২২ নভেম্বর, শুক্রবার, ৩ টায়, ফার্মগেট, ঢাকায়

বার কাউন্সিল প্রস্তুতি বিষয়ক
উন্মুক্ত সেমিনার!

আসন বুকিং দিন : 01712-908561

মডেল টেস্ট অনুশীলনের সাধারণ নির্দেশনা

ইতিমধ্যেই বাজারে আইনকানুন প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত সাড়া জাগানো বার কাউন্সিল এমসিকিউ মডেল টেস্ট বইটি [‘আইনের ধারাপাত – MCQ মডেল টেস্ট বুক’] অনেকেরই হাতে হাতে রয়েছে। এই বইটি আপনার কাছে না থেকে যদি অন্য বইও হাতে থাকে, তাহলেও এই নিবন্ধটি আপনার জন্য একটি ভালো ইনট্রডিউসার। আমাদের বই অথবা অন্যান্য বই – এই দুই বিবেচনাতেই এই লেখাটি লিখেছি। আমাদের বইয়ের ক্রেতাদের জন্য বইটি কীভাবে পাঠ করলে আপনি সবচাইতে দক্ষতার সাথে মডেল টেস্টগুলো অনুশীলন করতে পারবেন তার একটি নির্দেশনা জরুরি হয়ে পড়েছে। কেননা, অনেকে শুরুতেই মডেল টেস্টগুলো এটেন্ড করতে শুরু করেছেন যা কীনা একদমই ঠিক নয়; অন্তত আমাদের প্রকাশিত বইটির ক্ষেত্রে। 

সাধারণত, বাজারের কোনো বইয়েই পড়া এবং মডেল টেস্টগুলো কীভাবে এটেন্ড করতে হয় বা কীভাবে এটি সবচে কার্যকর পন্থায় কাজে লাগানো যায় সে বিষয়ে কোনো নির্দেশনা থাকে না। একমাত্র আমাদের সমস্ত বইয়েই বইয়ের গঠনপ্রণালী এবং তা পড়া বিষয়ে সাধারণ একটি দিকনির্দেশনা থাকে।  এরূপ নির্দেশনা থাকলে শিক্ষার্থীদের বিরাট সুবিধা হয় এবং পড়ার বিষয়ে সিরিয়াসনেস গড়ে ওঠে।

যারা সরাসরি আমাদের বই অথবা ওয়েবসাইটের মাধ্যমে পড়াশোনার সেবা নিচ্ছেন, তাদের উপযোগী করেই প্রধানত কথাগুলো বলবো। তবে অন্য যেকোনো বইয়ের পাঠকগণও চাইলে নিজেদের মতো করে সেটিকে উক্ত বই পাঠ করার ক্ষেত্রেও কাজে লাগাতে পারেন। যাই হোক মূল কথায় চলে আসি।

আইনের ধারাপাত মডেল টেস্ট বইটি কীভাবে পড়বেন?

ব্যবহারের সুবিধার্থে এই বইটিকে দুইটি খণ্ডে ভাগ করা হয়েছে, দুইটি আলাদা কাভারে তা প্রকাশ করা হয়েছে। কিন্তু বই মূলত একটিই। এর প্রথম খণ্ডে রয়েছে বার কাউন্সিল এবং জুডিসিয়ারি পরীক্ষায় আসা বিগত সমস্ত সালের প্রশ্নের ব্যাখ্যাসহ সমাধান। ব্যাখ্যাটি এমনভাবে লেখা হয়েছে যেন, এই ব্যাখ্যা পড়ার মাধ্যমেই উক্ত সংশ্লিষ্ট ধারা থেকে আরো যা যা প্রশ্ন আসতে পারে এবং উক্ত ধারার আগের বা পরের ধারা, যেগুলো থেকে কীনা কোনো প্রশ্ন বিগত সালগুলোতে আসেনি, সেগুলো সম্পর্কেও আপনার ধারণা পাকাপোক্তভাবে তৈরি হয়। আর যারা কম পরিশ্রম করেছেন বা তেমন কিছুই পড়া হয়নি, তাদের জন্য এটি সোনায় সোহাগা হয়ে উঠতে পারে। কেননা, এইখানে থাকা বিগত 600+ প্রশ্নগুলোর সমাধান ও সংশ্লিষ্ট ব্যাখ্যা পড়ার মাধ্যমেই আপনি স্বল্প সময়ে চমৎকার প্রস্তুতি নিতে পারেন – আমাদের ধারণা এই অংশ ভালোভাবে আত্মস্থ করতে পারলে আপনি বার কাউন্সিলের পরীক্ষায় অন্তত 40 থেকে 50 ভাগ প্রশ্ন কমন পাবেন। অন্যদিকে, যারা ভালো পড়ুয়া, তারা সহজেই একটা গুড রিভিশন সম্পন্ন করতে পারবেন। সুতরাং, প্রথম পরামর্শ হলো অন্তত ২০ দিন সময় নিয়ে আইনের ধারাপাত মডেল টেস্ট বইটির প্রথম খণ্ডটির সমস্ত প্রশ্ন ব্যাখ্যাসহ ভালোভাবে বুঝে বুঝে পড়া।

বিগত সালের প্রশ্নগুলো কেন, কীভাবে বিবেচনায় নেবেন?
বিগত সালের প্রশ্নগুলোর বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে একটি সাধারণ পরিসংখ্যানগত কারণে। দেখতে দেখতে জুডিসিয়ারির ১০টি এমসিকিউ এবং বার কাউন্সিলের ৪টি এমসিকিউ পরীক্ষা ইতিমধ্যে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই পরীক্ষাগুলোতে যেসব প্রশ্ন এসেছে এই প্রশ্নগুলো পর্যােলোচনা করেই বোঝা যায় যে, বার কাউন্সিল বা জুডিসিয়ারি এমসিকিউ পরীক্ষার প্রশ্নের গঠনপ্রণালী এবং বৈশিষ্ট্য। প্রথমত আপনি মনে রাখবেন যে, বার কাউন্সিল বা জুডিসিয়ারিতে আসা বিগত সালের প্রশ্ন ও উক্ত ধারাটি সবিশেষ গুরুত্বপুর্ণ। এই গুরুত্বপূর্ণ ধারাগুলোতেই সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ ধারণাগুলো আইনে উল্লেখ রয়েছে যেগুলো হরহামেশাই লাগে অথবা এগুলো এমনসব গুরুত্বপূর্ণ ধারণা যা কিনা একজন আইনের শিক্ষার্থী হিসেবে আপনার জানা বাঞ্ছনীয়।

এই প্রশ্নগুলো গুরুত্বপূর্ণ এ কারণে যে, বিগত সালের প্রশ্নগুলো থেকে হয় সরাসরি রিপিট প্রশ্ন নয়তো উক্ত ধারা থেকে অন্যান্য তথ্য সংক্রান্ত নতুন প্রশ্ন আসে। ফলে আপনি যখন বিগত সালে আসা কোনো প্রশ্নের সংশ্লিষ্ট ধারার সমস্ত তথ্য জেনে রাখবেন বা মনে রাখতে পারবেন, দেখবেন যে, সেখান থেকেই অন্তত ৪০ বা ৫০ ভাগ পর্যন্ত প্রশ্ন কমন পাবেন বা আপনার আয়ত্বের ভেতরে থাকবে।

আপনি যে সত্যি সত্যি উক্ত ধারাগুলো ভালোভাবে পাঠ করলে আনুমানিক ৫০ ভাগ কমন পাবেন, তার একটি পরিসংখ্যানিক চিত্র নিচেই প্রমাণ হিসেবে তুলে দিলাম।

উপরের ছকে থাকা তথ্যগুলো বিস্তারিত ব্যাখ্যার কোনো প্রয়োজন নেই আশা করি। শুধু মোট সব নিচের লাইনটি খেয়াল করুন যে, ২০১৭ সালের ১০০টি প্রশ্নের ভেতরে ৬৪টি প্রশ্নই এমন সব ধারা থেকে এসেছে যেগুলো কিনা বিগত সালে এসেছিলো। এমনকি অন্তত ১০টি প্রশ্ন আছে যেগুলো হুবহু এসেছে! অন্যদিকে, যেসব ধারা থেকে বিগত সালগুলোতে একবারও প্রশ্ন আসেনি এমন ধারা থেকে এসেছিলো ৩৬টি প্রশ্ন। অর্থাৎ, একেবারে নতুন অথচ গুরুত্বপূর্ণ ধারা এগুলো।

তবে ২০১৭ সালে ৬৪টি প্রশ্ন এসেছিলো বলে আবার এমন মনে করার কোনো কারণ নেই যে, আপনি আগামী পরীক্ষাতেও এই একই শতকরা হারে প্রশ্ন কমন পাবেন। অন্যান্য সালের প্রশ্নগুলো পর্যালোচনায় দেখা যায় যে, অন্তত ৩৫ ভাগ প্রশ্ন বিগত সালের ধারাগুলো থেকে কমন পড়ে। সবমিলে গড়ে ৪০ থেকে ৫০ ভাগ প্রশ্ন কমন পাবার সম্ভাবনা আছে বা থাকে।

আপনারা অনেকেই ভাবতে পারেন, এতোগুলো প্রশ্নের কমনসমৃদ্ধ পরীক্ষাতেও এতো শিক্ষার্থী কেন ফেল করলো। এটা ঠিক যে, অনেক বিগত প্রশ্ন থেকে কমন ছিলো, কিন্তু ২০১৭ সালের পরীক্ষাটি সবচেয়ে কঠিন এবং সবচেয়ে মানসম্মত প্রশ্ন ছিলো। কিছু প্রশ্ন হুবহু ছিলো, কিন্তু আগে আসা ধারাগুলো থেকে প্রশ্ন আসলেও সেগুলো ছিলো আরো ক্রিয়েটিভ এবং উক্ত ধারা থেকেই অন্যান্য তথ্য থেকে প্রশ্ন এসেছিলো।ফলে অনেকে ভুলভাবে ভুল পদ্ধতিতে পড়ার কারণে পাস করতে পারেনি।

তাহলে কী দাঁড়ালো? দাঁড়ালো এটাই যে, বিগত সালে আসা সব প্রশ্ন পড়ার সাথে সাথে উক্ত ধারায় আরো যেসব তথ্য আছে সেগুলো ভালোভাবে আয়ত্ব করা – এটাই আপনার প্রথম কাজ এবং এতে করেই মোটামুটি নিশ্চয়তার সাথে বলা যায় যে, এখান থেকেই আপনি পাস করার জন্য প্রয়োজনীয় নম্বর তথা ৫০ নম্বর তুলতে পারবেন।

আমাদের প্রকাশিত ‘আইনের ধারাপাত – এমসিকিউ মডেল টেস্ট বুক’ বইটির প্রথম খণ্ডটি বুঝে পড়ার আরেকটি গুরুত্ব আছে। এই প্রশ্নগুলোর ব্যাখ্যাগুলোর ভেতরেই যেহেতু অনেক অনেক প্রশ্ন লুকিয়ে আছে, ফলে আপনারা যখন বইটির দ্বিতীয় খণ্ডে থাকা ২০টি মডেল টেস্ট দেবার সময় অনেক আত্মবিশ্বাস সহকারে অধিকতর প্রশ্নের সঠিক উত্তর করতে পারবেন।

আপনাদের জ্ঞাতার্থে জানিয়ে রাখি যে, দ্বিতীয় খণ্ডে থাকা প্রশ্নগুলোতে ৬০/৭০ টির বেশি প্রশ্নের রিপিটেশন নেই, যা আছে মৌলিক এবং আলাদা, এমনকি কিছু বেশ ট্রিকি প্রশ্ন। কোয়ালিটির বিবেচনায় অনন্য; কিন্তু জঘন্য টাইপের জটিল প্রশ্ন নয়। এরকম জঘন্য টাইপের জটিল প্রশ্নে কিন্তু বাজারের অনেক বই ভরপুর থাকে। তারা অনেকেই বিবেচনায় নেন না যে, বার কাউন্সিলের প্রশ্ন অহেতুক এতো জটিল করা হয় না এবং বেশিরভাগ প্রশ্ন খুব বেসিক প্রশ্ন থাকে। আমরা যেহেতু খুব গাণিতিক পদ্ধতিতে বিশাল একটি চার্ট প্রস্তুত করে করে প্রশ্ন তৈরি করেছি একটির পর একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারা থেকে, ফলে দ্বিতীয় খণ্ডের পূর্ণাঙ্গ মডেল টেস্টগুলো থেকে প্রশ্ন কমন না পড়ার কোনোই কারণ নেই। শতভাগ কমন পড়বে – এমন কথা বললে লোকে হাসবে, তাই বলিনা। তাছাড়া এই রকম সস্তা মার্কেটিংয়ে আমরা অভ্যস্ত নই। বই যারা পড়ছেন, তারাই বুঝবেন এর কোয়ালিটি এবং এর তাৎপর্য। আশা করি, আপনারা ব্যর্থ  হবেন না এই মডেল টেস্ট পড়ে। আমাদের বই থেকে শতভাগ কমন পড়লে আমরা অবশ্য মোটেও অবাক হবো না! 🙂

তো, দ্বিতীয় খণ্ডের মডেল টেস্টগুলোতে হাত দেবার আগে প্রথম খণ্ড ভালোভাবে পড়ে নেবেন। এর ব্যতয় ঘটাবেন না। এটিকে রীতিমতো একটি আদেশ এর মতো গ্রহণ করুন, আখেরে লাভবান হবেন।

এবার আসি, পূর্ণাঙ্গ মডেল টেস্টগুলো অনুশীলন কীভাবে করবেন সে বিষয়ে সরাসরি কথায়। আপনার উচিত হবে – একটি করে মডেল টেস্ট দেওয়া এবং সাথে সাথে সেগুলোর সমস্ত না পারা প্রশ্নগুলো ভালোভাবে শিখেই মাত্র পরবর্তী মডেল টেস্টে হাত দেওয়া। ধরা যাক, ১ নং মডেল টেস্ট প্রশ্নে আপনি ১৮টি প্রশ্ন একেবারেই পারলেন না। সেই প্রশ্নগুলোর উত্তরমালায় লক্ষ্য করবেন যে, সেগুলোর সংশ্লিষ্ট ধারা উল্লেখ করা আছে। সম্ভবত আমরাই সর্বপ্রথম এরকম ধারার রেফারেন্সসহ উত্তরমালা প্রস্তুত করে বই হাতে তুলে দিয়েছি। এর সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো – আপনার না পারা প্রশ্নটি কোন ধারা থেকে এসেছে সেই ধারাটি সহজেই আবারো ভালোভাবে আত্মস্থ করার জন্য আপনি বই খুলে বসতে পারেন চটজলদি। গতবারে বাজারের কোনো বইয়েই এই রেফারেন্স না থাকার কারণে একটি না পারা প্রশ্ন নিয়ে কোথায় গিয়ে খুঁজবে, কোথায় কীভাবে পড়বে সে বিষয়ে হিমশিম খেয়ে সেই প্রশ্নটি নিয়ে আর কোনো অনুসন্ধানই করেননি অনেক শিক্ষার্থী। ফলে, চোখের সামনে প্রশ্ন থাকলেও বিষয়টি সহজে খুঁজে না পাওয়ায় মূল পরীক্ষায় পারেন নি।

যারা আমাদের অনলাইনে মেম্বার হয়েছেন [ফুল মেম্বার অথবা মডেল টেস্ট মেম্বার] তারা সকলেই বইটিতে থাকা সকল মডেল টেস্টগুলোতে অংশ নেবার পাশাপাশি আরো বাড়তি কিছু বেশ কিছু মডেল টেস্ট এ অংশ নিতে পারবেন। অনলাইনের মডেল টেস্টগুলো অনুষ্ঠিত হবার সময়সূচি আমরা খুব শীঘ্রই প্রকাশ করবো।অনলাইন শিক্ষার্থীদের জন বড় সুখবর হলো – আমরা কঠিন ও জটিল প্রশ্নগুলো নিয়ে আলোচনা করবো একটি মডেল টেস্ট অনুষ্ঠিত হবার পরবর্তী ৩ দিন পর্যন্ত। কানে কানে বলে রাখি – সম্ভব হলে এগুলো নিয়ে ভিডিও আলোচনাও প্রকাশ করবো যেন আপনাদের প্রস্তুতির কোনো অর্থেই ঘাটতি না থাকে।

উপরোক্ত আলোচনার সারসংক্ষেপ কী দাঁড়ালো তাহলে?

সারসংক্ষেপিত নির্দেশনাটি নিম্নরূপ :
১. প্রথম খণ্ডটি দিন বিশেক সময় নিয়ে ভালোভাবে আত্মস্থ করা।
২. দ্বিতীয় খণ্ডটি একটি মডেল টেস্ট এর না পারা প্রশ্নগুলো ভালোভাবে শেষ করে নিয়ে নিয়েই পরের মডেল টেস্টে যাওয়া।
৩. অনলাইনের মেম্বার না হলেও অ্যাডভোকেট মুরাদ মোর্শেদ ও অ্যাডভোকেট জাহিদুল ইসলামের ওয়াল নিয়মিত ফলো করবেন যেন নানারকম আপডেট এবং জটিল প্রশ্নগুলোর সমাধান সংক্রান্ত আলোচনা আপনারা জানতে পারেন। উনাদের ফেসবুক আইডি যথাক্রমে : facebook.com/adv.muradmorshed এবং facebook.com/jahiduladv

কীভাবে একজনের আইডি ফলো ফার্স্ট করতে হয় সে বিষয়ে জানতে ইউটিউবে এই ভিডিওটি দেখে রাখতে পারেন https://youtu.be/ATov2vnZPCM

ধারাভিত্তিক বেস্ট সাজেশন অনুযায়ী পড়তে চান?

আসলে ধারাভিত্তিক কোনো সাজেশন যদি পড়তে হয় তাহলে প্রায় পুরো বইই পড়তে হয়। কিন্তু, ধারাভিত্তিক সাজেশন পেলে অনেকের কাছেই পড়াটাকে হালকা মনে হয়। সেজন্য, বইটির প্রথম খণ্ডের শুরুতেই অসম্ভব পরিশ্রম করে একটি চার্ট তৈরি করে দেওয়া হয়েছে। এই চার্টের সর্ববামের কলামে রয়েছে বিগত সালগুলোতে আসা প্রশ্ন-সংশ্লিষ্ট ধারাগুলোর উল্লেখ। সেই ধারাগুলো যে অতি আবশ্যকীয় ধারা তাতে কোনোই সন্দেহ নেই। কিন্তু, এর বাইরেও অনেক ধারা অনেক গুরুত্বপূর্ণ হওয়া সত্ত্বেও একটিবারও কোনো প্রশ্নই বিগত সালগুলোতে আসেনি। সেই ধারাগুলো উক্ত চার্টের সর্বডানের কলামে উল্লেখ করা আছে।

যেসব ধারা থেকে বিগত সালে প্রশ্ন এসেছিলো সেই ধারাগুলোর বাইরেও আরো অনেক গুরুত্বপূর্ণ ধারা ও ধারণা রয়েছে যেগুলো থেকে এখনো কোনো প্রশ্ন আসেনি। সেই ধারাগুলো চিহ্নিত করতে হবে। আমরা বিগত সালের আসা প্রশ্নগুলোর ছক তৈরি করতে গিয়ে দেখি যে, অনেকগুলো অতি গুরুত্বপূর্ণ ধারা থেকে একবারও প্রশ্ন আসেনি; কিন্তু সেসব প্রশ্ন আসাটা অনেক ন্যায্য। ফলে সেইসকল ধারাগুলো ভালোভাবে পড়ে নিলেই অবশিষ্ট আনুমানিক আরো ৫০ ভাগ প্রশ্ন কমন পেয়ে যাবেন। আপনাদের জন্য আরেকটি চার্ট দিয়ে দেই যে, ধারাভিত্তিক সাজেশন বের করতে চাইলেও সর্বমোট কতটি ধারা আপনাকে অতিরিক্ত পড়তে হবে।

এবার উপরের ছক বা চার্টটি থেকে দেখুন যে, সবগুলো আইন মিলে সর্বমোট ৩৩২টি ধারা-বিধি-অনুচ্ছেদ থেকে প্রশ্ন এসেছিলো বিগত বার কাউন্সিল ও জুডিসিয়ারি উভয়টি মিলে। এর বাইরে একটিবারও প্রশ্ন আসেনি এমন আরো ধারা চিহ্নিত করতে গেলে সর্বমোট ৪৭৩টির বেশি ধারা-বিধি-অনুচ্ছেদ হয় না। আমাদের নিজেদের অনেক পরিশ্রমলব্ধ গবেষণা থেকেই বলছি একথা।

অনেকের কাছে মনে হতে পারে যে, ৩৩২টি ধারার পরে আবারো ৪৭৩টি ধারা? চমকে উঠছেন? ভয় পেয়ে যাচ্ছেন? একটু সবুর করুন। মোটেও ভয়ের কিছু নেই। কেননা, যে ৪৭৩টি ধারার কথা বলা হচ্ছে সেটা মূলত ধারণা আকারে বিশ্লেষণ করলে সর্বমোট আনুমানিক ২০০টির বেশি হবে না। ক্যামনে, কীভাবে? সেটাই জানুন নিচের প্যারায়।

দণ্ডবিধি থেকে আমরা বোঝার চেষ্টা করি, আসুন! মিথ্যা সাক্ষ্য সংক্রান্ত খুব গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়টি শুরু হয়েছে ১৯১ ধারা দিয়ে। শেষ হয়েছে একেবারে ২২৯ ধারায় গিয়ে। এর ভেতরে মাত্র দুইটি ধারা থেকে প্রশ্ন এসেছিলো – ১৯৩ এবং ২১১ ধারা থেকে। তাহলে এর ভেতরে আর কোনো গুরুত্বপূর্ণ ধারা নেই? আছে। যেমন, শুরুর ১৯১ এবং ১৯২ ধারা দুইটিতে মূলত দুইটি সংজ্ঞা দেওয়া আছে যথাক্রমে মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়া এবং মিথ্যা সাক্ষ্য উদ্ভাবন করা বিষয়ে। আর ১৯৩ ধারায় এসবের শাস্তি একযোগে বলা আছে। আবার ১৯৪ এবং ১৯৫ ধারাতে আরো দুইটি বিশেষ ক্ষেত্রের শাস্তি বলা আছে। ফলে, বিগত পরীক্ষাগুলোতে আসা ১৯৩ ধারাটিই শুধু পড়ে গেলে কিন্তু প্রস্তুতির বেশ ঘাটতি থেকেই যায়। ১৯৩ ধারা জানবেন, কিন্তু ১৯১, ১৯২, ১৯৪ আর ১৯৫ ধারা সম্পর্কে জানবেন না – এটা মানানসই হয় না। উপরন্তু, ধারাগুলো গুরুত্বপূর্ণ এবং ধারাবাহিক সম্পর্কিত ধারা – ধারণার দিক থেকে একটিই বেসিক ধারণা। সুতরাং, ছাড় দেবার কোনোই সুযোগ নেই।

আবার, দণ্ডবিধির জনশৃঙ্খলা বিরোধী অপরাধের অতি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় থেকে ১৪১-১৬০ পর্যন্ত ধারাগুলো থেকে মাত্র ১৪১ ধারা থেকেই প্রশ্ন এসেছে বিগত সালগুলোতে। অথচ ১৪১ থেকে ১৪৯ প্রতিটি ধারা থেকেই প্রশ্ন আসার মতো বহু প্রশ্ন রয়েছে। দাঙ্গা, দাঙ্গার শাস্তি, মারামারি ও মারামারির শাস্তি এসব ধারা থেকে প্রশ্নও আসেনি। এগুলোও জরুরি।

ভালো এবং পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা আরেকটা বিষয় খেয়াল করলে মজা পাবেন যে, ১৪১ থেকে প্রশ্ন এসেছে। আমাদের তৈরি করা অতি জরুরি উক্ত চার্টে তার পরের সারিতেই আছে ১৯৩ ধারার উল্লেখ। তার মানে – ১৪২ ধারা থেকে ১৯২ ধারার মধ্যে আর কোনো ধারা থেকে কখনো প্রশ্ন আসেনি। কিন্তু আপনি কী ১৬১ ধারার গুরুত্ব বাদ দিতে পারবেন? কিংবা, ১৭০? ফলে, এই অতি আবশ্যকীয় ধারারই সাজেশন আছে আমাদের বইয়ে। এই সাজেশনটি পাবেন চার্টটির সর্বডানের কলামে। ফলে, যারা ধারাভিত্তিক সাজেশন অনুযায়ী ধারাগুলো পড়তে চান তারা সর্ববামের কলামে থাকা ধারাগুলোর সাথে সর্বডানের কলামে থাকা ধারাগুলো যোগ করে নিয়ে পড়বেন। আমরা আশা করি, এর বাইরে কোনো প্রশ্ন আসার কোনো সম্ভাবনা নেই।

আপনাদের চূড়ান্ত সাফল্য কামনায়

অ্যাডভোকেট মুরাদ মোর্শেদ
অ্যাডভোকেট জাহিদুল ইসলাম
নাবিল নিয়াজ

[সর্বশেষ আপডেটকৃত : ১ জুন, ২০১৯]

::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::

অতীব জরুরি ঘোষণা

যারা কুরিয়ার ব্যতীত বিভিন্ন দোকান বা জ্যুসি ল এর জেলা প্রতিনিধির নিকট থেকে বই [‘আইনের ধারাপাত – MCQ মডেল টেস্ট বুক’] সংগ্রহ করছেন তারা অবশ্যই 01711-140927 – এই নাম্বারে আপনার নাম, মোবাইল নাম্বার এবং কোন দোকান বা প্রতিনিধির কাছ থেকে বইটি কিনেছেন – এই তিনটি তথ্য দিয়ে মেসেজ করে রাখবেন। এর সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো – আপনারা নিয়মিত মডেল টেস্ট বুক সম্পর্কে এবং নানাবিধ বিষয় নিয়ে আমরা নিয়মিত আপডেট দিতে পারবো। এই ব্যক্তিগত তথ্য কখনোই অন্য কোথাও যাবে না – এটা আমাদের ওয়েবের বেসিক পলিসি। ধন্যবাদ।

বই সংগ্রহ করতে ফোন দিন

01712-908561