেখেও না দেখার ভান করে ইন্টিমেশন জমা প্রদানকারীদেরকে আদর-স্নেহ করেকরেই আগলে রেখেছিলো। কিন্তু এখন অনেক পরীক্ষার্থীর চাপে, বার কাউন্সিলের লোকবলেরও খানিকটা অভাবে এবং পরীক্ষার্থীদেরও নানারকম নানাবাড়ির আবদারের স্টাইলে চলার কারণে এই বিষয়ে আইনসঙ্গতভাবেই বার কাউন্সিল এই কঠোরতা প্রদর্শন করতে বাধ্য হয়েছে।



আসন্ন এমসিকিউ পরীক্ষা কবে অনুষ্ঠিত হতে পারে?
আমরা আগেই একটি লেখায় বার কাউন্সিলের সমস্ত তৎপরতার ধরণ বিশ্লেষণ করে করে এর যৌক্তিক কারণ উল্লেখ করে পরীক্ষার সময় সংক্রান্তে বলেছিলাম যে, আগামী এপ্রিল মাসে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবার সম্ভাবনা আছে। কিন্তু এর মাঝে আরো কিছু সময় গড়িয়েছে। অন্যদিকে বার কাউন্সিলে সাম্প্রতিক সফরের সময় যেটা অনুমান করছি তা হলো – এ বছরে মে মাসের ১৫ তারিখের পরে রমযান মাস শুরু। সেহেতু পরীক্ষা নিলে এর ঠিক আগে এমসিকিউ পরীক্ষাটি সম্পন্ন করার সম্ভাবনা আছে। নাহলে এটি জুনের শেষ অথবা জুলাই মাসে হবে। তবে সতর্কতা হিসেবে আমি বলবো এপ্রিলের মাঝামাঝির পর থেকে যেকোনো সময়েই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হতে পারে বিধায় এখন থেকেই প্রস্তুতি রাখা ভালো বা বুদ্ধিমানের কাজ।



যারা প্রথমবার বার কাউন্সিল এ পরীক্ষা দিবেন তাদের জন্য ফরম ফিলাপের সাধারণ নির্দেশনা
শুরুতে বাংলামটর নামবেন। তারপর রুপায়ন ট্রেড সেন্টার এ প্রবেশ করে লিফট এর →৪র্থ ফ্লোর নেমে, সেইখান থেকে একটা হলুদ (১০০০ টাকার) এবং একটা নীল (৩৭০০ টাকার) স্লিপ নিয়ে ফিলাপ করে →পঞ্চম ফ্লোর উঠে বাংকে টাকা জমা দিয়ে আবার →৪র্থ ফ্লোর গিয়ে সেইখান থেকে Enrollment Form (Application for enrollment as Advocate, Form A) নিয়ে এবং সাথে আপনার S.S.C, H.S.C এবং Law এর সার্টিফিকেট এবং মার্কসিট (এক কপি করে), তারপর ৪ কপি ছবি (Passport size) এবং একটা এফিডেবিট (এফিডেবিট আপনি চাইলে বার কাউন্সিল অফিস থেকেও নিতে পারবেন এবং মনে রাখবেন এফিডেবিট নোটারি করতে হয়) নিয়ে আপনার সিনিয়রের কাছে যাবেন এগুলো সত্যায়িত এবং Enrollment Form এ সিগনেচার করার জন্য (Enrollment Form আগে ফটোকপি করে তার উপর ড্রাফট করবেন যাতে মূল ফরমে ভুল না হয়)। তারপর ভালোভাবে ফিলাপ করে এক কপি ফটোকপি করে নিবেন। তারপর ফরমের ২টা কপি ( ১টা মেইনকপি এবং আরেকটা ফটোকপি) নিয়ে বোরাক টাওয়ার এর তৃতীয় ফ্লোর এ যাবেন। সেইখানে অফিস মেইনকপি রেখে দিবে এবং ফটোকপিতে সিল মেরে আপনাকে দিয়ে দিবে। আপনাকে দেওয়া কপিটি খুবই যত্ন সহকারে সংরক্ষণ করবেন।



যারা দ্বিতীয়বার বার কাউন্সিল পরীক্ষা দিবেন তাদের জন্য ফরম ফিলাপের সাধারণ নির্দেশনা
শুরুতে বাংলামটর নামবেন। তারপর রুপায়ন ট্রেড সেন্টার এ প্রবেশ করে লিফট এর →৪র্থ ফ্লোর নেমে, সেইখান থেকে একটা হলুদ (৫০০ টাকার) এবং একটা নীল (১৫০০ টাকার) স্লিপ নিয়ে ফিলাপ করে →পঞ্চম ফ্লোর উঠে বাংকে টাকা জমা দিয়ে আবার →৪র্থ ফ্লোর গিয়ে সেইখান থেকে Re-Appear Form নিয়ে ফিলাপ করে এবং সাথে গতবারের এডমিট কার্ড এর ফটোকপি এবং সত্যায়িত (নিজের সিনিয়র দ্বারা) ৩ কপি ছবি দিয়ে বোরাক টাওয়ার এর তৃতীয় ফ্লোর এ জমা দিতে হবে।



আরো অনেক জিজ্ঞাসা আছে? সরাসরি ফোন দিন : 01712-908561।



বার কাউন্সিল এমসিকিউ প্রস্তুতি নিয়ে দিশেহারা?

ভর্তি হোন এই অনলাইনে

আইনের ধারাপাত ও চিরুনি অভিযান নামে দুইটি দূর্দান্ত বই সাথে ফ্রি ডেলিভারি!!

ভর্তি তথ্য : 01796-983199 অথবা 01712-908561